চাচাতো বোনের অদম্য আকর্ষণ

গ্রামের নাম রূপপুর। পদ্মার তীরঘেঁষা ছোট্ট একটা গ্রাম হলেও এখানকার বাতাস যেন অলস আর মিষ্টি এক অনুভূতি ছড়িয়ে রাখে। এই গ্রামেরই এক প্রকাণ্ড বড়বাড়িতে সিয়াম আর রিমার বেড়ে ওঠা। সিয়ামের বাবা আর রিমার বাবা আপন ভাই, সেই হিসেবে তারা চাচাতো ভাই-বোন। তবে ছোটবেলা থেকেই তাদের সম্পর্কটা আর দশটা ভাই-বোন থেকে একটু আলাদা। রিমা যখন এগারো-বারো বছরের ছিপছিপে মেয়ে, সিয়াম তখন আঠারো পার করে সবে কলেজে পা দিয়েছে। রিমার সব আবদার, সব বায়না মেটানোর জন্য সিয়াম ছাড়া দ্বিতীয় কেউ ছিল না। আবার সিয়ামের সব গোপনীয়তার একমাত্র চাবিকাঠি ছিল রিমা।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

বাড়ির লোকজনের কাছে তাদের ভাব দেখে হাসাহাসি হতো। "ওদের তো ছাড়াছাড়ি নেই," বলতেন চাচিমা। কিন্তু কেউ কখনো আঁচ করতে পারেনি, রক্তের এই সম্পর্কের আড়ালে কোনো এক গোপন আগ্নেয়গিরি ডানা মেলছে। সিয়াম এখন পঁচিশ বছরের এক সুঠাম, সুদর্শন যুবক। আর রিমা বিশ বছরের এক উদ্দীপ্ত তরুণী—যার চোখ দুটোতে মেখে থাকে এক অদ্ভুত মায়াবী নেশা, আর গায়ের রং যেন সদ্য তোলা খাঁটি মাখন।

শ্রাবণের এক সোমবারে বৃষ্টি নেমেছিল আকাশ ভেঙে। গ্রামীণ দুপুরগুলো এমনিতেই নিঝুম হয়, আর এমন কড়া বর্ষার দিনে বাড়ির মুরুব্বিরা সবাই চলে গিয়েছিলেন পাশের গ্রামের এক আত্মীয়াকে দেখতে। বড়বাড়িতে তখন কেবল সিয়াম আর রিমা। কারেন্ট চলে গেছে সকাল দশটায়, আইপিএসের আলোতেও কেমন একটা সোঁদা ঘরের আবহাওয়া জমে আছে।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

সিয়াম তার ল্যাপটপটা চার্জে দিয়ে ড্রয়িংরুমের সোফায় শুয়েছিল। বাইরে একটানা টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ রিমঝিম সুর তুলছিল। এমন সময় রিমা তার ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। পরনে পাতলা একটি গোলাপি সুতির সালোয়ার-কামিজ, ওড়নাটা কাঁধ থেকে খসে একপাশে ঝুলে আছে। চুলগুলো ভিজে একাকার, সদ্য গোসল সেরে এসেছে বোঝা যায়।

"ভাইয়া, কারেন্ট তো আর আসবে না মনে হয়। বোরিং লাগছে ভীষণ," রিমা এসে সোফার একপাশে বসে পড়ল। তার শরীর থেকে ভেসে আসা সাবানের সুবাস সিয়ামের নাকে ঝাপটা দিল।

সিয়াম চোখ খুলে তাকাল। রিমার কামিজের ভিজে যাওয়া অংশটুকু ত্বকের সাথে লেগে আছে। সিয়াম একটু গলা ঝেড়ে বলল, "তাহলে কী করবি? শুয়ে শুয়ে ঘুম দে।"

"ধুর, এই দুপুরে কেউ ঘুমায়? চল, ল্যাপটপে তো চার্জ আছে, একটা সিনেমা দেখি," রিমা ঝটপট সিয়ামের ঘরের দিকে পা বাড়াল। "তোর ল্যাপটপে তো অনেক পেনড্রাইভ ডাউনলোড করা থাকে।"

সিয়াম উঠে রিমার পিছু পিছু তার নিজস্ব ঘরে গেল। ঘরটা কিছুটা অন্ধকার। সিয়াম ল্যাপটপ চালু করে রিমাকে বসতে বলল। রিমার নজর গেল একটা নির্দিষ্ট ফোল্ডারে—একটি স্প্যানিশ রোমান্টিক থ্রিলার সিনেমা। সিনেমাটি বেশ বোল্ড আর খোলামেলা দৃশ্য দিয়ে ভরা, সিয়াম সেটা একা দেখার জন্য রেখেছিল। কিন্তু রিমা ওটার ওপর ক্লিক করে ফেলল।

"আরে, রিমা, ওটা দেখিস না—" সিয়াম বাধা দিতে চাইল।

"কেন? ছবিটা সুন্দর তো, ট্রেলার দেখেছি," রিমা জেদ ধরল। বিছানার ওপর হাঁটু গেড়ে বসে সে সিনেমা প্লে করে দিল।

অগত্যা সিয়ামও এসে রিমার পাশে বসল। খাটের একপাশে দুজন পাশাপাশি, মাঝে ইঞ্চিখানেকের দূরত্ব। সিনেমার গল্প যত এগোতে লাগল, ঘরের ভেতরের আবহাওয়া যেন তত গরম হতে শুরু করল। বৃষ্টি বাইরের বাতাস ঠান্ডা করছিল ঠিকই, কিন্তু ঘরের বন্ধ জানালার পেছনের আবহাওয়া অন্যরকম এক মাত্রা পাচ্ছিল।

সিনেমার এক পর্যায়ে নায়ক-নায়িকার মধ্যে শুরু হলো তীব্র ভালোবাসার মুহূর্ত। পর্দায় ভেসে উঠছে গাঢ় চুমু, একে অপরকে জড়িয়ে ধরার উত্তপ্ত দৃশ্য আর উসখুস করা ভালোবাসা।

সিয়াম খেয়াল করল, রিমা একদম চুপ হয়ে গেছে। তার শ্বাস-প্রশ্বাস একটু দ্রুত চলছে। রিমার বুকের ওঠানামা সিয়ামের চোখ এড়াল না। সিয়াম নিজে ও ভেতর থেকে এক অদ্ভুত উত্তেজনা অনুভব করছিল। রক্তের সম্পর্কের সব সীমা যেন ওই অন্ধকার ঘরে ঝাপসা হয়ে আসতে লাগল।

রিমা আস্তে করে নিজের থুতনিটা হাঁটুতে রেখে সিয়ামের দিকে তাকাল। তার চোখের দৃষ্টিতে ভয় আর অদম্য কামনার এক অদ্ভুত মিশেল।

"ভাইয়া..." রিমা খুব নিচু কণ্ঠে ডাকল।

"হুম?" সিয়ামের গলা শুকিয়ে এসেছিল।

"পর্দার মানুষগুলো... এভাবে ভালোবাসে কীভাবে? ওদের কি লজ্জা করে না?" রিমার কণ্ঠস্বর থরথর করে কাঁপছিল।

সিয়াম কিছু না বলে রিমার চোখের দিকে তাকাল। তারপর আর নিজেকে সামলাতে পারল না। রক্তে যেন আগুন ধরে গেছে। সে হাত বাড়িয়ে রিমার কাঁপে থাকা চিবুকটা চেপে ধরল। রিমার চোখের মণি দুটো কেঁপে উঠল, কিন্তু সে সরে গেল না।

"লজ্জা পায় না, যখন ভেতরের তৃষ্ণা সব বাধা ভেঙে দেয়," সিয়াম খুব নিচু স্বরে বলল।

পরের মুহূর্তেই সিয়ামের ঠোঁট জোড়া গিয়ে চেপে বসল রিমার আলতো, ভেজা ঠোঁটের ওপর। রিমা প্রথমে একটু শিউরে উঠল, তার হাত দুটো শক্ত করে চেপে ধরল সিয়ামের চওড়া বুক। কিন্তু পরক্ষণেই সে যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলল। সিয়ামের কড়া চুমুর জবাবে রিমাও তার নিজের ঠোঁট দুটো মেলে দিল। এক অধীর, তীব্র ভালোবাসার জোয়ারে ভেসে গেল দুজন।

সিয়ামের এক হাত চলে গেল রিমার পিঠের ওপর, ওড়নাটা কখন যে গড়িয়ে নিচে পড়ে গেছে কেউ টের পায়নি। সিয়ামের শক্ত আঙুলগুলো রিমার কামিজের নিচ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করল। রিমার তুলতুলে, গরম চামড়ায় সিয়ামের স্পর্শ লাগতেই রিমা এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল—"উফফ, ভাইয়া..."

সিয়াম রিমাকে খাটের ওপর শুইয়ে দিল। সিনেমার আওয়াজ তখন ঝাপসা হয়ে এসেছে, ঘরের মধ্যে কেবল দুজন মানুষের দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস আর বৃষ্টির টাপুরটুপুর শব্দ। সিয়াম ঝুঁকে পড়ল রিমার ওপর। তার ঠোঁট নেমে এলো রিমার নরম থুতনি পার হয়ে ধবধবে ফর্সা ঘাড়ে। রিমা মাথাটা পেছনে হেলে দিল, তার ভেজা চুলগুলো তোষকের ওপর ছড়িয়ে পড়ল।

"রিমা... তুই কি কষ্ট পাচ্ছিস?" সিয়াম রিমার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল।

"না... ভাইয়া, একদম না... আরও ধরে রাখো আমাকে," রিমা দুই হাতে সিয়ামের পিঠ জড়িয়ে ধরে নিজের বুকের সাথে লেপ্টে নিল।

সিয়াম রিমার কামিজের ওপরের বোতামগুলো একে একে খুলে ফেলল। রিমার অনাবৃত শ্যামলা-ফর্সা বুক আর সেখানে ওঠা-নামা করা উত্তাপ সিয়ামের মাথা গুড়িয়ে দিল। সিয়াম তার মুখ গুঁজে দিল রিমার বুকের খাঁজে। রিমা সিয়ামের চুল শক্ত করে মুঠো করে ধরে চোখ বুজে এক অদ্ভুত সুখে কোঁকড়ে উঠল।

ঘরের পরিবেশ তখন কেবলই কামোত্তেজক আর গভীর প্রেমে আচ্ছন্ন। রক্তের সম্পর্কের দোহাই, সমাজের ভয়—সবকিছু সেই শ্রাবণের দুপুরে বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেল। সিয়ামের প্রতিটি স্পর্শে রিমা নতুন করে জাগছিল, আর রিমার প্রতিটি উষ্ণ সায় সিয়ামকে নিয়ে যাচ্ছিল এক উন্মাদ অনুভূতির চূড়ায়।

খাটের ওপর দুজন দুজনের বাহুডোরে আবদ্ধ হয়ে তলিয়ে যেতে লাগল এক গভীর উত্তপ্ত নিষিদ্ধ স্বর্গে। তারা জানত না এই পথ কোথায় গিয়ে থামবে, কিন্তু এই মুহূর্তে তারা কেবল একে অপরকে সম্পূর্ণভাবে নিজের করে পেতে চাইছিল। রিমার মুখ থেকে বের হওয়া হালকা কোঁকানির শব্দ আর সিয়ামের ভারী হয়ে আসা শ্বাস প্রমাণের জন্য যথেষ্ট ছিল যে, তাদের এই ভালোবাসার আগুন আর সহজে নেভার নয়।
ঘরের ভেতরে আচ্ছন্ন হয়ে থাকা সেই গাঢ় স্তব্ধতা আর দুটো হৃদস্পন্দনের দ্রোহ যেন বৃষ্টির শব্দকেও ছাপিয়ে যাচ্ছিল। খাটের ভিজে যাওয়া চাদর আর অগোছালো পোশাকগুলোর মাঝে সিয়াম আর রিমা তখন সম্পূর্ণ অন্য এক ভুবনে। যে বাঁধ ভাঙার ভয় তারা এতদিন মনের গহীনে পুষে রেখেছিল, শ্রাবণের এই এক দুপুরে তা যেন রূপ নিল এক অগ্নি আগ্নেয়গিরিতে।

সিয়াম রিমার প্রতিটি পরতে পরতে নিজের স্পর্শ রেখে যাচ্ছিল। তার হাতের শক্ত বাঁধন আর উষ্ণ ঠোঁটের ঘর্ষণ রিমার কোমল শরীরে একের পর এক শিহরণ তুলে আনছিল। রিমার ফর্সা পিঠ শিউরে উঠছিল বারবার। সে সিয়ামের চওড়া কাঁধে নিজের হাত দুটো শক্ত করে চেপে ধরে নিঃশ্বাস ফেলছিল। তার চোখের কোণে জমে থাকা জলবিন্দু আর ঠোঁটের কোনায় ফুটে ওঠা কামনার হাসি এক অদ্ভুত সুখে পরিণত হয়েছিল।

"ভাইয়া... আমরা যা করছি, তা কি ঠিক?" রিমা সিয়ামের কানের কাছে ফিসফিস করে কেঁপে ওঠা কণ্ঠে বলল, কিন্তু তার হাত সিয়ামকে আরও শক্ত করে ধরে রাখছিল।

সিয়াম রিমার চিবুকটা আলতো করে ধরে তার চোখে চোখ রাখল। সিয়ামের চোখে তখন কোনো দ্বিধা নেই, আছে এক তীব্র অধিকারবোধ। "আমি জানি না কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল, রিমা। আমি শুধু জানি, তোকে ছাড়া অন্য কাউকে এভাবে নিজের বলে ভাবার ক্ষমতা আমার নেই।"

কথাটা শেষ হতেই সিয়াম রিমার ঠোঁটে আবার ভিজে ব্যাকুলতায় নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিল। এই ভালোবাসায় ছিল এক উন্মাদ কামোত্তেজনা। সিয়ামের ভারী শরীর রিমার ওপর চেপে বসার পর রিমা এক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চোখ বুজল। সিয়ামের আঙুলগুলো রিমার শরীর বেয়ে কোমর পেরিয়ে আরও গভীরে নেমে গেল। রিমার ভেতর থেকে একটা হালকা কোঁকানি শব্দ বের হয়ে এল, "আাহ্... ভাইয়া..."

ঘরের বাতাস যেন রিমার শরীর থেকে নির্গত উত্তাপে আরও ভারী হয়ে উঠল। সিয়াম তার সবটুকু শক্তি আর ব্যাকুলতা দিয়ে রিমাকে নিজের বুকে মিশিয়ে নিতে চাইল। রিমার প্রতিটি বাঁকে সিয়ামের ভালোবাসার নিবিড় ছাপ বসে যেতে লাগল। রিমা নিজের সবটুকু লজ্জার দেয়াল ভেঙে সিয়ামের বুকে মুখ গুঁজে দিয়ে তার তৃষ্ণা মেটাতে সাহায্য করছিল।

বৃষ্টির বেগ আরও বাড়ল বাইরে। ঝমঝম করে টিনের চালে আছড়ে পড়া জলধারা যেন তাদের এই নিষিদ্ধ মেলামেশার সাক্ষী হয়ে রইল। ঘণ্টাখানেকের সেই উত্তপ্ত ঝড়ের পর দুজন যখন পাশাপাশি শুয়ে হাঁপাচ্ছিল, তখন ঘরটা এক গাঢ় প্রশান্তিতে ভরে উঠেছে। রিমার চুলগুলো এলমেলো হয়ে সিয়ামের বুকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সিয়াম রিমার কপালে আলতো করে চুমু খেয়ে তাকে আরও কাছে টেনে নিল।

"এখন যদি বাড়ির সবাই চলে আসে?" রিমা সিয়ামের বুকে আঙুল দিয়ে আঁকিবুঁকি কাটতে কাটতে বলল। তার গলায় ভয়ের চেয়ে এক অজানা ভালো লাগার সুর বেশি স্পষ্ট।

"আসুক। তোকে আমি ছাড়ছি না আর," সিয়াম দৃঢ় কণ্ঠে জবাব দিল।

কিন্তু সেই বিকেলেই ঘরের মিষ্টি হাওয়া বদলে গেল কালবৈশাখীর মেঘে।

বিকেল চারটে নাগাদ বাইরে গাড়ির হর্ন শোনা গেল। বাড়ির মুরুব্বিরা ফিরে এসেছেন। রিমা তাড়াহুড়ো করে নিজের জামাকাপড় ঠিক করে, উস্কোখুস্কো চুল সামলে নিজের ঘরে দৌড়ে গেল। সিয়ামও নিজের জামা পাল্টে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু তাদের দুজনের চঞ্চল চোখ আর গাঢ় অপরাধবোধ যেন মুখের ওপর স্পষ্ট লেখা ছিল।

সন্ধ্যায় খাবার টেবিলে সবাই যখন একসঙ্গে বসেছিল, সিয়ামের বাবা হঠাৎ কাজের কথা তুললেন। "সিয়াম, তোর তো পড়াশোনা প্রায় শেষ। সামনের মাসেই তোকে ঢাকায় পাঠাচ্ছি আমার বন্ধুর ফার্মে ইন্টার্নশিপের জন্য। আর তোর বিয়ের কথাও ভাবছি। আমার এক বন্ধুর মেয়ে আছে, বেশ সুশ্রী।"

কথাটা শুনেই রিমার হাত থেকে ভাতের চামচটা খসে পড়ল। তার মুখটা এক মুহূর্তে ফ্যাকাশে হয়ে গেল। সিয়াম টেবিলের নিচ দিয়ে রিমার দিকে তাকাল, কিন্তু রিমার চোখ দুটো ততক্ষণে জলে ভরে উঠেছে। সে আর এক মুহূর্ত না বসে সেখান থেকে উঠে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল।

সিয়ামের বাবা একটু অবাক হয়ে বললেন, "মেয়েটার কী হলো হঠাৎ?"

সিয়াম না খাওয়ার ভান করে উঠে পড়ল। "বাবা, আমার এখনই বিয়ের কোনো ইচ্ছে নেই। আর আমি ঢাকা যাওয়ার বিষয়ে পরে কথা বলব।"

রাত তখন প্রায় একটা। সারা বাড়ি নিস্তব্ধতায় নিঝুম। সিয়াম পা টিপে টিপে রিমার ঘরের দরজায় গিয়ে নক করল। ভেতর থেকে কোনো শব্দ এলো না। সিয়াম আলতো ধাক্কা দিতেই দেখল দরজাটা খোলাই ছিল। সে ভেতরে ঢুকে দেখল রিমা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে নীরবে কাঁদছে। চাঁদের আবছা আলোয় তার চোখের পানি জলজল করছে।

সিয়াম পেছন থেকে গিয়ে রিমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। রিমার শরীরের উত্তাপ এখনও সিয়ামকে টানে। রিমা নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলল, "ছেড়ে দাও ভাইয়া। অন্য কাউকে বিয়ে করে চলে যাও তুমি। আমাদের এই ভুল সম্পর্কের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।"

"ভুল? তুই এটাকে ভুল বলছিস রিমা?" সিয়াম রিমাকে নিজের দিকে ঘোরাল। "আজ দুপুরে তুই আর আমি যা অনুভব করেছি, তা কি ভুল ছিল? আমি তোকে ভালোবাসি রিমা, আর তোকে ছাড়া অন্য কাউকে বউ হিসেবে মেনে নেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব।"

রিমা সিয়ামের বুকের ওপর মাথা রেখে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। "কিন্তু আমাদের সমাজ? আমাদের পরিবার? তারা কি কখনো মেনে নেবে? আমরা তো চাচাতো ভাই-বোন। তারা তো আমাদের এই ভালোবাসাকে পাপ বলবে!"

সিয়াম রিমার ফর্সা গাল দুটো দুহাত দিয়ে চেপে ধরল। তার চোখে ভালোবাসার কড়া জেদ। "শরীয়তে বা আইনে চাচাতো ভাই-বোনের বিয়েতে কোনো বাধা নেই। শুধু আমাদের সমাজ এটাকে অন্য চোখে দেখে। আমি বাবাকে বলব, সবাইকে বোঝাব। আর যদি তারা না মানে, তবে আমি তোকে নিয়ে অনেক দূরে চলে যাব, কিন্তু তোকে হারাব না।"

সিয়াম রিমার কান্না ভেজা ঠোঁটে আবার নিজের ঠোঁট নামিয়ে আনল। এই চুমুটা দুপুরের মতো কেবল কামনার ছিল না, এতে ছিল এক গভীর অঙ্গীকার আর ভালোবাসার বাঁধন। রিমাও সিয়ামের গলা জড়িয়ে ধরে নিজের সবটুকু ভয় দূর করে দিল। তারা জানত, সামনে বড় ঝড় আসছে, কিন্তু একে অপরকে আঁকড়ে ধরে তারা সেই ঝড় পার হতে প্রস্তুত।
পরদিন সকালের সূর্যটা যেন এক নতুন যুদ্ধের বার্তা নিয়ে এল। রাতের অন্ধকার কেটে গেলেও সিয়াম আর রিমার বুকের ভেতর জমা হওয়া শঙ্কা কমেনি, বরং সময়ের সাথে তা আরও ঘনীভূত হচ্ছিল। সকাল আটটার দিকে চা খাওয়ার টেবিলটা হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল।

সিয়াম তার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল পুরো পরিবারকে। "বাবা, আমি ঢাকায় যাব না, আর তুমি যে বিয়ের কথা ভেবেছ, সেটাও আমার পক্ষে সম্ভব না।"

সিয়ামের বাবা কুপ্পি কাপটা টেবিলে রেখে গম্ভীর গলায় বললেন, "মানে? তুই কী বলতে চাইছিস সিয়াম? পড়াশোনা শেষ, এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে না?"

সিয়াম এক মুহূর্ত থেমে রিমাকে দেখল, যে রান্নাঘরের দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে থরথর করে কাঁপছিল। সিয়াম নিজের স্বর কিছুটা উঁচিয়ে স্পষ্ট গলায় বলল, "আমি অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারব না। আমি রিমাকে ভালোবাসি। আমি রিমাকেই বিয়ে করব।"

কথাটা শোনামাত্রই ঘরজুড়ে এক বিদগ্ধ স্তব্ধতা নেমে এল। সিয়ামের বাবা সোফা থেকে দাঁড়িয়ে পড়লেন, আর রিমার বাবা—যিনি এতক্ষণ খবরের কাগজ পড়ছিলেন—তাঁর হাত থেকে কাগজটা মাটিতে পড়ে গেল। রিমার মা রান্নাঘর থেকে এক প্রকার ছুটে বেরিয়ে এলেন।

"তুই কি পাগল হয়ে গেছিস সিয়াম?" সিয়ামের বাবা গর্জে উঠলেন। "রিমা তোর চাচাতো বোন! ছোটবেলা থেকে এক ছাদের নিচে বড় হয়েছিস তোরা! সমাজের মানুষ কী বলবে? আমরা মুখে চুনকালি দেব কীভাবে?"

রিমার বাবা ধমকে উঠে রিমার দিকে তাকালেন, "রিমা! ঘরের ভেতর যা! এসব কী শুনছি আমি?"

রিমা ভয় না পেয়ে ধীর পায়ে সামনে এগিয়ে এল। তার চোখে পানি থাকলেও কণ্ঠ ছিল অবিশ্বাস্য রকমের শান্ত। "কাকা, আমাদের ধর্মে বা আইনে তো চাচাতো ভাই-বোনকে বিয়ে করা হারাম নয়। তাহলে কেন আপনারা এটাকে পাপ ভাবছেন? আমরা একে অপরকে ভালোবাসি।"

"চুপ কর মুখপোড়া মেয়ে!" রিমার মা কেঁদে উঠলেন। "তোদের এই অন্যায় সম্পর্ক আমরা কোনোদিন মেনে নেব না।"

পারিবারিক ঝড় চরমে উঠল। সিয়ামকে ঘরে আটকে রাখার চেষ্টা করা হলো, আর রিমার মোবাইল কেড়ে নিয়ে তার বাইরে বের হওয়া বন্ধ করে দেওয়া হলো। কিন্তু বন্দিদশা তাদের উত্তপ্ত বাসনাকে ঠেকিয়ে রাখতে পারল না।

দুই দিন পর, এক গভীর নিঝুম রাতে যখন পুরো বাড়ি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, সিয়াম তার ঘরের জানালার গ্রিল ভেঙে বাইরে বের হলো। রিমার ঘরের দরজার তালা আগে থেকেই সিয়াম কায়দা করে খুলে রেখেছিল। রিমা তৈরি হয়েই বসে ছিল, তার পরনে ছিল একটি লাল রঙের সাধারণ সুতির শাড়ি—যা সে নিজের লুকিয়ে রাখা জিনিসপত্র থেকে বের করে পরেছিল।

সিয়াম রিমার হাত ধরে টান দিল। "চল রিমা, আমাদের নিজেদের একটা পৃথিবী বানাতে হবে।"

তারা রাতের আঁধারে গ্রাম ছেড়ে সোজা চলে এল পাশের কাজী অফিসে। সিয়ামের বিশ্বস্ত দুই বন্ধু আগে থেকেই সব বন্দোবস্ত করে রেখেছিল। কাজী সাহেবের সামনে বসে দেনমোহর ধার্য করে, কাবিননামায় সই করে যখন তাদের আকদ সম্পন্ন হলো, তখন ভোর চারটে। রিমার মাথায় লাল ওড়না, আর সিয়ামের হাত শক্ত করে ধরে রাখা রিমার আঙুলগুলো।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতেই সিয়ামের বন্ধু তাদের জন্য একটি ছোট্ট সাজানো ফ্ল্যাটঘরের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল শহরের এক নিরিবিলি এলাকায়। নতুন ঘরে ঢুকে দরজায় খিল দিয়ে সিয়াম রিমাকে নিজের বুকের মধ্যে টেনে নিল।

বাইরে তখন ভোরের হালকা আলো ফুটছে। ঘরের ভেতরের পরিবেশ আবার বদলে যেতে লাগল। কোনো ভয় নেই, কোনো সমাজের বাধা নেই—রিমা এখন সিয়ামের বৈধ স্ত্রী, সিয়ামের একচ্ছত্র অধিকার।

সিয়াম রিমার শাড়ির আঁচলটা ধরে আলতো টানে সরিয়ে দিল। রিমার ফর্সা পিঠ আর উন্মুক্ত কোমরে সিয়ামের উত্তপ্ত হাতের স্পর্শ লাগতেই রিমা শিউরে উঠে সিয়ামের গলা জড়িয়ে ধরল।

"এখন তো কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না, তাই না ভাইয়া... মানে, আমার বর?" রিমা মিষ্টি করে হেসে সিয়ামের কানে ফিসফিস করল।

"আর কখনো আমাকে ভাইয়া বলবি না," সিয়াম একটু কড়া গলায় হেসে বলল, তারপর রিমার লাল টুকটুকে ঠোঁটে নিজের ঠোঁট চেপে ধরল।

তাদের এই প্রথম বাসর রাতের অনুভূতির উত্তাপ দুপুরের সেই বৃষ্টির দিনের চেয়েও ছিল শতগুণ বেশি গভীর আর বেপরোয়া। সিয়ামের একেকটি নিবিড় স্পর্শে রিমা নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলছিল। রিমার শাড়ির ভাঁজ একে একে খুলে নিচে গড়িয়ে পড়ল। অনাবৃত রিমার প্রতিটি সৌন্দর্যে সিয়াম তার ভালোবাসার মোহর এঁকে দিতে লাগল।

রিমার সুকোমল শরীরের সাথে সিয়ামের সুঠাম শরীরের ঘর্ষণ আর মিষ্টি কোঁকানি শব্দে ভরপুর হয়ে উঠল ছোট্ট ঘরটি। সিয়াম রিমার বুকের উত্তাপ থেকে শুরু করে নাভির গভীরতা পর্যন্ত নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করল। রিমার বাঁধভাঙা কামোত্তেজনা আর সিয়ামের তীব্র তৃষ্ণা এক হয়ে নতুন এক জীবনের সূচনা করল। রাত পেরিয়ে সকাল হলেও তাদের ভালোবাসার আগুন নিভল না।

পরের সপ্তাহে সিয়াম আর রিমার আইনি বিয়ের কাগজ পেয়ে পরিবারের রাগও আস্তে আস্তে জল হতে শুরু করে। মুরুব্বিরা বুঝতে পারলেন, এই বাঁধ আর ভাঙা সম্ভব নয়। সিয়ামের বাবা নিজেই একদিন ফোন করে তাদের ঘরে ফিরে আসার আমন্ত্রণ জানালেন।

গ্রামের বাড়িতে যখন তারা ফিরে এল, তখন রিমা সিয়ামের হাত ধরে পরম নিশ্চিন্তে পা রাখল সেই চেনা উঠোনে। ভালোবাসার জয় হলো, আর রক্তের সম্পর্কের আড়ালে থাকা গোপন শিখাটি পরিণতি পেল এক পবিত্র ও মধুর দাম্পত্য সম্পর্কে।

....
👁 9