সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন রিফাত হাসানের জীবনের ব্যাকরণটা সবসময়ই ছিল বেশ পরিমাপ করা, নিখুঁত এবং কঠোর অনুশাসনের অধীনে। কিন্তু সেই কড়া শাসনের আবহে গড়ে ওঠা শক্ত বুকটার ভেতরে যে একটা অতল দীঘির মতো হৃদয় লুকিয়ে ছিল, তা কেবল একজনই জানত—সীমা। সীমা, যার চোখের একপলক চাহনিতে রিফাতের সমস্ত রেজিমেন্টাল গাম্ভীর্য নিমেষেই খড়কুটোর মতো ভেসে যেত। ওদের বিয়েটা হয়েছিল দুই পরিবারের সম্মতিতে, খুব ধুমধাম করে। কিন্তু বিয়ের আগের সেই সামাজিক শিষ্টাচার আর দূরত্বের দেয়ালটা যখন বাসরঘরের দরজার বাইরে আটকে গেল, তখন ঘরের ভেতরের হাওয়াটা বদলে গেল এক অদ্ভুত, উন্মত্ত উষ্ণতায়।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার ক্লান্তিতে সীমার মুখটা একটু ফ্যাকাশে লাগছিল, কিন্তু তার রূপের আগুন যেন সেই ক্লান্তিকেও ছাপিয়ে ফুটছিল। গাঢ় লাল রঙের কাতান শাড়ি, গলার ভারী সোনার হার, আর কপালে থাকা ছোট্ট টিকলিটাতে তাকে কোনো এক রাজকন্যার মতো লাগছিল। সে খাটের এক কোণে চুপচাপ বসে ছিল, বুকের ভেতরটা দড়াস দড়াস করে কাঁপছিল। রিফাত ঘরের দরজাটা বন্ধ করে ছিটকিনিটা তুলে দিল। সেই ধাতব শব্দটা যেন সীমার হৃদস্পন্দন আরও বাড়িয়ে দিল।
রিফাত ধীর পায়ে এগিয়ে এলো। ঘরের কম আলোর প্রদীপের মতো আলোতে তার সুগঠিত, সেনা প্রশিক্ষণে গড়ে ওঠা শরীরটা আরও বেশি আকর্ষণীয় লাগছিল। সে সীমার সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসল। শাড়ির আঁচলটা সীমার হাত থেকে সরিয়ে নিয়ে তার থরথর করে কাঁপা নরম হাত দুটো নিজের শক্ত, উষ্ঞ হাতের মুঠোয় নিল।
"ভয় পাচ্ছ সীমা?" রিফাতের কণ্ঠস্বর ছিল গম্ভীর, কিন্তু তাতে ছিল ব্যাকুলতার চাদরে মোড়ানো অনুভূতির ছোঁয়া।
সীমা কথা বলতে পারল না, শুধু চোখের পাতা দুটো নামিয়ে মাথা নাড়ল।
"আমার দিকে তাকাও," রিফাতের হুকুমজাতীয় আবদার। সেনাবাহিনীর অফিসার হলেও এখন তার গলার স্বরে কোনো কঠোরতা নেই, আছে কেবল এক তৃষ্ণার্ত পুরুষের আকুতি।
সীমা ধীরে ধীরে ওপরের দিকে তাকাল। রিফাতের গভীর দুটো চোখ যেন তাকে গিলে খেতে চাইছে। রিফাত আর অপেক্ষা করল না। তার শক্ত দুটো হাত দিয়ে সীমার মুখটা তুলে ধরে তার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিল। সেই স্পর্শে কোনো তাড়াহুড়ো ছিল না, কিন্তু ছিল এক তীব্র অধিকারের ছোঁয়া। সীমার ভেতরটা যেন এক মুহূর্তে হিম হয়ে যাওয়া নদী থেকে আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হলো।
সীমার ওড়না আর শাড়ির ভাঁজগুলো ধীরে ধীরে রিফাতের দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় খসে পড়তে লাগল। শাড়ির ভারী আঁচলটা মেঝেতে লুটিয়ে পড়ার পর সীমা যখন শুধু পাতলা ব্লাউজ আর পেটিকোটের বাঁধনে রিফাতের সামনে দাঁড়িয়ে, তখন তার লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু রিফাতের চোখে কোনো দ্বিধা ছিল না; সেখানে ছিল কেবল সীমাকে সম্পূর্ণভাবে নিজের করে নেওয়ার এক বন্য তাগিদ।
"তুমি যে এত সুন্দর, সীমা... তা আমার কল্পনারও বাইরে ছিল," রিফাত ফিসফিস করে বলল। তার উষ্ঞ নিঃশ্বাস সীমার ঘাড়ে ও কানে এসে লাগছিল, যা সীমার শরীরে এক অজানা শিহরণের ঢেউ তুলে দিল।
রিফাত সীমাকে দুই কোলে তুলে নিয়ে খাটের মাঝখানে শুইয়ে দিল। সীমার খোপায় গোঁজা বেলি ফুলের গজরাটা খুলে বিছানায় ছড়িয়ে পড়ল, আর তার সুবাসে ঘরটা ভরপুর হয়ে উঠল। রিফাত সীমার ওপর ঝুঁকে পড়ে তার গলার ভাঁজে, কলারবোনে নিজের কামড়ের মতো তীব্র চুমু বসিয়ে দিতে লাগল। সীমা আবেশে চোখ বন্ধ করে ফেলল, তার দুহাত স্বয়ংক্রিয়ভাবেই রিফাতের চওড়া পিঠের ওপর চেপে বসল। তার নখগুলো রিফাতের পিঠে গিয়ে বিঁধল, কিন্তু রিফাত তাতে আরও উন্মাদের মতো হয়ে উঠল।
সীমার শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেন রিফাতের হাতের ছোঁয়ায় এক নতুন জীবন পাচ্ছিল। রিফাতের ঠোঁট নামতে নামতে সীমার নাভি আর পেটের নরম অংশে এসে পৌঁছাল। সীমা এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না, হালকা একটা হাঁসফাঁস শব্দ তার গলা দিয়ে বেরিয়ে এলো, "রিফাত... ছাড়ো... আমি আর পারছি না..."
"না, সীমা। আজ ছাড়ার জন্য তোমাকে কাছে টানি নাই," রিফাত সীমার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করল, তার কণ্ঠ তখন কামনার গভীরতায় ভারী। "আজকে তুমি শুধুই আমার। পুরোপুরি আমার।"
রিফাতের বাঁধ ভাঙা ভালোবাসার তোড়ে সীমা যেন এক অকূল দরিয়ায় ভেসে যাচ্ছিল। তার সমস্ত লজ্জা, সমস্ত সংকোচ ভেসে গেল রিফাতের ভালোবাসার প্লাবনে। রিফাত সীমার ব্লাউজের হুকগুলো একে একে খুলে ফেলল। ঘরের উষ্ণতা তখন চরমে পৌঁছেছে। দুজনের দেহের ঘাম মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছিল, আর ঘরের ভেতরের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল ওদের ঘন নিঃশ্বাসের শব্দে।
রিফাত সীমার শরীরের প্রতিটি বাঁকে তার অধিপত্য কায়েম করতে লাগল। সীমা অনুভব করছিল, এই পুরুষটি তাকে শুধু ভালোবাসছে না, তাকে এক চরম উন্মাদনার শীর্ষে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে কোনো পৃথিবীর অস্তিত্ব নেই, কোনো লোকলজ্জার ভয় নেই। সীমা রিফাতের চুলে আঙুল চালিয়ে তাকে আরও কাছে টেনে নিল। সে রিফাতের কানে কানে বলল, "আমাকে ভালোবাসো রিফাত... উন্মাদের মতো ভালোবাসো..."
সীমার মুখ থেকে এই ব্যাকুল আবেদন শুনে রিফাতের ভেতরের সুপ্ত পশুটা যেন পুরোপুরি জেগে উঠল। সে সীমার ঠোঁটে আবার তীব্র চুমু বসিয়ে দিল, আর তাদের দুজনের শরীর এক অপূর্ব ছন্দে মিলেমিশে এক হয়ে গেল। বাসরঘরের সেই রাতটা যেন থামতেই চাইছিল না। বাইরে রাতের নীরবতা, আর ঘরের ভেতরে দুই তৃষ্ণার্ত আত্মার চরম শারীরিক ও মানসিক মিলনের ঝড়।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেল, কিন্তু তাদের উন্মাদের মতো সেই অনুরাগের আবেশ কমাল না। রিফাতের প্রতিটি আলিঙ্গন, সীমার প্রতিটি সিৎকার যেন বাসরঘরের দেয়ালে দেয়ালে এক চিরন্তন ভালোবাসার গল্প লিখে রাখছিল। সীমার গায়ের প্রতিটি স্পর্শকাতর জায়গায় রিফাত তার ভালোবাসার চিহ্ন এঁকে দিল। সীমাও কোনো প্রতিরোধ না করে রিফাতের সেই উন্মত্ত ভালোবাসার সাগরে নিজেকে পুরোপুরি সঁপে দিল।
ভোরের আলো যখন জানালার পর্দা টপকে ঘরের ভেতরে উঁকি দিতে শুরু করল, তখনও রিফাত সীমাকে নিজের বুকের ভেতর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখেছিল। সীমার মাথাটা ছিল রিফাতের চওড়া বুকের ওপর, তার উষ্ঞ নিঃশ্বাস রিফাতের চামড়ায় গিয়ে লাগছিল। রিফাত সীমার এলোমেলো চুলগুলো সরিয়ে কপালে একটা দীর্ঘ ও উষ্ঞ চুমু দিল।
সীমা চোখ মেলে তাকাল। তার চোখের কোণে ক্লান্তির ছাপ থাকলেও সেখানে স্পষ্ট ফুটে উঠছিল এক অদ্ভুত তৃপ্তি আর গভীর ভালোবাসার আলো।
"ক্লান্ত লাগছে খুব?" রিফাত মিটিমিটি হেসে সীমার চিবুক ধরে বলল।
সীমা লজ্জায় রিফাতের বুকে মুখ লুকাল, "তুমি এত নিষ্ঠুর কেন? একটুও দয়া হলো না আমার ওপর?"
রিফাত সীমাকে আরও জোরে নিজের শরীরের সাথে চেপে ধরল, "ভালোবাসার দরবারে কোনো দয়া থাকে না সীমা, সেখানে শুধু জয় করে নিতে হয়। আর আমি তোমাকে আজ সারা জীবনের জন্য জয় করে নিলাম।"
সীমা রিফাতের বুকে জড়িয়ে ধরে নিজের চোখ দুটো বন্ধ করল। প্রথম পর্বের এই ঝোড়ো রাতের উন্মাদনা কেবল তাদের দাম্পত্য জীবনের সূচনা মাত্র ছিল, সামনে যে তাদের জন্য আরও কত অনুরাগের দিন আর রাত অপেক্ষা করে আছে, তা ভেবেই সীমার শরীর আবার নতুন করে শিউরে উঠল।
বাসররাতের সেই উদ্দাম ঝড়ের পর কয়েকটা দিন যেন স্বপ্নের মতো কেটে গেল। সেনাবাহিনীর কঠোর নিয়মকানুনের ভেতরে কাটানো রিফাতের জীবনটা এখন সীমার মায়াময় স্পর্শে পুরোপুরি বদলে গেছে। তবে সেনাক্যাম্পের সংক্ষিপ্ত ছুটি শেষে রিফাতকে ফিরতে হলো ক্যান্টনমেন্টের বাংলোতে। সুন্দর ছিমছাম সরকারি কোয়ার্টার, চারপাশটা গাঢ় সবুজ গাছপালায় ঘেরা। সীমাও নিজের সব গুছিয়ে নিয়ে রিফাতের সাথে চলে এলো তার এই নতুন সংসারে। লোকলজ্জা আর নতুন আত্মীয়দের আনাগোনা পেরিয়ে এই প্রথম তারা নিজেদের মতো করে একান্ত নিজের একটা আকাশ পেল।
নতুন বাড়িতে ওঠার পর প্রথম দুটো দিন কাটল সংসারের টুকিটাকি জিনিস গোছাতে। কিন্তু রিফাতের চোখ সারাক্ষণ সীমার পিছু ছাড়ত না। কাজের ছুতোয় সীমা যখনই রান্নাঘরে কিংবা শোবার ঘরে যেত, রিফাত তার দীর্ঘ, শক্তিশালী শরীরটা নিয়ে গিয়ে সীমার ওপর ছায়ার মতো আছড়ে পড়ত। পিছনে এসে জড়িয়ে ধরে চিবুকটা সীমার কাঁধে রেখে কানে কানে এমন সব লালসাময় কথা বলত যে সীমা লজ্জায় লাল হয়ে উঠত।
দ্বিতীয় দিনের পড়ন্ত বিকেলে বাইরে ঝুম বৃষ্টি নামল। বর্ষার মেঘলা আকাশ কলো করে দুপুরেই যেন সন্ধ্যা নামিয়ে এনেছিল। টিনের চালে আর জানালার কাঁচে বৃষ্টির মাতাল শব্দ এক অদ্ভুত কামাতুর আবহ তৈরি করল। রিফাত তখন ড্রয়িংরুমে সোফায় বসে কিছু ফাইল দেখছিল, গায়ে শুধু একটা পাতলা টি-শার্ট আর ট্রাউজার। সীমা ভেতরের ঘর থেকে বের হলো স্নান সেরে।
তার ভিজে চুল থেকে তখনও জল গড়িয়ে পিঠের শাড়ি ভিজিয়ে দিচ্ছিল। পরনে একটা নীল রঙের শিফন শাড়ি, সাথে সামান্য স্লিভলেস ব্লাউজ। ভিজে শাড়িটা সীমার শরীরের সুগঠিত বাঁকগুলোর সাথে এমনভাবে লেপ্টে ছিল যে মনে হচ্ছিল যেন কোনো ভাস্কর্য। সীমাকে এই রূপে দেখে রিফাতের হাতের ফাইল থমকে গেল। তার ভেতরের সুপ্ত সৈনিক নয়, বরং এক প্রচণ্ড অনুরাগে ব্যাকুল পুরুষ জেগে উঠল।
রিফাত সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ধীর পায়ে সীমা অভিমুখে হেঁটে এলো। সীমার হাতে ছিল রিফাতের জন্য বানানো এক কাপ গরম চা। কিন্তু রিফাত চায়ের কাপের দিকে চোখও দিল না; সে সীমার হাত থেকে চায়ের কাপটা নিয়ে পাশের টি-টেবিলে রেখে দিল।
"কী করছ রিফাত? চা-টা ঠান্ডা হয়ে যাবে তো..." সীমা একটু ইতস্তত করে বলল, তবে তার গলার স্বর কাঁপছিল।
"চা ঠান্ডা হোক সীমা, কিন্তু আমার ভেতরের যে আগুনটা তুমি জ্বালিয়ে দিলে, ওটা নেভানোর ব্যবস্থা আগে করতে হবে," রিফাতের কণ্ঠস্বর ছিল খাদে নামা, ভারী আর মাদকতায় ভরা।
কথাটা শেষ হতেই রিফাত সীমার কোমর জড়িয়ে ধরে এক হ্যাঁচকা টানে তাকে একদম নিজের বুকের কাছে নিয়ে এলো। সীমার ভিজে শরীরের শীতলতা আর রিফাতের শরীরের উত্তাপ একসাথে মিশে এক অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করল। রিফাত সীমার পিঠের ভিজে চুলের ভিড় সরিয়ে কানের লতিতে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল।
সীমা চোখ বন্ধ করে রিফাতের শার্টের কাপড়ে শক্ত করে হাত চেপে ধরল। সে মৃদু স্বরে বলল, "তুমি দিন দিন খুব দুষ্টু হয়ে যাচ্ছ রিফাত... দিনে-দুপুরে কেউ এভাবে..."
কথাটা শেষ করার সুযোগ দিল না রিফাত। তার উষ্ঞ ও চওড়া হাত দুটো সীমার মেদহীন পেটের ওপর দিয়ে শাড়ির আঁচল সরিয়ে দিল। সে সীমার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট চেপে ধরল—একদম উন্মাদের মতো, আকুল হয়ে। সীমার ভিজে ঠোঁট দুটো রিফাতের চুমুর তাপে যেন শুকিয়ে যেতে লাগল। সীমার মাথা ঝিমঝিম করে উঠল। রিফাত তাকে এক মুহূর্ত সময় না দিয়ে জড়িয়ে ধরে কোলে তুলে নিয়ে চলল শোবার ঘরের দিকে।
ঘরে ঢুকে পা দিয়ে দরজাটা সজোরে বন্ধ করে দিল রিফাত। খাটের ওপর সীমাকে নামিয়ে দিয়ে সে নিজেও সীমার ওপর নেমে এলো। বৃষ্টির শব্দ আর জানালার ফাঁক দিয়ে আসা শীতল হাওয়া ঘরটাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছিল। রিফাত সীমার ভিজে শাড়ির আঁচলটা পুরোপুরি শরীর থেকে আলাদা করে ফেলে দিল। সীমার অনাবৃত কাঁধ, ঘাড় আর বুকের ওপর তার ঠোঁটের ছোঁয়া নামতে লাগল বৃষ্টির ফোঁটার চেয়েও দ্রুত গতিতে।
"রিফাত... আহ্..." সীমা সীমার স্বর ফুটল এক তীব্র আকুতি হয়ে। সে হাত দুটো রিফাতের চওড়া পিঠে বুলাতে বুলাতে তার পিঠের মাংসপেশিগুলো শক্ত করে চেপে ধরল।
রিফাতের হাতের ছোঁয়া সীমা শরীরের প্রতি ইঞ্চি জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছিল। ব্লাউজের ফিতে আর হুকগুলো খুলে যাওয়ার সাথে সাথেই সীমার শরীরের সুগঠিত সৌন্দর্য রিফাতের চোখের সামনে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। রিফাতের ভালোবাসার তীব্রতা এবার সব সীমা ছাড়িয়ে যেতে লাগল। সে সীমার নাভিতে, পেটে আর উরুর ভাঁজে নিজের উষ্ঞ নিঃশ্বাস আর কামড়ের মতো তীব্র ভালোবাসা এঁকে দিতে লাগল। সীমা আবেশে এপাশ-ওপাশ করছিল, তার মাথাটা বালিশে পিষে যাচ্ছিল।
"তুমি শুধুই আমার, সীমা। এই রূপ, এই শরীর, এই মন—সব আমার," রিফাত উন্মাদের মতো ফিসফিস করে বলছিল।
"সব তোমার... সব তোমার রিফাত..." সীমা নিজের সমস্ত অস্তিত্ব উজাড় করে দিয়ে রিফাতের গলার কাছে মুখ রেখে হাঁসফাঁস করতে করতে বলল।
বাইরে বৃষ্টির বেগ বাড়ার সাথে সাথে ঘরের ভেতরের আবেগ আর দৈহিক মিলনের ব্যাকুলতা যেন চরমে পৌঁছাল। সেনার কড়া মেজাজ দূরে ঠেলে দিয়ে রিফাত আজ এক তৃষ্ণার্ত প্রেমিক, যে তার প্রিয়তমাকে পুরোপুরি পান করতে চায়। রিফাত সীমার শরীরের প্রতিটি বাঁকে তার পৌরুষের স্বাক্ষর রেখে যেতে লাগল। সীমার মৃদু সিৎকার আর রিফাতের ঘন নিঃশ্বাসের আওয়াজ জানালার বাইরে ঝরতে থাকা শ্রাবণের ধারাপাতের সাথে মিশে এক অদ্ভুত সুর তৈরি করছিল।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেল। রিফাত সীমাকে এক মুহূর্তের জন্যও ছাড়ল না। প্রতিবার যখন মনে হচ্ছিল মাতাল করা এই অনুরাগের শেষ বুঝি এলো, তখনই রিফাত সীমাকে নতুন করে আলিঙ্গনে জড়িয়ে নিচ্ছিল, আবার নতুন করে উন্মাদের মতো ভালোবেসে ভেসে যাচ্ছিল আনন্দের সাগরে। সীমার শরীরের প্রতিটি কোষে তখন শুধু রিফাতের নাম, তার ছোঁয়া আর তার উত্তাপ।
একসময় বৃষ্টির বেগ কমে এলো, চারপাশ শান্ত হয়ে এলো। ঘরের বাতি না জ্বালানো আঁধারে দুজন দুজনার বাহুডোরে আবদ্ধ হয়ে শুয়ে রইল। সীমার অনাবৃত শরীরটা রিফাতের চওড়া বুকের সাথে পুরোপুরি সেঁটে ছিল। রিফাতের আঙুলগুলো সীমার চুল নিয়ে খেলা করছিল।
সীমা রিফাতের বুকে নিজের হাতটা রেখে ফিসফিস করে বলল, "তুমি এমন উন্মাদের মতো করতে থাকলে আমি তো শেষ হয়ে যাব রিফাত।"
রিফাত সীমার কপালে একটা মিষ্টি গাঢ় চুমু দিয়ে একটু হাসল, "সেনাবাহিনীর ট্রেনিংয়ে আমাদের কোনো লক্ষ্য সহজে ছাড়তে শেখানো হয় না, বেগম। আর তুমি তো আমার সারাজীবনের অর্জিত সবচেয়ে মূল্যবান ট্রফি। তোমাকে কাছে পেলে আমি নিজেকে ধরে রাখব কীভাবে?"
সীমা রিফাতের বুকে আরও একটু শক্ত করে নিজেকে লুকিয়ে ফেলল। তার হৃদস্পন্দনের শব্দে রিফাতের বুকের ভেতরের রক্ত চলাচলের গতি আবার বাড়তে শুরু করল। এই অনুরাগের মাতাল ঢেউ যে থামার নয়, বরং সময়ের সাথে সাথে আরও গভীর থেকে গভীরতর হবে, তা দুজনই ভালো করে বুঝে গিয়েছিল।
ক্যান্টনমেন্টের ছিমছাম পরিবেশের দিনগুলো দেখতে দেখতে আরও গাঢ় ভালোবাসায় বুঁদ হয়ে গেল। রিফাতের ছুটির শেষ দিনগুলো যেন এক একটি জ্বলন্ত মশালের মতো জ্বলে উঠেছিল। কোনো বাঁধন, কোনো নিয়ম তাদের সেই একান্ত মুহূর্তগুলোকে আর বাঁধতে পারছিল না। রিফাত তার সমস্ত সামরিক অনুশাসন আর গম্ভীরতা ভুলে কেবল সীমার প্রেমে বুঁদ হয়ে থাকা এক ব্যাকুল পুরুষে পরিণত হয়েছিল। আর সীমা? সেও তার লাজুক আবরণ সম্পূর্ণ খসিয়ে ফেলে নিজেকে সঁপে দিয়েছিল রিফাতের সেই মাতাল করা অনুরাগের সাগরে।
ছুটি শেষের আগের রাতে আকাশটা ছিল মেঘমুক্ত, নিস্তব্ধ। জানালার ভারী পর্দাগুলো সরিয়ে দেওয়ায় চাঁদের স্নিগ্ধ আলো সরাসরি এসে পড়েছিল তাদের শোবার ঘরের বিশাল খাটটার ওপর। তবে বাইরের সেই শীতল স্নিগ্ধতার সম্পূর্ণ বিপরীতে ঘরের ভেতরের পরিবেশটা ছিল আগ্নেয়গিরির মতো উত্তপ্ত।
রিফাত আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, পরনে ছিল শুধু একটা ট্রাউজার। সীমা পিছন থেকে গিয়ে রিফাতের চওড়া, পেশীবহুল পিঠে নিজের বুকটা চেপে ধরল। তার দুহাত দিয়ে রিফাতের পেট পেঁচিয়ে ধরে পিঠে মৃদু কামড় বসাল।
রিফাত এক অদ্ভুত শিহরণে কেঁপে উঠল। আয়নার প্রতিফলনে সীমার দিকে তাকিয়ে দেখল, সীমার পরনে শুধুই একটা পাতলা নাইটি, যার ওপর দিয়ে তার ভেতরের সৌন্দর্যের স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে। রিফাত এক ঝটকায় ঘুরে দাঁড়িয়ে সীমাকে দুই হাতে তুলে নিয়ে দেয়ালের সাথে ঠেসে ধরল।
"আজকে তুমি আমাকে পাগল করে ছাড়বে, তাই না সীমা?" রিফাতের কণ্ঠস্বর কাঁপছিল উন্মাদের মতো ব্যাকুলতায়।
সীমা রিফাতের গলায় দুহাত পেঁচিয়ে ধরে রিফাতের একদম কাছে গিয়ে বলল, "তুমি তো এমনিতেই পাগল রিফাত... আমার প্রেমে অন্ধ এক পাগল।"
সীমার মুখ থেকে এমন সাহসী কথা শুনে রিফাতের ভেতরের কামনার আগুন যেন দাবানলে রূপ নিল। সে সীমার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট চেপে ধরল, এক চরম তৃষ্ণার্ত ভঙ্গিতে। তাদের ঠোঁটের এই কামড়াকামড়ি আর উন্মাদের মতো চোষণের শব্দে নিস্তব্ধ ঘরটা মুখরিত হয়ে উঠল। রিফাত সীমাকে দেয়াল থেকে না নামিয়েই তার ডান হাতটা সীমার নাইটির ভেতর দিয়ে গালিয়ে দিল। তার উষ্ঞ, খসখসে হাতের তালু সীমার মসৃণ উরু বেয়ে ওপরের দিকে উঠতে লাগল।
সীমা আবেশে মাথাটা পেছনের দেয়ালে ঠেকিয়ে দিল, তার চোখ দুটো বন্ধ হয়ে এলো। "রিফাত... ওহ্ রিফাত... আর সহ্য হচ্ছে না..." সীমার ঘন ঘন হাঁসফাঁস আর ফুঁপিয়ে ওঠা শব্দ রিফাতকে আরও বেশি হিংস্র ভালোবাসার দিকে ঠেলে দিল।
রিফাত সীমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে খাটের ওপর আছড়ে ফেলল। নাইটিটা এক টানে ছিঁড়ে ফেলার মতো করে সরিয়ে দিয়ে সে সীমার অনাবৃত শরীরের ওপর নিজের সম্পূর্ণ ভার ছেড়ে দিল। চাঁদের আলোয় সীমার দুধে-আলতা গায়ের রঙ যেন সোনার মতো জ্বলজ্বল করছিল। রিফাতের চোখ জোড়া তখন লাল হয়ে উঠেছে লালসায়। সে সীমার কানের লতি, গলা, স্তন আর পেটের প্রতি ইঞ্চি জায়গায় তার দাঁত আর ঠোঁটের দাগ বসিয়ে দিতে লাগল।
সীমা ব্যাথায় আর কামে এক অদ্ভুত আনন্দে চিৎকার করে উঠল, কিন্তু পরক্ষণেই রিফাতের মাথাটা নিজের বুকের সাথে চেপে ধরল। সে রিফাতের পিঠে নিজের নখ দিয়ে আঁচড় কেটে দিতে লাগল। রিফাতের প্রতিটি আলিঙ্গনে ছিল সীমাকে সম্পূর্ণ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে নিজের সাথে এক করে নেওয়ার তাগিদ।
"কাল আমাকে ডিউটিতে যেতে হবে সীমা... পুরো এক মাসের জন্য ঢাকার বাইরে পোস্টমেন্ট," রিফাত সীমার নাভিতে মুখ রেখে হাঁসফাঁস করতে করতে বলল, "এই এক মাস আমি কীভাবে থাকব তোমাকে ছাড়া? এই শরীর, এই সুবাস ছাড়া কীভাবে বাঁচব আমি?"
সীমা রিফাতের মুখটা দুই হাতে তুলে ধরে তার চোখে চোখ রাখল। সীমার চোখে তখন আর কোনো লজ্জা ছিল না, ছিল এক অদম্য ভালোবাসা আর সমর্পণের চিহ্ন। "তবে আজ রাতে আমাকে এমনভাবে নাও রিফাত, যেন ওই এক মাসের দূরত্বও আমাদের এই উত্তাপ কমাতে না পারে। আমাকে নিঃশেষ করে দাও আজকের রাতে।"
সীমার এই উস্কানিমূলক কথা শুনে রিফাত সব সীমা অতিক্রম করে গেল। সে সীমার পা দুটো জড়িয়ে ধরে তাকে সম্পূর্ণ নিজের আয়ত্তে এনে এক তীব্র ঝড়ের বেগে তার ওপর আছড়ে পড়ল। ঘরের ভেতরে শুরু হলো দুই তৃষ্ণার্ত আত্মার চরম শারীরিক ও মানসিক যুদ্ধ। বিছানার চাদর দুমড়ে-মুচড়ে একাকার হয়ে গেল, বালিশগুলো মেঝেতে গড়িয়ে পড়ল।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলল তাদের এই উন্মত্ত প্রেম। রিফাতের প্রতিটি আঘাত, সীমার প্রতিটি ব্যাকুল আর্জি আর শরীরের কাঁপুনি বাসরঘরের সেই প্রথম রাতকেও যেন হারিয়ে দিল। দুজনের ঘাম মিশে শরীরের বাঁকে বাঁকে পিচ্ছিল হয়ে উঠেছিল, কিন্তু তাদের সেই ভালোবাসার তোড় থামার কোনো নামই ছিল না। ভোরের হালকা আলো ফোটার ঠিক আগের মুহূর্তে, যখন দুজনের শরীরই একদম নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল, ঠিক তখনই রিফাত তার ভালোবাসার চূড়ান্ত সাগরে সীমাকে ভাসিয়ে দিয়ে চরম তৃপ্তির এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
পরদিন সকালে, সূর্যের আলো যখন পূর্ণাঙ্গভাবে ঘরে এসে পড়েছে, তখন রিফাত ইউনিফর্ম পরে তৈরি। কাঁধে তার ক্যাডার ব্যাজ, বুটের শব্দে চারপাশ মুখরিত। কিন্তু সীমা তখন খাটে শায়িত, তার সারা শরীরে রিফাতের উন্মাদের মতো ভালোবাসার নীল-লাল দাগ ফুটে আছে। সে শরীর নাড়াতে পারছিল না ক্লান্তিতে, কিন্তু তার ঠোঁটে ছিল এক চরম বিজয়ের হাসি।
রিফাত সীমার কাছে এসে হাঁটু গেড়ে বসল। সে সীমার কপালে একটা দীর্ঘ উষ্ঞ চুমু দিল, তারপর সীমার কানে ফিসফিস করে বলল, "আমার এই শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তোমার ছোঁয়া রয়ে গেল সীমা। এক মাস পর যখন ফিরব, এই ঝড় আবার নতুন করে শুরু হবে।"
সীমা রিফাতের হাতটা ধরে নিজের গালে চেপে ধরল, "আমি অপেক্ষা করব রিফাত... সেই মাতাল ঝড়ের অপেক্ষায়।"
রিফাত উঠে দাঁড়িয়ে এক শেষবার সীমার দিকে তৃষ্ণার্ত চোখে তাকিয়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে গেল। আর সীমা বিছানায় শুয়ে শুয়ে চাদরটা বুকের ওপর জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ করল। সে জানত, তাদের এই দাম্পত্যের ব্যাকরণ কোনো সাধারণ ভালোবাসার নিয়মে বাঁধা পড়েনি—এটি ছিল এক চিরন্তন, উন্মত্ত আর অটুট ভালোবাসার এক অনন্য মহাকাব্য।
....