রাত তখন পৌনে দুইটা। বৃষ্টিভেজা ঢাকার বাতাসে কেমন একটা স্যাঁতসেঁতে নীরবতা। ড্রয়িংরুমের আবছা আলোয় সোফায় বসে ছিল আদ্রিয়ান। কাঠের টি-টেবিলে রাখা গ্লাসটা সশব্দে ঠুকে রাখল সে। চোখের কোণে একধরনের ক্লান্তি আর ভেতরের নিয়ন্ত্রণহীন রাগটা তার চয়াল শক্ত করে তুলেছে। আদ্রিয়ান এমনই—যেখানে নিজের ভেতরের না-বলা কথাগুলো বুঝিয়ে বলা দরকার, সেখানে সে একটা অদৃশ্য দেয়াল তুলে দেয়। নিজের অনুভূতি সুন্দর করে ব্যক্ত করার ক্ষমতা তার নেই, কিন্তু মেজাজ হারানোটা তার জন্য একদম সহজ।
পাশের ঘর থেকে বের হয়ে এলো নাওমি। হালকা সুতি থ্রি-পিস, চুলগুলো ঢিলেঢালাভাবে পেছনে বাঁধা। সারাদিনের কাজের ক্লান্তি আর আদ্রিয়ানের অনবরত মেজাজ দেখানোর টানাপোড়েনে তার মুখে এক অদ্ভুত বিষণ্নতার ছাপ।
"তুমি এখনও ঘুমাওনি?" নাওমির গলার স্বর শান্ত, কিন্তু তাতে কোনো উষ্ণতা নেই।
আদ্রিয়ান সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল। তার দীর্ঘদেহী অবয়ব ছায়া ফেলল নাওমির ওপর। একপা এগিয়ে এসে নাওমির চোখের দিকে তাকাল সে। ওই চোখে কোনো মায়া নেই, আছে কেবল একধরনের অধৈর্য তীব্রতা।
"ঘুমাতে যাব মানে? তোমার মনে হয় আমি এই অবস্থায় ঘুমাতে পারি?" আদ্রিয়ানের গলা উঁচুতে উঠল। "সন্ধ্যার ঘটনাটা নিয়ে তুমি যে নাটকটা করলে, তারপরও তুমি আশা করো আমি আরামে গিয়ে ঘুমাব?"
নাওমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে আর ঝগড়া টানতে চায় না। "আদ্রিয়ান, ওটা কোনো নাটক ছিল না। তোমার বন্ধুদের সামনে তুমি যেভাবে আমার ওপর অহেতুক চিৎকার করলে, ওটা তোমার রাগের প্রকাশ হতে পারে, কিন্তু আমার জন্য চরম অসম্মানের ছিল। আমি তোমাকে কতবার বলেছি, নিজের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখা শেখো?"
"আমি চিৎকার করেছি কারণ তুমি আমাকে বাধ্য করেছ!" আদ্রিয়ান একদম নাওমির মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়াল। তার গায়ের তীব্র পারফিউমের সুবাস আর গলার শিরা ফুলে ওঠা রাগ নাওমিকে যেন মুহূর্তে গ্রাস করে ফেলল। আদ্রিয়ানের ভেতরের এই অনিয়ন্ত্রিত রূপটা নাওমিকে বরাবরই ভয় পাইয়ে দেয়, আবার একই সাথে এক অদ্ভুত টানও তৈরি করে। কিন্তু আজকের অপমানটা নাওমির সহ্যসীমা পার করে গিয়েছিল।
"আমি তোমাকে বাধ্য করিনি," নাওমি সোজা দাঁড়িয়ে বলল, তার কণ্ঠ এখন শক্ত। "তোমার সমস্যা হচ্ছে, তুমি নিজের রাগটাকে ভালোবাসা বলে চালিয়ে দিতে চাও। কিন্তু আদ্রিয়ান, ভালোবাসা মানে শুধু দখলদারিত্ব নয়। ভালোবাসায় সম্মান থাকতে হয়।"
আদ্রিয়ান ঠোঁট বাঁকাল। ঝগড়ার মাঝেই নাওমির প্রতি তার এক তীব্র আকর্ষণ কাজ করতে শুরু করল। এই তো নাওমি—যে সব সময় তার চোখের সামনে থাকে, অথচ যাকে সে কখনোই পুরোপুরি নিজের করে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। নাওমির এই স্পষ্টবাদী রূপ, চোখের তীব্রতা, আর তার শরীরের সুবাস আদ্রিয়ানের রাগটাকে অন্য এক উন্মাদনায় বদলে দিতে লাগল।
আদ্রিয়ান আচমকা নাওমির ডান হাতটা চেপে ধরল। টান মেরে তাকে নিজের বুকে টেনে আনল সে। নাওমি সামলাতে না পেরে আদ্রিয়ানের চওড়া বুকে এসে আছড়ে পড়ল।
"তুমিও তো আমাকে বোঝার চেষ্টা করো না, নাওমি," আদ্রিয়ানের কণ্ঠ নামল এক অদ্ভুত নিচু, থমথমে সুর। সে নাওমির থুতনি ধরে মুখটা নিজের দিকে তুলে ধরল। আদ্রিয়ানের উত্তপ্ত শ্বাস নাওমির ঠোঁটের ওপর এসে পড়ছিল।
"আদ্রিয়ান, ছাড়ো আমাকে," নাওমি সরার চেষ্টা করল, কিন্তু আদ্রিয়ানের হাতের মুঠো লোহার মতো শক্ত।
"ছাড়ব?" আদ্রিয়ান একচুলও সরল না। তার চোখ নামল নাওমির তাজা রোদে শুকনো গোলাপের মতো ঠোঁট জোড়ায়। ঝগড়ার উত্তাপ আর রাতের নীরবতা মিলিয়ে ড্রয়িংরুমের পরিবেশ তখন ভারী হয়ে উঠেছে। আদ্রিয়ান নাওমির কোমর জড়িয়ে ধরে তাকে নিজের আরও কাছে টেনে নিল। তাদের শরীরের দূরত্ব মিলিয়ে গেল শূন্যে।
নাওমির বুকটা দ্রুত ওঠানামা করছিল। আদ্রিয়ানের স্পর্শে সব সময় এক অদ্ভুত জাদু থাকে—যে স্পর্শ মুহূর্তে শরীরের প্রতিটা শিরায় আগুন জ্বালিয়ে দেয়। আদ্রিয়ান ঝুঁকে এসে নাওমির ঘাড়ের খাঁজে নিজের ঠোঁট ছোঁয়ালো। এক ব্যাকুল, তীব্র চুম্বন। নাওমির শরীর কেঁপে উঠল। আদ্রিয়ানের হাতের আঙুলগুলো নাওমির পিঠের সুতির কাপড় ভেদ করে গভীরে চেপে বসল।
নাওমি চোখ বুজে ফেলল এক মুহূর্তের জন্য। আদ্রিয়ানের এই অনিয়ন্ত্রিত আকর্ষণ, তার ঠোঁটের গভীর ছোঁয়া, আর দেহের উত্তাপ নাওমিকে এক মায়াবী সাগরে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চাইল। আদ্রিয়ান নাওমির ঠোঁটে ঠোঁট মেলালো—এক অধৈর্য, দখলদারি চুম্বনে। সে যেন নাওমির সমস্ত অভিমান আর প্রতিবাদের শব্দগুলোকে নিজের মুখে শুষে নিতে চায়। তার হাত নাওমির কোমর পেঁচিয়ে ধরে তাকে টেবিলের সাথে ঠেস দিয়ে দাঁড় করাল।
উত্তপ্ত অনুভূতির এই জোয়ারে নাওমির নিঃশ্বাস আটকে আসছিল। আদ্রিয়ানের প্রতিটি ছোঁয়ায় গভীর কামুকতা আর অন্ধ ভালোবাসার এক ভয়ংকর মিশ্রণ ছিল। আদ্রিয়ান নাওমির সুতি ওড়নাটা এক টানে সরিয়ে দিল। তার উত্তপ্ত ঠোঁট নেমে এলো নাওমির উন্মুক্ত গলার নিচে, কলারবোনের খাঁজে। নাওমির মুখ থেকে একটা মৃদু সিৎকার বের হয়ে এলো, সে আদ্রিয়ানের চুলগুলোতে আঙুল চালিয়ে দিল শক্ত করে।
কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে, যখন কামনার আগুন তাদের দুজনকে গ্রাস করে ফেলছে, আদ্রিয়ান বলে উঠল, "তুমি কোথাও যেতে পারবে না নাওমি। তুমি শুধু আমার। আমার কথা মতোই তোমাকে চলতে হবে।"
কথাটা নাওমির মাথায় ঠাণ্ডা পানির মতো পড়ল। এই তো—আবারও সেই দখলদারিত্ব, আবারও সেই অন্ধ ক্ষমতার দাপট! আদ্রিয়ান তাকে ভালোবাসে না, সে তাকে শুধুই নিজের একটা সম্পত্তি মনে করে।
নাওমি সমস্ত শক্তি একত্র করে আদ্রিয়ানের বুকে ধাক্কা দিল।
হঠাৎ ধাক্কায় আদ্রিয়ান দু-এক পা পিছিয়ে গেল। তার চোখে তখন কামনার আবেশ আর বিস্ময়।
নাওমি নিজের জামাকাপড় ঠিক করতে করতে হাপাচ্ছিল। তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল, কিন্তু সেই জলে কোনো দুর্বলতা ছিল না, ছিল চরম ঘৃণা আর সিদ্ধান্ত।
"না, আদ্রিয়ান," নাওমি কাঁপা কাঁপা গলায় কিন্তু পরিষ্কার ভাষায় বলল। "তুমি ভেবেছ তোমার এই তীব্র স্পর্শ আর চুম্বনের আড়ালে তুমি প্রতিদিন আমাকে অপমান করবে, আর আমি সেটা মুখ বুজে সহ্য করব? তোমার এই শারীরিক আকর্ষণের সুযোগ নিয়ে তুমি আমার আত্মসম্মানকে গুঁড়িয়ে দিতে পারো না।"
আদ্রিয়ান চোয়াল শক্ত করে বলল, "নাওমি, বাড়াবাড়ি কোরো না। আমি তোমাকে ভালোবাসি।"
"এটা ভালোবাসা নয়, আদ্রিয়ান! এটা তোমার অহংকার!" নাওমি তীব্র গলায় চিৎকার করে উঠল। "ভালোবাসায় মানুষের সীমানা থাকে, সম্মান থাকে। তুমি আমার সেই সীমারেখা প্রতিদিন লঙ্ঘন করো। তোমার এই মেজাজ, এই বিষাক্ত দখলদারিত্ব আমি আর মানব না।"
"তুমি কি আমাকে হুমকি দিচ্ছ?" আদ্রিয়ান আবার এগোতে চাইল।
"না, আমি তোমাকে শেষ সিদ্ধান্ত জানাচ্ছি," নাওমি দু পা পিছিয়ে গেল। "আজকের পর থেকে আমি আর তোমার এই বিষাক্ত স্বভাবের শিকার হব না। তোমার ভালোবাসায় যদি সামান্যতম সম্মান না থাকে, তবে সেই ভালোবাসা আমার দরকার নেই। আমি চললাম।"
নাওমি সোজা বেডরুমে গিয়ে নিজের ট্রাভেল ব্যাগটা টেনে বের করল। আদ্রিয়ান দরজায় দাঁড়িয়ে স্তব্ধ হয়ে দেখতে লাগল। সে ভেবেছিল নাওমি হয়তো আগের মতো কেঁদে কেটে শান্ত হয়ে যাবে, তার স্পর্শের উত্তাপেই সব ভুল বোঝাবুঝি মুছে যাবে। কিন্তু না, নাওমি এবার গুছিয়ে নিচ্ছে তার জীবনের সমস্ত অংশ।
"নাওমি, তুমি ঘর থেকে এক পা-ও বাইরে ফেলবে না বলছি!" আদ্রিয়ান হুংকার দিয়ে উঠল।
নাওমি ব্যাগের চেইনটা টেনে আটকে আদ্রিয়ানের দিকে তাকাল। তার চোখের দৃষ্টিতে কোনো ভয় ছিল না। "আমাকে আটকানোর শক্তি তোমার নেই, আদ্রিয়ান। নিজের রাগ আর অহংকার নিয়ে তুমি একাই থাকো।"
নাওমি ব্যাগটা হাতে নিয়ে আদ্রিয়ানকে পাশ কাটিয়ে দরজার দিকে হেঁটে গেল। মেইন দরজাটা খুলে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার আগে একবারও পেছন ফিরে তাকাল না সে। ধপাস করে দরজাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার শব্দে পুরো ঘরটা কেঁপে উঠল।
আদ্রিয়ান ফাঁকা ড্রয়িংরুমে একলা দাঁড়িয়ে রইল। বাইরের বৃষ্টির শব্দ তখন আরও তীব্র হয়েছে। তার গায়ে তখনও নাওমির সুবাস লেগে আছে, ঠোঁটে নাওমির স্পর্শের উত্তাপ। কিন্তু ঘরের ভেতরটা এখন এক নিমেষে বরফের মতো ঠাণ্ডা আর শূন্য হয়ে গেছে। আদ্রিয়ান হাত উঠিয়ে টি-টেবিলের ওপর রাখা কাঁচের গ্লাসটা সজোরে দেয়ালে ছুড়ে মারল। ঝনঝন করে কাঁচের টুকরোগুলো মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ল—ঠিক যেমন ছড়িয়ে পড়েছে তাদের বিষাক্ত সম্পর্কের অবশিষ্টাংশ।
আদ্রিয়ান সোফায় ধসে পড়ল। ঘরের নীরবতা এখন তার চারপাশ থেকে যেন হাঁসফাঁস লাগিয়ে চেপে ধরছে। মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাঁচের টুকরোগুলোর দিকে তাকিয়ে তার মনে হলো, তার ভেতরের ভাঙনটাও ঠিক এইরকমই নিঃশব্দ কিন্তু ধারালো। নাওমি সত্যি সত্যি চলে গেছে। টেবিলের ওপর নাওমির ফেলে যাওয়া একটা খোপার কাঁটা আর এক জোড়া কানের দুল পড়ে রয়েছে—যেন তার উপস্থিতির করুণ স্মারক।
আদ্রিয়ান দুই হাতে নিজের চুল চেপে ধরল। সে তো কখনো নাওমিকে কষ্ট দিতে চায়নি। কিন্তু প্রতিবার যখনই নাওমি তার মতের বাইরে যেতে চায়, কিংবা তার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে, তখনই আদ্রিয়ানের মাথার ভেতর একটা রক্তিম আগুন জ্বলে ওঠে। সেই আগুনে সে যা দেখে, তা-ই ধ্বংস করে ফেলে। এতকাল সে ভেবে এসেছে, রাগটাই তার শক্তি। কিন্তু আজ এই ফাঁকা, অন্ধকার ঘরের মধ্যে দাঁড়িয়ে তার প্রথমবার মনে হলো, এই রাগটাই তার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।
রাত গড়িয়ে সকাল হলো। রোদের আলো ড্রয়িংরুমের জানালা দিয়ে এসে পড়তেই আদ্রিয়ানের ঘুম ভাঙল সোফাতেই। শরীরজুড়ে এক তীব্র অস্বস্তি। সে ফোনটা হাতে নিল। নাওমির নম্বরে অন্তত কুড়িবার ডায়াল করল, কিন্তু ওপাশ থেকে সেই একই যান্ত্রিক কণ্ঠ—"আপনার ডায়াল করা নম্বরটি বন্ধ রয়েছে।"
আদ্রিয়ানের ভেতরের সেই পুরোনো মেজাজটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইল। তার ইচ্ছা হলো ফোনটা আছাড় মেরে ভেঙে ফেলে নাওমির অফিসের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে একটা চরম হৈচৈ বাঁধিয়ে দেয়। তাকে টেনেহিঁচড়ে আবার এই ঘরে ফিরিয়ে আনে। কিন্তু পরমুহূর্তেই কাল রাতের নাওমির সেই শেষ কথাগুলো তার কানে বাজতে লাগল—"তোমার এই শারীরিক আকর্ষণের সুযোগ নিয়ে তুমি আমার আত্মসম্মানকে গুঁড়িয়ে দিতে পারো না... ভালোবাসায় মানুষের সীমারেখা থাকে, সম্মান থাকে।"
আদ্রিয়ানের হাত থেকে ফোনটা শিথিল হয়ে খসে পড়ল। সে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। উস্কোখুস্কো চুল, লাল হয়ে থাকা চোখ আর চোয়ালের শক্ত রেখা। আয়নায় নিজের ছায়াটাকেই যেন তার এক হিংস্র অপরিচিত মানুষ বলে মনে হলো। নাওমি চলে গিয়ে তাকে নিজের মুখোশটা খুলে ফেলার সুযোগ করে দিয়েছে। সে স্পষ্ট বুঝতে পারল, এইভাবে চিৎকার করে, জোর খাটিয়ে, কিংবা স্পর্শের ব্যাকুলতা দিয়ে আর যাই হোক—নাওমির মন জেতা যাবে না। নাওমিকে ফিরে পেতে হলে তাকে বদলাতে হবে। নিজের এই অনিয়ন্ত্রিত পশুপাখির মতো মেজাজটাকে শাসন করতে হবে।
পরের কয়েকটা দিন আদ্রিয়ানের জন্য ছিল নরকযন্ত্রণার মতো। সে অফিসে গিয়ে কাজে মন দিতে পারছিল না, রাতে ঘুমোতে পারছিল না। সব সময় মাথার মধ্যে নাওমির হাঁসি, তার অভিমানী চোখ আর তার গায়ের নরম সুবাস ঘুরেফিরে আসছিল।
পাঁচটা দিন পর, আদ্রিয়ান নাওমির খালার বাসায় গিয়ে উপস্থিত হলো, যেখানে নাওমি বর্তমানে উঠছে। দরজায় টোকা দিতেই দরজা খুলল নাওমি।
আদ্রিয়ানকে দেখে নাওমির চোখে এক মুহূর্তের জন্য চমক খেলে গেল, কিন্তু পরক্ষণেই সে মুখটা কঠিন করে ফেলল। আদ্রিয়ানের জামাকাপড় খানিকটা উস্কোখুস্কো, চেহারায় ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট।
"তুমি এখানে কেন এসেছ, আদ্রিয়ান?" নাওমি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে শীতল গলায় বলল। "আমি তোমাকে বলেছিলাম, আমার জীবনের সীমারেখা লঙ্ঘন করার চেষ্টা করবে না।"
আদ্রিয়ান একপা এগিয়ে আসতে চাইল, কিন্তু নিজেকে সামলে নিল। আগে হলে সে হয়তো জোর করে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ত, নাওমির হাত ধরে টানাহেঁচড়া করত। কিন্তু আজ সে দরজার বাইরে এক হাত দূরত্বে দাঁড়িয়ে রইল। সে তার হাত দুটো পকেটে পুরে নিল, যাতে হাত দুটো কাঁপতে থাকা নাওমি দেখতে না পায়।
"নাওমি... আমি তোমার সাথে কোনো ঝগড়া করতে আসিনি," আদ্রিয়ান নিচু গলায় বলল। তার কণ্ঠস্বর ছিল অদ্ভুতরকম শান্ত, যা নাওমি আগে কখনোই শোনেনি। "আমি শুধু কয়েকটা কথা বলতে এসেছি। তুমি যদি অনুমতি দাও?"
নাওমি কিছুটা অবাক হয়ে আদ্রিয়ানের দিকে তাকাল। সেই উগ্র, অহংকারী আদ্রিয়ান আজ নিজের রাগ চেপে রেখে অনুগত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে! নাওমি ঘরের দরজা কিছুটা ফাঁক করে সরিয়ে দাঁড়িয়ে বলল, "ভেতরে এসো। কিন্তু মাত্র পাঁচ মিনিট।"
আদ্রিয়ান ভেতরে ঢুকল। বসার ঘরের সোফায় নাওমির মুখোমুখি বসল সে। দুইজনের মাঝখানের দূরত্বটা এখন আর শুধু কয়েক ফুটের নয়, যেন মাইলের পর মাইল মানসিক দূরত্বের।
"তুমি কেমন আছ?" আদ্রিয়ান মৃদু গলায় জিজ্ঞাসা করল।
"ভালোই আছি," নাওমি হাত গুটিয়ে উত্তর দিল। " কাজের কথায় এসো, আদ্রিয়ান। তোমার কাছে আমার সময় নষ্ট করার মতো বাড়তি ধৈর্যের অভাব আছে।"
আদ্রিয়ান একটা গভীর শ্বাস নিল। সে সোফার ওপর সামনের দিকে ঝুঁকলো। তার চোখ দুটোতে এক ব্যাকুল তৃষ্ণা, কিন্তু সেই তৃষ্ণার সঙ্গে মিশে আছে এক অদ্ভুত সংযম।
"আমি জানি আমি তোমার সাথে চরম অন্যায় করেছি, নাওমি," আদ্রিয়ান নিজের চোখ নাওমির চোখ থেকে সরালো না। "এতদিন আমি ভেবেছি আমার রাগটাই আমার অধিকার। আমি ভেবেছি তোমাকে ভালোবাসি বলেই তোমার ওপর আমার চরম আধিপত্য দেখানোর অধিকার আমার আছে। কিন্তু তুমি চলে যাওয়ার পর... এই কয়েকটা দিন আমি নিজের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বুঝেছি, ওটা ভালোবাসা ছিল না। ওটা ছিল আমার নিজের ইগো।"
নাওমি চুপ করে রইল, কিন্তু তার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। আদ্রিয়ান কখনো কারো কাছে নিজের ভুল স্বীকার করে না, ক্ষমা তো দূরের কথা।
"আমি তোমাকে মিস করছি, নাওমি। প্রতিদিন, প্রতিটা মুহূর্তে," আদ্রিয়ান হাত বাড়িয়ে নাওমির সোফার কোল্ডে হাত রাখল, কিন্তু নাওমিকে স্পর্শ করল না। "তোমার শরীর, তোমার ছোঁয়া, তোমার ঠোঁটের স্বাদ—এগুলো আমাকে উন্মাদ করে তোলে, সত্যি। কিন্তু তার চেয়েও বেশি আমি মিস করছি তোমার উপস্থিতি। আমি বুঝতে পেরেছি, শুধু শরীর দিয়ে মানুষকে বেঁধে রাখা যায় না, যদি না তার আত্মাকে সম্মান দেওয়া হয়।"
আদ্রিয়ানের কণ্ঠের ব্যাকুলতা নাওমির মনের সুপ্ত অনুভূতিগুলোকে নাড়া দিয়ে উঠল। নাওমি দেখতে পাচ্ছিল, আদ্রিয়ান কতটা কষ্ট পাচ্ছে। তার চোখ দুটো লাল, চেহারায় অনুশোচনার ছাপ।
আদ্রিয়ান ধীরে ধীরে নাওমির কাছাকাছি এল। এবার সে নাওমির অনুমতি চাইল চোখের ইশারায়। নাওমি চোখ বন্ধ করে মৃদু মাথা নাড়ল।
আদ্রিয়ান হাত বাড়িয়ে নাওমির গালে হাত রাখল। তার আঙুলের স্পর্শ ছিল অবিশ্বাস্যরকমের কোমল, ভীত এবং সতর্ক—যেন সামান্য চাপ লাগলেই আয়না ভেঙে যাবে। আদ্রিয়ান ঝুঁকে এসে নাওমির কপালে একটা দীর্ঘ, গভীর চুমু দিল। কোনো তাড়া নেই, কোনো জোরজবরদস্তি নেই—কেবল এক খাঁটি ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি।
তারপর তার ঠোঁট নেমে এলো নাওমির গালের ওপর, সেখান থেকে নাওমির কানের লতিতে। আদ্রিয়ানের উত্তপ্ত নিঃশ্বাস নাওমির ঘাড়ে আছড়ে পড়তে নাওমির শরীর শিউরে উঠল। সে এতদিন আদ্রিয়ানের শরীরের এই স্পর্শকেই ভয় পেত কারণ তার পেছনে থাকত এক আক্রমণাত্মক ভাব। কিন্তু আজকের এই স্পর্শে কোনো বিষাক্ত দাবি ছিল না, ছিল এক আত্মসমর্পণ।
আদ্রিয়ান নাওমির ঠোঁটের কাছে নিজের ঠোঁট এনে থামল। তাদের ঠোঁটের মাঝখানে তখন কয়েক মিলিমিটারের ফারাক। আদ্রিয়ানের বুকের দ্রুত ধুকপুকানি নাওমি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিল।
"আমি তোমাকে আবার স্পর্শ করতে চাই নাওমি," আদ্রিয়ান ফিসফিস করে বলল, তার চোখের মণিতে জ্বলছিল এক গভীর কামনার আগুন। "কিন্তু এবার আমি তোমাকে কোনো ভয় বা অপমানের মধ্যে ঠেলে দেব না। তুমি যদি চাও, তবেই আমি এগোব। তোমার না-কে আমি সম্মান করব।"
নাওমির চোখ দুটো ছলছল করে উঠল। আদ্রিয়ান সত্যিই বদলাতে শুরু করেছে। যে মানুষটা নিজের কামনার ঝোঁকে সব কিছু ধ্বংস করে দিতে দ্বিধা করত না, সে আজ নাওমির সম্মতির জন্য অপেক্ষা করছে।
নাওমি তার হাতটা তুলে আদ্রিয়ানের চওড়া চিবুকে রাখল। "আদ্রিয়ান... এই পরিবর্তনটা যদি শুধুই আমাকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য একটা অভিনয় হয়, তবে কিন্তু আমি আর কোনোদিন তোমার কাছে ফিরব না।"
"ওটা কোনো অভিনয় নয়, নাওমি," আদ্রিয়ান নাওমির ঠোঁটে আলতো করে নিজের ঠোঁট ছোঁয়ালো। "তুমি আমাকে একটা সুযোগ দাও। আমি তোমাকে দেখাব যে আমি তোমাকে সম্মান করে ভালোবাসতে পারি।"
নাওমি আদ্রিয়ানের ঘাড় জড়িয়ে ধরে তাকে নিজের আরও কাছে টেনে নিল। তাদের ঠোঁট জোড়া আবার এক হলো, কিন্তু এবারের চুম্বন ছিল একদম আলাদা। সেখানে কোনো দখলদারিত্বের দাপট ছিল না, ছিল না কোনো রাগের উত্তাপ। ছিল কেবল এক গভীর তৃষ্ণা আর নিজেকে সমর্পণ করার ব্যাকুলতা। আদ্রিয়ান নাওমির কোমর জড়িয়ে তাকে সোফায় শুইয়ে দিল। তার হাত নাওমির পিঠের সুতি কাপড়ের ওপর দিয়ে গড়িয়ে নেমে এলো কোমরের ভাঁজে। প্রতিটি ছোঁয়ায় আদ্রিয়ান নিজেকে সামলে রাখছিল, নাওমির প্রতিটি নিঃশ্বাসের তালে তাল মিলিয়ে সে নিজের তীব্রতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখছিল।
নাওমির বুকটা গভীর উত্তেজনায় ওঠানামা করছিল। আদ্রিয়ানের স্পর্শে আজ কোনো ভয় নেই, আছে কেবল এক স্বর্গীয় সুখানভূতি। আদ্রিয়ান নাওমির সুতির জামার বোতামগুলো ধীরে ধীরে খুলতে লাগল, প্রতিটি উন্মুক্ত চামড়ায় সে নিজের ঠোঁট বসিয়ে দিল পরম যত্নে। নাওমির কণ্ঠ চিরে বের হয়ে এলো এক মৃদু আকুতি।
কিন্তু ঠিক যখন উত্তাপের পারদ চরমে, আদ্রিয়ান নিজে থেকেই থামল। নাওমির চোখের দিকে তাকিয়ে সে মৃদু হাসল। নাওমির কপালে জমে থাকা ঘামের ফোঁটাটা নিজের আঙুল দিয়ে মুছে দিল।
"আজ এখানেই থাক," আদ্রিয়ান নাওমির জামার ওপরের অংশটা আলতো করে ঢেকে দিয়ে বলল। "আমি চাই তুমি পুরোপুরি বিশ্বাস করো যে আমি বদলে গেছি। আমি শুধু তোমার শরীর চাই না, আমি তোমার পুরো জীবনটা চাই—সেটাও তোমার সম্মানের সাথে।"
নাওমি সোফায় উঠে বসল। আদ্রিয়ানের এই সংযম তাকে সত্যি স্তব্ধ করে দিয়েছে। সে আদ্রিয়ানের চোখের দিকে তাকাল। সেখানে আজ রাগের সেই লালচে ছায়া নেই, আছে কেবল এক গভীর, খাঁটি ভালোবাসা।
"কাল রাতে আমার পুরনো বাসায় চলে এসো," নাওমি হালকা হেসে বলল। "আমরা নতুন করে শুরু করব।"
পরদিন বিকেলবেলা। হালকা মেঘলা আকাশ, থেকে থেকেই ঝিরঝিরে বৃষ্টি পড়ছিল। আদ্রিয়ানের অ্যাপার্টমেন্টের দরজাটা খুলেই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল সে। ঘরে ঢুকতেই এক অদ্ভুত মিষ্টি পারফিউমের ঘ্রাণ তার নাকে এসে ধাক্কা দিল। লিভিং রুমের আলো আধাঁরি পরিবেশ, টেবিলে একগুচ্ছ তাজা কাঠগোলাপ, আর ব্যাকগ্রাউন্ডে খুব নিচু স্বরে বাজছে একটা করুণ অথচ মিষ্টি সুর।
নাওমি বারান্দার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। তার পরনে একটা গাঢ় নীল রঙের সিল্কের শাড়ি, খোলা চুলগুলো পিঠের ওপর ঢেউ খেলিয়ে পড়েছে। বৃষ্টির ছাঁটে শাড়ির আঁচল খানিকটা ভিজে গায়ের সঙ্গে লেপ্টে আছে। আদ্রিয়ানকে দেখে সে ঘুরে দাঁড়াল। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক নিশ্চিন্ত, মায়াবী হাসি।
আদ্রিয়ান পা বাড়িয়ে ভেতরে এলো। কাল রাতের পর থেকে তার বুকের ভেতরের সমস্ত ওলটপালট যেন এক শান্ত সাগরে পরিণত হয়েছে। তবে আজ নাওমিকে এই রূপে দেখে তার চোখ দুটো আঠার মতো আটকে গেল। শাড়ির নীল রঙে নাওমির মেদহীন ফর্সা শরীরটা যেন এক অপূর্ব কাব্যের মতো ফুটে উঠেছে।
"তুমি এসেছ?" নাওমি মৃদু স্বরে বলল।
"হ্যাঁ," আদ্রিয়ান ধীরপায়ে এগোতে এগোতে বলল। সে তার ভেতরের তীব্র স্পন্দনটাকে সংযত রাখার শত চেষ্টা করছিল। "তুমি সব কিছু সাজিয়েছ?"
"শুধু ঘর সাজাইনি আদ্রিয়ান, আমাদের নতুন জীবনের সীমানাটাও নতুন করে সাজিয়েছি," নাওমি আদ্রিয়ানের একদম কাছাকাছি এসে দাঁড়াল। সে নিজের হাত দুটো আদ্রিয়ানের কাঁধে রাখল। "তুমি গতকাল তোমার সংযম দিয়ে প্রমাণ করেছ যে তুমি বদলাতে পারো। আজ আমি তোমাকে আর দূরে রাখতে চাই না।"
কথাটা শেষ হতেই আদ্রিয়ানের সহ্যের বাঁধ যেন ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হলো। তবে এবার তার মধ্যে কোনো উগ্রতা ছিল না, ছিল এক পরম ব্যাকুলতা। সে নাওমির কোমর জড়িয়ে ধরে নিজের দিকে টেনে নিল। সিল্কের শাড়ির ওপর দিয়েই নাওমির শরীরের উত্তাপ আদ্রিয়ানের হাতের তালুতে এসে লাগল।
"নাওমি... তুমি জানো না আমি কতবার এই দিনটার জন্য নিজেকে চাবুক মেরেছি," আদ্রিয়ান ফিসফিস করে নাওমির কানের কাছে বলল। তার উত্তপ্ত শ্বাস নাওমির ঘাড়ে লাগতেই নাওমি শিউরে উঠে চোখ বন্ধ করে ফেলল।
আদ্রিয়ান আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে নাওমির থুতনি ধরে মুখটা তুলে সোজা তার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিল। এবার আর কোনো অহংকার বা জেদের জয় নয়, এই চুম্বনে ছিল দুটো তৃষ্ণার্ত আত্মার মিলন। আদ্রিয়ান খুব চাতুর্যের সাথে পরম ভালোবাসায় নাওমির নিচের ঠোঁটটা চুষে নিতে লাগল। নাওমিও সমান তালে সাড়া দিল, তার হাত দুটো গিয়ে আদ্রিয়ানের চুল পেঁচিয়ে ধরল।
বৃষ্টির শব্দ আর তাদের ঘন নিঃশ্বাসের শব্দ মিলেমিশে এক হয়ে গেল। আদ্রিয়ান নাওমিকে কোলে তুলে নিয়ে সোজা বেডরুমের দিকে হেঁটে গেল। বেডের ওপর নাওমাকে আলতো করে শুইয়ে দিয়ে সে নিজেও তার ওপর নেমে এলো।
ঘরের আবছা আলোয় নাওমির শাড়ির আঁচলটা সরিয়ে দিতেই তার উন্মুক্ত পেটের ভাঁজ আর নাভির চারপাশের সুকোমল চামড়া আদ্রিয়ানের চোখে পড়ল। আদ্রিয়ান মাথা নামিয়ে নাওমির নাভিতে নিজের গরম ঠোঁট ছোঁয়ালো। নাওমির মুখ থেকে এক তৃপ্তির সিৎকার বের হয়ে এল, সে বিছানার চাদরটা শক্ত করে চেপে ধরল।
"আদ্রিয়ান... আর কোনো ভুল বোঝাবুঝি নয় তো?" নাওমি কেঁপে ওঠা গলায় শুধালো।
"কখনও না," আদ্রিয়ান নাওমির চোখের দিকে তাকাল, যে চোখে আজ শুধুই অপরিসীম শ্রদ্ধা আর কামনার এক স্বচ্ছ নদী। "তোমার অনুমতি ছাড়া আমি আর কখনও তোমার কোনো সীমানা পার হব না। এই ভালোবাসা শুধুই তোমার আর আমার, এখানে কোনো বিষাক্ত রাগের স্থান নেই।"
আদ্রিয়ান ধীরে ধীরে নাওমির শাড়ির প্যাঁচগুলো খুলে দিল। প্রতিটি ভাঁজ খোলার সঙ্গে সঙ্গে নাওমির শরীরের অনাবৃত সৌন্দর্য ফুটে উঠছিল। আদ্রিয়ানের ঠোঁট এবার নেমে এলো নাওমির বুকের উপত্যকায়। প্রতিটি ছোঁয়া, প্রতিটি কামড় ছিল যেমন তীব্র, তেমনই মোলায়েম। নাওমি আদ্রিয়ানের পিঠে নিজের নখ বিধিয়ে দিল গভীর উত্তেজনায়। সে অনুভব করতে পারছিল, আদ্রিয়ানের ভেতরের সেই আগের উগ্রতাটা আজ এক পরম তৃপ্তিদায়ক ভালোবাসায় রূপ নিয়েছে।
পুরো রাতটা তারা একে অপরের মধ্যে বিলীন হয়ে গেল। উত্তপ্ত দেহ, ঘন নিঃশ্বাস আর কামনার আগুনে জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে গেল পুরোনো সব অভিমান আর অপমান। আদ্রিয়ান নাওমিকে শুধু শারীরিক তৃপ্তিই দেয়নি, তার প্রতিটি ছোঁয়ায় বুঝিয়ে দিয়েছে যে নাওমি তার জীবনের সবচেয়ে দামী রত্ন, যাকে সে এখন আগলে রাখতে জানে।
পরদিন সকালে জানালার ফাঁক গলে রোদের আলো এসে পড়ল বেডের ওপর।
নাওমি চোখ মেলে দেখল, আদ্রিয়ান তাকে এক বাহুতে জড়িয়ে গভীরভাবে ঘুমাচ্ছে। আদ্রিয়ানের মুখের সেই পুরোনো কঠিন, রাগী ভাবটা এখন একদম নেই; সেখানে এক অদ্ভুত শান্ত স্নিগ্ধতা। নাওমি হেসে নিজের হাতটা আদ্রিয়ানের বুকের ওপর রাখল।
আদ্রিয়ানের ঘুম ভেঙে গেল। সে চোখ মেলেই নাওমিকে দেখতে পেয়ে এক গাল হাসল। নাওমির কপালে একটা শুভ সকালের মিষ্টি চুমু দিয়ে সে বলল, "গুড মর্নিং, মাই লাভ।"
"মর্নিং," নাওমি আদ্রিয়ানের বুকে মুখ লুকালো। "আজ থেকে আমাদের এক নতুন যাত্রা শুরু হলো, আদ্রিয়ান।"
"হ্যাঁ," আদ্রিয়ান নাওমির চিবুক ধরে তাকে নিজের দিকে তাক করালো। "যেখানে রাগ থাকবে, কিন্তু বিষাক্ততা থাকবে না। যেখানে ব্যাকুলতা থাকবে, কিন্তু অসম্মান থাকবে না।"
দুটো মানুষ তাদের পুরোনো জং ধরা অভ্যাসগুলোকে পেছনে ফেলে এক নতুন ভোরে পা রাখল—যেখানে গভীর ভালোবাসা আর তীব্র আকর্ষণের পাশাপাশি পরস্পরকে সম্মান জানানোর সীমানাটা চিরকালের জন্য লেখা হয়ে গেছে।
....