বিষাক্ত অধিকারের শৃঙ্খল ভাঙল

ঝুম বৃষ্টিতে ঢাকা শহরের ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে ছিল বিআরটিসির দ্বিতল বাসটি। রাত প্রায় নয়টা। বাসের ওপর তলার একদম পেছনের দিকের তিন নম্বর সিটে বসেছিল মেহরিন। জানালার কাচে বৃষ্টির জলের ফোটাগুলো একে অপরের সাথে মিশে গড়িয়ে পড়ছে। মেহরিনের ভেতরের মনটাও আজ ওই বৃষ্টির মতোই মেঘলা আর বিশৃঙ্খল। তার ঠিক পাশের সিটে বসে আছে রায়ান। একই বিশ্ববিদ্যালয়, একই ডিপার্টমেন্ট, এমনকি একই পথে যাতায়াতের সুবাদে দুজনে আজ একই বাসে। কিন্তু তাদের মাঝখানের দূরত্বটা যেন কয়েক হাজার মাইলের।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

 

বাহ্যিকভাবে রায়ান আর মেহরিনকে দেখে যে কেউ বলবে—এ এক স্বর্গীয় জুটি। রায়ানের শক্ত চেহারার গাম্ভীর্য আর মেহরিনের শান্ত, মায়াবী রূপ যেকোনো মানুষের নজর কাড়তে বাধ্য। কিন্তু এই নিখুঁত প্রলেপের ভেতরে লুকিয়ে আছে এক বিষাক্ত যন্ত্রণা। রায়ানের ভালোবাসা গভীর, প্রচণ্ড গভীর—কিন্তু সেই গভীরতাই আজ কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার তীব্র হারানোর ভয় পরিণত হয়েছে অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণতায়। মেহরিন কার সাথে কথা বলছে, কেন ক্লাসের অমুক সহপাঠীর মেসেজে রিপ্লাই দিতে পাঁচ মিনিট দেরি হলো, কেন ডিপার্টমেন্টের আড্ডায় অত হেসে কথা বলল—প্রতিটি ছোট ছোট বিষয় নিয়ে রায়ানের হাজারো প্রশ্ন, হাজারো জবাবদিহি।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

 

মেহরিন বাস জানালার কাচে মাথা ঠেকাতেই রায়ানের চাপা গর্জন ভেসে এলো, "মেহরিন, আমি যখন কথা বলছি, তুমি অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে আছ কেন?"

 

মেহরিন একপলক তাকাল রায়ানের দিকে। রায়ানের চোখ দুটোতে রক্তিম আভা, চোয়াল শক্ত হয়ে আছে। মেহরিন ক্লান্ত গলায় বলল, "রায়ান, আমরা বাসে আছি। অন্তত এখানে ঝামেলা কোরো না। আমি খুব ক্লান্ত।"

 

"ঝামেলা আমি করছি না মেহরিন! তুমি করছ," রায়ান মেহরিনের আরও কাছে সরে এলো। বাসের ওপর তলায় যাত্রী খুব একটা নেই, পেছনের দিকে তো একেবারেই কেউ নেই। আবছা আলো আর বৃষ্টির শব্দ পুরো পরিবেশকে কেমন যেন এক থমথমে নির্জনতায় ঢেকে দিয়েছে। রায়ান মেহরিনের বাম হাতটা শক্ত করে নিজের হাতের মুঠোয় চেপে ধরল। আকস্মিক এই চাপে মেহরিন মৃদু কোঁকাকুড়ি করে উঠল, "রায়ান, ছাড়ো! লাগছে তো!"

 

"লাগুক!" রায়ানের গলায় বিষাদ আর রাগের অদ্ভুত মিশ্রণ। "আজ দুপুরে শাফিন তোমাকে কী বলছিল? তুমি ওর কথায় অত হাসছিলে কেন? আমি কি তোমার জীবনে এতই ফেলনা হয়ে গেলাম যে অন্য কেউ তোমাকে আমার চেয়ে বেশি হাসাবে?"

 

"শাফিন জাস্ট আমাদের অ্যাসাইনমেন্টের কথা বলছিল রায়ান! ও আমার ভালো বন্ধু, এর বেশি কিছু নয়। তুমি প্রতিটা মানুষকে নিয়ে কেন এমন নোংরা চিন্তা করো?" মেহরিন টান মেরে হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করল, কিন্তু রায়ানের গ্রিপ আরও শক্ত হলো।

 

"বন্ধু? আমার কাছে কোনো ব্যাখ্যার দরকার নেই মেহরিন। তোমাকে অন্য কোনো পুরুষের চোখের সীমানায় দেখতেও আমার গায়ে আগুন জ্বলে ওঠে। তুমি শুধু আমার! বোঝো না কেন?" রায়ানের গলার স্বর নিচু কিন্তু অসম্ভব তীব্র।

 

রায়ান হুট করেই মেহরিনকে আরও নিজের দিকে টেনে আনল। বাসের পেছনের সিটের সেই অন্ধকার কোণে দুজন মানুষের দূরত্ব নিমেষেই শূন্যে নেমে এলো। রায়ানের গায়ের দামি পারফিউমের তামাকজাতীয় তীব্র গন্ধ আর মেহরিনের হালকা বেলি ফুলের আতরের ঘ্রাণ বাতাসে মিশে এক মাতাল করা অনুভূতির সৃষ্টি করল। মেহরিন ধাক্কা দিয়ে রায়ানক দূরে সরাতে চেয়েছিল, কিন্তু রায়ানের এক হাত মেহরিনের কোমরে চেপে বসে তাকে নিজের বুকের সাথে পিষে ফেলল।

 

"রায়ান, ছাড়ো... কেউ দেখে ফেলবে," মেহরিন হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, কিন্তু তার কণ্ঠে প্রতিবাদ অপেক্ষা এক ধরনের অবাধ্য কাঁপন স্পষ্ট।

 

"কেউ দেখছে না," রায়ানের ঠোঁট জোড়া মেহরিনের থুতনিতে ছোঁয়াতেই মেহরিনের শরীর জুড়ে এক বিদ্যুতায়িত শিহরণ খেলে গেল। রায়ানের গরম শ্বাস মেহরিনের উন্মুক্ত ঘাড়ে আছড়ে পড়ছিল। রায়ান আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। মেহরিনের অবাধ্যতাকে স্তব্ধ করে দিতে সে মেহরিনের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট চেপে ধরল।

 

সে চুম্বন শান্ত বা কোমল ছিল না; তাতে ছিল অধিকারবোধের তীব্র দাপট, ক্ষোভ আর মাতাল করা তৃষ্ণা। রায়ানের এক হাত মেহরিনের পিঠ বেয়ে ওপরে উঠে গিয়ে তার চুলগুলো শক্ত করে আঁকড়ে ধরল, অন্য হাতটা মেহরিনের কোমর থেকে সরে এসে থাইয়ের ওপর চেপে বসল। মেহরিন প্রথমে নিজেকে ছাড়ানোর আকুল চেষ্টা করেছিল, কিন্তু রায়ানের পেশীবহুল শরীরের উত্তাপ আর তার অধরের গভীর আকর্ষণে মেহরিন ধীরে ধীরে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারাতে লাগল। বাসের মৃদু ঝাঁকুনি আর পেছনের চাকার দোলাচল তাদের সেই উন্মাদনাকে যেন আরও বাড়িয়ে দিল।

 

মেহরিনের চোখ দুটো বন্ধ হয়ে এলো, সে রায়ানের জামার কলারটা শক্ত করে চেপে ধরল। রায়ান চুম্বন গভীর থেকে গভীরতর করে তুলল। তার উসখুস করা ঠোঁট মেহরিনের ঠোঁটের সীমানা পেরিয়ে গড়িয়ে পড়ল থুতনি, তারপর নামল সুগঠিত গলার ওপর। মেহরিনের গলা থেকে এক হালকা কোঁকানি শব্দ বের হয়ে এলো, যা বাসের বাইরের বৃষ্টির শব্দে মিলিয়ে গেল। রায়ান মেহরিনের কামিজের ওপর থেকেই তার বুকের স্পন্দন অনুভব করার চেষ্টা করছিল, তার হাত মেহরিনের পিঠের ভাঁজে তীব্র ভালোবাসায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছিল। প্রতিটি স্পর্শে মেহরিনের শরীরে আগুন জ্বলছিল, রায়ানের দেওয়া সমস্ত কষ্ট যেন এই এক মুহূর্তের তীব্র শারীরিক সুখে ধুয়েমুছে যেতে চাইল।

 

রায়ান মেহরিনের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, "তুমি শুধু আমার মেহরিন... তুমি অন্য কারও হতে পারো না। তোমাকে আমি ছাই হয়ে যেতে দেব, তাও অন্য কারও হতে দেব না।"

 

কথাটা মেহরিনের কাঁচা চামড়ায় যেন এক চরম আঘাত হয়ে লাগল। রায়ানের সেই অধিকারবোধের চরম উন্মাদনা আর তার উত্তপ্ত স্পর্শ মেহরিনকে এক মুহূর্তের জন্য স্বর্গের অনুভূতি দিলেও, পরের মুহূর্তেই তার মনে গভীর এক আতঙ্কের জন্ম দিল। এই যে তীব্র কামাকুল স্পর্শ, এই যে উন্মাদ ভালোবাসা—এতে কোনো শান্তি নেই। এতে আছে কেবল শৃঙ্খল।

 

মেহরিন হঠাৎ করেই সমস্ত শক্তি এক জায়গায় করে রায়ানের বুকে প্রচণ্ড এক ধাক্কা দিল। রায়ান আশা করেনি এমন প্রতিরোধ, তাই সে কিছুটা পেছনে হটে গেল।

 

মেহরিন দ্রুত নিজের এলোমেলো পোশাক আর চুল ঠিক করে নিল। তার ঠোঁট দুটো তখনও রায়ানের কামড়ের তাপে লাল হয়ে ফুলে আছে, বুকটা দ্রুত ওঠানামা করছে। তার চোখে জল, কিন্তু সেই জলে ভালোবাসার চেয়ে বেশি ছিল এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দৃঢ়তা।

 

"তুমি যাকে ভালোবাসা বলো রায়ান, ওটা ভালোবাসা নয়। ওটা একটা রোগ," মেহরিন কেঁপে ওঠা গলায় বলল। "তুমি আমাকে ভালোবাসো না, তুমি আমাকে একটা খেলনা মনে করো যা তুমি নিজের খাঁচায় বন্দী করে রাখতে চাও। আমার ওপর তোমার এই অসুস্থ অধিকারবোধ আমাকে প্রতিদিন তিল তিল করে মেরে ফেলছে।"

 

রায়ান কিছুটা থমকে গেল। তার হাঁপাতে থাকা বুকের ভেতরে তখনও উথালপাথাল তরঙ্গ। সে মেহরিনের হাত আবার ধরতে গিয়ে বলল, "মেহরিন, আমি তোমাকে হারাব না। আমি সইতে পারি না..."

 

"না রায়ান!" মেহরিন হাত সরিয়ে নিল। "আজকে বাসে তুমি আমার শরীরের ওপর যেভাবে অধিকার ফলালে, সেটা ভালোবাসার কাম নয়, সেটা ছিল তোমার অহংকার। আমি আর পারছি না। এই সম্পর্কের দমবন্ধ করা বাতাস আমাকে মেরে ফেলছে।"

 

বাসটি ততক্ষণে তাদের গন্তব্যের কাছাকাছি চলে এসেছে। কন্ডাকটর চিৎকার করে পেছনের যাত্রীদের নামার তাগিদ দিল। মেহরিন আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। সে রায়ানের দিকে শেষবারের মতো এক করুণ নজরে তাকাল—যে নজরে ছিল সম্পর্কের শেষ পরিণতি। মেহরিন দ্রুত বাসের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে গেল।

 

রায়ান জানালার কাচ দিয়ে দেখল, মেহরিন মুষলধারে নামা বৃষ্টির মধ্যে একা হেঁটে চলে যাচ্ছে। বৃষ্টির জলে মিশে যাচ্ছে তার চোখের জল। রায়ান নিজের দুই হাতে মুখ ঢেকে বসে রইল বাসের সেই খালি সিটে। বাসের ভেতরে তখনও ভেসে বেড়াচ্ছে মেহরিনের গায়ের বেলি ফুলের ঘ্রাণ আর তাদের একটু আগের তীব্র, উন্মত্ত রোমান্সের স্মৃতি। কিন্তু সেই উষ্ণতা রায়ানের ভেতরের বরফকে গলাতে পারল না। সে বুঝতে পারল না, অতিরিক্ত ভালোবাসার নামে সে আজ তার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষকে নিজের হাত দিয়েই দূরে ঠেলে দিল। আর এর মাধ্যমেই শেষ হয়ে গেল তাদের দীর্ঘদিনের ভালোবাসার প্রথম অধ্যায়—রেখে গেল কেবল এক বুক হাহাকার আর ভাঙা বিশ্বাসের অবশেষ।

মেহরিনের চলে যাওয়ার পর দুটো দিন কীভাবে কেটেছিল, রায়ান তা নিজে জানত না। ঢাকা শহরের এই যান্ত্রিক কোলাহলে সে যেন এক জীবন্ত লাশ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে মেহরিন আসছিল না। তার ফোন বন্ধ, হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজগুলো অপঠিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। রায়ানের মাথাটা কাজ করছিল না। বাসের সেই রাতের ঘটনাটা তার মনের ক্যানভাসে বারবার ভেসে উঠছিল—মেহরিনের উন্মাদের মতো নিঃশ্বাস, তার গলার কাছে রায়ানের তীব্র স্পর্শের দাগ, আর সবশেষে মেহরিনের সেই জলভরা চোখের শেষ দৃষ্টি।

 

রায়ান বুঝতে পারছিল না, এত গভীর ভালোবাসার পর কীভাবে একটা মানুষ হুট করে উবে যেতে পারে? তার মনে হচ্ছিল, মেহরিন হয়তো ওকে শাস্তি দেওয়ার জন্য এমন নাটক করছে। আবার কখনো মনে হচ্ছিল, মেহরিন নিশ্চয়ই অন্য কারও পরামর্শে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রায়ানের ভেতরের সেই বিষাক্ত সন্দেহ আর ভালোবাসার উন্মাদনা তাকে ধীরে ধীরে পশুর পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছিল।

 

অবশেষে চারদিনের মাথায় রায়ান আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারল না। সে জানত, মেহরিন প্রতিদিন বিকেলে ধানমন্ডির এক নিরিবিলি কফি শপের ছাদ-ক্যাফেতে একা বসে বই পড়ে। সে সরাসরি সেখানে গিয়ে হাজির হলো।

 

মেঘলা বিকেল, আবছা আলোয় মেহরিন একা একটা কোণায় বসে ছিল। পরনে গাঢ় নীল রঙের একটা সালোয়ার কামিজ, চুলগুলো হালকা করে খোঁপা করা। রায়ান কোনো কথা না বলে সোজা গিয়ে মেহরিনের মুখোমুখি চেয়ারটায় বসল।

 

মেহরিন চমকে উঠে চোখ তুলে তাকাল। রায়ানের চোখ দুটো বসে গেছে, দাড়ি উসকোখুসকো, শার্টের হাতা গুটানো—তাকে দেখে মনে হচ্ছে কোনো এক ঝড়ের অবশেষ। কিন্তু মেহরিনের চোখে কোনো মায়া দেখতে পেল না রায়ান; সেখানে ছিল কেবল চরম বিরক্তি আর আত্মরক্ষা করার ভয়।

 

"তুমি এখানে কেন রায়ান? আমি তোমাকে আমার সাথে দেখা করতে নিষেধ করেছিলাম," মেহরিনের গলায় কঠিন বরফ।

 

রায়ান হালকা বাঁকা হাসল। তার চোখের চাহনিতে ছিল এক ধরনের হিংস্র তীব্রতা। সে সামনে ঝুঁকে মেহরিনের দুটো হাত টেবিলের ওপর চেপে ধরল। মেহরিন হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতেই রায়ান তার আঙুলগুলোর ভেতর নিজের আঙুল গলিয়ে দিয়ে এমনভাবে চাপ দিল যে মেহরিন ব্যথায় কুঁকড়ে উঠল।

 

"নিষেধ করেছিলে?" রায়ানের ফিসফিসানি গলা থেকে যেন বিষ ঝরে পড়ল। "তোমার কি মনে হয় তুমি চাইলেই আমাকে এভাবে নিজের জীবন থেকে ছাঁটাই করে দিতে পারো? এত সহজ মেহরিন? বাসের সেই রাতের কথা ভুলে গেলে? যখন আমার বুকে মাথা রেখে তুমি কাঁপছিলে, আমার প্রতিটা স্পর্শে যখন তুমি নিজের অস্তিত্ব হারাচ্ছিলে—ওটা কি মিথ্যে ছিল?"

 

মেহরিনের মুখটা লাল হয়ে উঠল অপমানে আর লজ্জায়। সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, "ওটা আমার ভুল ছিল রায়ান! তোমার ওই অসুস্থ কাম আর ভালোবাসার ভান আমাকে অন্ধ করেছিল। কিন্তু আমি এখন সচেতন। তুমি একজন সাইকো! তুমি আমাকে ভালোবাসো না, তুমি আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাও।"

 

কথাটা শুনে রায়ানের ভেতরের হিংস্র সত্তাটা যেন জেগে উঠল। সে এক ঝটকায় উঠে দাঁড়িয়ে মেহরিনের হাত ধরে টেনে তাকে ক্যাফের পেছনের সার্ভিস করিডোর আর ওয়াশরুমের মাঝখানের নির্জন আঁধার গলিটার দিকে নিয়ে গেল। ক্যাফেতে যাত্রী খুব কম ছিল, আর ওয়েটাররাও সেদিকে ছিল না।

 

"ছাড়ো রায়ান! কী করছ তুমি? আমি চিৎকার করব!" মেহরিন ভয়ে ও ক্ষোভে ফেটে পড়ল।

 

কিন্তু রায়ান শুনল না। দেওয়ালের সাথে মেহরিনকে শক্ত করে চেপে ধরল সে। রায়ানের শক্ত, সুগঠিত দেহ মেহরিনের ওপর এক ভারী দেয়ালের মতো চেপে বসল। মেহরিন নড়ার কোনো সুযোগ পেল না।

 

"করো চিৎকার! সবাইকে ডেকে দেখাও তোমার এই শরীরটার ওপর কার অধিকার," রায়ানের গলার আওয়াজ নিচু হলেও তাতে ছিল অনমনীয় শাসন।

 

রায়ান মেহরিনের দুই হাত মাথার ওপরে তুলে এক হাত দিয়ে দেওয়ালের সাথে পেঁচিয়ে ধরল। অন্য হাতটা দ্রুত নেমে এলো মেহরিনের ওড়না সরিয়ে তার উন্মুক্ত ঘাড় আর পিঠের ওপর। রায়ানের হাতের গরম তালু মেহরিনের নগ্ন চামড়ায় ছোঁয়াতেই মেহরিনের শরীরটা একটা তীব্র শিহরণে কেঁপে উঠল। মেহরিন মুখ ফিরিয়ে নিতে চাইল, কিন্তু রায়ান তার চোয়াল শক্ত করে ধরে নিজের মুখের কাছে নিয়ে এলো।

 

"তুমি অন্য কাউকে ভালোবাসতে পারো না মেহরিন। তোমার এই ভেজা ঠোঁট, তোমার এই উত্তপ্ত শ্বাস, তোমার শরীরের প্রতিটি ভাঁজ—সবকিছুর মালিক শুধু আমি!"

 

রায়ান আর সুযোগ দিল না। সে বুনো উন্মাদনায় মেহরিনের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিল। বাসের রাতের চেয়েও এই চুম্বন ছিল অনেক বেশি হিংস্র, রোদের মতো উত্তপ্ত এবং অধিকারকামী। মেহরিনের ঠোঁট থেকে রক্ত বের হওয়ার উপক্রম হলো। রায়ান কেবল চুম্বন করেই ক্ষান্ত হলো না, তার হাত মেহরিনের কোমরের খাঁজ বেয়ে কামিজের ওপর থেকেই উরুতে তীব্র স্পর্শ ছড়িয়ে দিতে লাগল। মেহরিনের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রায়ানের কামাকুল চাপের নিচে পিষে যাচ্ছিল।

 

মেহরিনের ভেতরের কামনার সুপ্ত আগুনটা মুহূর্তের জন্য জ্বলে উঠতে চেয়েছিল, কিন্তু রায়ানের জোর জবরদস্তি আর জোর করে নিজের করার মানসিকতা মেহরিনকে এক গভীর ঘৃণায় ভরিয়ে দিল। তার মনে হলো, রায়ানের এই বাহুডোর কোনো ভালোবাসার আশ্রয় নয়, এটা একটা কসাইখানা যেখানে তার আত্মসম্মানকে প্রতিদিন বলি দেওয়া হচ্ছে।

 

মেহরিন চোখ বন্ধ করে রইল। সে আর কোনো বাধা দিল না, কোনো সাড়াও দিল না। সে কাঠের পুতুলের মতো শক্ত হয়ে রটে রইল রায়ানের সেই উত্তপ্ত স্পর্শের নিচে।

 

রায়ানের উন্মাদনা যখন কিছুটা থিতিয়ে এলো, সে মেহরিনের গলায় নিজের মুখ গুঁজে হাঁপাতে লাগল। কিন্তু মেহরিনের নিস্পৃহ, নিষ্প্রাণ শরীরটা অনুভব করতেই রায়ানের হঠাৎ বুকটা কেঁপে উঠল। সে মেহরিনের মুখটার দিকে তাকাল।

 

মেহরিনের চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে নোনা জল। কিন্তু তার চেহারায় কোনো রাগ নেই, কোনো কান্না নেই—আছে কেবল এক মারাত্মক শূন্যতা। সে রায়ানের চোখের দিকে তাকাচ্ছিল, কিন্তু সেই চাহনিতে কোনো জীবন ছিল না।

 

"হয়েছে তোমার?" মেহরিনের গলাটা সম্পূর্ণ নিথর, অদ্ভুত এক শান্ত শোনালো। "তোমার কাম মেটানো শেষ হয়েছে রায়ান? যদি তোমার অহংকার আর তৃষ্ণা মিটে থাকে, তবে এবার আমাকে যেতে দাও।"

 

রায়ানের হাত দুটো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই মেহরিনের শরীর থেকে আলগা হয়ে গেল। সে যেন এক বিশাল ধাক্কা খেল। মেহরিনের এই শান্ত রূপটা তার রাগের চেয়েও অনেক বেশি ভয়ানক।

 

মেহরিন ধীরে ধীরে নিজের ওড়নাটা গায়ে জড়িয়ে নিল। তারপর খুব শান্ত গলায় বলল, "আমি ভেবেছিলাম তোমার মধ্যে একটা মানুষ বাস করে। কিন্তু না, তুমি একটা পশুকে লালন করো। আমি তোমাকে ভালোবাসতাম রায়ান, নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসতাম। কিন্তু আজ, এই মুহূর্তে, তোমার প্রতি আমার ভালোবাসাটা মরে গেল। তোমার স্পর্শ আমাকে এখন আর উষ্ণতা দেয় না, কেবল ঘৃণা যোগায়।"

 

"মেহরিন..." রায়ানের গলা দিয়ে আওয়াজ বের হলো না।

 

"আজ থেকে রায়ানের সাথে মেহরিনের সব সম্পর্ক শেষ। তুমি যদি জোর করে আমাকে ছোঁয়ার চেষ্টা করো, আমি নিজের জীবন দিয়ে দেব, কিন্তু তোমার মতো একটা মানসিক রোগীর কাছে নিজেকে আর সঁপে দেব না।"

 

মেহরিন কোনো ব্যাকুলতা ছাড়াই শান্ত পায়ে হেঁটে করিডোর পেরিয়ে ক্যাফে থেকে বের হয়ে গেল।

 

রায়ান নির্জন গলিটার দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে নিচে বসে পড়ল। তার হাত দুটি তখনও মেহরিনের স্পর্শের উত্তাপে কাঁপছে, কিন্তু তার বুকের ভেতরটা যেন এক মুহূর্তে সাহারা মরুভূমির মতো শুষ্ক আর ফাঁকা হয়ে গেল। মেহরিনের শেষ কথাগুলো তার কানে ঘণ্টার মতো বাজতে লাগল—'তোমার স্পর্শ আমাকে কেবল ঘৃণা যোগায়।'

 

রায়ান নিজের হাতের দিকে তাকাল। যে হাত দিয়ে সে মেহরিনকে আগলে রাখতে চেয়েছিল, সেই হাত দিয়েই সে আজ মেহরিনের আত্মাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে। তার অতিরিক্ত সন্দেহ, তার বুনো অধিকারবোধ আজ তাকে মেহরিনের নজর থেকে চিরতরে এক পশুর পর্যায়ে নামিয়ে দিয়েছে। রায়ান অন্ধকারের মধ্যে মাথা গুঁজে কেঁদে উঠল, কিন্তু সেই কান্নার শব্দ শোনার জন্য মেহরিন আর সেখানে ছিল না। সে সত্যি সত্যিই হারিয়ে গেছে।

মেহরিনের শেষ কথাগুলো রায়ানের মাথায় হাতুড়ির মতো বিঁধছিল প্রতিদিন, প্রতিটা মুহূর্তে। সেই ক্যাফের অন্ধকার গলিটায় মেহরিনের চোখের সেই প্রাণহীন, শূন্য দৃষ্টি রায়ানকে এক নরকীয় যন্ত্রণার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। এতদিন রায়ানের ধারণা ছিল, ভালোবাসা মানেই হলো আগলে রাখা, নিজের অধিকারের চাদরে কাউকে বন্দী করে নেওয়া। কিন্তু মেহরিনের চলে যাওয়ার মাধ্যমে সে এক নির্মম সত্য উপলব্ধি করল—কাউকে জোর করে খাঁচায় আটকে রেখে তার শরীর ছোঁয়া যায়, কিন্তু মন পাওয়া যায় না। অতি-অধিকারবোধ ভালোবাসা নয়, তা এক চরম স্বার্থপরতা ও মানসিক ব্যাধি।

 

দীর্ঘ ছয়টি মাস কেটে গেল। এই ছয় মাসে রায়ানের জীবনে এক আমূল পরিবর্তন এলো। সে বুঝতে পারল, মেহরিনের বিশ্বাস পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছে সে। মেহরিনকে ফিরে পেতে হলে আগে নিজের ভেতরের সেই পশুকে মারতে হবে। রায়ান নিজেকে পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিল। সে একজন পেশাদার সাইকোলজিস্টের শরণাপন্ন হলো নিজের অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণতা ও অ্যাংজাইটি দূর করার জন্য। থেরাপি, বই পড়া আর নিজের মনকে সংযত করার কঠিন লড়াই শুরু হলো রায়ানের।

 

সে আর মেহরিনের পিছু নেয়নি, কোনো মেসেজ দিয়ে বিরক্ত করেনি, কিংবা তার ওপর নজরদারি করার চেষ্টা করেনি। মেহরিনকে সে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিল—এমনকি তাকে হারানোর চরম মূল্য মেনে নিয়েই সে নীরব হয়েছিল।

 

ছয় মাস পর, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবের দিনে রায়ান ও মেহরিনের আবার দেখা হলো। কালো গাউন আর ক্যাপ পরা মেহরিনকে দূর থেকে দেখে রায়ানের বুকটা আবার কেঁপে উঠল। তবে এবার তার চোখে কোনো হিংস্রতা বা উত্তাল অধিকারবোধ ছিল না; সেখানে ছিল কেবল এক গভীর অপরাধবোধ আর শান্ত শ্রদ্ধা।

 

ক্যাম্পাসের বকুলতলায় একা দাঁড়িয়ে ছিল মেহরিন। রায়ান ধীর পায়ে তার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। মেহরিন কিছুটা আড়ষ্ট হয়ে উঠল, তার চোখে এখনও পুরানো স্মৃতির ভয় আর দ্বিধা।

 

রায়ান দুই ধাপ পেছনে সরে দাঁড়িয়ে খুব নিচু কণ্ঠে বলল, "ভয় পেয়ো না মেহরিন। আজ আমি তোমাকে ভয় দেখাতে আসিনি। আমি জানি, অতীতকে মুছে ফেলার সাধ্য আমার নেই। তবে এতদিন পর শুধু একটা কথা বলতে এসেছি—আমি অত্যন্ত লজ্জিত। ভালোবাসার নামে আমি তোমার সাথে যা করেছি, তা কোনো মানুষের কাজ ছিল না।"

 

মেহরিন অবাক হয়ে রায়ানের দিকে তাকাল। রায়ানের চেহারায় সেই পুরোনো উগ্রতা নেই, সেখানে এক অদ্ভুত প্রশান্তি আর পরিণত বোধ ফুটে উঠেছে।

 

রায়ান মৃদু হেসে বলল, "আমি থেরাপি নিচ্ছি মেহরিন। আমি বুঝেছি, ভালোবাসার মানে কাউকে জয় করা নয়, কাউকে তার নিজের মতো করে বাঁচতে দেওয়া। আমি তোমাকে আবার আমার জীবনে ফিরে আসার অনুরোধ করতে আসিনি। শুধু চাই, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও, যাতে আমি নিজের অপরাধবোধ থেকে একটু মুক্তি পাই।"

 

কথাগুলো বলেই রায়ান আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে পেছনে ঘুরে হাঁটতে শুরু করল। কিন্তু মেহরিনের মনে দীর্ঘ ছয় মাসের জমাপড়া বরফটা যেন এই এক মুহূর্তে গলতে শুরু করল। রায়ান যে সত্যি সত্যি বদলে গেছে, তা রায়ানের চোখ এবং আচরণের শালীনতাই বলে দিচ্ছিল।

 

"রায়ান..."

 

মেহরিনের ডাক শুনে রায়ান থমকে দাঁড়াল। পেছনে ফিরে তাকাতেই দেখল মেহরিন তার দিকে এগিয়ে আসছে।

 

"তুমি সত্যি বদলে গেছ?" মেহরিনের গলায় এক ধরনের আবেগমাখা কৌতূহল।

 

"চেষ্টা করছি মেহরিন। তোমার ভালোবাসা আমাকে ধ্বংস করেনি, বরং আমাকে একজন ভালো মানুষ হতে শিখিয়েছে," রায়ান বিনীতভাবে বলল।

 

সেদিন বিকেলে তারা দুজন সাভারের এক শান্ত, নিরিবিলি লেকের পাড়ে গিয়ে বসল। কোনো জোরজবরদস্তি নেই, কোনো সন্দেহের প্রশ্ন নেই—কেবল দুটো মানুষের মুক্ত আলোচনা। মেহরিন বুঝতে পারল, রায়ানের ভেতরের সেই বিষাক্ত অসুস্থতা আর নেই। সেখানে জন্ম নিয়েছে এক প্রগ্রেসিভ, ম্যাচিউর ভালোবাসা।

 

সূর্য যখন ডুবুডুবু, লেকের জলে লালচে আলোর বিচ্ছুরণ। লেকের পাড়ের নির্জন এক মেহগনি গাছের ছায়ায় দুজন মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। বাতাস বইছিল ঝিরঝির করে।

 

মেহরিন নিজেই এবার এক পা এগিয়ে এলো রায়ানের দিকে। সে রায়ানের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, "তুমি কি জানো রায়ান, আমি তোমার সেই উগ্র রূপটাকে ঘৃণা করতাম, কিন্তু তোমার ভেতরের মানুষটাকে কখনোই ঘৃণা করতে পারিনি?"

 

রায়ানের চোখের কোণে জল জমে উঠল। সে মেহরিনের হাত দুটো আলতো করে নিজের হাতের তালুতে নিল—এবার কোনো চাপ ছিল না, ছিল পরম যত্নের ছোঁয়া।

 

"আমাকে কি আর একটা সুযোগ দেওয়া যায় না?" রায়ান ফিসফিস করে বলল।

 

মেহরিন কোনো কথা বলল না। সে রায়ানের বুকে নিজের মাথাটা ধীরে ধীরে সঁপে দিল। দীর্ঘ ছয় মাস পর রায়ান মেহরিনকে আবার নিজের বাহুডোরে জড়াল। তবে এই জড়ানো বাসের রাতের মতো হিংস্র ছিল না, কিংবা ক্যাফের মতো জবরদস্তিমূলক ছিল না। এ ছিল এক গভীর শ্রদ্ধাবোধ আর পরম শান্তির আলিঙ্গন।

 

মেহরিনের মুখটা ওপরে তুলে ধরল রায়ান। মেহরিনের চোখে তখন নিমন্ত্রণ। রায়ান নিচু হয়ে মেহরিনের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ছুঁয়ে দিল।

 

এবারের প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি চুম্বনে ছিল ভিন্ন এক মাতাল করা উষ্ণতা। রায়ানের ঠোঁট দুটো মেহরিনের অধরে গভীর থেকে গভীরতর ভালোবাসার ছাপ রেখে যাচ্ছিল। মেহরিন নিজের হাত দুটো রায়ানের ঘাড়ের পেছনে পেঁচিয়ে ধরে তাকে আরও কাছে টেনে নিল। বাসের বা ক্যাফের সেই আতঙ্ক আজ উবে গিয়ে সেখানে স্থান নিয়েছে এক উন্মত্ত, কামাকুল অথচ মিষ্টি সমর্পণ।

 

রায়ানের হাত মেহরিনের পিঠ বেয়ে কোমর স্পর্শ করল। মেহরিনের শরীরের প্রতিটি লোমকূপ রায়ানের এই মিষ্টি কামে শিহরিত হয়ে উঠল। রায়ানের উত্তপ্ত শ্বাস মেহরিনের কান আর গলার খাঁজে আছড়ে পড়তেই মেহরিন মৃদু এক কামনার সুখে চোখ বন্ধ করে ফেলল। রায়ান মেহরিনের ভেজা ঠোঁটে নিজের ভালোবাসার মোহর এঁকে দিল, যে চুম্বনে ছিল না কোনো শিকল, ছিল কেবল দুজন আত্মার মিলন।

 

লেকের জলের ওপর তখন চাঁদের আলো ফুটে উঠেছে। রায়ান মেহরিনের কপালে একটা দীর্ঘ চুমু দিয়ে তাকে বুকের মধ্যে শক্ত করে জড়িয়ে রাখল।

 

"এবার আর কোনো খাঁচা নয় মেহরিন," রায়ান মেহরিনের চুলে মুখ গুঁজে বলল, "এবার আমরা দুজনে ডানা মেলে একসাথে উড়ব।"

 

মেহরিন রায়ানের বুকে কান রেখে তার হৃদস্পন্দন শুনছিল। সেই স্পন্দনে আজ আর কোনো ভয়ের বার্তা নেই, আছে কেবল এক নিশ্চিত নিরাপত্তার আশ্বাস। সন্দেহ আর ভুল বোঝাবুঝির কালো মেঘ কেটে গিয়ে তাদের সম্পর্কে ভালোবাসার এক নতুন সূর্য উদয় হলো—যার আলোয় কেবল শরীর নয়, আলোকিত হয়ে উঠল তাদের দুটো মনও।

....
👁 10