অভিনয় থেকে বাস্তবে

ড্রয়িংরুমের কোণে রাখা ঘড়িটার টিকটিক শব্দ ছাড়া পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ। জানালার বাইরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে, আর ভেজা বাতাসের একটা ঠাণ্ডা পরশ এসে ঘরের আবহাওয়াকে কেমন এক ভারী অনুভূতিতে ভরিয়ে দিচ্ছে। সোফায় সামনাসামনি বসে ছিল রায়ান আর ইশিতা। মাঝের কাঠের নিচু টেবিলটায় রাখা একটা দুই পাতার চুক্তিপত্র। সাদা কাগজে কালো কালিতে স্পষ্ট করে লেখা রয়েছে কতগুলো শর্ত।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

ইশিতার পরিবারের দিক থেকে আসা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত বিয়ের চাপ এড়াতেই এই পুরো নাটকের সূত্রপাত। সামাজিক আর পারিবারিক জটিলতা থেকে সাময়িকভাবে রেহাই পেতে ইশিতার একজন ভুয়া প্রেমিকের প্রয়োজন ছিল। রায়ান ইশিতার পুরানো পরিচিত, অত্যন্ত গোছানো এবং শান্ত স্বভাবের একজন মানুষ। ইশিতার এই কঠিন পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে সে রাজি হয়েছিল, তবে একটি শর্তে—সবকিছু হবে নিয়মের মধ্যে। আগামী ছয় মাসের জন্য রায়ান হবে ইশিতার প্রেমিক। এই ছয় মাস শেষ হওয়ার পর দুজন আবার নিজেদের সাধারণ জীবনে ফিরে যাবে, কেউ কারও জীবনে কোনো দাবি রাখবে না।

প্রথম এক-দুই মাস সম্পর্কটা ছিল একদম মেপে চলা অভিনয়ের মতো। কোথায় কখন দেখা হবে, পরিবারের সামনে কীভাবে একে অপরের দিকে তাকাতে হবে, কিংবা ফোনে কীভাবে কথা বলতে হবে—সবটাই যেন আগে থেকে স্ক্রিপ্ট লেখা নাটক। এমনকি ফোনে একে অপরকে ডাকার নামটাও তারা নির্দিষ্ট করে নিয়েছিল। রায়ানের কাছে ইশিতা ছিল শুধুই ‘ইশিতা’, আর ইশিতার কাছে সে ছিল ‘রায়ান’। কোনো কৃত্রিম আদর বা আল্লাদের শব্দ তারা ব্যবহার করত না। লোকদেখানো সামাজিক অনুষ্ঠানে রায়ান খুব নিখুঁতভাবে প্রেমিকের অভিনয় করত। ইশিতার বাবার সাথে গাম্ভীর্য বজায় রেখে কথা বলা, আম্মার প্রিয় মিষ্টি নিয়ে আসা কিংবা ইশিতার বোনকে ছোটখাটো উপহার দেওয়া—সবকিছুই রায়ান করত নিখুঁত ছন্দে।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

কিন্তু অভিনয় আর বাস্তবতার মাঝের রেখাটা যে কখন ঝাপসা হতে শুরু করেছিল, তা দুজনের কেউই টের পায়নি।

তিন মাসের মাথায় এসে ইশিতা প্রথম খেয়াল করল, রায়ানের উপস্থিতি আর শুধু চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যে মানুষটা প্রথমদিকে শুধু সময় মেপে দেখা করত, সে এখন ইশিতার চোখের ভাষা দেখে বুঝে ফেলে তার মন ভালো না খারাপ। অফিসে কাজের প্রচন্ড চাপ শেষে ইশিতা যখন ক্লান্ত হয়ে রাতে বাড়ি ফিরত, রায়ান ট্যাক্সি ডেকে ঠিক সময়ে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করত। ইশিতা যখন অতিরিক্ত হতাশায় কফির কাপে চুমুক দিত, রায়ান না বলতেই কফির চিনির পরিমাণটা বদলে দিত, কারণ সে জেনে গিয়েছিল ইশিতা মন খারাপ থাকলে অতিরিক্ত কড়া কফি পছন্দ করে না।

ইশিতা একদিন খেয়াল করল, রায়ান তাকে শুধু আগলেই রাখছে না, বরং তার সমস্ত খুদে অভ্যাসগুলোও মন দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। রায়ানের এই নীরব যত্নগুলো ইশিতার বুকের ভেতর এক অজানা দোলা দিত। সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছিল খুব ধীরগতিতে, কিন্তু অত্যন্ত গভীরভাবে।

এক বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় রায়ানের ফ্ল্যাটে তাদের দেখা করার কথা ছিল। ইশিতার পরিবারের সাথে একটা বড় পারিবারিক অনুষ্ঠানের পর দুজনই মানসিকভাবে বেশ ক্লান্ত ছিল। ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে ইশিতা চা খাচ্ছিল, আর রায়ান বেলকনিতে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছিল। আলো ছিল খুব মৃদু।

ইশিতা চায়ের কাপটা টেবিলে রেখে উঠে গিয়ে রায়ানের পাশে দাঁড়াল। ভেজা বাতাসের ঝাঁপটা ইশিতার চুলে এসে লাগছিল। রায়ান পাশ ফিরে তাকাল। ইশিতার মুখের ওপর পড়া কয়েকগাছি চুল রায়ান খুব আলতো করে সরিয়ে দিল ইশিতার কানের পেছনে। ইশিতার বুকটা স্পন্দিত হয়ে উঠল।

"রায়ান..." ইশিতা মৃদু কণ্ঠে ডাকল।

"হুম?" রায়ানের গলায় ছিল অদ্ভুত এক গভীরতা।

"তুমি এই অভিনয়টা এত নিখুঁতভাবে কীভাবে করছ? মাঝে মাঝে আমার সত্যি সত্যি ভয় হয়।"

রায়ান একটু হাসল, কিন্তু সে হাসিতে কোনো নাটকীয়তা ছিল না। "কোন জিনিসটা সত্যি মনে হয়, ইশিতা?"

"এই যে আমার খেয়াল রাখা, আমার চুপ হয়ে যাওয়া বুঝে ফেলা... এগুলো কি চুক্তির অংশ ছিল?"

রায়ান কোনো উত্তর দিল না। সে শুধু ইশিতার চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। রায়ানের সেই দৃষ্টিতে আজ আর কোনো অভিনয় ছিল না; সেখানে ছিল এক প্রচণ্ড তৃষ্ণা আর আকুলতা। রায়ান ধীর পায়ে আরও একধাপ এগিয়ে এল ইশিতার দিকে। দুজনের মাঝের দূরত্ব তখন শূন্যের কোঠায়। রায়ানের হাত দুটো মেপে মেপে ইশিতার কোমরের দু-পাশে এসে থামল। ইশিতা এক মুহূর্তের জন্য শিউরে উঠল, কিন্তু সে পিছু হটল না।

রায়ান তার মুখটা নামিয়ে আনল ইশিতার ঘাড়ের কাছে। রায়ানের তপ্ত নিঃশ্বাস ইশিতার স্পর্শকাতর ত্বকে লাগতেই ইশিতা চোখ দুটো বুজে ফেলল। রায়ানের নিবিড় ঠোঁট দুটো ঠাঁই নিল ইশিতার ঘাড়ে। সেখানে দীর্ঘ আর তৃষ্ণার্ত এক চুমু বসিয়ে দিল রায়ান। ইশিতার হাত দুটো স্বতঃস্ফূর্তভাবেই চলে গেল রায়ানের চুলে। এতদিনের চেপে রাখা আকুলতা যেন বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইছিল।

রায়ান ইশিতাকে দুই কোলে তুলে নিয়ে সোজা শোবার ঘরের দিকে পা বাড়াল। ঘরের আবছা আলো আর বাইরে বৃষ্টির শব্দের মাঝে তৈরি হলো এক অদ্ভুত মোহাচ্ছন্ন পরিবেশ। বিছানায় ইশিতাকে শুইয়ে দিয়ে রায়ান তার গায়ের ওপর ঝুঁকে পড়ল। রায়ানের প্রতিটি স্পর্শে আজ ছিল এক উন্মাদ ভালোবাসা। ইশিতার ওড়না আর জামার বোতাম একে একে খুলে যেতে লাগল রায়ানের পটু হাতে। ইশিতার ধকধক করে কাঁপতে থাকা শরীরটা রায়ানের বুকের নিচে এসে মিশে গেল।

তাদের ঠোঁট দুটো এক হয়ে গেল দীর্ঘ আর গভীর এক চুমুতে। রায়ানের জিবের আলতো পরশ ইশিতার মুখের ভেতরের উষ্ঞতা মেপে নিতে লাগল। ইশিতা রায়ানের পিঠে নিজের নখগুলো গভীরভাবে বসিয়ে দিল, যেন জীবনের সমস্ত সত্যি এই মুহূর্তটার মধ্যেই লুকিয়ে আছে। রায়ানের হাত ইশিতার উন্মুক্ত পিঠ, কোমর আর উরুর ভাঁজে ছড়িয়ে পড়তে লাগল চরম আবেগে। ইশিতার শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত থেকে দ্রুততর হতে লাগল। রায়ানের পুরুষালি শরীরের উত্তাপ আর ইশিতার সমস্ত শরীর উজাড় করে দেওয়া ভালোবাসা—সব মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল।

সেই রাতে বিছানার চাদর সাক্ষী রইল এক তীব্র আর উন্মাদ ভালোবাসার। রায়ান ইশিতার শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে নিজের করে নেওয়ার মতো করে স্পর্শ করছিল, আর ইশিতাও নিজেকে রায়ানের কাছে সম্পূর্ণ সঁপে দিয়েছিল। এটি আর কোনো চুক্তির প্রেমিকের ছোঁয়া ছিল না, এটি ছিল চরম শারীরিক ও মানসিক আকুলতার এক চরম বহিঃপ্রকাশ। তাদের শরীরের মিলনে কোনো কৃত্রিমতা ছিল না; ছিল কেবল একে অপরকে সম্পূর্ণভাবে পাওয়ার এক তৃষ্ণার্ত ব্যাকুলতা। সারা রাত ধরে তাদের দীর্ঘশ্বাস, শীৎকার আর শরীরের ঘামের ঘ্রাণ ঘরে এক মাতাল করা অনুভূতির সৃষ্টি করল।

পরদিন সকালে যখন রোদ এসে বিছানায় পড়ল, ইশিতা রায়ানের বুকে মাথা রেখে শুয়ে ছিল। রায়ানের শক্ত হাত দুটো তখনো ইশিতার খালি পিঠ জড়িয়ে ধরে রেখেছিল। ইশিতা রায়ানের মুখের দিকে তাকাল। রায়ান ঘুমিয়ে ছিল, কিন্তু তার কপালে চিন্তার সূক্ষ্ম ভাঁজ।

ইশিতা জানত, এই মধুর রাতের পরও তাদের মেয়াদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। চারপাশের এই তীব্র আবেগ আর স্পর্শ কি আসলেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে মিলিয়ে যাবে? রায়ানের বুকের ভেতরেও তখন একই ভয় কাজ করছিল। প্রতিটা দিন পার হওয়া মানেই সম্পর্কের ইতি টানার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া। ছয় মাস শেষ হওয়ার ভয়টাই এখন রায়ানকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছিল। সে কীভাবে ইশিতাকে ছেড়ে যাবে, যে ইশিতা এখন তার শরীরের প্রতিটি কোণে এবং আত্মার গভীরে মিশে গেছে?

মেয়াদ শেষের আর মাত্র তিন দিন বাকি। রায়ান আর ইশিতা দুজনেই চুপচাপ হয়ে গেছে। তারা একে অপরের দিকে তাকায়, কিন্তু ভেতরের হাহাকারটা মুখে প্রকাশ করতে পারে না।

ছয় মাসের চুক্তির শেষ দিনটি অবশেষে হাজির হলো। জানালার বাইরে আকাশ আজ একদম মেঘমুক্ত, কিন্তু ঘরের ভেতরের পরিবেশ ছিল ভারী ও থমথমে। টেবিলের ওপর ঠিক আগের মতোই পড়ে ছিল সেই চুক্তিপত্রটি—যেখানে পরিষ্কার অক্ষরে লেখা ছিল, ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর রায়ান ও ইশিতা নিজেদের সব সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলবে এবং একে অপরের জীবন থেকে চিরতরে সরে দাঁড়াবে।

গত কয়েকটা দিন দুজনের জন্যই ছিল মারাত্মক যন্ত্রণাদায়ক। যে শারীরিক ও মানসিক নিবিড়তা তারা স্পর্শ করেছিল, তা কোনো অভিনয় হতে পারে না—এই সত্যটা দুজনের মনেই স্পষ্ট ছিল। কিন্তু অহংকার, ইতস্তত ভাব আর চুক্তির অদৃশ্য দেয়াল তাদের সত্য প্রকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ইশিতা ভেবেছিল, রায়ান হয়তো কেবল চুক্তি মেনেই সবকিছু করেছে। আর রায়ান ভাবছিল, ইশিতা হয়তো মেয়াদ শেষে তাকে নিজের জীবন থেকে বাদ দিয়ে দেবে।

বিকেলের দিকে ইশিতা রায়ানের ফ্ল্যাটে এল। তার পরনে ছিল একটি নীল রঙের সাধারণ সুতির শাড়ি। মুখটা ফ্যাকাশে, চোখের নিচে স্পষ্ট ক্লান্তির ছাপ। ইশিতা ধীর পায়ে টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।

রায়ান জানালার কাছে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। ইশিতার দিকে তাকাতেই তার বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে উঠল। ছয় মাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার এই ভয়টাই বিগত কিছুদিন ধরে রায়ানকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। সে বুঝতে পারছিল, ইশিতাকে ছাড়া তার এই বেঁচে থাকা একদম অর্থহীন।

ইশিতা কাঁপতে থাকা হাতে টেবিল থেকে কাগজ দুটো তুলে নিল। গলার স্বর সমানে কাঁপছিল, তবুও নিজেকে শক্ত করে সে বলল, "আজ আমাদের চুক্তির ছয় মাস শেষ হলো, রায়ান। শর্ত অনুযায়ী আজই আমাদের এই সম্পর্কের ইতি। তোমার এই সাহায্যের কথা আমি সারা জীবন মনে রাখব।"

কথাগুলো বলেই ইশিতা ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল। কিন্তু ততক্ষণে রায়ানের ভেতরের বাঁধ ভেঙে গেছে। সে এক লাফে এগিয়ে এসে ইশিতার হাত ধরে তাকে নিজের দিকে টেনে আনল।

ইশিতার হাত থেকে কাগজের পাতা দুটো খসে পড়ে গেল না, বরং রায়ান নিজেই ইশিতার হাত থেকে কাগজ দুটো ছিনিয়ে নিল। কোনো কথা না বলে, গভীর এক আক্রোশে আর ভালোবাসায় রায়ান সেই চুক্তিপত্রটি মাঝখান থেকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ঘরের মেঝেতে ফেলে দিল।

ইশিতা চমকে উঠে বলল, "রায়ান! এটা কী করলে তুমি?"

রায়ান ইশিতার দুই কাঁধ শক্ত করে ধরে তার চোখের দিকে তাকাল। রায়ানের চোখে তখন এক অদ্ভুত আগুন, সাথে তীব্র আকুলতা। সে গভীর গলায় বলে উঠল, "ছয় মাসের অভিনয় শেষ, ইশিতা! এবার সারা জীবনের সত্যিটা শুরু হোক।"

ইশিতা বাকরুদ্ধ হয়ে রায়ানের দিকে তাকিয়ে রইল। রায়ান আর কোনো কথা বলার সুযোগ দিল না। সে ইশিতাকে টেনে একদম নিজের বুকের সাথে পিষে ধরল। রায়ানের ঠোঁট দুটো ঝাঁপিয়ে পড়ল ইশিতার ঠোঁটের ওপর। এ চুমু আগের রাতের চেয়েও বেশি তীব্র, বেশি অধিকারবোধে ভরা। ইশিতার সমস্ত দ্বিধা, ভয় আর অনিশ্চয়তা যেন রায়ানের সেই একটি চুমুতেই ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেল। ইশিতা নিজের দু-হাত দিয়ে রায়ানের গলা জড়িয়ে ধরে সাধ্যমতো সেই চুমুর উত্তর দিতে লাগল।

রায়ান এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে ইশিতাকে কোলে তুলে নিয়ে বেডরুমে নিয়ে গেল। দরজাটা সশব্দে বন্ধ হয়ে গেল।

আজ তাদের মাঝে কোনো কৃত্রিম চুক্তির দেয়াল ছিল না, ছিল না কোনো শর্তের বাধ্যবাধকতা। ছিল কেবল দুজন স্বাধীন মানুষের একে অপরকে উন্মাদের মতো পাওয়ার তীব্র আকুলতা। রায়ান খুব দ্রুত ইশিতার শাড়ির আঁচল সরিয়ে দিল। ইশিতার উদোম পিঠে রায়ানের হাত পৌঁছাতেই ইশিতা শিহরিত হয়ে রায়ানের বুকে মুখ লুকাল।

রায়ান ইশিতার ব্লাউজের হুকগুলো একে একে খুলে ফেলে তাকে সম্পূর্ণ অনাবৃত করল। আবছা আলোয় ইশিতার উন্মুক্ত, সুন্দর শরীরটা যেন এক অপূর্ব শিল্পকর্মের মতো দেখাচ্ছিল। রায়ান ইশিতার ঘাড়, বুক আর পেটে নিজের উষ্ণ ঠোঁটের স্পর্শ ছড়িয়ে দিতে লাগল। ইশিতার মুখ থেকে বেরিয়ে আসতে লাগল অস্ফুট শীৎকার। ইশিতা রায়ানের জামাটা এক টানে খুলে ফেলে তার চওড়া বুকে নিজের হাত দুটি বুলিয়ে দিল।

রায়ানের প্রতিটি স্পর্শে আজ ছড়ি ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো তীব্র অধিকারবোধ ছিল। রায়ান ইশিতার উরুর খাঁজে হাত রেখে তাকে নিজের আরও কাছে টেনে নিল। তাদের শরীরের উত্তাপ ঘরের ভেতরের শীতল আবহাওয়াকে এক নিমেষে উধাও করে দিল। যখন রায়ানের শরীর ইশিতার শরীরের গভীরে বিলীন হয়ে গেল, ইশিতা চোখ বন্ধ করে রায়ানের পিঠে নিজের নখগুলো বসিয়ে দিল। এক পরম তৃপ্তি আর ব্যাকুলতায় ভেসে গেল দুজনই।

শরীরের মেলবন্ধনের সাথে সাথে আজ তাদের আত্মা দুটোও এক হয়ে গিয়েছিল। সারা রাত ধরে চলল তাদের এই মাতাল করা ভালোবাসা। প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস আর প্রতিটি শীৎকারে কেবল একটাই স্বীকারোক্তি ছিল—তারা একে অপরকে ছাড়া বাঁচতে পারবে না। শারীরিক মিলনের এই চরম মুহূর্তে ইশিতা ফিসফিস করে রায়ানের কানে বলল, "আমি তোমাকে ভালোবাসি, রায়ান। এই ছয় মাসের কোনো কিছুই আমার কাছে নাটক ছিল না।"

রায়ান ইশিতার কপালে গভীর চুমু খেয়ে বলল, "আমিও তোকে ভালোবাসি, ইশিতা। চুক্তির প্রতিটি দিন আমি তোকে আমার সত্যি করে পাওয়ার জন্যই ছটফট করেছি।"

সকালের আলো যখন আবার সেই বেডরুমের জানালা দিয়ে ভেতরে এসে পড়ল, মেঝেতে তখন ছড়ানো ছিল সেই ছিঁড়ে ফেলা চুক্তির টুকরোগুলো। কিন্তু বিছানায়, একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে থাকা রায়ান আর ইশিতার ভালোবাসায় আর কোনো শর্তের বাঁধন ছিল না। তারা চিরদিনের জন্য একে অপরের হয়ে গেছে।

 

....
👁 14