বৃষ্টির জল গড়িয়ে পড়ছিল জানালার কাচে, ঠিক যেমনটা সাত বছর আগে গড়িয়ে পড়েছিল ফারিয়ার চোখের কোল বেয়ে। বাইরের ঘুটঘুটটে অন্ধকারের মধ্যে বিদ্যুতের চকিত আলোয় ফুটে উঠছিল ঢাকার ধানমন্ডির সেই পুরনো কদম গাছটা। ফারিয়া চা-এর কাপে চুমুক দিতে গিয়েও থেমে গেল। ড্রয়িং রুমের দরজায় দাঁড়ানো সায়েমের দিকে তাকিয়ে তার বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে উঠছিল।
ভিজে জপজপে হয়ে যাওয়া শার্টটা সায়েমের বুক আর পেটের সাথে লেপ্টে আছে। তার লম্বা চুল থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল চুইয়ে পড়ছে মেঝেতে। সাতটা বছর কম সময় নয়, কিন্তু সায়েমের এই পরিচিত গন্ধটা—সেই বৃষ্টিভেজা মাটি আর মৃদু পারফিউমের তীব্র মিশ্রণ—মুহূর্তের মধ্যে ফারিয়ার সমস্ত আত্মসংযম জ্বালিয়ে ছারখার করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।
"তুমি এখানে কেন এসছ, সায়েম?" ফারিয়ার কণ্ঠস্বর কাঁপছিল, যদিও সে সেটা শক্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। "তোমার কি বিন্দুমাত্র লজ্জা নেই? যে মানুষটা অন্য একটা মেয়ের বিছানায় নিজের অস্তিত্ব বিক্রি করে দিয়েছিল, সে আজ আবার আমার দরজায়?"
সায়েম কোনো কথা বলল না। ধীরে ধীরে কয়েক পা এগিয়ে এল। তার চোখের দৃষ্টিতে বিষাদ, আক্ষেপ আর এমন এক উন্মাদ ভালোবাসা ছিল যা ফারিয়ার মেরুদণ্ড বেয়ে হিমশীতল স্রোত নামিয়ে দিল। ফারিয়া কয়েক পা পিছিয়ে যেতে চাইল, কিন্তু সোফার কাঠের ফ্রেমে আটকে গেল তার শরীর।
"সাতটা বছর ধরে এই ভুল বোঝাবুঝির আগুনে আমি প্রতিদিন তিলে তিলে জ্বলেছি, ফারিয়া," সায়েমের কণ্ঠস্বর ছিল একদম নিচু, ভারী এবং অদ্ভুত রকমের কামাতুর।
"ভুল বোঝাবুঝি?" ফারিয়া তিতা হেসে উঠল, কিন্তু সেই হাসি পূর্ণতা পাওয়ার আগেই সায়েম তার এত কাছাকাছি চলে এল যে তাদের নিঃশ্বাস মিশে গেল একে অপরের সাথে।
সায়েমের তপ্ত ও ভেজা হাতটা কোনো অনুমতি না নিয়েই সোজা চলে গেল ফারিয়ার কোমরে। ফারিয়ার শিহরিত শরীরটা কাঁপতে লাগল তীব্র এক অনুভূতির তাড়ে। সূক্ষ্ম পাতলা সুতির সালোয়ার-কামিজের ওপর দিয়েই সায়েমের আঙুলগুলো ফারিয়ার নগ্ন ত্বকের উত্তাপ অনুভব করতে চাইল। ফারিয়া সায়েমের বুকে হাত দিয়ে তাকে ঠেলে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু সায়েমের সুগঠিত ও শক্ত বুকের বিপরীতে ফারিয়ার সেই চেষ্টা ছিল একদমই দুর্বল।
"আমাকে স্পর্শ করবে না!" ফারিয়া ফুসে উঠল, কিন্তু তার চোখের মনিজুড়ে তখন বাসনার স্পষ্ট ছাপ।
"তোমার ঠোঁট মিথ্যে বলতে পারে, ফারিয়া, কিন্তু তোমার এই শরীর কোনোদিন আমার কাছে মিথ্যে বলেনি," সায়েমের ফিসফিসানি ফারিয়ার কানের লতিতে গিয়ে ধাক্কা খেল। সায়েম তার ভিজে ঠোঁট দুটো প্রথম চাপিয়ে দিল ফারিয়ার কানের নিচে, কোমল ঘাড়ের ভাঁজে।
ফারিয়া চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে ফেলল। আঃ! এই উত্তাপ, এই পাগল করা স্পর্শ সে কত শত রাত স্বপ্নে খুঁজেছে! সায়েমের উত্তপ্ত নিঃশ্বাস তার ঘাড় থেকে নেমে ধীরে ধীরে বুকের উপরের উন্মুক্ত অংশে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সায়েম এক হাতে ফারিয়ার চিবুক ধরে মুখটা উঁচিয়ে ধরল, আর অন্য হাতটা শক্ত করে চেপে ধরল ফারিয়ার কোমর, যেন তাকে নিজের শরীরের সাথে একাকার করে নিতে চায়।
"সায়েম... থামো..." ফারিয়ার কণ্ঠ থেকে বের হলো এক মাতাল করা আর্তি, যা বারণের চেয়ে আমন্ত্রণই ছিল বেশি।
সায়েম তার ঠোঁট দুটো এনে বসিয়ে দিল ফারিয়ার কাঁপা ঠোঁটের ওপর। প্রথমে তীব্র এক আক্ষেপের মতো, তারপর ধীরে ধীরে তা পরিণত হলো এক উগ্র, গোগ্রাসে গিলে খাওয়ার মতো উন্মাদ ভালোবাসায়। ফারিয়ার সমস্ত বাধা দেওয়ার শক্তি মুহূর্তের মধ্যে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। সে নিজের অজান্তেই তার হাতের আঙুলগুলো সায়েমের চুলে চেপে ধরল, তাকে আরো কাছে টেনে নিল। তাদের ঠোঁটের এই উষ্ণ মিলন ঘামের জল আর বৃষ্টির জলকে একাকার করে দিল। সায়েমের উরু চেপে বসেছিল ফারিয়ার উরুর ফাঁকে, তাদের শরীরের গভীর স্পর্শ রক্তের গতি বাড়িয়ে দিচ্ছিল বহুগুণে।
কতক্ষণ পর তারা আলাদা হলো তা নিশ্চিত বলা কঠিন। ফারিয়ার বুকের ওঠানামা ছিল তীব্র, সায়েমের ভেজা কামিজের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসা বুকের লোমে জমে থাকা বৃষ্টির ফোঁটা ফারিয়ার বুকে লেপ্টে গিয়েছিল।
ঠিক তখনই, সায়েম তার পকেট থেকে একখণ্ড জলরোধী প্লাস্টিকে মোড়ানো একটা পুরনো কি-চেইন ভয়েস রেকর্ডার বের করল। ফারিয়া সায়েমের এই আচমকা দূরত্বে সামান্য কেঁপে উঠল, তার ঠোঁট দুটো তখনও সায়েমের স্পর্শে লাল হয়ে ফুলে ছিল।
"তুমি আমাকে ক্ষমা করতে পারবে না, আমি জানি," সায়েম হাঁপাচ্ছিল, তার চোখ দুটো স্থির ছিল ফারিয়ার দিকে। "তুমি ভেবেছিলে আমি বিশ্বাসঘাতক। কিন্তু তুমি কখনো জানতে চাওনি সেই রাতে ওই ঘরে আমাকে কেন ওভাবে পাওয়া গিয়েছিল।"
সায়েম রেকর্ডারের বোতামে চাপ দিল। কড়কড় শব্দ হয়ে রেকর্ডারটা চালু হলো।
একটু পরেই স্পিকার থেকে ভেসে এল খুব পরিচিত একটা কণ্ঠস্বর—যা শুনে ফারিয়ার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেল। মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হলো না তার, চোখ দুটো ভয়ে আর বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।
ভয়েস রেকর্ডার থেকে পরিষ্কার শোনা গেল ফারিয়ারই খুব কাছের এক আপনের পরিচিত গলার আওয়াজ, "...আমি জানতাম সায়েম ফারিয়াকে জানের চেয়ে বেশি ভালোবাসে। তাই সায়েমের শরবতে ঘুমপাড়ানি ওষুধ মিশিয়ে রাহাতকে দিয়ে ওই মেয়েটাকে ওর বিছানায় শুইয়ে দিয়েছিলাম। যাতে ফারিয়া স্বচক্ষে দেখে আর সায়েমকে চিরকালের জন্য ঘৃণা করে। ফারিয়াকে তো আমার নিজের বানাতে হতো, অন্য কারো হাতে তো ওকে দিতে পারতাম না!"
রেকর্ডিংয়ের প্রতিটি শব্দ যেন ড্রয়িং রুমে বোমার মতো ফাটল। ফারিয়ার পা দুটো কেঁপে উঠল, সে মাথায় হাত দিয়ে সোফায় বসে পড়ল। যার কণ্ঠ রেকর্ডিংয়ে বাজছিল, সে ফারিয়ার জীবনের এমন একজন মানুষ, যাকে সে গত সাত বছর ধরে সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু বলে মেনে এসেছে!
বাইরে তখন গর্জে উঠল এক পশলা কালবৈশাখী, আর ঘরের ভেতরে ফারিয়ার তৈরি করা বিশ্বাসের ভিত এক মুহূর্তে গুঁড়িয়ে চুরমার হয়ে গেল। সায়েম কেবল এক পা এগিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে দিল ফারিয়ার দিকে...
ভয়েস রেকর্ডার থেকে ভেসে আসা কথাগুলো ফারিয়ার কানে হাতুড়ির মতো বিদ্ধ হচ্ছিল। যে কণ্ঠটা রেকর্ডিংয়ে কথা বলছিল, তা ফারিয়ার একমাত্র মামাতো ভাই আর সবচেয়ে কাছের বন্ধু তানভীরের। যাকে সে নিজের ছায়ার মতো বিশ্বাস করেছে, যে সাত বছর ধরে সায়েমের বিরুদ্ধে ফারিয়ার মনে বিষ ঢেলেছে, সেই তানভীরই এই সব চক্রান্তের কলকাঠি নেড়েছে!
ফারিয়া সোফায় স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। তার চোখ দিয়ে অনবরত জল গড়িয়ে পড়ছিল। মাথাটা যেন থমকে গেছে, চিন্তা করার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছে সে। বাইরে বৃষ্টির তেজ আরো বেড়েছে, কদমের ডালগুলো বাতাসের তোড়ে জানালার কাচে আছড়ে পড়ছে বারবার।
সায়েম নিঃশব্দে ফারিয়ার সামনে হাঁটু গেড়ে বসল। তার ভেজা হাত দুটো এবার অত্যন্ত কোমলভাবে ফারিয়ার কাঁপতে থাকা দুটো হাতের ওপর গিয়ে পড়ল। সায়েমের স্পর্শ পেতেই ফারিয়া শিউরে উঠল, কিন্তু এবার সে হাত সরিয়ে নিল না।
"সাতটা বছর..." ফারিয়ার গলার আওয়াজ একদম বুজে এসেছিল, "সাতটা বছর ধরে আমি তোমাকে ঘৃণা করেছি সায়েম। প্রতিনিয়ত নিজেকে তিলে তিলে শেষ করেছি এই ভেবে যে তুমি অন্য কারো সাথে... আর সবটাই একটা সাজানো নাটক ছিল?"
"আমি অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম, ফারিয়া," সায়েমের কণ্ঠ গভীর ও করুণ শোনালো, "কিন্তু সেদিন তানভীর তোমাকে এমনভাবে সরিয়ে নিয়ে গেল, আর পরিস্থিতি এমনভাবে সাজিয়েছিল যে তুমি আমার একটা কথাও শুনতে চাওনি। তুমি সেদিন আমাকে না দেখেই বিচার করে ফেললে।"
ফারিয়া আর নিজেকে সামলাতে পারল না। এক তীব্র অনুশোচনা আর ভালোবাসার জলোচ্ছ্বাসে সে সায়েমের গলায় দু- হাত পেঁচিয়ে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। তার বুক চিরে বের হয়ে এল গুমরে রাখা কান্নার তোড়। সায়েমের ভিজে শার্টে ফারিয়ার মুখটা গুঁজে গেল।
সায়েম ফারিয়াকে আরো শক্ত করে বুকের সাথে চেপে ধরল। বহু বছর পর ফারিয়াকে এভাবে কাছে পেয়ে সায়েমের ভেতরটাও কেঁপে উঠল। সায়েমের হাত দুটো ফারিয়ার পিঠের ওপর দিয়ে নেমে গিয়ে তার কোমর শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরল। সায়েম নিজের চিবুক ফারিয়ার কাঁধে রেখে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল, যার তপ্ত বাতাস ফারিয়ার উন্মুক্ত ঘাড়ে গিয়ে লাগল।
"আমাকে ক্ষমা করে দাও, সায়েম... প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও..." ফারিয়া আকুল হয়ে ফুঁপিয়ে উঠল।
"ক্ষমা?" সায়েম ফারিয়াকে সামান্য সরিয়ে তার ভিজা মুখটা নিজের দুই হাতের তালুতে তুলে ধরল। সায়েমের আঙুল ফারিয়ার ভেজা গাল বেয়ে নামতে নামতে তার লালচে ঠোঁটের কোণে গিয়ে থামল। "তোমাকে ক্ষমা করার কিছু নেই, ফারিয়া। আমি শুধু এই সময়টুকু ফেরত চেয়েছিলাম। তোমার এই চোখের জল, এই স্পর্শ, এই উন্মাদনা—এসবই শুধু আমার।"
সায়েমের চোখ দুটো এবার অন্ধ কামনায় আর ভালোবাসায় কালো হয়ে এল। সে ফারিয়ার ঠোঁটে নিজের অঙ্গুষ্ঠ চেপে ধরে ধীরে ধীরে নিচের ঠোঁটটা একটু টানল। ফারিয়ার সিক্ত নিঃশ্বাস সায়েমের হাতের তালুতে আছড়ে পড়ছিল। ঘরে শুধুই দুটো হাহাকার করা শরীরের শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ আর বাইরে ঝরতে থাকা বৃষ্টির ঝমঝম আওয়াজ।
সায়েম আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে তার শক্ত ঠোঁট দুটো আবার চেপে ধরল ফারিয়ার ভেজা ঠোঁটের ওপর। এবার আর কোনো অভিযোগ ছিল না, ছিল না কোনো দূরত্ব। সায়েমের জিব ফারিয়ার ঠোঁট দুটোকে ফাঁক করে ভেতরে প্রবেশ করল, এক মাতাল করা স্বাদের খোজে। ফারিয়া সায়েমের চুলের ভেতর নিজের আঙুলগুলো শক্ত করে আঁকড়ে ধরল, সায়েমের ভিজে শার্টের বোতামগুলো তার নখের চাপে খুলে যাওয়ার উপক্রম হলো।
সায়েম ফারিয়াকে কোলে তুলে নিল। ফারিয়া সায়েমের কোমর নিজের পা দিয়ে পেঁচিয়ে ধরল। সায়েম তাকে নিয়ে সোজা হেঁটে গেল ঘরের ভেতরে থাকা বড় বেডরুমটার দিকে। ঘরে কোনো আলো ছিল না, শুধু জানালার বাইরে থেকে আসা বিদ্যুতের আলোয় ঘরের ভেতরটা মাঝে মাঝে আলোকিত হয়ে উঠছিল।
বেডরুমে ঢুকে সায়েম ফারিয়াকে সাবধানে বিছানায় শুইয়ে দিল। কিন্তু ফারিয়া সায়েমের গলা ছেড়ে দিল না, তাকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে এল। সায়েম ফারিয়ার ওপর ঝুঁকে পড়ল, তার সুগঠিত শরীরের সমস্ত ভার ফারিয়ার ওপর চেপে বসল।
সায়েমের ভিজে শার্ট থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ফারিয়ার কামিজের গলায় আর বুকে গিয়ে পড়ছিল। সায়েম তার ঠোঁট দুটো ফারিয়ার ঠোঁট থেকে নামিয়ে এনে তার গলায় চেপে ধরল। এক উগ্র চোষণে ফারিয়ার গলার নরম ত্বকে লাল দাগ বসিয়ে দিল সে। ফারিয়া আবেশে আর যন্ত্রণায় চোখ বন্ধ করে নিজের মাথা পেছনে হেলিয়ে দিল, তার মুখ দিয়ে বের হয়ে এল এক অস্পষ্ট গোঙানি, "উফফ্... সায়েম..."
সায়েমের হাত দুটো এবার ফারিয়ার কামিজের নিচ দিয়ে ঢুকে সোজা তার খালি পেটে গিয়ে পৌঁছাল। ফারিয়ার মসৃণ, তপ্ত তলপেটে সায়েমের খসখসে শীতল হাতের স্পর্শ এক অদ্ভুত শিহরণ সৃষ্টি করল। সায়েম ধীরে ধীরে তার হাত ওপরের দিকে তুলতে লাগল, ফারিয়ার প্রতিটি স্পর্শকাতর স্থান অনুভব করে। ফারিয়া কামনার তীব্রতায় সায়েমের পিঠে নিজের নখ ফুটিয়ে দিল।
"আজ রাতে কোনো দূরত্ব থাকবে না, ফারিয়া," সায়েম ফারিয়ার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, তার উত্তপ্ত নিঃশ্বাস ফারিয়ার কানের লতিকে ভিজিয়ে দিচ্ছিল। "সাত বছরের তৃষ্ণা আজ আমি এক ফোঁটা ফোঁটা করে মেটাব।"
সায়েমের ঠোঁট ফারিয়ার কলারবোন বেয়ে নিচে নেমে যাচ্ছিল। ফারিয়ার সুতির কামিজের ফাঁক দিয়ে ফুটে ওঠা স্তনের ওপর সায়েমের তপ্ত নিঃশ্বাস আঘাত করতে লাগল। সায়েম এক হাতে ফারিয়ার কামিজটা টেনে খানিকটা নামিয়ে আনল, উন্মুক্ত হয়ে পড়ল তার ফর্সা ও উষ্ণ বুকের উপরিভাগ। সায়েম দেরি না করে তার জিভ দিয়ে ফারিয়ার বুক আর কাঁধের মাঝে জমা হওয়া ঘাম আর বৃষ্টির ফোঁটা চাটতে লাগল।
ফারিয়া কামনার চরম শিখরে পৌঁছে সায়েমের চুল চেপে ধরে তাকে আরো গভীরভাবে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরল। তাদের শরীরের উত্তাপ ঘরের ঠাণ্ডা আবহাওয়াকে একদম একাকার করে দিয়েছিল।
ঠিক তখনই ফারিয়ার ড্রয়িং রুমে রাখা ফোনটা সশব্দে বেজে উঠল।
একবার, দু-বার... ফোনটার রিংটোন একটানা বেজে চলায় তাদের এই মাতাল করা উন্মাদনায় সামান্য ছেদ পড়ল। ফারিয়া সায়েমের দিকে তাকাল, তার চোখ দুটো তখনও বাসনায় লাল। সায়েম কিছুক্ষণ স্থির হয়ে ফারিয়ার দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর ফারিয়ার কপালে একটা দীর্ঘ ও গভীর চুম্বন দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল।
ফোনটা তখনও বেজে যাচ্ছিল। ফারিয়া কোনোরকমে নিজের পোশাক ঠিক করে নিয়ে ড্রয়িং রুমের দিকে গেল। সায়েম তার পেছনে পেছনে এল।
ফারিয়া সেন্টার টেবিলে রাখা ফোনটির দিকে তাকাল। স্ক্রিনে ভেসে উঠছে একটি নাম—"তানভীর মামাতো ভাই"।
সায়েম ফারিয়ার পাশে এসে দাঁড়াল। তার মুখে এক কঠিন ও ঠাণ্ডা হাসি। সায়েম ফিসফিস করে বলল, "ফোনটা তোলো ফারিয়া। স্পিকার দাও। দেখা যাক, তোমার বিশ্বাসঘাতক ভাই আজ রাতে কী খবর নিয়ে এসেছে।"
ফারিয়া কাঁপা হাতে ফোনটি রিসিভ করে স্পিকার অন করল।
ওপাশ থেকে তানভীরের চিন্তিত ও ব্যস্ত কণ্ঠ ভেসে এল, "হ্যালো ফারিয়া? তুই ঠিক আছিস? বাইরে ভীষণ ঝড় হচ্ছে। আর শুনলাম সায়েম নাকি আজ ঢাকা ফিরেছে! ও কিন্তু তোর খোঁজে যেতে পারে। তুই দরজা সাবধানে বন্ধ রাখিস, ওই চরিত্রহীন শয়তানটা যেন কোনোভাবে তোর ধারেকাছে আসতে না পারে!"
তানভীরের কথাগুলো শুনে ফারিয়ার রক্ত যেন মুহূর্তে হিম হয়ে গেল। সে সায়েমের দিকে তাকাল—সায়েমের চোখে তখন ফুটে উঠেছে এক হিংস্র আর চতুর দ্যুতি...
তানভীরের মুখের ওপর এভাবে কথাটা শুনেই ফারিয়ার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। সায়েমের দিকে তাকাতেই সে দেখল সায়েম ঠোঁটের কোণে এক রহস্যময় আর হিংস্র হাসি ঝুলিয়ে তার দিকে চেয়ে আছে। সায়েম এক পা এগিয়ে এসে ফারিয়ার কোমরটা একদম কাছ থেকে জড়িয়ে ধরল, যেন তানভীরকে পরোক্ষভাবে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। ফারিয়া ফোনটা হাতে ধরে রেখে নিজের গলার স্বর স্বাভাবিক রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করল।
"হাঁ তানভীর, আমি ঠিক আছি," ফারিয়ার গলা সামান্য কাঁপল, "কিন্তু তুই হঠাৎ এত রাতে সায়েমের কথা কেন বলছিস?"
ওপাশ থেকে তানভীরের উত্তেজনাকর নিঃশ্বাসের শব্দ পাওয়া গেল, "ফারিয়া, তুই বুঝছিস না! সায়েম সাত বছর পর ফিরেছে মানে নিশ্চয়ই কোনো খারাপ মতলব আছে। আমি তোর অ্যাপার্টমেন্টের দিকেই আসছি, আর আধ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাব। তুই কোনো অচেনা লোক তো দূরের কথা, সায়েমকে দেখলে সোজা পুলিশে ফোন দিবি, বুঝলি?"
সায়েম এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে ফারিয়ার ফোন ধরা হাতের ওপর নিজের তপ্ত হাতটা রেখে ফোনটাকে আরো কাছে টেনে আনল। ফারিয়ার গালের সাথে নিজের গাল ঘষে ফিসফিস করে বলল, "বল ওকে... বল যে সায়েম অলরেডি তোর ঘরেই আছে।"
ফারিয়ার বুকটা ভয়ে আর এক মাতাল করা উত্তেজনায় দুলতে লাগল। সায়েমের এই দুরন্ত সাহস তার ভেতরের সুপ্ত কামনাকে আবার জাগিয়ে তুলছিল। সায়েম তার দ্বিতীয় হাতটা দিয়ে ফারিয়ার পেটের ওপর থেকে পোশাকটা আরেকটু তুলে ধরে সোজা তার খালি কোমরে নিজের আঙুলগুলো গভীর সুখে চেপে বসল।
"ফারিয়া? তুই আছিস? হ্যালো?" তানভীরের গলায় খটকা লাগার সুর।
ফারিয়া এক গভীর নিঃশ্বাস ফেলে বলল, "তানভীর, তোকে এত রাতে আসতে হবে না। ঝড় হচ্ছে, তুই কাল সকালে আসিস। আমি এখন ঘুমাব।"
"কিন্তু ফারিয়া—"
"আমি রাখছি তানভীর," এই বলে ফারিয়া কলটা কেটে ফোনটা সোফা ছুড়ে ফেলে দিল।
ফোনটা ফেলে দেওয়া মাত্রই সায়েম ফারিয়াকে এক হেঁচকায় নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল। তার চোখে এখন কেবল ভালোবাসার আগুন নয়, বরং এক হিংস্র আক্রোশ আর লালসা মিশে আছে। সায়েম কোনো কথা না বলে ফারিয়ার দুটো হাত সোজা দেয়ালের সাথে চেপে ধরল। দেয়ালের ঠাণ্ডা স্পর্শ ফারিয়ার পিঠে লাগত, আর সামনে থেকে সায়েমের কামাতুর শরীরের উত্তাপ তাকে পুড়িয়ে দিচ্ছিল।
"তোমার ওই কুৎসিত ভাইটা ভাবছে সে এখনো তোমাকে নাচাতে পারবে?" সায়েমের গলা ছিল গাঢ় আর ভারী। সে ফারিয়ার থুতনিটা কামড়ে ধরে বলল, "আজ রাতে আমি তাকে বোঝাব—তুমি কার।"
সায়েমের ঠোঁট ফারিয়ার কানের লতিতে গিয়ে আবার আছড়ে পড়ল। সায়েমের এক হাত ফারিয়ার কবজি দুটোকে দেয়ালের সাথে চেপে রেখেছিল, আর অন্য হাতটা ধীরে ধীরে ফারিয়ার কামিজের বোতামগুলো একের পর এক খুলতে শুরু করল। ফারিয়ার বুকের ওপর পাতলা কাপড়টা সরে যেতেই বিদ্যুতের আলোয় ফুটে উঠল তার ধবধবে ফর্সা বুক আর সেখানে ওঠা-নামা করা গভীর নিঃশ্বাসের উন্মাদনা।
"সায়েম... তানভীর যদি সত্যি চলে আসে?" ফারিয়া কাঁপা গলায় হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, কিন্তু তার শরীর সায়েমের কাছে নতি স্বীকার করছিল।
"আসুক," সায়েম ফারিয়ার বুকের উঁচু অংশে নিজের ঠোঁট চেপে ধরল, "আসুক আর নিজের চোখে দেখুক সে যাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, সে আজ আবার আমার বাহুডোরে।"
সায়েমের জিভ ফারিয়ার উষ্ণ ও মসৃণ বুকজুড়ে ঘুরে বেড়াতে লাগল। তার উগ্র চোষণে ফারিয়ার মুখে ফুটে উঠল তীব্র এক যন্ত্রণাদায়ক তৃপ্তির ছাপ। ফারিয়া নিজের হাত দুটো দেয়াল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে সায়েমের পিঠে নিজের নখ বসিয়ে দিল। সে সায়েমকে আরও গভীর থেকে গভীরতরে নিজের শরীরের সাথে আটকে রাখতে চাইল। সায়েমের সুগঠিত ঊরু ফারিয়ার পায়ের খাঁজে প্রচণ্ড চাপে লেগেছিল, যা ফারিয়ার তলপেটে এক উথাল-পাথাল কামনার জন্ম দিল।
ঘরের নীরবতা ভেঙে শুধুই ভেসে উঠছিল তাদের ভেজা ঠোঁটের চপচপ শব্দ আর সায়েমের কামাতুর গলার ফিসফিসানি। সায়েম ফারিয়ার কোমর ধরে তাকে শূন্যে তুলে নিয়ে আবার সোফার ওপর ফেলে দিল। ফারিয়া শায়িত অবস্থায় সায়েমের দিকে তাকাল—সায়েম তার শার্টটা এক টানে খুলে মেঝেতে ছুড়ে ফেলল। সায়েমের সুগঠিত বুক আর পেটের পেশিগুলো বিদ্যুতের আলোয় চকচক করছিল।
সায়েম ফারিয়ার ওপর ঝুঁকে পড়ল। তার হাঁটু ফারিয়ার উন্মুক্ত উরুর মাঝে চেপে বসল। ফারিয়ার সুতির কামিজ ততক্ষণে শরীরের ওপর থেকে প্রায় সতেজভাবে সরে গেছে। সায়েম তার ঠোঁট দুটো নামিয়ে আনল ফারিয়ার নাভির ঠিক ওপরে। সেখানে এক গভীর দীর্ঘ চুমু এঁকে দিতেই ফারিয়ার শরীরটা ধনুকের মতো বেঁকে উঠল।
"আঃ... সায়েম! উফফ্..." ফারিয়ার গলা দিয়ে এক অনিয়ন্ত্রিত শব্দ বের হলো।
সায়েম ফারিয়ার তলপেটে নিজের মুখ ঘষতে ঘষতে জিভ দিয়ে এক অদ্ভুত মাতাল করা স্পর্শ দিতে লাগল। ফারিয়া কামনার আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছিল। সে সায়েমের চুল শক্ত করে চেপে ধরে তাকে আরও নিচের দিকে টেনে নেয়ার চেষ্টা করতে লাগল। সাত বছরের শূন্যতা যেন এই একটিমাত্র রাতেই নিঃশেষ হয়ে যেতে চাইছে।
সায়েমের হাতের আঙুলগুলো ফারিয়ার গোপন ও সংবেদনশীল অঙ্গের খুব কাছাকাছি পৌছে গিয়েছিল। ফারিয়ার শ্বাস তখন দ্রুত থেকে দ্রুততর হচ্ছে, রক্তপ্রবাহ উথলে উঠছে রগে রগে।
ঠিক সেই মুহূর্তেই, বাইরে হঠাৎ বিকট শব্দে একটা বেল বেজে উঠল!
কলিংবেল! একবার, দু-বার... তারপর একটানা দরজায় ধুমধাম ধাক্কা দেওয়ার শব্দ!
"ফারিয়া! ফারিয়া দরজা খোল! আমি জানি তুই ভেতরে আছিস!" বাইরে থেকে তানভীরের কর্কশ আর উন্মাদের মতো চিৎকার ভেসে এল।
বিছানার মতো সোফায় স্তব্ধ হয়ে গেল সায়েম আর ফারিয়া। ফারিয়া ভয়ে আর কামনায় কাঁপতে কাঁপতে সায়েমের দিকে তাকাল। সায়েমের ঠোঁটে তখনো ফারিয়ার শরীরের ঘাম আর সুবাস লেগে আছে।
সায়েম ধীরে ধীরে সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল। তার সুগঠিত খালি বুকে রক্ত জমে লাল হয়ে থাকা আঁচড়ের দাগগুলো জ্বলজ্বল করছিল। সে ফারিয়ার দিকে তাকিয়ে এক ভয়ংকর ও হিংস্র হাসি হাসল।
"খেলাটা এখন শেষ করতে হবে, ফারিয়া," সায়েম ফারিয়ার কপালে এক শেষ কামাতুর চুমু দিয়ে খালি গায়ে শান্ত পায়ে হেঁটে দরজার দিকে এগোতে লাগল...
দরজার বাইরে তখন একটানা আছড়ে পড়ছিল বিকট শব্দে ধাক্কা। তানভীরের কণ্ঠস্বরে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল তার ভেতরে একটা অজানা সন্দেহ আর উন্মাদনা কাজ করছে। ফারিয়া দ্রুত তার এলোমেলো পোশাক ঠিক করে সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল। তার বুকের ভেতরের রক্ত তখনও তোলপাড় করছে সায়েমের স্পর্শ আর চরম শারীরিক উত্তেজনায়।
সায়েম কিন্তু শান্ত। খালি গায়ে, তার প্রশস্ত ও পেশীবহুল বুকে ফারিয়ার নখের তাজা আঁচড়ের দাগগুলো স্পষ্ট হয়ে ফুটে আছে। সায়েম ফারিয়াকে একহাতে নিজের কাছে টেনে এনে তার ঠোঁটে আবার এক গভীর, আধিপত্যপূর্ণ চুমু দিল। ফারিয়া শিউরে উঠে সায়েমের খালি বুকে হাত রাখল।
"ওকে ভেতরে আসতে দাও, ফারিয়া," সায়েমের ফিসফিসানি গলায় এক অদ্ভুত হিংস্র আনন্দ ছিল, "আজ রাতে ওর মুখ থেকে সব সত্যি আমি আদায় করে ছাড়ব।"
ফারিয়া কাঁপা হাতে দরজার লকটা খুলল। দরজা খুলতেই ভিজে জপজপে হয়ে থাকা তানভীর ঝড়ের মতো ভেতরে ঢুকে পড়ল। "ফারিয়া! তুই এতক্ষণ দরজা খুলছিলি না কেন? আমি তো তোকে বললাম—"
কথাটা তানভীরের মুখেই আটকে গেল। ড্রয়িং রুমের হালকা আলোয় তার চোখ গিয়ে পড়ল খালি গায়ে দাঁড়িয়ে থাকা সায়েমের ওপর। সায়েমের চুলে তখনও ভেজা জলের ফোঁটা, আর ফারিয়ার ঠোঁট ফোলা, থরথর করে কাঁপছে, চুল এলোমেলো। ফারিয়ার গলার কাছে সায়েমের কামড় আর উগ্র চোষণের লাল দাগ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।
"সায়েম?!" তানভীরের চোখ দুটো প্রায় ছানাবড়া হয়ে গেল। ভয়ে আর হিংসায় তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে এল। "তুই... তুই এখানে কী করছিস? ফারিয়া! এই শয়তানটা তোর ঘরে কীভাবে এল? ও কি তোর সাথে কোনো জোরজুলুম করেছে?"
সায়েম মৃদু হেসে এক পা এগিয়ে এল। তার চওড়া কাঁধ আর সুগঠিত শরীর তানভীরের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। সায়েম এক হাত ফারিয়ার কোমরে পেঁচিয়ে তাকে নিজের গা-ঘেঁষে শক্ত করে টেনে ধরল। তানভীরের চোখের সামনেই সায়েম ফারিয়ার উ উন্মুক্ত ঘাড়ে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল।
"জোরজুলুম?" সায়েমের থমথমে গভীর গলায় উপহাস ঝরে পড়ল। "তানভীর, ফারিয়া এখন আমার বাহুডোরে, ঠিক যেমন সাত বছর আগে ছিল। যে ভালোবাসা তুই মিথ্যের পাহাড় তৈরি করে ধ্বংস করতে চেয়েছিলি, তা আজও ততটাই তাজা আর উগ্র।"
তানভীরের মুখ লাল হয়ে উঠল আকোশে। "ফারিয়া, তুই এর কথায় ভুলছিস! ও একটা চরিত্রহীন প্রতারক! ও তোকে ধ্বংস করে দেবে!"
"মিথ্যে বন্ধ কর, তানভীর!" ফারিয়ার গলায় হঠাৎ কেঁপে উঠল সাত বছরের জমে থাকা তীব্র ক্ষোভ। সে সোফার ওপর রাখা ভয়েস রেকর্ডারটা তুলে তানভীরের দিকে ছুড়ে দিল। "এই রেকর্ডারটার কথা মনে আছে? তোর সেই রাতের স্বগোতোক্তি—সায়েমের শরবতে ঘুমপাড়ানি ওষুধ মিশিয়ে অন্য মেয়েকে ওর বিছানায় শুইয়ে দেওয়ার গল্পটা?"
রেকর্ডারটা দেখে তানভীরের মুখের রঙ নীল হয়ে গেল। সে এক পা পিছিয়ে গেল, তার হাত-পা কাঁপতে লাগল। "ফারিয়া... এটা... এটা সত্যি নয়! ও কোনো এআই দিয়ে বা নকল কণ্ঠ বানিয়ে তোকে বিভ্রান্ত করছে!"
"নকল কণ্ঠ?" সায়েম এক ঝটকায় এগিয়ে গিয়ে তানভীরের ভিজে শার্টের কলার শক্ত করে চেপে ধরল। সায়েমের হাত দুটো যেন লোহার খাঁচা। সে তানভীরকে দেয়ালের সাথে সজোরে আছড়ে ফেলল। "তুই ভেবেছিলি তোর এই নোংরা চক্রান্ত কোনোদিন ধরা পড়বে না? ফারিয়ার জীবন থেকে আমাকে সরিয়ে তুই ওর শরীর আর সম্পত্তি দুটোই নিজের করতে চেয়েছিলি, তাই না?"
"ছাড়... আমাকে ছাড়!" তানভীর ছটফট করতে লাগল, কিন্তু সায়েমের শক্তির সামনে সে একদম অসহায়।
সায়েম তানভীরের মুখের খুব কাছে গিয়ে গর্জাল, "তুই ফারিয়াকে সাতটা বছর কষ্ট দিয়েছিস। ওর বিশ্বাস ভাঙার অপরাধে তোকে আজ আমি শেষ করে দেব!"
সায়েমের এক প্রচণ্ড ঘুষি গিয়ে পড়ল তানভীরের চোয়ালে। তানভীর চিৎকার করে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল, তার ঠোঁট ফেটে রক্ত গড়িয়ে এল। সায়েম উন্মাদের মতো তানভীরের বুকের ওপর চেপে বসে আবার হাত তুলল।
"সায়েম! থামো! ওকে মেরে ফেলবে তো!" ফারিয়া ভয়ে চিৎকার করে উঠে সায়েমের পিঠ জড়িয়ে ধরল।
ফারিয়ার শরীরের উষ্ণ স্পর্শ আর আর্তনাদ সায়েমকে থমকে দিল। সায়েম হাঁপাতে হাঁপাতে তানভীরের কলার ছেড়ে দিল। তানভীর মেঝেই কঁকিয়ে উঠে রক্ত মুছছিল, তার চোখে এখন শুধুই প্রাণভয়ের তীব্র আতঙ্ক।
সায়েম উঠে দাঁড়িয়ে তানভীরের দিকে তাকিয়ে ঠাণ্ডা গলায় বলল, "তোর ভাগ্য ভালো যে ফারিয়া তোকে বাঁচিয়ে দিল। এখন তোর কাছে দুটো রাস্তা আছে—সোজা এখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করবি, নয়তো এই রেকর্ডারের অডিও আর তোকে এই অবস্থায় আমি সোজা মিডিয়া আর পুলিশের হাতে তুলে দেব।"
তানভীর ভয় আর অপমানে কাঁপতে কাঁপতে কোনোমতে উঠে দাঁড়াল। সে ফারিয়ার দিকে তাকাল, কিন্তু ফারিয়ার চোখে তখন কেবল তীব্র ঘৃণা আর বিরক্তি। তানভীর বুঝে গেল, তার সব খেলা শেষ হয়ে গেছে। সে আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে দরজার দিকে দৌড়ে বেরিয়ে গেল ঝড়ের রাতের অন্ধকারে।
দরজাটা নিজে থেকেই বাতাসের তোড়ে সশব্দে বন্ধ হয়ে গেল।
ঘরে আবার নেমে এল নিস্তব্ধতা। সায়েম দাঁড়িয়ে ছিল হাঁপাতে হাঁপাতে, তার খালি বুক ওঠানামা করছিল। ফারিয়া ধীরে ধীরে সায়েমের সামনে এসে দাঁড়াল। সব সত্যি উন্মোচিত হওয়ার পর, এবং এই উন্মাদ নাটকের পর তাদের ভেতরের থমকে থাকা কামনার আগুন যেন আবার দ্বিগুণ বেগে জ্বলে উঠল।
ফারিয়া সায়েমের রক্তাক্ত নখের আঁচড় লাগা বুকে নিজের মুখটা চেপে ধরল। সে ফিসফিস করে কেঁদে উঠল, "সায়েম... আমাকে আবার তোমার করে নাও... সব মুছে দাও..."
সায়েম ফারিয়াকে এক হেঁচকায় কোলপাঁজা করে তুলে নিল। সায়েমের চোখ দুটো আবার কামনার লালসায় জ্বলে উঠল। সে সোজা হেঁটে গেল শোবার ঘরের দিকে, আর দরজার সাথে ধাক্কা দিয়ে বেডরুমের আলো নিভিয়ে দিল...
শোবার ঘরে ঢুকেই সায়েম ফারিয়াকে সোজা বিছানার মাঝখানে নামিয়ে দিল। অন্ধকারের মধ্যে কেবল জানালার বাইরে বিদ্যুতের ক্ষণিকের আলো ঘরে এসে পড়ছিল। তানভীরের চলে যাওয়ার পর দুজনের ভেতরের সাত বছরের জমে থাকা আকুলতা আর কামনার বাঁধ পুরোপুরি ভেঙে গেছে।
সায়েম এক মুহূর্ত দেরি না করে ফারিয়ার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তার শক্ত, চওড়া শরীরের সমস্ত ভার নেমে এল ফারিয়ার নরম দেহের ওপর। ফারিয়া সায়েমকে দুই বাহু দিয়ে আঁকড়ে ধরে নিজের সাথে শক্ত করে পেঁচিয়ে নিল।
"সায়েম..." ফারিয়া হাঁপাচ্ছিল, তার ভেজা নিঃশ্বাস সায়েমের গলায় আছড়ে পড়ছিল। "আজ রাতে আমাকে তোমার ভালোবাসার উত্তাপে পুড়িয়ে দাও। ওই পুরনো অন্ধকার আর স্মৃতিগুলো মুছে দাও আমার শরীর থেকে।"
সায়েম কোনো কথা বলল না। তার উগ্র ঠোঁট দুটো গিয়ে আছড়ে পড়ল ফারিয়ার ঠোঁটে। এবার আর কোনো দ্বিধা বা সঙ্কোচ ছিল না, ছিল শুধুই দখলের তীব্র উন্মাদনা। সায়েমের জিব ফারিয়ার মুখ গহ্বরে প্রবেশ করে তাকে মাতাল করে তুলছিল। সায়েমের খসখসে হাত দুটো ফারিয়ার কামিজের নিচ থেকে সোজা উঠে এল তার নগ্ন পিঠে। ফারিয়ার পিঠের মসৃণ ত্বকে সায়েমের শক্ত আঙুলগুলো গভীরভাবে বসে গেল।
ফারিয়া কামনার তীব্রতায় সায়েমের চুলে হাত গলিয়ে তার মাথাটা নিজের বুকের আরও কাছে টেনে আনল। সায়েম ঠোঁট সরিয়ে এনে ফারিয়ার থুতনি, গাল আর কানের নিচে কামড় বসাতে লাগল। প্রতিটি স্পর্শে ফারিয়ার শরীর ধনুকের মতো বেঁকে উঠছিল। সায়েম তার এক হাতে ফারিয়ার পরনের কামিজটা এক টানে ওপরের দিকে তুলে একঝটকায় শরীর থেকে আলাদা করে মেঝেতে ছুড়ে ফেলে দিল।
বিদ্যুতের আলোয় ফারিয়ার ফর্সা, উন্মুক্ত শরীরের ওপর সায়েমের চোখ আটকে গেল। কামনার গভীর লালসায় সায়েমের চোখের মনি দুটো অন্ধকার হয়ে এল। ফারিয়ার বুকের ওপর হাত রেখে সায়েম ধীরে ধীরে তার আঙুলগুলো চাপ দিতে শুরু করল।
"উফফ্... সায়েম!" ফারিয়ার চোখ বন্ধ হয়ে এল, মুখ দিয়ে বের হয়ে এল এক তীব্র তৃপ্তির গোঙানি।
সায়েম ফারিয়ার বুকের একপাশে নিজের মুখ নামিয়ে আনল। তার তপ্ত জিভ ফারিয়ার স্পর্শকাতর বোঁটায় ঠেকতেই ফারিয়া শিউরে উঠে সায়েমের পিঠে নিজের নখ ফুটিয়ে দিল। সায়েম জিভ দিয়ে চাটতে চাটতে হালকা কামড় বসিয়ে দিল সেখানে। ফারিয়া কামনার আগুনে পুড়ছিল, তার উরু দুটো নিজে থেকেই ফাঁক হয়ে সায়েমের কোমরকে আঁকড়ে ধরেছিল।
সায়েমের তপ্ত স্পর্শ ক্রমশ নিচে নেমে যাচ্ছিল। তার ঠোঁট ফারিয়ার কলারবোন, মসৃণ পেট আর নাভির ওপর গভীর চাপ দিয়ে শেষমেশ থমকে গেল তলপেটের কাছে। ফারিয়ার নাভির খাঁজে সায়েম জিভ দিয়ে এক অদ্ভুত মাতাল করা অনুভূতি তৈরি করল, যা ফারিয়ার পুরো শরীরে এক বিদ্যুৎ তরঙ্গ প্রবাহিত করে দিল। ফারিয়ার হাত দুটো বিছানার চাদর শক্ত করে মুচড়ে ধরল।
"সায়েম... আর সহ্য হচ্ছে না... প্লিজ..." ফারিয়া আবেশে আকুল হয়ে উঠল।
সায়েম ফারিয়ার দুই উরু শক্ত করে ধরে সেগুলোকে আরও প্রসারিত করল। সায়েমের নিজের শরীরের সমস্ত উত্তাপ ফারিয়ার উরুর খাঁজে তীব্র চাপ তৈরি করছিল। ফারিয়ার শরীরের প্রতিটা অঙ্গ তখন সায়েমকে সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত। সায়েম ফারিয়ার দিকে তাকাল, তার ভেজা চুলে বিদ্যুতের দ্যুতি চমকে উঠল।
"তুমি শুধুই আমার, ফারিয়া," সায়েমের ভারী গলার ফিসফিসানি ফারিয়ার তলপেটে গিয়ে ধাক্কা খেল। "আজকের পর আমাদের মাঝে কোনো দেয়াল থাকবে না।"
সায়েম তার শরীরের নিচের অংশ ফারিয়ার সাথে একদম একাকার করে দিল। এক তীব্র, গভীর আর উগ্র মিলনে দুজনের শরীর একসাথে কেঁপে উঠল। ফারিয়ার চোখ দিয়ে কামনার জল গড়িয়ে পড়ল, সে সায়েমের গলায় মুখ গুঁজে দিয়ে এক দীর্ঘ আর তীব্র হাঁপ ছাড়ল।
সায়েমের প্রতিটি ওঠানামা আর গতির সাথে ফারিয়ার শরীর তালে তাল মেলাচ্ছিল। ঘরের মধ্যে শুধুই ভেসে আসছিল তাদের তীব্র শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ, কামনার মাতাল করা ফিসফিসানি আর বাইরে আছড়ে পড়া ঝড়ের গর্জন। সাত বছরের সমস্ত বিরহ, কষ্ট আর রাগ এক মুহূর্তে ধুলোয় মিশে গিয়ে সেখানে শুধু বেঁচে রইল উন্মাদ ভালোবাসা আর শারীরিক তৃপ্তি।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলা এই আদিম ও প্রগাঢ় ভালোবাসার ঝড় যখন ধীরে ধীরে শান্ত হতে শুরু করল, বাইরে তখন কালবৈশাখীর তেজও কিছুটা কমে এসেছে। ফারিয়ার ফর্সা শরীর জুড়ে সায়েমের কামড় আর ভালোবাসার লাল দাগগুলো ফুটে উঠেছিল।
সায়েম ক্লান্ত হয়ে ফারিয়ার পাশে শুয়ে পড়ল। সে ফারিয়াকে নিজের এক বাহুর ওপর তুলে এনে বুকের সাথে শক্ত করে চেপে রাখল। ফারিয়া সায়েমের চওড়া, ঘামে ভিজা বুকে নিজের গাল রেখে এক পরম শান্তিতে চোখ বন্ধ করল।
সায়েম ফারিয়ার এলোমেলো চুলে নিজের আঙুল চালিয়ে ফিসফিস করে বলল, "কাল সকালে আমাদের এক নতুন জীবন শুরু হবে, ফারিয়া। যে জীবনে কোনো মিথ্যে আর তানভীরের কোনো ছায়া থাকবে না।"
ফারিয়া সায়েমের বুকে এক গভীর চুমু দিয়ে বলল, "আমি জানি সায়েম... কাল সকালে সব ঠিক হয়ে যাবে।"
কিন্তু তারা কেউ জানত না, যে তানভীর ভয় পেয়ে পালিয়ে গেছে, সে এত সহজে হার মানার পাত্র নয়। রাতের অন্ধকারে প্রতিশোধের এক নতুন ও ভয়ংকর পরিকল্পনা ডালপালা মেলছিল বাইরে...
ভোরের পাতলা আলো জানালার পর্দা টপকে এসে পড়ছিল শোবার ঘরের নীরব বিছানায়। ঝড়ের মেঘ কেটে গিয়ে আকাশ তখন একদম পরিষ্কার। সায়েমের প্রশস্ত বুকের ওপর মাথা রেখে ফারিয়া পরম শান্তিতে ঘুমাচ্ছিল। সাত বছর পর প্রথমবার তার মনে এক অদ্ভুত স্বস্তি ও পূর্ণতার অনুভূতি। সায়েমের শক্ত হাতটা তখনও গভীর ভালোবাসায় পেঁচিয়ে ছিল ফারিয়ার কোমর। ফারিয়ার উন্মুক্ত ত্বকে ভোরের আলো পড়তেই সায়েমের স্পর্শের সেই গভীর নীল-লাল দাগগুলো ভেসে উঠছিল, যা তাদের গত রাতের মাতাল করা গভীর মিলনের সাক্ষ্য বহন করছিল।
সায়েমের ঘুম ভাঙল ফারিয়ার কপালে আলতো করে চুমু দিয়ে। ফারিয়া চোখ মেলে সায়েমের দিকে তাকিয়ে একটু হেসে তার গলায় নিজের মুখটা আরও গভীরভাবে লুকিয়ে ফেলল।
"সকাল হয়ে গেছে, সায়েম," ফারিয়া ফিসফিস করে বলল, তার গলার আওয়াজ তখনও কামনার আবেশে খানিকটা ভাঙা।
"হুঁ, এক নতুন সকাল," সায়েম ফারিয়ার চিবুক ধরে মুখটা একটু উঁচিয়ে এনে তার ঠোঁটে আবার এক উষ্ণ, মিষ্টি চুমু এঁকে দিল। "আজ আর কোনো ভয় নেই, ফারিয়া। তানভীরকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার সব ব্যবস্থা আমি কাল রাতেই করে রেখেছিলাম। ওর সেই অডিও রেকর্ড আর আগের সব প্রমাণ আমার লোকজনের কাছে অলরেডি পৌঁছে গেছে।"
ফারিয়া একটু চমকে সায়েমের দিকে তাকাল, "তুমি কাল রাতেই...?"
সায়েম মৃদু হেসে ফারিয়ার এলোমেলো চুলগুলো কানের পেছনে গুঁজে দিল, "আমি তানভীরের চক্রান্ত সাত বছর আগেই আন্দাজ করেছিলাম, কিন্তু প্রমাণ জোগাড় করতে আমার এতগুলো বছর সময় লেগেছে। কাল রাতে যখন সে আমাদের এখান থেকে পালিয়ে যায়, সোজা গিয়ে পড়ে আমার পরিচিত এক সিনিয়র পুলিশ অফিসারের হাতে। ও এখন থানা হাজতে তার কৃতকর্মের হিসাব দিচ্ছে।"
ফারিয়ার বুকের ভেতরের শেষ শঙ্কাটুকুও এক মুহূর্তে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। যে তানভীর তাদের জীবনে অভিশাপ হয়ে এসেছিল, সে এখন তার সঠিক শাস্তি পাচ্ছে। ফারিয়ার চোখে জল এসে পড়ল, কিন্তু তা কষ্টের নয়—এক অনাবিল আনন্দের জল।
সায়েম ফারিয়াকে আবার নিজের শরীরের ওপর টেনে নিল। তার শক্ত উরু ফারিয়ার নরম শরীরের ওপর চেপে বসতেই ফারিয়া শিহরিত হয়ে সায়েমের কাঁধ শক্ত করে ধরে ফেলল।
"তোমার এই চোখের জল দেখতে দেখতে আমার সাতটা বছর কেটে গেছে, ফারিয়া," সায়েমের গলার ফিসফিসানিতে আবার এক উগ্র লালসা জেগে উঠল। সে ফারিয়ার ভেজা চোখের কোণে নিজের ঠোঁট চেপে ধরল, তারপর ধীরে ধীরে নিচে নেমে এসে তার কলারবোন আর বুকের ওপর কামড় বসাল।
"আঃ... সায়েম! এখন তো সকাল হয়ে গেছে..." ফারিয়া কৃত্রিম বাধার চেষ্টা করে সায়েমের খালি বুকে হাত রাখল, কিন্তু তার নিজের শরীর ততক্ষণে আবার সায়েমের কামাতুর স্পর্শে সাড়া দিতে শুরু করেছে।
"সকাল হোক বা রাত, তুমি এখন শুধু আমার," সায়েম ফারিয়ার কোমর শক্ত করে চেপে ধরে তাকে এক গভীর আলিঙ্গনে আবদ্ধ করে ফেলল। ফারিয়ার মুখ থেকে এক তৃপ্তির গোঙানি বের হয়ে এল।
ভোরের সেই স্নিগ্ধ রোদে তারা আবার মেতে উঠল এক নতুন উন্মাদনায়। এবার আর কোনো ভয় ছিল না, ছিল না কোনো মিথ্যে বা বিশ্বাসঘাতকতার ছায়া।
কয়েক ঘণ্টা পর, যখন তারা দুজনে বেডরুম থেকে বেরিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল, পুরো ঢাকা শহর তখন রোদে ঝলমল করছে। ধানমন্ডির সেই পুরনো কদম গাছটার পাতায় জমে থাকা জলের ফোঁটাগুলো সূর্যের আলোয় মুক্তোর মতো চমকাচ্ছিল।
সায়েম ফারিয়াকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে তার ঘাড়ে চিবুক রাখল। ফারিয়া সায়েমের হাতের ওপর নিজের হাত রেখে এক দীর্ঘ ও শান্ত নিঃশ্বাস ফেলল।
সাত বছরের দীর্ঘ ঝড়, ভুল বোঝাবুঝি আর বিশ্বাসঘাতকতার অন্ধকার পেরিয়ে তারা অবশেষে পৌঁছে গেছে ভালোবাসার এক নতুন সোপানে। ফারিয়া জানত, সায়েমের এই চওড়া বুক আর উন্মাদ ভালোবাসাই তার একমাত্র ঠিকানা,
যেখানে সে সারাজীবন নিঃশব্দে হারিয়ে যেতে চায়।
....