ভিজে শাড়িতে নিষিদ্ধ স্পর্শ

ঢাকার ইট-কাঠের খাঁচায় ফাহিমের জীবনটা যেন এক যান্ত্রিক ঘড়ির কাঁটায় বাঁধা। বহুজাতিক ব্যাংকের সিনিয়র অ্যানালিস্ট হিসেবে তার সকাল শুরু হয় এসির হিমশীতল বাতাসে, আর রাত শেষ হয় ল্যাপটপের নীল আলোয়। কর্পোরেট জগতের অন্ধ প্রতিযোগিতায় সে হাঁপিয়ে উঠেছিল। তাই বসকে কোনোমতে বুঝিয়ে দু’সপ্তাহের ছুটি বাগিয়ে সে এক সকালে রওনা হলো গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে—সিলেটের এক সবুজ-শ্যামল গাঁয়ে, যেখানে তার শৈশবের কিছু ঝাপসা স্মৃতি ধুলোবালি মেখে ঘুমিয়ে আছে।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

 

গ্রামে পৌঁছে প্রথম কিছুদিন ফাহিমের বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতেই ভালো লাগছিল। বাঁশঝাড়ের হাওয়া, মেঠোপথ আর পুকুরের শান্ত জলধারা যেন তার ভেতরের সমস্ত ক্লান্তি শুষে নিচ্ছিল। কিন্তু শহুরে আধুনিকতায় বেড়ে ওঠা ফাহিমের কাছে গ্রামের অনেক কিছুই ছিল অচেনা ও সামঞ্জস্যহীন। ঠিক তেমনি একদিন দুপুরে, পুকুরপাড়ের পুরোনো আমগাছটার ছায়ায় বসে ল্যাপটপে বই পড়ার চেষ্টা করছিল সে। এমন সময় হঠাৎ একটা খিলখিল হাসির শব্দ তার মনোযোগ ভেঙে দিল।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

 

তাকিয়ে দেখল, পুকুরঘাটে এক তরুণী শাড়ি সামান্য গুটিয়ে পায়ে জল ছিটিয়ে খেলছে। কপালে ছোট কালো টিপ, পরনে লাল-হলুদ সুতির শাড়ি, আর খোলা ভিজা চুলগুলো পিঠের ওপর সাপের মতো ছড়িয়ে আছে। মেয়েটির সরলতা ও স্বতঃস্ফূর্ততা ফাহিমকে এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ করে দিল। ঢাকার উচ্চবিত্ত সমাজের কৃত্রিম সাজগোজ আর ঢংয়ের মাঝে এই রূপ যেন এক টুকরো তাজা অক্সিজেন। মেয়েটির নাম জুঁই—গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকের ছোট মেয়ে।

 

জুঁই হঠাৎ ফাহিমের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল। সেই হাসিতে কোনো ছলনা ছিল না, ছিল কেবল এক অদ্ভুত পবিত্রতা। ফাহিম চশমাটা ঠিক করে কিছুটা ইতস্তত করে বলল, "এভাবে জলে পা দাপাদাপি করলে মাছগুলো তো ভয় পেয়ে যাবে।"

 

জুঁই সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে শাড়ির আঁচলটা কাঁধে তুলে নিয়ে উত্তর দিল, "মাছেরা আমার বন্ধু, শহর থেকে আসা সাহেবদের মতো ওরা এতটা বেরসিক নয়।"

 

প্রথম পরিচয়েই জুঁইয়ের এই চপলতা ফাহিমের অহংকারে কিছুটা ধাক্কা দিল। কিন্তু একই সাথে তার ভেতরে এক অজানা কৌতূহল জন্ম নিল। পরদিন সকালে ফাহিম যখন গ্রামের মেঠোপথে হাঁটতে বের হলো, তখন দেখল জুঁই একটা সাইকেলের চেইন ঠিক করার চেষ্টা করছে। তার মুখে একটু কালির দাগ লেগেছে, কপালে জমেছে ঘামের বিন্দু।

 

ফাহিম এগিয়ে গিয়ে বলল, "সহায়তা লাগবে? সাইকেল ঠিক করা অন্তত ল্যাপটপ চালানোর চেয়ে সোজা।"

 

জুঁই চোখ তুলে তাকাল। তার ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি, "শহরের বাবুরা আবার নোংরা হাতে সাইকেলের চেইন ধরে নাকি?"

 

কথা না বাড়িয়ে ফাহিম হাঁটু গেড়ে বসল। জুঁইয়ের ঠিক পাশে বসে সে চেইনটা তুলে গিয়ারে বসানোর চেষ্টা করতে লাগল। দুজনের দূরত্ব তখন মাত্র কয়েক ইঞ্চির। ফাহিম অনুভব করতে পারছিল জুঁইয়ের শরীর থেকে ভেসে আসা কামিনী ফুলের মতো এক স্নিগ্ধ সুবাস। জুঁই তার দিকে ঝুঁকে দেখছিল ফাহিম কীভাবে কাজটা করছে। আচমকা ফাহিমের হাত থেকে ইটের ওপর থেকে পিছলে জুঁইয়ের হাতের ওপর পড়ল।

 

"আঃ!" জুঁই হালকা আর্তনাদ করে উঠল।

 

"আই এম সরি! খুব লেগেছে?" ফাহিম চকিতে জুঁইয়ের ডান হাতটা নিজের শক্ত ও গরম দুটি হাতের মুঠোয় পুরে নিল। জুঁইয়ের আঙুলগুলো তুলতুলে নরম, কাঁচের চুড়ির মিষ্টি শব্দে পরিবেশটা যেন এক নিমেষে বদলে গেল।

 

ফাহিম ব্যগ্র হয়ে জুঁইয়ের নরম তালুতে নিজের বুড়ো আঙুল দিয়ে আলতো করে ঘষে দিতে লাগল, যাতে ব্যথাটা কমে। সেই প্রথম স্পর্শে দুজনের শরীরেই যেন এক হালকা বিদ্যুতের ঝলকানি খেলে গেল। জুঁই এক মুহূর্তের জন্য স্থবির হয়ে পড়ল। সে তার চোখ তুলে ফাহিমের চোখের দিকে তাকাল। ফাহিমের গভীর, চশমার পেছনের চোখের দৃষ্টিতে তখন এক অচেনা ব্যাকুলতা।

 

গ্রামের খোলা হাওয়ায়, গাছের পাতার মর্মর শব্দের মাঝে দুজনের নিঃশ্বাস আচমকা ভারী হয়ে উঠল। ফাহিম নিজের অজান্তেই জুঁইয়ের আঙুলগুলো নিজের ঠোঁটের কাছাকাছি নিয়ে গেল। গরম নিঃশ্বাস জুঁইয়ের ত্বকে লাগতেই মেয়েটা শিউরে উঠল। তার বুকের ভেতরের স্পন্দন স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল।

 

"ফাহিম ভাই... ছেড়ে দিন, কেউ দেখে ফেলবে," জুঁইয়ের কণ্ঠস্বর তখন বেশ ক্ষীন, এক গভীর আবেশে জড়ানো।

 

কিন্তু ফাহিম ছাড়ল না। সে জুঁইয়ের দিকে আরেকটু ঝুঁকে এল। জুঁইয়ের ভেজা ঠোঁটের ওপর জমে থাকা একফোঁটা ঘাম রোদের আলোয় মুক্তোর মতো চমকাচ্ছিল। ফাহিম এক হাত দিয়ে জুঁইয়ের পিঠের নরম শাড়ির ভাঁজ চেপে ধরে তাকে নিজের একদম কাছাকাছি নিয়ে এল। জুঁইয়ের সুঠাম বুক ফাহিমের চওড়া বুকের সাথে চেপে গেল। ফাহিম জুঁইয়ের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, "কাউকে ভয় পাই না জুঁই... তোমার এই শান্ত চোখে কী জাদু আছে বলতো?"

 

জুঁইয়ের চোখ দুটো আবেশে বন্ধ হয়ে আসছিল। ফাহিমের হাতের উষ্ণ স্পর্শ তার শাড়ির পাতলা কাপড়ের সীমানা পেরিয়ে ত্বকে এক উত্তাল শিহরণ জাগিয়ে তুলছিল। ফাহিম ধীরে ধীরে তার ঠোঁট নামিয়ে আনল জুঁইয়ের গালে, তারপর ঘাড়ে। এক গভীর, উষ্ণ চুমু এঁকে দিল সেখানে। জুঁই ফাহিমের শার্টের কলারটা শক্ত করে চেপে ধরল, তার নিশ্বাস ততক্ষণে ঝড়ের মতো দ্রুত হতে শুরু করেছে।

 

ঢাকার কৃত্রিমতা আর গ্রামের এই আদিম রূপকতার মাঝে গড়ে ওঠা দূরত্বটা যেন সেই এক স্পর্শেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে শুরু করল।

 

পরের দু’দিন ফাহিম ও জুঁইয়ের মধ্যে সরাসরি আর কোনো কথা হলো না, তবে অদৃশ্য এক সুতো যেন দুজনকে সারাক্ষণ টেনে রাখতে লাগল। ফাহিম বারান্দায় বসে যখন চায়ের কাপে চুমুক দিত, দূর থেকে জুঁইয়ের উঠোন ঝাড়ু দেওয়ার দৃশ্য কিংবা শাড়ি নেড়ে দেওয়ার ভঙ্গি তার চোখ এড়াত না। আর জুঁই? সে-ও তো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ঘাড়ে ফাহিমের সেই গভীর স্পর্শের অদৃশ্য দাগটা খুঁজে পেত এবং প্রতিবারই তার অনভিজ্ঞ মনে বয়ে যেত এক ঝোড়ো হাওয়া।

 

তৃতীয় দিন বিকেলে আকাশ মেঘলা হয়ে এল। সিলেটের পাহাড়ি ঘেঁষা গ্রামে কালবৈশাখীর পূর্বাভাস মানেই থমথমে চারপাশ আর বুনো হাওয়ার মাতামাতি। ফাহিম গ্রামের শেষ মাথার পুরানো আমবাগানটায় হাঁটতে গিয়েছিল। সেখানে শান্ত পরিবেশে নিস্তব্ধতা উপভোগ করার ইচ্ছে ছিল তার। কিন্তু আচমকা হাওয়া তীব্র হয়ে উঠতেই চারপাশে শুকনো পাতা আর ধুলোর ঘূর্ণি নাচ শুরু হলো। ফাহিম ফিরতি পথ ধরবে ভাবছে, ঠিক তখনই বৃষ্টি নেমে এল অঝোর ধারায়।

 

বড় বড় ফোঁটায় বৃষ্টি ঝরতে শুরু করতেই ফাহিম মাথা বাঁচাতে বাগানের মাঝখানের পরিত্যক্ত এক কাঠুরের ঘরের চালে আশ্রয় নিল। কাঠের পুরোনো ঘর, চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে কিছু শুকনো কাঠ আর খড়কুটো। ঠিক তখনই ঘরের দরজায় এক ভিজা অবয়ব এসে দাঁড়াল—জুঁই!

 

ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়ে জুঁইও দৌড়ে এসে সে ঘরে আশ্রয় নিয়েছে। ফাহিমকে দেখে সে চমকে উঠল, পা পেছনে টেনে নিতে গিয়েও পারল না। বৃষ্টি ততক্ষণে এত তীব্র রূপ নিয়েছে যে বাইরে বেরোনো অসম্ভব।

 

জুঁইয়ের পুরো শরীর ভিজে একাকার। পাতলা সুতির লাল শাড়িটি তার শ্যামলা কোমল শরীরের প্রতিটা ভাঁজে আঠার মতো জড়িয়ে রয়েছে। ভিজা চুল থেকে টপটপ করে জল ঝরে পড়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে তার উন্নত বুক আর পেটের উন্মুক্ত অংশ। বৃষ্টির শীতলতায় জুঁই থরথর করে কাঁপছিল, তার ঠোঁট দুটো হালকা নীলচে রূপ নিয়েছে।

 

ফাহিম কিছু মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ভিজা কাপড়ে জুঁইকে যেন কোনো বুনো অপ্সরী মনে হচ্ছিল। তার শরীরের প্রতিটি বাক ও রোমাঞ্চ ফাহিমের ভেতরের ঘুমিয়ে থাকা পশুকে জাগিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট ছিল।

 

"তুমি এভাবে ভিজতে গেলে কেন?" ফাহিম কাছে এগিয়ে এসে গম্ভীর কিন্তু কাঁপানো গলায় বলল।

 

জুঁই চিবুক নামিয়ে বলল, "ছাগলটা ছাড়ে আছিল... আনতে গিয়া আটকে গেলাম।"

 

ফাহিম আর কোনো কথা না বলে নিজের পরনের সুতির শার্টের বোতাম খুলতে লাগল। জুঁই চকিতে চোখ তুলে তাকাল, তার বুকে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। ফাহিম নিজের শার্টটি খুলে জুঁইয়ের দিকে বাড়িয়ে দিল, "এটা গায়ে জড়িয়ে নাও, শাড়িটা বড্ড ভিজে গেছে, ঠান্ডা লেগে যাবে।"

 

জুঁই ইতস্তত করে বলল, "না... থাক, লাগবে না।"

 

ফাহিম আর কোনো শোনার মেজাজে ছিল না। সে সরাসরি জুঁইয়ের একদম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেল। ফাহিমের উন্মুক্ত, চওড়া বুকের পশমে জমা ঘাম আর বৃষ্টির ফোঁটা দেখে জুঁইয়ের বুক দুরুদুরু করে কেঁপে উঠল। ফাহিম শার্টটি দিয়ে জুঁইয়ের পিঠ আর কাঁধ ঢেকে দিতে গিয়ে জুঁইয়ের ভেজা শাড়ির উপর দিয়ে তার পিঠের নরম মাংস স্পর্শ করল।

 

জুঁই হালকা শিউরে উঠে ফাহিমের বুকে দুই হাত দিয়ে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করল, "ফাহিম ভাই... না, এসব ঠিক না..."

 

কিন্তু ফাহিম তার দুই হাত কব্জি ধরে আটকে ফেলল কাঠের দেয়ালের সাথে। ফাহিমের হাত দুটো যেন আগুনের আংরা, আর জুঁইয়ের হাত দুটো বরফ। ফাহিম জুঁইয়ের কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল, "কেন ঠিক না জুঁই? তুমি কি অনুভব করতে পারছ না আমার ভেতরে কী তোলপাড় চলছে? তুমিও তো পারছ, তাই না?"

 

জুঁই কোনো উত্তর দিতে পারল না। তার নিঃশ্বাস ঘন হয়ে আসছিল। ফাহিম এক হাত নামিয়ে জুঁইয়ের ভেজা কোমর চেপে ধরল। পাতলা কাপড়ের সীমানা পেরিয়ে ফাহিমের আঙুলের উষ্ণতা জুঁইয়ের কামাতুর কামিনী ত্বকে এক তীব্র অগ্ন্যুৎপাত ঘটাল। জুঁই চোখ বন্ধ করে

ফেলল, তার মাথার চুল থেকে ঝরে পড়া জল ফাহিমের বুকে এসে পড়ছিল।

 

ফাহিম আর নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারল না। সে তার ঠোঁট ডুবিয়ে দিল জুঁইয়ের ভিজা ও কোমল ঘাড়ে। জুঁইয়ের মুখ থেকে এক হালকা গোঙানির মতো শব্দ বের হয়ে এলো, "উফফ... ফাহিম..."

 

ফাহিম জুঁইয়ের ঘাড়ে, কানের লতিতে উষ্ণ চুমুর পর চুমু এঁকে দিতে লাগল। তার এক হাত জুঁইয়ের শাড়ির আঁচল সরিয়ে দিয়ে জুঁইয়ের অনাবৃত পেট ও কোমরের মসৃণ ত্বকে গভীরে ঘুরে বেড়াতে লাগল। জুঁইয়ের শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে এক তীব্র কামনার আগুন জ্বলে উঠল। সে ফাহিমের অনাবৃত পিঠে নিজের নখ বসিয়ে দিল।

 

বাইরে ঝড়ের তাণ্ডব আর ঘরের ভেতরে দুই তপ্ত হৃদয়ের মাতামাতি। ফাহিম ধীরে ধীরে জুঁইকে খড়কুটোর ওপর শুইয়ে দিল। জুঁইয়ের শাড়ির বাঁধন আলগা হয়ে আসছিল। ফাহিমের ঠোঁট এবার নেমে এলো জুঁইয়ের বুক আর পেটের দিকে। জুঁইয়ের কচি শরীর ফাহিমের অভিজ্ঞ ও ব্যাকুল স্পর্শে ধনুকের মতো বেঁকে উঠছিল।

 

ফাহিম জুঁইয়ের ভেজা ঠোঁট দুটো নিজের ঠোঁটের মধ্যে পুরে নিল। এক গভীর, আদিম আর তৃষ্ণার্ত চুমু। দুজনের জিভের স্পর্শে আদান-প্রদান হলো এতদিন ধরে চেপে রাখা গোপন প্রবৃত্তি। জুঁইয়ের সতীচ্ছদের ওপর যেন ফাহিমের প্রতিটি স্পর্শ এক নতুন শাসনের ইতিহাস লিখছিল। সে ফাহিমের চুলে আঙুল চালিয়ে তাকে আরও নিজের কাছে টেনে নিল।

 

ঝড় যখন ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে এল, ঘরের ভেতরের উত্তাপ তখন তুঙ্গে। উন্মুক্ত গায়ে খড়কুটোর ওপর শুয়ে জুঁই ফাহিমের বুকে মাথা রেখে হাঁপাচ্ছিল। ফাহিম তাকে নিজের বাহুবন্ধনে শক্ত করে জড়িয়ে রেখেছিল, যেন হাত বাড়ালেই এই স্বপ্ন মিলিয়ে যাবে।

 

গ্রামের সরল জুঁই আর শহরের যান্ত্রিক ফাহিম—দুই ভিন্ন মেরুর অস্তিত্ব এখন এক পরম কামনার বাঁধনে বাঁধা পড়ে গেছে, যেখান থেকে ফেরা আর সহজ নয়...

 

ঝড় থামার পর কাঠুরের ঘর থেকে বের হয়ে জুঁই যখন নিজের বাড়িতে ফিরল, তার মনের ভেতর তখন অপরাধবোধ আর এক মাতাল করা অনুভূতির তীব্র যুদ্ধ চলছে। গ্রামের এক সসংকোচ শিক্ষক পরিবারের মেয়ে সে; সেখানে বিয়ের আগে কোনো পুরুষের কাছে এভাবে নিজেকে সঁপে দেওয়া কল্পনাতীত। আয়নার সামনে দাঁড়াতেই তার চোখ আটকে গেল নিজের ওপর। শাড়ির বাঁধনটা এলোমেলো, ঠোঁট দুটি ফাহিমের চোষণে সামান্য ফোলা আর ঘাড়ে লালচে দাগ। জুঁই দু’হাতে মুখ ঢেকে বসে পড়ল। তার মন বলছে যা হয়েছে তা অন্যায্য, কিন্তু তার উথলে ওঠা কামকাতর শরীর যেন এখনও ফাহিমের সেই তপ্ত স্পর্শের ছোঁয়া পাওয়ার জন্য আকুল হয়ে আছে।

 

অন্যদিকে ফাহিমের অবস্থাও সহজ ছিল না। শহরের অনেক আধুনিক নারীর সঙ্গ সে পেয়েছে, কিন্তু জুঁইয়ের মতো এমন আদিম, খাঁটি আর নিভে যাওয়া আগুনের মতো তীব্র আকর্ষণ সে আগে কখনো বোধ করেনি। জুঁই কেবল তার শারীরিক তৃষ্ণা নয়, বরং তার যান্ত্রিক বুকে এক অদ্ভুত ভালোবাসার দাবানল জেলে দিয়েছে। কিন্তু ফাহিম বুঝতে পারছিল, জুঁই তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে।

 

পরের দু’দিন জুঁই ফাহিমকে দেখলেই আড়ালে লুকিয়ে পড়ল। ফাহিম কয়েকবার তার পথ আটকানোর চেষ্টা করলেও জুঁই সজল চোখে তাকিয়ে দ্রুত চলে গেছে। এই দূরত্ব ফাহিমের ভেতরের ব্যাকুলতাকে বাড়িয়ে দিল বহুগুণ। সে সিদ্ধান্ত নিল, এভাবে চুপ করে সে থাকবে না।

 

সেদিন ছিল পূর্ণিমা। ঝকঝকে চাঁদের আলোয় পুরো গ্রাম যেন দুধেল রূপোলি চাদরে ঢেকে গেছে। রাত তখন প্রায় একটা। ফাহিম নিশ্চিত হলো গ্রামের সবাই ঘুমে কাদা। সে নিঃশব্দে নিজের ঘর থেকে বের হয়ে জুঁইদের বাড়ির পেছনটায় গিয়ে দাঁড়াল। জুঁইয়ের শোবার ঘরের টিনের জানলাটা সামান্য ফাঁক করা ছিল। ফাহিম জানলায় আলতো টোকা দিল।

 

ভেতরে জুঁই তখন এপাশ-ওপাশ করছিল, ঘুম তার চোখে ছিল না। জানলার শব্দে সে চমকে উঠে দাঁড়াল। জানলার কাছে গিয়ে মৃদু গলায় বলল, "কে?"

 

"জানলাটা খোলো জুঁই," ফাহিমের গম্ভীর আর নিচু স্বর ভেসে এলো।

 

জুঁইয়ের বুকটা ধড়ফড় করে উঠল। সে জানলা হালকা খুলে ফিসফিস করে বলল, "আপনি এখানে? মাথা খারাপ হয়েছে আপনার? বাবা টের পেলে সর্বনাশ হয়ে যাবে! চলে যান প্লিজ!"

 

"তুমি আমার সাথে কথা না বলা পর্যন্ত আমি যাব না," ফাহিম জানলার ফাঁক দিয়ে হাত বাড়িয়ে জুঁইয়ের কব্জিটা ধরে ফেলল। ফাহিমের স্পর্শে জুঁইয়ের সারাদেহে আবার সেই পরিচিত শিহরণ খেলে গেল।

 

"আমাকে ক্ষমা করুন ফাহিম ভাই... সেদিন ঝড়ের রাতে যা হয়েছে তা ভুল ছিল। আমি গ্রামের সাধারণ মেয়ে, আপনার মতো শহরের বড় মানুষের সাথে আমার কোনো মেলবন্ধন নাই। দয়া করে আমাকে নিজের মতো থাকতে দিন," জুঁই কান্নাসভেজা গলায় বলল।

 

ফাহিম কিছু না বলে সোজা জানলার নীচু গ্রিল ধরে এক টানে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ল। জুঁই কিছু বুঝে ওঠার আগেই ফাহিম তাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে তার মুখে নিজের হাতচাপা দিল, যাতে সে চিৎকার করতে না পারে।

 

ঘরটা চাঁদের আলোয় আধা-অন্ধকার, আধা-আলোয় ভরা। ফাহিমের ভেজা ও গরম নিঃশ্বাস জুঁইয়ের গালে আঁচড় কাটছিল। ফাহিম জুঁইয়ের কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল, "ওটা ভুল ছিল না জুঁই। ওটা সত্য ছিল। তোমার এই শরীর আর মন দুটোই আমার স্পর্শ চেনে। তুমি নিজেকে ফাঁকি দিতে পারো, আমাকে না।"

 

ফাহিম জুঁইয়ের মুখ থেকে হাত সরিয়ে নিল। জুঁই কোনো শব্দ করতে পারল না, কারণ ফাহিমের অন্য হাতটি ততক্ষণে তার পাতলা সুতির নাইটগাউনের ওপর দিয়ে তার কোমরের ভাজ বেয়ে তলপেটের দিকে নেমে গেছে। ফাহিমের বুড়ো আঙুল জুঁইয়ের নাভির চারেপাশে এক কামাতুর বৃত্ত তৈরি করছিল।

 

জুঁইয়ের চোখ বুজে এলো, তার পায়ের তলার মাটি যেন সরে যাচ্ছিল। সে ফাহিমের চওড়া কাঁধ দুটো জড়িয়ে ধরে নিজের বুকটা ফাহিমের শক্ত বুকের সাথে লেপটে দিল। ফাহিম এক মুহূর্তে জুঁইকে কোল তুলে নিয়ে তার বিছানায় গিয়ে শুইয়ে দিল।

 

চাঁদের আলো এসে পড়েছিল জুঁইয়ের উন্মুক্ত উরুর ওপর। ফাহিম জুঁইয়ের পায়ের পাতা থেকে শুরু করে হাঁটুর উপর পর্যন্ত তার উষ্ণ ঠোঁটের স্পর্শ দিয়ে ভিজিয়ে দিতে লাগল। জুঁই শিউরে উঠে বিছানার চাদর খামচে ধরল। ফাহিমের অভিজ্ঞ হাত ধীরে ধীরে জুঁইয়ের পোশাকের প্রতিটি বাঁধন আলগা করে দিল।

 

"ফাহিম... উফফ... আর পারি না..." জুঁইয়ের মুখ থেকে ফিসফিসানি কামনার গোঙানি হয়ে বের হলো।

 

ফাহিম নিজেকে আর ধরে রাখল না। চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় জুঁইয়ের সম্পূর্ণ অনাবৃত, সুন্দর শরীরটাকে সে নিজের বাহুবন্ধনে পিষে ফেলল। সে জুঁইয়ের বুকের ওপর তার ঠোঁট আর জিব দিয়ে তীব্র কামনার দাগ এঁকে দিল। জুঁই ফাহিমের চুলে হাত গলিয়ে দিয়ে তাকে আরও গভীরে টেনে নিল। দুজনের নিঃশ্বাসের তীব্রতা আর কামনার আবেশে ঘরের থমথমে বাতাস যেন উত্তপ্ত হয়ে উঠল। এক উন্মাদনা, এক ভালোবাসার তৃষ্ণায় তারা একে অপরের মধ্যে বিলীন হতে লাগল, যা গ্রামের সব নিয়ম আর লোকলজ্জার বাঁধ ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছিল।

 

সেই পূর্ণিমা রাতের পর ফাহিম ও জুঁইয়ের মধ্যবর্তী সব দ্বিধা আর আড়াল কর্পূরের মতো উড়ে গেল। জুঁই এখন আর ফাহিমকে দেখে পালিয়ে যায় না; বরং তাদের দুজনের চোখাচোখিতেই আদান-প্রদান হতে থাকে অব্যক্ত হাজারো কামুক আমন্ত্রণ। তবে গ্রামের মানুষের তীক্ষ্ণ নজর এড়িয়ে তাদের মেলামেশা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছিল। তবুও, পাপিষ্ঠ কামনার তীব্র টান কি আর কোনো বাধানিষেধের তোয়াক্কা করে?

 

একদিন বিকেলে গ্রামের সবাই যখন পাশের বাড়িতে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যস্ত, জুঁই সুযোগ বুঝে ফাহিমকে তাদের বাড়ির পেছনের পুরোনো কাঠের গুদামঘরে আসতে বলল। পিয়াল গাছের ঘন ছায়ায় ঢাকা সেই পুরোনো ঘরটি বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত।

 

ফাহিম দরজার আড়াল পার হয়ে ঘরে ঢুকতেই জুঁই পেছন থেকে এসে তাকে জড়িয়ে ধরল। জুঁইয়ের বুক দ্রুত ওঠানামা করছিল, তার কপালে ঘামের সূক্ষ্ম বিন্দু। ফাহিম এক মুহূর্ত দেরি না করে জুঁইকে ঘুরিয়ে নিজের মুখোমুখি করে নিল।

 

জুঁইয়ের চোখে আজ কোনো দ্বিধা নেই, আছে কেবল এক বুনো তৃষ্ণা। সে নিজেই ফাহিমের ঘাড় পেঁচিয়ে ধরে তার ঠোঁটে নিজের রসালে ঠোঁট চেপে ধরল। ফাহিম প্রথমটায় চমকে উঠলেও, পরক্ষণেই জুঁইয়ের এই আগ্রাসী প্রেমকে পূর্ণমাত্রায় স্বাগত জানাল। সে জুঁইয়ের কোমর পেঁচিয়ে তুলে ধরল এবং গুদামঘরের কাঠের দেয়ালের সাথে ঠেস দিয়ে চেপে ধরল।

 

জুঁইয়ের পরনে ছিল এক পাতলা নীল রঙের সুতির শাড়ি। ফাহিমের এক হাত জুঁইয়ের উরুর ওপর দিয়ে শাড়ি সরিয়ে ওপরের দিকে উঠতে লাগল। তার তপ্ত ও রুক্ষ হাতের স্পর্শ জুঁইয়ের কোমল মসৃণ উরুতে এক অভূতপূর্ব অনভূতির সৃষ্টি করল। জুঁই মাথা পেছনে হেলে দিয়ে এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল, "ফাহিম... তোমাকে ছাড়া আমি আর কিছু ভাবতে পারছি না... আমার পুরো শরীরে তুমি ছাড়া আর কোনো অনুভূতির জায়গা নেই।"

 

ফাহিম তার ঠোঁট নামিয়ে আনল জুঁইয়ের অনাবৃত পেটে। নাভির কূপে নিজের জিব দিয়ে এক কামাতুর স্পর্শ দিতেই জুঁই ফাহিমের শার্টের পেছনের অংশ দু’হাতে খামচে ধরল। তার বুকের ভেতরের আগুন যেন ছড়িয়ে পড়ছিল পুরো গুদামঘরে।

 

কাঠের ওপর ছড়িয়ে থাকা পুরোনো পাটের বস্তার ওপর ফাহিম জুঁইকে আলতো করে শুইয়ে দিল। ঘরের এক কোণে জমতে থাকা বিকালের আবছা আলোয় জুঁইয়ের অনাবৃত শরীরটা যেন কোনো শিল্পীর নিখুঁত ভাস্কর্য। ফাহিম নিজের শার্ট খুলে ফেলল। তার চওড়া, পশমযুক্ত বুক জুঁইয়ের উন্নত বুকের ওপর চেপে বসতেই জুঁই এক মধুর যন্ত্রণায় গোঙায় উঠল।

 

"জুঁই... তুমি আমাকে পাগল করে দিচ্ছ," ফাহিম তার কামাতুর গলায় ফিসফিস করে বলল।

 

"তবে আমাকে পুরোটা নিয়ে নাও ফাহিম... আর কোনো দূরত্ব রেখো না," জুঁইয়ের আকুল আবেদন।

 

ফাহিম জুঁইয়ের ব্লাউজের হুকগুলো একটা একটা করে খুলে ফেলল। জুঁইয়ের সুগঠিত স্তন দুটি ফাহিমের হাতের তালুর ভেতরে পূর্ণতা পেল। ফাহিম সেখানে তার তপ্ত ঠোঁট ও জিভের মাধ্যমে এক গভীর, আদিম তৃষ্ণায় মাতাল হয়ে উঠল। জুঁইয়ের শরীরের প্রতিটা রন্ধ্র থেকে যেন এক বুনো সুবাস বের হচ্ছিল, যা ফাহিমের ভেতরের পুরুষটিকে আরও হিংস্র ও ব্যাকুল করে তুলছিল।

 

বাইরে তখন ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর হাওয়ার দোলা। আর বন্ধ গুদামঘরের ভেতরের উত্তাপ পারদ স্পর্শ করছিল। ফাহিম ও জুঁই নিজেদের সমস্ত পোশাকের বাঁধন মুক্ত করে একে অপরের নিখাদ ত্বকের সাথে মিশে গেল। তাদের শরীর দুটি যেন এক লয়ে, এক তালে স্পন্দিত হতে লাগল। ফাহিমের প্রতিটি ধাক্কায় জুঁইয়ের মুখ থেকে বের হয়ে আসা মৃদু গোঙানি ঘরে এক মাতাল করা আবহ তৈরি করল।

 

দুজন মানুষের প্রেম ও কামনার এই অনাবিল মিলন যেন সময়ের সমস্ত হিসেব ভুলিয়ে দিল। তারা একের পর এক শৃঙ্গের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, যেখানে রূপ-রস-গন্ধের কোনো সীমারেখা নেই।

 

কিন্তু হঠাৎই বাইরে কার যেন ভারী পায়ের শব্দ শোনা গেল। কেউ একজন গুদামঘরের দরজার দিকে এগিয়ে আসছে!

 

জুঁই চকিতে চোখ খুলল, তার মুখে ফুটে উঠল আতঙ্কের ছাপ। ফাহিমও স্তব্ধ হয়ে গেল, তাদের দুজনের নিঃশ্বাস তখন থামার উপক্রম...

 

বাইরে ভারি পায়ের শব্দটা দরজার ঠিক সামনে এসেই থেমে গেল। কাঠের দরজার ফাঁক দিয়ে ঝিঁঝি পোকার আলোর সাথে কারো ছায়াও দেখা গেল। জুঁই আতঙ্কে একহাতে ফাহিমের বুক আঁকড়ে ধরে অন্য হাত নিজের মুখে চেপে ধরল, যাতে ভয়ের কোনো আর্তনাদ বের হতে না পারে। ফাহিম দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাল; সে অতি সাবধানে জুঁইকে গুদামঘরের পেছনের পুরোনো কাঠের স্তূপের আড়ালে সরিয়ে নিয়ে নিজেকেও ঢেকে ফেলল।

 

পরমুহূর্তেই মড়মড় শব্দে কাঠের দরজাটা খুলে গেল। এক প্রবীণ কণ্ঠ ভেসে এলো, "কে আছে ভেতরে? আলো জ্বলছে মনে হলো যে..."

 

গ্রামের প্রবীণ নৈশপ্রহরী কাশেম চাচা। হাতে টর্চ নিয়ে সে ঘরের ভেতরটা আলো ফেলে ঘুরিয়ে দেখল। ফাহিম জুঁইকে একদম নিজের বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরে রাখল। জুঁইয়ের উনাবৃত পিঠ ফাহিমের তপ্ত বুকের সাথে লেপটে আছে, দুজনের হৃৎস্পন্দন যেন একে অপরের শরীরে গিয়ে ধাক্কা মারছিল। আতঙ্কের মধ্যেও এই অনাবৃত সান্নিধ্য তাদের রক্তে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ ছড়িয়ে দিচ্ছিল। ফাহিমের এক হাত জুঁইয়ের পেটের ওপর চেপে রাখা, আর অন্য হাত জুঁইয়ের খোলা উরুতে। ভয়ের সাথে কামনার এক তপ্ত সংমিশ্রণ তাদের নিশ্বাসকে আবারও ভারী করে তুলল।

 

ভাগ্যবশত, কাশেম চাচা বেশিদূর না এগিয়ে ভাবল হয়তো বাইরের আলো ভেতরে পড়েছে। সে বিড়বিড় করতে করতে আবার দরজা বন্ধ করে চলে গেল।

 

পায়ের শব্দ দূরে মিলিয়ে যেতেই জুঁই এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফাহিমের বুকে মাথা ঢেলে দিল। শরীর তখনও কাঁপছে আতঙ্কে আর উত্তেজনায়।

 

ফাহিম জুঁইয়ের চিবুকটা ধরে নিজের দিকে তুলল, "ভয় পেয়েছ?"

 

জুঁই ফাহিমের চোখের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, "হ্যাঁ... তবে আপনাকে হারানোর ভয়ে, ধরা পড়ার ভয়ে না।"

 

এই একটি কথা ফাহিমের ভেতরের সমস্ত বাঁধ ভেঙে দিল। সে আর কোনো কথা না বলে জুঁইয়ের ওষ্ঠাধর নিজের ঠোঁটের আগুনে বন্দি করে নিল। আতঙ্কের মেঘ কেটে গিয়ে সেখানে আবার কামনার দাবানল জ্বলে উঠল। এবার তাদের মেলামেশা আগের চেয়েও বেশি উগ্র, বেশি ব্যাকুল।

 

ফাহিম জুঁইকে আবার পাটের বস্তার ওপর শুইয়ে দিল। ফাহিমের তৃষ্ণার্ত ঠোঁট জুঁইয়ের কানের লতি থেকে বেয়ে নেমে এলো তার মসৃণ কাঁধ, সুগঠিত স্তন আর নাভির গভীরতায়। জুঁই ফাহিমের পিঠে নিজের নখ বসিয়ে দিয়ে তাকে আরও গভীরে আকর্ষণ করল। সে ফাহিমের কোমর নিজের দু’পায়ের বেড় দিয়ে শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরল।

 

গুদামঘরের আবছা অন্ধকারে দুজন মানুষের শরীরের ঘাম আর প্রেমের তীব্র সুবাস মিশে এক হয়ে গেল। ফাহিমের প্রতিটি তীব্র আবেশে জুঁই সশব্দে হাঁপাচ্ছিল, তার চোখ দুটিতে আবেশের ঘোর। দুজনই তলিয়ে যাচ্ছিল কামনার এক অতল মহাসমুদ্রে, যেখানে কেবল তাদের স্পর্শ, তাদের উষ্ম নিঃশ্বাস আর তাদের হৃদয়ের ধুকপুকানিই একমাত্র সত্য।

 

কিছুক্ষণ পর যখন তারা চূড়ান্ত চরমসীমায় পৌঁছাল, জুঁই ফাহিমের কাঁধে মাথা রেখে এক দীর্ঘ তৃপ্তির গোঙানি দিল। ফাহিম তাকে নিজের বুকের চাদরে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখল।

 

কিন্তু সুখের এই ঘোর বেশিদিন স্থায়ী হওয়ার ছিল না। রাত গভীরে যখন জুঁই চুপিচুপি ঘরে ফিরল, সে জানতে পারল না যে তার এই দেরি করে ফেরা তার বাবার নজরে পড়ে গেছে। গ্রামের সম্মানীয় শিক্ষক বাবা দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

 

পরদিন সকালেই পুরো গ্রামে চাউর হয়ে গেল—জুঁইয়ের বিয়ে ঠিক করা হয়েছে পাশের গ্রামের এক প্রবীণ জমিদারের ছেলের সাথে, এবং আগামী তিনদিনের মধ্যেই এই বিয়ে সম্পন্ন হবে!

 

সংবাদটা শুনেই ফাহিমের মাথার ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। আর জুঁই তার শোবার ঘরে বন্দি হয়ে কাঁদতে লাগল...

 

জুঁইয়ের বিয়ের খবরটা শোনামাত্রই ফাহিমের ভেতরটা এক তোলপাড় করা ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল। যে ফাহিম একসময় ভাবত সম্পর্কের বাঁধন মানেই স্বাধীনতার ওপর শিকল, সেই ফাহিম আজ জুঁইকে হারানোর ভাবনায় দিকবিদিকশূন্য। তার কর্পোরেট হিসেবি মস্তিষ্ক স্তব্ধ হয়ে গেছে; এখন কেবল সেখানে রাজত্ব করছে জুঁইয়ের প্রেম, তার উথলে ওঠা নরম শরীরের সুবাস আর সেই বুনো রাতের স্পর্শের স্মৃতিকথা।

জুঁইকে ঘরের ভেতর বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তার মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়েছে, জানলা-দরজায় কড়া পাহারা। কিন্তু ভালোবাসার উত্তপ্ত আগুন কি আর কাঠের অর্গলে আটকে রাখা যায়?

 

বিয়ের আগের দিন রাতে পুরো গ্রামে যখন গায়ে হলুদের ধুমধাম শেষে নিঝুম অন্ধকার নেমে এলো, ফাহিম চূড়ান্ত ঝুঁকিটা নিল। সে জানত, আজ রাতে সিদ্ধান্ত না নিলে জুঁই চিরতরে অন্য কারও হয়ে যাবে। ফাহিম লুকিয়ে জুঁইদের ছাদের পেছনের পুরোনো কদম গাছ বেয়ে ছাদে উঠে এলো। ছাদের দরজার সিটকিনিটা ভাগ্যক্রমে আলগা ছিল।

 

নিঃশব্দে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে জুঁইয়ের ঘরের দরজায় হালকা ধাক্কা দিল ফাহিম। ভেতর থেকে জুঁইয়ের ক্লান্ত ও কাঁদাকাটা স্বর শোনা গেল, "কে?"

 

"জুঁই... দরজা খোলো," ফাহিম নিচু কিন্তু দৃঢ় স্বরে বলল।

 

কণ্ঠটা চিনতে এক মুহূর্তও লাগল না জুঁইয়ের। সে চকিতে উঠে এসে দরজা খুলল। ফাহিম ঘরে ঢুকেই ভেতর থেকে ছিটকিনি আটকে দিল।

 

পরমুহূর্তেই জুঁই আছড়ে পড়ল ফাহিমের চওড়া বুকে। তার দু’চোখ বেয়ে জলের ধারা নামছিল। ফাহিম একহাতে জুঁইয়ের কোমর পেঁচিয়ে ধরে অন্যহাতে তার মুখটা তুলে ধরে উন্মাদের মতো তার ঠোঁট দুটো নিজের ঠোঁটের আগুনে বন্দি করে নিল। এক দীর্ঘ, তৃষ্ণার্ত ও যন্ত্রণাদগ্ধ চুমু।

 

"ফাহিম... আমাকে নিয়ে চলো, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে কিন্তু আমি অন্য কারও ছোঁয়া সহ্য করতে পারব না," জুঁই ফাহিমের শার্ট আঁকড়ে ধরে ফুঁপিয়ে উঠল।

 

জুঁইয়ের পরনে ছিল লাল রঙের পাতলা একটি সুতির শাড়ি, যা গায়ে হলুদের সুবাসে ম ম করছিল। ফাহিম জুঁইয়ের শাড়ির আঁচলটা আলগা করে দিল। তার চণ্ড স্পর্শ জুঁইয়ের মসৃণ কাঁধ আর বুকে ছড়িয়ে পড়তে লাগল। মৃত্যুর ভয় আর বিচ্ছিন্নতার আতঙ্ক তাদের ভেতরের কামনার পারদকে এক অবিশ্বাস্য উচ্চতায় নিয়ে গেল।

 

"আজ রাতে আমরা পালিয়ে যাব জুঁই। কিন্তু তার আগে, এই মুহূর্তে তুমি কেবল আমার," ফাহিম ফিসফিস করে বলল।

 

ফাহিম জুঁইকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল। তাদের কাপড়ের বাঁধন খসে পড়ল নিমিষে। অন্ধকার ঘরে চাঁদের আলো আর তাদের শরীরের উত্তাপ একাকার হয়ে গেল। ফাহিমের অভিজ্ঞ ঠোঁট জুঁইয়ের উন্মুক্ত শরীরের প্রতিটি বাঁকে, উরুর ভাঁজে এবং নাভির গভীরে আগ্নেয়গিরির মতো আছড়ে পড়ল। জুঁই ফাহিমের চুলে আঙুল চালিয়ে নিজেকে পুরোপুরি সঁপে দিল। সে তার অনাবৃত পা দুটো ফাহিমের কোমরে জড়িয়ে ধরে এক তীব্র, আদিম আকুলতায় ফাহিমকে নিজের ভেতরে অনুভব করল।

 

তাদের শরীরের ঘাম, কান্নার জল আর উন্মাদ প্রেম এক হয়ে এক অভূতপূর্ব সুর সৃষ্টি করল। সেই চরম ও পরম সান্নিধ্যে তারা যেন একে অপরের সাথে চিরতরে মিশে গেল—কোনো সমাজ, কোনো জাত কিংবা কোনো বাধানিষেধ আর তাদের আলাদা করার ক্ষমতা রাখল না।

 

ভোর হওয়ার ঠিক এক ঘণ্টা আগে, যখন পুরো গ্রাম গভীর ঘুমে মগ্ন, ফাহিম জুঁইয়ের হাত শক্ত করে চেপে ধরল। জুঁই তার সামান্য কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস একটা ছোট ব্যাগে গুটিয়ে নিয়েছিল।

 

দুজনে নিশব্দে পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে এলো। গ্রামের মেঠোপথ ধরে হেঁটে তারা স্টেশনের দিকে এগোতে লাগল। ফাহিম জুঁইয়ের হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরে রেখেছিল—সেই হাত, যা প্রথম দিন সে ভুল করে আঘাত করেছিল, আজ সেই হাতই তার জীবনের একমাত্র আশ্রয়।

 

ভোরের প্রথম ট্রেনের হুসেল যখন বেজে উঠল, জুঁই ফাহিমের কাঁধে মাথা রাখল। পে পেছনে ফেলে আসছে তার চেনা গ্রাম, আর সামনে অপেক্ষা করছে এক অচেনা কিন্তু ভালোবাসায় পূর্ণ নতুন পৃথিবী।

 

ঢাকার যান্ত্রিক ফাহিম আর গ্রামের সরল জুঁই—দুই ভিন্ন মেরুর দুটো প্রাণ আজ এক অটুট, উত্তপ্ত ভালোবাসার বন্ধনে চিরদিনের জন্য এক হয়ে গেল।

....
👁 12