অশ্বথগাছের ঘন সবুজ পাতার ফাঁক দিয়ে যখন আষাঢ়ের বৃষ্টি নেমে আসে, তখন পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস একটা আলাদা রূপ নেয়। ধানমন্ডি ৩/এ-এর চায়ের দোকানগুলোতে তখন তিল ধারণের জায়গা থাকে না। বৃষ্টি নামলেই সোঁদা মাটির একটা তীব্র গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, আর সেই গন্ধের সাথে মিশে যায় ফুটন্ত লিকারের সুবাস।
আরমান লাইব্রেরির দীর্ঘ বেলকনিতে দাঁড়িয়ে ছিল। শান্ত, স্থির আর গম্ভীর স্বভাবের ছেলে বলে ক্যাম্পাসে তার একটা আলাদা সুনাম আছে। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে সে কথা বলে না, নিজের পড়ালেখা আর বইয়ের জগতেই মগ্ন থাকতে ভালোবাসে। চশমার কাঁচটা হালকা মুছে নিয়ে সে বাইরে ঝরে পড়া বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছিল। আজ তার মনটা একটু বেশিই শান্ত, কারণ তার প্রিয় বইটার শেষ অধ্যায়টা পড়া শেষ হয়েছে কেবল।
ঠিক তখনই শান্ত পরিবেশটা মুহূর্তে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল একটি তীক্ষ্ণ ও রাগী কণ্ঠে।
"আপনি কি চোখে দেখতে পান না? নাকি ইচ্ছা করেই আমার নোটসগুলোর ওপর চা ফেলে দিলেন?"
আরমান ধীরপায়ে মুখ ফিরিয়ে তাকাল। করিডোরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে ইশা। ইশাকে এই ক্যাম্পাসের প্রায় সবাই চেনে—প্রচণ্ড জেদি, তেজস্বী আর নিজের মতেই চলে। যেকোনো বিষয়ে প্রতিবাদ করতে সে এক মুহূর্তও ভাবে না। তার চোখেমুখে এখন আগ্নেয়গিরির মতো ক্ষোভ উপচে পড়ছে।
ইশার পরনে একটা গাঢ় নীল রঙা সুতি সালোয়ার কামিজ, বৃষ্টিতে ভেজার কারণে ওড়নাটা তার এক পাশে ঝুলে পড়েছে আর কিছু ভেজা চুল তার ফর্সা মুখে লেপ্টে আছে। তার সামনে দাঁড়ানো এক জুনিয়র ছেলে অপরাধীর মতো হাত জোড় করে ক্ষমা চাচ্ছে, কিন্তু ইশার রাগ তাতে কমার কোনো লক্ষণ নেই।
আরমান শান্ত গলায় বলল, "ইশা, ছেলেটা তো অনিচ্ছাকৃতভাবেই করে ফেলেছে। ক্ষমা চাইছে যখন, তখন আর বিষয়টাকে বাড়িয়ে লাভ কী?"
ইশা একঝটকা মেরে আরমানের দিকে ঘুরল। তার উজ্জ্বল ডাগর দুটি চোখে যেন আগুন জ্বলছে। সে আরমানের খুব কাছে এগিয়ে এলো। দুজনের মাঝে তখন মাত্র কয়েক ইঞ্চির দূরত্ব। আরমান ইশার চোখ দুটোতে রাগ ছাড়া অন্য এক অজানা মাদকতা দেখতে পেল, কিন্তু সে তার মুখের শান্ত ভাবটা বজায় রাখল।
"আপনাকে কে মাঝখানে কথা বলতে বলেছে, আরমান সাহেব?" ইশার কণ্ঠস্বরে তীব্র ঝাঁজ। "আপনি নিজের কাজ করুন। আপনার এই ভালো মানুষীর মুখোশটা আমার একদম সহ্য হয় না।"
"মুখোশ নয় ইশা, পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছি," আরমান ধীরস্থির কণ্ঠে জবাব দিল। সে ইশার এত কাছাকাছি দাঁড়িয়ে তার গায়ের মিষ্টি সুবাস পাচ্ছিল। বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া ইশার গায়ের উষ্ণতা যেন হঠাৎ করেই ওই স্যাঁতসেঁতে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে।
"আমাকে সামলানো শেখাতে আসবেন না!" ইশা তর্জনী উঁচিয়ে আরমানের বুকের কাছে এসে থমকে গেল। আরমানের গভীর, স্থির দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ইশার বুকের ভেতরের স্পন্দন হঠাৎ করেই একটু দ্রুত হয়ে উঠল। কেন যেন এই মানুষটার ওপর রাগ দেখালেও তার শান্ত ভাবটা ইশাকে এক অদ্ভুত অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।
"হয়েছে তো? এবার বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করুন," আরমান হালকা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের হাত ঘড়ির দিকে তাকাল।
কিন্তু ভাগ্য ইশার পক্ষে ছিল না। বিকালের আকাশ অন্ধকার করে আরও মুষলধারে বৃষ্টি নামল। সঙ্গে ঠাণ্ডা সোঁসো হাওয়ায় লাইব্রেরির বেলকনি ভিজে একাকার হয়ে যেতে লাগল। বাতাসের টানে ইশার পরনের পোশাক ভিজে শরীরে সেঁটে যেতে শুরু করল। ইশা হালকা শীতে কেঁপে উঠতেই আরমান তা লক্ষ্য করল।
অন্য কোনো কথা না বলে, আরমান নিজের গায়ের জ্যাকেটটা খুলে ধীরপায়ে ইশার পেছনে এসে দাঁড়াল। ইশা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আরমান তার দুপাশ দিয়ে হাত বাড়িয়ে জ্যাকেটটা ইশার কাঁধের ওপর জড়িয়ে দিল।
এই সামান্য স্পর্শে ইশা যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলো। আরমানের হাতের ছোঁয়া আলতো করে ইশার কাঁধে লেগেছিল। আরমানের শরীরের উত্তাপ, তার গায়ের মৃদু সুবাস ইশাকে থমকে দিল। সে মুখ ঘুরিয়ে তাকাতেই দেখতে পেল আরমানের মুখটা তার ঠিক মুখের ওপরে। আরমানের উষ্ণ শ্বাস ইশার ঠোঁটে এসে পড়ছিল।
ইশার জেদি চোখ দুটো মুহূর্তের জন্য নরম হয়ে গেল। তার ধুকপুক করা বুক আরমানের বুকের সাথে প্রায় লেগে আছ। আরমান তার চোখ থেকে চোখ সরাচ্ছিল না।
"জ্যাকেটটা পরে থাকো, ঠাণ্ডা লেগে যাবে," আরমানের কণ্ঠস্বর এখন অনেক বেশি গম্ভীর ও গভীর শোনালো। সে তার আঙুল দিয়ে ইশার গালে লেপ্টে থাকা ভেজা চুলটুকু আলতো করে কানের পেছনে গুঁজে দিল। আরমানের আঙুলের ছোঁয়ায় ইশার সারা শরীরে এক অচেনা শিউরোন খেলে গেল। ইশা যা কখনো অনুভব করেনি, সেই গভীর আকুলতা যেন তার রক্তে দোলা দিল।
ইশা কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সে মুখ ফুটে একটা প্রতিবাদ পর্যন্ত করতে পারল না।
ঝড়ের পর দিন ক্যাম্পাসের আবহাওয়া কেমন যেন থমথমে হয়ে রইল। গতকালের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ আর উষ্ণ অনুভূতিটা পুরো রাত ইশাকে ঘুমাতে দেয়নি। যতবারই সে চোখ বন্ধ করেছে, ততবারই মনে পড়েছে আরমানের সেই গভীর স্থির দৃষ্টি, তার উষ্ণ শ্বাস আর গালে আঙুলের আলতো ছোঁয়া। ইশার মতো জেদি আর আত্মসংযমী মেয়ে এভাবে একজন সাধারণ শান্ত ছেলের চিন্তায় ব্যাকুল হয়ে পড়বে, তা সে স্বপ্নেও ভাবেনি।
কিন্তু নিজের এই মানসিক দুর্বলতাকে ঢাকা দেওয়ার একমাত্র উপায় ছিল রাগ প্রকাশ করা।
দুপুরের দিকে ইশা বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পেল আরমান তাদের বিভাগের সেমিনার রুমের সামনে দাঁড়িয়ে কিছু কাগজপত্র গুছাচ্ছে। তার পরনে একটা হালকা নীল রঙের শার্ট, হাতা দুটো কনুই পর্যন্ত গুটানো। রোদের আলো জানালা দিয়ে এসে তার চশমার কাঁচে আর ফর্সা চেহারায় ঠিকরে পড়ছে।
ইশা নিজের ভেতরে জমে থাকা অদ্ভুত অস্থিরতা গোপন করতে হনহন করে আরমানের দিকে এগিয়ে গেল। তার হাতে ছিল গতকালের সেই জ্যাকেটটা, যেটা সে যত্ন করে ধুয়ে শুকিয়ে এনেছে।
"এই যে আরমান সাহেব!" ইশা তীব্র কণ্ঠে ডেকে উঠল।
আরমান শান্তভাবে ঘুরে তাকাল। ইশাকে দেখে তার ঠোঁটের কোণে হালকা এক চিলতে হাসি ফুটে উঠেই মিলিয়ে গেল। সে কাগজগুলো টেবিলে রেখে বলল, "কিছু বলবে ইশা?"
"আপনার জ্যাকেট," ইশা জ্যাকেটটা আরমানের বুকের ওপর ছুড়ে দেওয়ার ভঙ্গিতে বাড়িয়ে দিল। "আপনার মতো অচেনা মানুষের দয়া নেওয়ার কোনো অভ্যাস আমার নেই।"
আরমান জ্যাকেটটা না ধরে ইশার দিকে এক ধাপ এগিয়ে এলো। ইশা নিজেকে সামলাতে না পেরে পেছাতে গিয়ে দরজার ফ্রেমের সাথে পিঠ ঠেকাতে বাধ্য হলো। সেমিনার রুমটা তখন একেবারেই ফাঁকা ছিল, করিডোরেও তেমন কেউ ছিল না।
"অচেনা মানুষ?" আরমান তার নিচু ও গভীর কণ্ঠে বলল। সে তার দুটো হাত ইশার দুপাশে দরজার ফ্রেমে রেখে তাকে পুরোপুরি আটকে ফেলল।
ইশার বুক দড়াস করে উঠল। এত কাছে আরমানকে দেখে সে ভেতরের জেদ হারিয়ে ফেলার উপক্রম হলো। আরমানের শরীরের পরিচিত সোঁদা সুবাস তার নাকে এসে ধাক্কা মারছে। ইশা শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে বলল, "হ্যাঁ, অচেনা। আপনি কি নিজেকে অনেক বড় কিছু ভাবেন?
কালকের ওই ঘটনার পর ভাববেন না আমি আপনাকে দয়ালু ভাবছি!"
আরমান ইশার দিকে আরেকটু ঝুঁকলো। এখন তাদের দুজনের ঠোঁটের মাঝে মাত্র ইঞ্চিখানেকের ব্যবধান। আরমানের চোখ দুটো ইশার কাঁপা কাঁপা গোলাপী ঠোঁটের দিকে নেমে গেল। ইশা স্পষ্ট অনুভব করতে পারছিল আরমানের বুকের ওঠানামা আর তার শরীরের উষ্ণতা।
"ইশা," আরমান একদম ইশার কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে বিড়বিড় করে বলল, "তোমার চোখে আমি রাগ দেখি, কিন্তু তোমার এই শরীরের কাঁপন অন্য কথা বলে। তুমি কেন নিজের মনকে মিথ্যা বলছ?"
আরমানের গরম নিঃশ্বাস ইশার ঘাড়ে আর কানের লতিতে লাগতেই ইশার সারা শরীরে এক গভীর উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ল। সে আবেশে চোখ বন্ধ করে ফেলতে চাইল, কিন্তু নিজের জেদ তাকে শক্ত রাখতে সাহায্য করল। ইশা দুই হাত দিয়ে আরমানের বুকের চওড়া ছাতিতে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু আরমান একচুলও নড়ল না। উল্টো সে ইশার দুটো নরম হাত ধরে তার মাথার ওপর দরজার সাথে চেপে ধরল।
"ছাড়ুন আমাকে, আরমান!" ইশা হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, তার গলার আওয়াজ কাঁপছিল।
"না ছাড়লে কী করবে?" আরমান তার চোখ দুটি ইশার চোখে স্থির রাখল। ইশার ভেজা ঠোঁট দুটো ভয়ে ও আবেশে থরথর করে কাঁপছিল। আরমান আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে হালকা ঝুকে ইশার গালে তার উষ্ণ ঠোঁট স্পর্শ করল। আলতো, কিন্তু গভীর সেই চুমুর ছোঁয়ায় ইশার ভেতরটা যেন দোলা দিয়ে উঠল। তার সমস্ত শক্তি যেন এক মুহূর্তে হারিয়ে গেল।
আরমান ইশার হাতের মুঠি একটু শিথিল করে দিতেই ইশা ছাড়া পেয়ে দরজায় পিঠ রেখে নিচে বসে পড়ার মতো হয়ে গেল। তার শ্বাসপ্রশ্বাস তখন অস্বাভাবিক দ্রুত।
আরমান টেবিল থেকে নিজের জিনিসপত্র তুলে নিয়ে একবার ইশার দিকে তাকাল। তার চোখে তখন কোনো শান্ত ভাব ছিল না, ছিল এক প্রবল কামনার আর দখলের ছাপ।
"জ্যাকেটটা তোমার কাছেই রেখে দাও," আরমান ধীরপায়ে সেখান থেকে হেঁটে চলে যেতে যেতে বলল, "ওটা আবার কোনো মেঘলা দিনে তোমার কাজে লাগবে।"
ইশা স্তব্ধ হয়ে সেখানে বসে রইল। সে নিজের গালের সেই জায়গায় আঙুল দিয়ে স্পর্শ করল, যেখানে আরমানের ঠোঁটের উষ্ণতা এখনও আগুনের মতো জ্বলছে। এই প্রথম ইশা উপলব্ধি করল—যে মানুষটাকে সে সারা জীবন এড়িয়ে চলতে চেয়েছে, সেই মানুষটার বিষাক্ত আকর্ষণ থেকে বের হওয়া এখন তার পক্ষে অসম্ভব।
পরের দুটো দিন ইশা ক্লাসে আসেনি। নিজের ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি থেকে সে নিজেকে বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। কিন্তু ঘরের অন্ধকারও যেন আরমানের শরীরের তীব্র ঘ্রাণ আর তার ঠোঁটের উত্তপ্ত ছোঁয়াকে মুছে ফেলতে পারছিল না। ইশার রাগী মনটা প্রতিনিয়ত বলছিল যে আরমান তার সাথে অন্যায় করেছে, কিন্তু তার শরীর ও হৃদয় অন্য কোনো আদিম সত্যের সাক্ষ্য দিচ্ছিল। সেই স্পর্শে কোনো অনিচ্ছা ছিল না, ছিল এক প্রবল ও গোপন আত্মসমর্পণ।
তৃতীয় দিনে আর সহ্য করতে না পেরে ইশা ক্যাম্পাসে এল। আকাশ সেদিনও ভারী হয়ে ছিল, যেন যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়বে। ক্লাসের পর করিডোরগুলো ফাঁকা হয়ে আসতেই ইশা সোজা চলে গেল ডিপার্টমেন্টের লাইব্রেরির একবারে পেছনের রো-তে। এই জায়গাটা সাধারণত নির্জন থাকে, পুরনো বইয়ের আলমারিগুলোর মাঝখানের সরু গলিতে আলো-আঁধারির খেলাই বেশি।
ইশা জানত আরমান সেখানেই থাকবে।
আলমারির আড়ালে দাঁড়িয়ে একটা মোটা বই হাতড়াচ্ছিল আরমান। সাদা শার্টের বোতাম দুটো খোলা, তার সুগঠিত বুকের কিছুটা অংশ দেখা যাচ্ছে। ইশা সেখানে গিয়ে থামতেই আরমান না তাকিয়েই বলল, "দুটো দিন কোথায় ছিলে, ইশা? আমায় এড়িয়ে চলা কি এতই সহজ মনে হয়?"
ইশা আরমানের মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়াল। তার চোখে জল আর ক্ষোভের মিশ্রণ। "আপনি আমাকে স্পর্শ করার সাহস কীভাবে পেলেন, আরমান? আপনি কি ভাবেন আপনি আমাকে যা খুশি তাই করতে পারেন?"
আরমান তার হাতের বইটা ধুপ করে তাকে রেখে দিল। তারপর এক পা এগিয়ে ইশার একেবারে গা ঘেঁষে দাঁড়াল। আরমানের শান্ত চোখের জায়গায় এখন ঝিকমিক করছে এক তীব্র ও অনিয়ন্ত্রিত লালসা।
"হ্যাঁ, পারি," আরমান নিচু, থমথমে গলায় বলল। সে ইশার কোমরে দুটো হাত দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরে তাকে এক টান মেরে নিজের বুকের সাথে মিলিয়ে নিল।
ইশা হালকা আর্তনাদ করে ওঠার আগেই আরমান তার অন্য হাতটা ইশার পিঠের ওপর দিয়ে নামিয়ে তার কোমরের ভাঁজে চেপে ধরল। কাপড়ের ওপর দিয়েই ইশা অনুভব করল আরমানের হাতের চড়ামাত্রার উত্তাপ।
"তুমি আমার কাছে আসার জন্য কতটা ছটফট করছ, সেটা তোমার এই চোখ দুটো বলে দিচ্ছে ইশা," আরমান তার কপালটা ইশার কপালের সাথে ঠেকালো। দুজনের তপ্ত নিঃশ্বাস এক হয়ে মিশে যেতে লাগল। "তোমার এই ভুয়া রাগ আমার কাছে প্রকাশ করার চেষ্টা কোরো না।"
"আরমান... ছেড়ে দিন..." ইশার গলার আওয়াজ বুজে এলো, কিন্তু তার নিজের দুটো হাত না চাও সত্ত্বেও আরমানের চওড়া কাঁধ আঁকড়ে ধরল। সে পেছাতে চাইছিল না, বরং এই আঁকড়ে ধরায় তার শরীর এক অদ্ভুত তৃপ্তি পাচ্ছিল।
আরমান আর কোনো কথা বলল না। সে নিজের ঠোঁট দুটো নামিয়ে আনল ইশার উন্মুক্ত ঘাড়ের ওপর। ইশা আবেশে মাথাটা পেছনে হেলে দিল। আরমানের উষ্ণ ঠোঁট আর কামড়ের তীব্রতায় ইশার শরীর শিউরে উঠল, তার বুকটা আরমানের বুকে গভীরভাবে চেপে বসল। আরমান আলতো করে ইশার ঠোঁটে নিজের আঙুল বুলিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে নিজের ঠোঁট জোড়া ইশার তৃষ্ণার্ত ঠোঁটে ডুবিয়ে দিল।
এই প্রথম ইশা কোনো বাধা দিল না। সে তার জেদ, তার রাগ সবকিছু ভুলে আরমানের ভালোবাসার গভীরে নিজেকে সঁপে দিল। লাইব্রেরির সেই নির্জন আলো-আঁধারিতে দুজনের শ্বাসপ্রশ্বাসের তীব্র শব্দ আর ব্যাকুল হৃদস্পন্দন একাকার হয়ে গেল। ইশা বুঝতে পারল, সে যে বিষাক্ত আকর্ষণকে ভয় পাচ্ছিল, আসলে সেটাই তার পরম আশ্রয়।
আরমান যখন ইশাকে মুক্ত করল, তখন ইশার ঠোঁট দুটো কামড় আর চুমুর গভীরতায় রক্তিম হয়ে উঠেছে, চোখের দৃষ্টি ঝাপসা। আরমান ইশার মুখে নেমে আসা চুলগুলো ঠিক করে দিয়ে বলল, "তুমি শুধু আমার ইশা। নিজের এই সত্যটা আর কখনো অস্বীকার করার চেষ্টা কোরো না।"
লাইব্রেরির সেই উত্তপ্ত মুহূর্তগুলোর পর ইশার জীবনের গতিপথ যেন এক অচেনা দিকে বাঁক নিল। সে বুঝতে পারছিল, আরমানের প্রতি তার এই আকর্ষণ কেবল ক্ষণিকের আবেগ নয়; বরং এক গভীর, নেশাতুর লালসা ও নির্ভরতা। কিন্তু ইশার ভেতরে পুষে রাখা অহংকার এত সহজে হার মানতে রাজি ছিল না। সে সিদ্ধান্ত নিল, নিজের ক্লাসের কাজে ব্যস্ত থেকে আরমানকে কয়েক দিন এড়িয়ে চলবে
।
কিন্তু আরমান তা হতে দেওয়ার পাত্র ছিল না।
ক্যাম্পাসের বার্ষিক সাংস্কৃতিক উৎসবের রাতে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলো। বিদ্যুতের আলো নিভে গিয়ে পুরো ক্যাম্পাস এক অদ্ভুত অন্ধকারে ডুবে গেল। সবাই যখন অডিটোরিয়ামের ভেতরে গাদাগাদি করে আশ্রয় নিচ্ছিল, ইশা ভিড় এড়াতে করিডোর দিয়ে একাকী ডিপার্টমেন্টের তিনতলার সেমিনার রুমের দিকে রওনা হলো। অন্ধকারে পথ চেনা দায়, তার ওপর জানালার ফাঁক দিয়ে আসা বাতাসে ইশার ভেজা শাড়ি আর শরীর কাঁপছিল।
হঠাৎ করেই পিছন থেকে কেউ একজন শক্ত হাতে ইশার কোমর পেঁচিয়ে ধরল। ইশা আঁতকে উঠে চিৎকার করতে যাবে, কিন্তু একটি চেনা উষ্ণ হাতের তালু তার ঠোঁটে চেপে বসল।
"শব্দ কোরো না ইশা," আরমানের কম্বীর কণ্ঠস্বর অন্ধকার ঘরের দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হলো।
আরমান ইশাকে এক ঝটকায় সেমিনার রুমের ভেতরে টেনে নিয়ে দরজা আটকে দিল। অন্ধকারেই ইশা টের পাচ্ছিল আরমানের উপস্থিতি। তার গায়ের পুরুষালী সুবাস আর তীব্র উত্তাপ ইশার সমস্ত শরীরকে অবশ করে দিল।
"আপনি..." ইশার গলা দিয়ে কথা ফুটছিল না। "এখানে কী করছেন? ছাড়ুন আমাকে!"
"তুমিও ভালো করেই জানো আমি ছাড়তে আসিনি," আরমান অন্ধকারে ইশার ভেজা পিঠে হাত রাখল। ইশা শাড়ি পরেছিল; উন্মুক্ত পিঠে আরমানের গরম হাতের স্পর্শ লাগতেই ইশা হালকা কেঁপে উঠল। আরমান ইশাকে ঘুরিয়ে নিজের দিকে নিয়ে এলো এবং এক টানে দেয়ালের সাথে চেপে ধরল।
"তুমি নিজেকে বড় চতুর ভাবো, তাই না?" আরমান নিচু, গভীর স্বরে বলল। তার এক হাত ইশার কোমরের ভাঁজে চেপে বসল, আর অন্য হাত দিয়ে সে ইশার চিবুক উঁচিয়ে ধরল। "আমাকে এড়িয়ে চলা সহজ নয় ইশা। তুমি যত দূরে যাওয়ার চেষ্টা করবে, আমি তত তীব্রভাবে তোমাকে আমার করে নেব।"
ইশার শাড়ির আঁচল ধসে মেঝেতে পড়ে গেল। অন্ধকারে আরমানের ক্ষুধার্ত দৃষ্টি ইশার শরীরকে যেন মেপে নিচ্ছিল। ইশা নিজের ভেতরে এক আদিম তৃষ্ণা অনুভব করল। সে আরমানকে ঠেলে সরিয়ে দিতে চাইল, কিন্তু তার হাত দুটো আরমানের চওড়া বুকের জামা আঁকড়ে ধরল—ঠেলতে নয়, বরং আরও কাছে টেনে নিতে।
"আরমান... প্লিজ..." ইশার কাতর কণ্ঠস্বর নিভে গেল, কারণ আরমান তার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট হারিয়ে ফেলল।
এবারের চুমু আলতো ছিল না; এতে ছিল তীব্র অধিকার ও উন্মাদনা। আরমান ইশার ওপরের ঠোঁট ও নিচের ঠোঁট গভীরভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিল। ইশা আবেশে চোখ বন্ধ করে আরমানের চুলে আঙুল চালিয়ে দিল। আরমানের এক হাত ইশার পিঠের নিচ থেকে উঠে তার গলার কাছে এল, অন্য হাত ইশার কোমরে হিংস্রভাবে চেপে ধরল।
বাইরে তখন গর্জে উঠছে বজ্রপাত, ঝড়ের মাতলামি থামার নাম নেই। আর ঘরের ভেতরে দুই ব্যাকুল শরীরের উত্তাপ আর নিঃশ্বাসের শব্দে বাতাস ভারী হয়ে উঠছিল। আরমান ইশার ঘাড় ও কাঁধে নিজের উষ্ণ ঠোঁটের কামড় বসিয়ে তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলল।
"তুমি আমার, শুধু আমার," আরমান ইশার কানের লতিতে দাঁত বসিয়ে বিড়বিড় করল।
ইশা নিজের সব জেদ, অহংকার আর রাগ ওই অন্ধকারের কাছে বিসর্জন দিল। আরমানের বুকের ছাতি ধরে সে নিজেকে পুরোপুরি উজার করে দিল তার কাছে। ইশা বুঝতে পারছিল, আরমানের এই বিষাক্ত ভালোবাসা ও শারীরিক তীব্রতাই এখন তার জীবনের একমাত্র সত্য।
ঝড়-বৃষ্টির সেই উত্তপ্ত রাতের পর ইশার মানসিক জগতে এক অদ্ভুত পরিবর্তন নেমে এলো। যে জেদ আর অহংকারকে সে এতদিন নিজের শক্ত বর্ম মনে করত, আরমানের গভীর ভালোবাসার কাছে তা যেন পুরোপুরি চুরমার হয়ে গেছে। অথচ এই সমর্পণের মধ্যেও একটা অজানা ভয় তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়াত—যদি আরমান কোনোদিন তাকে ছেড়ে চলে যায়? যদি তাদের এই তীব্র আকর্ষণ শুধুই একটা সাময়িক আবেগ হয়ে দাঁড়ায়?
পরদিন বিকেলে ক্যাম্পাসের পেছনের লেকের ধারটা বেশ নির্জন ছিল। পড়ন্ত বিকালের রক্তিম আলো জলে পড়ে এক মোহনীয় পরিবেশ তৈরি করেছে। ইশা কাঠের বেঞ্চে বসেছিল, তার মুখটা বেশ চিন্তিত। আরমান এক কাপ গরম চা হাতে নিয়ে ধীরপায়ে এসে তার পাশে বসল।
"কী নিয়ে এত ভাবছ, ইশা?" আরমান শান্ত গলায় শুধাল।
ইশা চট করে আরমানের দিকে তাকাল। আরমানের মুখটা সবসময়ই কতটা শান্ত আর নিশ্চুপ থাকে! অথচ এই শান্ত চেহারার অন্তরালেই লুকিয়ে আছে এক প্রচণ্ড একচ্ছত্র প্রেমিক, যে তাকে ভালোবাসার গভীর নেশায় ডুবিয়ে রাখতে জানে।
"আমি ভাবছি আমাদের কথা, আরমান," ইশা নিচু স্বরে বলল, তার কণ্ঠস্বরে স্পষ্ট দ্বিধা। "তুমি তো জানো আমি কতটা জেদি, কতটা জঘন্য আচরণ করেছি তোমার সাথে। তাও তুমি... তুমি কেন আমার এত কাছে এলে? এটা কি শুধুই একটা ভালো লাগা?"
আরমান চায়ের কাপটা পাশে রেখে ইশার দিকে পুরোপুরি ঘুরল। তার চোখ দুটোতে কোনো কৌতুক বা শান্ত ভাব ছিল না, ছিল এক অগাধ গাম্ভীর্য। সে আলতো করে ইশার থুতনি ধরে নিজের দিকে উঁচিয়ে ধরল।
"ইশা, তোমাকে আমি ভালোবাসতে বাধ্য হয়েছি তোমার ওই জেদের জন্যই," আরমান গম্ভীর স্বরে বলল। "তুমি বাইরে থেকে যতটাই শক্ত আর রাগী দেখাও না কেন, ভেতরে তুমি ভীষণ নরম আর একাকী। তোমাকে নিজের করে পাওয়া, তোমাকে আমার বুকে আগলে রাখা—এটা আমার কোনো সাময়িক আবেগ নয়। এটা আমার অধিকার।"
কথাগুলো বলতে বলতেই আরমান ইশাকে নিজের আরও কাছে টেনে নিল। তার হাত ইশার কোমরের রেশমি কাপড়ের ওপর দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করল, জড়িয়ে ধরল উন্মুক্ত ত্বক। ইশা শিউরে উঠে আরমানের বুকের ওপর নিজের দুটো হাত রাখল। লেকের ধারের ঝোপঝাড় আর গাছের ছায়া তাদের দুজনকে বাকি দুনিয়া থেকে আলাদা করে রেখেছিল।
"আরমান, কেউ দেখে ফেলবে..." ইশা ধুকপুক করা বুকে বিড়বিড় করল, যদিও তার শরীর আরমানের উষ্ণ স্পর্শের কাছে নিমেষেই নতি স্বীকার করে নিচ্ছিল।
"কাউকে দেখার সুযোগ দেব না," আরমান নিচু গলায় বলল। সে ঝুকে এসে ইশার গালে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল, তারপর ধীরে ধীরে নেমে এলো তার সুগঠিত গলার ভাজে।
আরমানের উষ্ণ, কামড়াকামড়ির ছোঁয়ায় ইশা আবেশে চোখ বন্ধ করে ফেলল। আরমানের আঙুল ইশার পিঠের ওপর গভীর দাগ কাটছিল, যেন প্রতিটি ছোঁয়ায় সে ইশার শরীরে নিজের মালিকানা লিখে দিচ্ছে। ইশা নিজের দু হাত দিয়ে আরমানের শার্টের কলার আঁকড়ে ধরল, নিজের ঠোঁট দুটো তুলে দিল আরমানের তৃষ্ণার্ত ঠোঁটের সামনে।
দুই জোড়া ঠোঁট এক হতেই বিকালের নির্জনতা যেন স্তব্ধ হয়ে গেল। গভীর, অনিয়ন্ত্রিত সেই চুমুতে ছিল ইশার সমস্ত ভয় আর আশঙ্কা ভুলিয়ে দেওয়ার মন্ত্র। আরমান ইশার ওপরের ঠোঁট গভীরভাবে চুষে নিয়ে তাকে আরও শক্ত করে বুকে চেপে ধরল। ইশা অনুভব করল, আরমানের হৃদস্পন্দন কতটা দ্রুত স্পন্দিত হচ্ছে—একদম তার নিজের হৃদস্পন্দনের মতোই।
"তুমি ছাড়া আমি আর কাউকে চিনি না, ইশা," চুমুর ফাঁকে আরমান বিড়বিড় করে বলল, তার তপ্ত শ্বাস ইশার মুখের ওপর আছড়ে পড়ছিল। "তুমি আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা, আবার আমার সবচেয়ে বড় অহংকার।"
ইশা আরমানের বুকে মাথা রেখে এক গভীর শান্তির নিঃশ্বাস ফেলল। সমস্ত দ্বিধা আর আশঙ্কা উবে গেল। সে বুঝতে পারল, এই মানুষটার ভালোবাসার আগুন তাকে পুড়িয়ে ছাই করলেও সে এই আগুনেই সারাজীবন বাঁচতে চায়।
তবে সুখে থাকার এই মুহূর্তগুলোর মাঝেই এক অন্ধকার ছায়া তাদের দিকে এগিয়ে আসছিল। দূরের রাস্তা থেকে তাদের দিকে নজর রাখছিল একটি অপরিচিত ও হিংসুটে চোখ, যা তাদের এই গোপন সম্পর্ককে তছনছ করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল।
লেকের ধারের সেই সুন্দর মুহূর্তগুলোর পর ইশা ও আরমানের ভালোবাসার খবর ক্যাম্পাসের কিছু হিংসুটে মানুষের চোখে পড়েছিল। বিশেষ করে আরমানের প্রাক্তন বন্ধু সাব্বির, যে শুরু থেকেই ইশার প্রতি একপাক্ষিক আসক্ত ছিল এবং আরমানের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজছিল।
সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার। সন্ধ্যার পর পরই আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামল। ইশা ডিপার্টমেন্টের লাইব্রেরির পাশের অন্ধকার গলি দিয়ে বের হওয়ার সময় হঠাৎ সাব্বির তার পথ আটকে দাঁড়াল।
"অনেক তো আরমানের সাথে মিষ্টি মিষ্টি প্রেম হলো, ইশা। এবার আমার দিকে একটু তাকাও," সাব্বির কুৎসিত হেসে ইশার হাত শক্ত করে ধরে ফেলল।
ইশা চিৎকার করার চেষ্টা করে বলল, "হাত ছাড়ো সাব্বির! তোমার সাহস কীভাবে হয়?"
সাব্বির জোর জবরদস্তি করে ইশাকে লাইব্রেরির পাশের একটা অন্ধকার ফাঁকা ঘরে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করতেই দরজার বাইরে এক প্রচণ্ড ধামাকা হলো। একঝটকা মেরে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করল আরমান। শান্ত, ধীরস্থির আরমানের চেহারায় তখন হিংস্র এক রূপ। তার চোখে যেন খুনের নেশা ঝিকমিক করছে।
"আমার ইশার গায়ে হাত দেওয়ার পরিণতি কী হতে পারে, সেটা তোর ধারণার বাইরে সাব্বির," আরমানের গভীর গলার আওয়াজ পুরো ঘরে প্রতিধ্বনি তুলল।
আরমান এক মুহূর্ত সময় না নিয়ে সাব্বিরের শার্টের কলার ধরে তাকে এক টানে দেয়ালের সাথে আছড়ে ফেলল। সাব্বির কিছু বুঝে ওঠার আগেই আরমানের ভারী এক ঘুসি এসে পড়ল তার মুখে। রক্তে ভেসে গেল সাব্বিরের ঠোঁট। আরমানের ভেতরের সেই পশুপক্ষীর মতো হিংস্র রূপ দেখে সাব্বির ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে গেল।
ইশা ভয়ে ও আকস্মিকতায় এক কোণে দাঁড়িয়ে থরথর করে কাঁপছিল। সে কখনো আরমানকে এতটা রাগান্বিত হতে দেখেনি।
সাব্বির চলে যেতেই আরমান ধীরপায়ে ইশার দিকে এগিয়ে এলো। তার শ্বাসপ্রশ্বাস তখন অস্বাভাবিক দ্রুত, বুকে হিংস্র উন্মাদনা। সে কোনো কথা না বলে এক ঝটকায় ইশাকে নিজের চওড়া বুকের মধ্যে টেনে নিল।
"তোমার গায়ে অন্য কারও ছোঁয়া লাগা তো দূরের কথা, নজর দেওয়াও আমি সহ্য করব না!" আরমান নিচু, থমথমে গলায় বলল।
সে ইশার দুপাশ ধরে তাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরল। ইশার চোখের কোণে জল দেখে আরমানের রাগের জায়গায় এক তীব্র আদিম ভালোবাসা ভর করল। সে পরম আকুলতায় ইশার ভেজা চোখের জল ঠোঁট দিয়ে মুছে দিল। তারপর আরমান তার ঠোঁট দুটো নামিয়ে আনল ইশার কামড়াকামড়িতে রক্তাক্ত ঠোঁটে।
এই চুমু আগের সব চুমুর চেয়ে আলাদা ছিল—এতে কোনো দ্বিধা ছিল না, ছিল না কোনো রাগ। এতে ছিল এক চরম একচ্ছত্র আধিপত্য, অনন্ত ক্ষুধা আর ব্যাকুলতা। ইশা আবেশে আরমানের শার্ট শক্ত করে আঁকড়ে ধরে তার বুকের সাথে নিজেকে পুরোপুরি পিষে দিল।
আরমান ইশার শাড়ির আঁচল সরিয়ে তার নগ্ন ঘাড়ে ও কাঁধে হিংস্র তৃষ্ণায় নিজের ঠোঁট আর দাঁত বসিয়ে দিল। ইশার মুখ দিয়ে এক হালকা সিৎকার বেরিয়ে এল, যা আরমানকে আরও উন্মাদ করে তুলল। আরমানের হাত ইশার উন্মুক্ত কোমরের ভাঁজে চেপে বসে তাকে নিজের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এল।
বাইরে তখন ঝড়ের তান্ডব চলছে, বিজলির আলো অন্ধকারের বুক চিরে সেই ফাঁকা ঘরকে আলোকিত করছে। আর ঘরের ভেতরে দুই ব্যাকুল আত্মা এক চূড়ান্ত বাঁধনে বাঁধা পড়ছিল। ইশা নিজের সমস্ত জেদ, অহংকার আর ভয়কে বিসর্জন দিয়ে আরমানের বুকে নিজেকে সঁপে দিল। সে বুঝতে পারল, এই ভালোবাসা তার চিরদিনের নিরাপদ ঠিকানা।
"তুমি শুধু আমার, ইশা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তুমি আমারই থাকবে," আরমান ইশার কানের লতিতে নিজের তপ্ত শ্বাস ফেলে বলল।
ইশা আরমানের চুলে হাত রেখে গভীরভাবে জড়িয়ে ধরে বিবিড় করল, "আমি চিরকালের জন্য তোমার, আরমান।"
ঝড়ের রাত কেটে যাওয়ার পর নতুন ভোরের আলো ফুটল। শান্ত, সুনির্মল এক নতুন সকাল। সমস্ত জড়তা আর বাধা কাটিয়ে আরমান ও ইশা আজ এক সূত্রে গাঁথা। শান্ত আরমানের নীরব গভীরতা আর জেদি ইশার আত্মসমর্পণ—দুই বিষাদ ও ভালোবাসার নদী এসে মিশে গেল এক অসীম মোহনায়।
....