অফিস ঘরটার বিশাল ফ্রেঞ্চ উইন্ডো দিয়ে ধানমন্ডি লেকের শান্ত পানি আর সবুজ গাছপালা দেখা যায়, কিন্তু সেই ঘরের ভেতরের পরিবেশটা সব সময়ই একটা জ্বলন্ত চুল্লির মতো তপ্ত। সামিয়া রহমান তার হাতের ফাইলটার ওপর শেষবারের মতো চোখ বুলিয়ে নিল। পরনে একটা পরিপাটি নীল রঙের সুতির সালোয়ার-কামিজ, ওড়নাটা কাঁধে সুন্দর করে পিন করা। তার শান্ত, মিষ্টি ফর্সা মুখে এখন চরম বিরক্তির ছাপ। মাত্র এক মাস হলো সে 'অ্যালফা কর্পোরেশন'-এ জুনিয়র আর্কিটেক্ট হিসেবে যোগ দিয়েছে। কিন্তু এই এক মাস তার জীবনের সেরা নরক হয়ে উঠেছে শুধু একটা মানুষের জন্য—আরহাম চৌধুরী।
আরহাম চৌধুরী, কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর। বয়স ত্রিশের কাছাকাছি, সুঠাম দেহ, ধারালো চোয়াল আর চোখ দুটো যেন সদা জাগ্রত এক আগ্নেয়গিরি। কাজের ক্ষেত্রে সে এক ইঞ্চি ছাড় দেয় না, আর ব্যক্তিগত ব্যবহারে সে নিঃসংকোচে একটা অহংকারী দানব।
সামিয়া নিজের ভেতরের সবটুকু সাহস সঞ্চয় করে আরহামের কাঁচের তৈরি ক্যাবিনের দরজায় তিনবার টোকা দিল।
"কাম ইন," ওপাশ থেকে ভেসে এল গম্ভীর, ভারী আর রাশভারী একটা কণ্ঠস্বর।
সামিয়া ভেতরে ঢুকে ফাইলটা কাঠের বিশাল এক্সিকিউটিভ টেবিলের ওপর শক্ত হাতে রাখল। "স্যার, গুলশান প্রজেক্টের লেআউট ডিজাইনটা কমপ্লিট। আপনি একটু দেখে সাইন করে দিলে আমি কনস্ট্রাকশন টিমকে পাঠিয়ে দিতাম।"
আরহাম চশমাটা খুলে টেবিলের ওপর রাখল। তার গাঢ় বাদামী চোখ দুটো সামিয়ার দিকে স্থির হলো। কোনো তাড়াহুড়ো ছাড়া সে ফাইলটা খুলল, মাত্র কয়েক সেকেন্ড পাতা উল্টালো, তারপর ঠাস করে ফাইলটা বন্ধ করে টেবিলের ওপর ছুড়ে ফেলল।
"হোয়াট ইজ দিস সামিয়া?" আরহামের গলায় বরফশীতল ব্যঙ্গ।
সামিয়া বুক ভরে শ্বাস নিল, নিজের রাগ চেপে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে বলল, "এটা গুলশান প্রজেক্টের প্ল্যান স্যার। যেটা আপনি গতকাল সংশোধন করতে বলেছিলেন।"
আরহাম চেয়ারে হেলান দিয়ে বসল, তার দীর্ঘ আঙুলগুলো একটার ভেতরে অন্যটা ঢুকিয়ে দিল। সে সামিয়াকে আপাদমস্তক একবার মেপে নিয়ে বলল, "গতকাল আমি বলেছিলাম আধুনিক আর ক্লাসিকের একটা নিখুঁত মেলবন্ধন তৈরি করতে। আর তুমি যা বানিয়েছো, তা দিয়ে সর্বোচ্চ একটা সস্তা চায়ের দোকান বানানো সম্ভব, প্রিমিয়াম কমার্শিয়াল স্পেস নয়। তোমার কি মাথা কাজ করে না? নাকি আর্কিটেকচার ডিপার্টমেন্টের ডিগ্রিটা টাকা দিয়ে কিনেছ?"
কথাটা সামিয়ার গ গায়ে আগুনের মতো বিঁধল। নিজের আত্মসম্মানে আঘাত সইতে না পেরে সে গলা চড়িয়ে বলল, "আমার ডিগ্রি আমি কষ্ট করে অর্জন করেছি স্যার! আর এই ডিজাইনে বাংলাদেশের আবহাওয়া আর ক্লায়েন্টের রিকোয়ারমেন্ট দুটোই ১০০% বজায় রাখা হয়েছে। আপনি নিজে যদি ডিজাইন না বুঝে শুধু খামখেয়ালি করতে চান, তবে সেটা আমার দোষ নয়!"
আরহামের চোখ দুটো মুহূর্তের জন্য সংকীর্ণ হয়ে এল। তার চেহারায় এক হিংস্র সৌন্দর্য ফুটে উঠল। সে ধীরগতিতে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। তার দীর্ঘ শরীরটার ছায়া সামিয়ার ওপর পড়ল। আরহাম হেটে সামিয়ার একদম মুখোমুখি এসে দাঁড়াল। দুজনের মাঝে ব্যবধান এখন মাত্র কয়েক ইঞ্চির। আরহামের ব্যবহার করা দামী পুরুষালি পারফিউমের তীব্র সুবাস সামিয়ার নাসারন্ধ্রে এসে ধাক্কা দিল, যার মধ্যে এক অদ্ভুত মাদকতা আর হুমকি লুকিয়ে আছে।
"আমার সামনে দাঁড়িয়ে গলার আওয়াজ উঁচিয়ে কথা বলার সাহস তোমাকে কে দিল, সামিয়া?" আরহামের গলা হঠাৎ নিচু হয়ে এল, কিন্তু তার মধ্যে ছিল চরম বিষ। "আমি এই কোম্পানির বস। আমি যা বলবো, সেটাই শেষ কথা। তুমি আমার কর্মী, আমার হুকুমের গোলামের মতো কাজ করবে। যদি ভালো না লাগে, দরজা খোলা আছে। রিজাইন দিয়ে চলে যেতে পারো।"
"আমি চোর বা ফাঁকিবাজ নই যে পালিয়ে যাব!" সামিয়া সোজা আরহামের চোখের দিকে তাকিয়ে তর্জনী উঁচিয়ে বলল, "আর আপনি আমার মালিক নন, শুধু আমার কাজের বস! ক্ষমতার গরম অন্য কোথাও দেখাবেন, আমার সামনে নয়। আপনি একটা অভদ্র, অসভ্য আর অহংকারী মানুষ!"
আরহামের মুখে এক চিলতে কঠিন, বিপজ্জনক হাসি ফুটে উঠল। সে আরও একধাপ এগিয়ে এল, এতটাই কাছে যে সামিয়া তার বুকের ভেতরের দ্রুত স্পন্দন অনুভব করতে পারছিল। আরহাম তার ডান হাতটা বাড়িয়ে সামিয়ার থুতনিটা শক্ত করে চেপে ধরল। আঙুলের সেই স্পর্শে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল সামিয়ার শরীরে। আরহাম খুব নিচু স্বরে, তার ঠোঁট দুটো সামিয়ার কানের একদম কাছে এনে ফিসফিস করে বলল, "আমার অহংকার ভেঙে ফেলার সাধ্য এই শহরে কারো নেই, সামিয়া রহমান। আর আমার ওপর রাগ দেখাচ্ছ? মনে রেখো, আগুনে হাত দিলে হাত পুড়ে ছাই হয়ে যায়।"
সামিয়া ঝটকা মেরে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল। তার শরীর রাগে আর এক অজানা উত্তেজনায় কাঁপছিল। সে আরহামের থুতনির ছোঁয়া পাওয়া জায়গাটা হাত দিয়ে মুছে নিয়ে বলল, "আপনার আগুনকে আমি ভয় পাই না স্যার। সময় আসলে বোঝাবো আগুন কাকে বলে।"
সে আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে হনহন করে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। পেছনে রয়ে গেল আরহাম, যার ঠোঁটের কোণে তখনও জমে ছিল এক রহস্যময়, কুটিল বিষাক্ত হাসি। সে টেবিল থেকে গ্লাস তুলে এক ঢোক পানি খেল, কিন্তু তার চোখের আলোয় সামিয়ার প্রতি এক অদ্ভুত, তীব্র এক আকর্ষণ আর দখলের হিংস্রতা স্পষ্ট ফুটে উঠেছিল।
সেদিনের পর অফিসে দিনগুলো সামিয়ার জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠল। আরহাম তাকে নিয়ে যেন এক চরম খেলায় মেতেছিল। ছোটখাটো বিষয়ে রিভিশন দেওয়া, লেট নাইট ডিউটি করানো, আর সামান্য ভুল পেলেই পুরো ডিপার্টমেন্টের সামনে অপমান করা—আরহামের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সামিয়াও কম যায় না, সে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মুখে মুখে জবাব দিয়ে সামলে নিত। অফিসে তাদের এই ঝগড়া আর দ্বন্দ্ব নিয়ে গুঞ্জন উঠতে বাকি রইল না। সবাই জানত, আরহাম চৌধুরী আর সামিয়া রহমান যেন মুখোমুখি দুই শত্রু।
কিন্তু জীবন সবসময় সোজা পথে চলে না। নিয়তি তাদের জন্য এমন এক পটভূমি তৈরি করছিল, যা তাদের দুজনের কল্পনারও বাইরে ছিল।
ঘটনাটা ঘটল ঠিক এক সপ্তাহ পর। সামিয়ার বাবা, একজন সৎ ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন। সামিয়াদের পরিবারে আর কেউ নেই, শুধু সে আর তার মা। বাবার সিভিয়ার হার্ট অ্যাটাকের পর ডাক্তার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, অবিলম্বে এনজিওপ্লাস্টি করাতে হবে, নতুবা যেকোনো সময় বড় অঘটন ঘটতে পারে। হাসপাতালে জরুরি টাকার প্রয়োজন, কিন্তু সামিয়ার জমা রাখা সামান্য সঞ্চয় আর বাবার পেন্শনের টাকায় সেই বিশাল খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছিল না।
সামিয়া যখন দিশেহারা হয়ে হাসপাতালের করিডোরে বসে কাঁদছিল, তখন তার মা এসে পাশে বসলেন। মায়ের চোখেও পানি।
"আম্মু, তুমি কেঁদো না। আমি অফিসের থেকে লোন নেওয়ার ব্যবস্থা করছি," সামিয়া চোখ মুছতে মুছতে বলল।
তার মা এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "সামিয়া, তোকে একটা কথা বলা দরকার। তোর আব্বার এক পুরোনো বন্ধু আছেন, যিনি আজ হাসপাতালে এসেছিলেন। উনি তোর আব্বার অবস্থা দেখে আর আমাদের এই সংকটে একটা প্রস্তাব দিয়েছেন..."
সামিয়া কপালে ভাঁজ ফেলে বলল, "কীসের প্রস্তাব আম্মু?"
"তোর আব্বার বন্ধু হলেন শফীক চৌধুরী। মস্ত বড় ব্যবসায়ী। তিনি তোদের ছোটবেলার কথা মনে করে একটা প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি চান তাঁর ছেলের সাথে তোর বিয়ে হোক। আর এই অপারেশনের সব খরচ, তোর বাবার চিকিৎসার সব দায়িত্ব উনি নিজের কাঁধে নেবেন... কোনো শর্ত ছাড়াই।"
সামিয়া চমকে উঠল। "বিয়ে? এই মুহূর্তে? আর আমি তাকে চিনি না, জানি না... এভাবে হঠাৎ?"
"তোর আব্বার অবস্থা দেখ সামিয়া," মা আকুতি করে উঠলেন। "ডাক্তার বলেছেন তোর আব্বার মানসিক শান্তি খুব দরকার। উনি শফীক ভাইয়ের প্রস্তাব শুনে খুব খুশি হয়েছেন। শফীক ভাইয়ের ছেলে নাকি খুব প্রতিষ্ঠিত, বড় ব্যবসায়ী। তোর আব্বা চান তুই এই বিয়েতে রাজি হ। তুই রাজি না হলে তোর আব্বা হয়তো বেঁচে থাকার আশাই ছেড়ে দেবেন।"
সামিয়া এক চরম ধর্মসংকটে পড়ে গেল। একদিকে নিজের আত্মসম্মান, নিজের ভবিষ্যৎ স্বাধীন জীবন; অন্যদিকে জন্মদাতা বাবার জীবন মরণ সমস্যা। বাবার কথা ভেবে তার ভেতরের সব প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে গেল। সে চোখের পানি মুছে মাথা নিচু করে বলল, "আব্বা যদি এতে ভালো থাকেন... তবে আমি রাজি আম্মু।"
সামিয়া জানত না, এই এক 'হ্যাঁ' তার জীবনকে কী চরম ঘূর্ণাবর্তের দিকে ঠেলে দিতে চলেছে।
বিয়েটা হলো একেবারেই সাদামাটা আর তড়িঘড়ি করে। হাসপাতালে বাবার বেডের পাশেই কাজী ডেকে আকদ করিয়ে দেওয়া হলো। সামিয়া পরেছিল তার মায়ের পুরোনো একটা লাল জামদানি শাড়ি, মুখে কোনো মেকআপ ছিল না, শুধু চোখের নিচে জমে থাকা বিষাদের কালি।
পুরো আয়োজনে সামিয়া শুধু তার শ্বশুর শফীক চৌধুরী আর শাশুড়িকে দেখেছিল। শফীক সাহেব অত্যন্ত দয়ালু একজন মানুষ, যিনি সামিয়ার মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করেছিলেন। কিন্তু বর? বর নাকি ভীষণ ব্যস্ত, এক আর্জেন্ট মিটিংয়ের জন্য শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছিল। কাজের কাজী এসে সই নেওয়ার সময় সামিয়া কোনোমতে কাবিননামায় নাম সই করে দিয়েছিল। বরের নামটা দেখারও মানসিক শক্তি বা ইচ্ছা তার ছিল না। তার মাথায় শুধু ঘুরছিল বাবার দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার প্রার্থনা।
আকদ শেষ হতেই সামিয়াকে শফীক চৌধুরী তাদের ধানমন্ডির বিশাল রাজপ্রাসাদসম বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, বরের সাথেই সে
যেন সোজা নতুন বাড়িতে যায়, বর মিটিং শেষ করে সেখানে চলে আসবে।
রাত তখন প্রায় এগারোটা।
সামিয়া বসে আছে এক বিশাল, বিলাসবহুল বেডরুমে। ঘরের মাঝখানে একটা বিশাল কিং সাইজ বেড, যা গাঢ় লাল গোলাপের পাপড়ি দিয়ে সাজানো হয়েছে। ঘরের এক কোণে টিমটিম করে জ্বলছে নাইট ল্যাম্পের উষ্ণ আলো। পুরো ঘরে অ্যারোমা ক্যান্ডেলের মিষ্টি, মাদকতাময় সুবাস। সামিয়া খাটের এক কোণে দু হাত শক্ত করে ধরে চুপচাপ বসে আছে। তার বুক দুরুদুরু কাঁপছে। অচেনা এক পুরুষের সাথে আজ তার বাসর রাত। সে ভাবছিল, কে এই লোক? কেমন হবে তার নতুন জীবন?
হঠাৎই ঘরের ভারী কাঠের দরজার লকটা খুলে যাওয়ার শব্দ হলো।
সামিয়ার হৃদস্পন্দন এক মুহূর্তের জন্য যেন থেমে গেল। সে মাথা নিচু করে শাড়ির আঁচলটা শক্ত করে চেপে ধরল।
ভারী পদাঙ্ক ঘরে প্রবেশ করল। পদশব্দটা ধীরে ধীরে এগিয়ে এল খাটের দিকে। এক জোড়া দামী কালো চামড়ার জুতো সামিয়ার নজরে এল। এরপর লোকটা কোটের বোতাম খুলতে খুলতে অত্যন্ত পরিচিত এক গভীর, নিচু স্বরে বলে উঠল, "সো, ফাইনালি ইউ আর হেয়ার, সামিয়া রহমান... অর শুড আই সে, মিসেস চৌধুরী?"
কথাটা শুনে সামিয়ার মাথায় যেন ঠাঁটাস খর পড়ে ভেঙে পড়ল! এই গলা? এই বাঘের মতো গর্জন করা নিচু কণ্ঠস্বর?
সামিয়া মুহূর্তের মধ্যে মাথা তুলে তাকাল। তার চোখ দুটো ভয়ে, বিস্ময়ে আর চরম ধাক্কায় ছানাবড়া হয়ে গেল।
সামনে দাঁড়িয়ে আছে আরহাম চৌধুরী!
তার গায়ের দামী থ্রি-পিস স্যুটটা সামান্য ঢিলেঢালা, টাইটা কিছুটা আলগা করা। তার চোখ দুটো লালচে, আর ঠোঁটের কোণে ফুটে আছে সেই পরিচিত, হিংস্র আর বিজয়ের হাসি।
"আ... আরহাম স্যার?!" সামিয়ার গলা দিয়ে কোনোমতে শব্দটা বের হলো। সে বিদ্যুতবেগে খাট থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পিছিয়ে গেল। "আপনি... আপনি এখানে কী করছেন? এটা কী ধরনের ফাজিলমো?"
আরহাম একধাপ এগিয়ে এল। তার চোখে তখন এক তাচ্ছিল্য ভরা আলো। সে কোটটা খুলে ছুঁড়ে ফেলল সোফার ওপর, তারপর নিজের হাতের দামী ঘড়িটা খুলতে খুলতে বলল, "ফাজিলমো? না সামিয়া, এটাকে বলে ভাগ্য। বা বলা ভালো, আমার পাতা ফাঁদ। তুমি কি সত্যি ভেবেছিলে তোমার বাবা হঠাৎ হাসপাতালে ভর্তি হলো আর আমার বাবা হঠাৎ তোমার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেল—এটা একটা কাকতালীয় ঘটনা?"
সামিয়ার মাথায় যেন রক্ত চড়ে গেল। "আপনি... আপনি কী বলতে চাইছেন? আপনি এই বিয়েটা জেনেশুনে করেছেন?"
"এক্স্যাক্টলি," আরহাম এবার সামিয়ার একদম মুখোমুখি এসে দাঁড়াল। তার দীর্ঘ শরীরটার উত্তাপ সামিয়া অনুভব করতে পারছিল। আরহাম সামিয়ার বিষ্মিত মুখের দিকে তাকিয়ে ঠাণ্ডা গলায় বলল, "তুমি অফিসে আমাকে অহংকারী বলেছিলে, তাই না? বলেছিলে আমার আগুনকে তুমি ভয় পাও না? আমি তোমাকে বলেছিলাম, আমার সাথে পাঙ্গা নেওয়ার ফল ভালো হয় না। তোমার বাবার হাসপাতালের সব খরচ, এই বিয়ে... সবটাই আমার প্ল্যান ছিল। আমি চেয়েছিলাম তোমাকে এমন জায়গায় আনতে, যেখান থেকে তুমি কখনো পালাতে পারবে না।"
সামিয়ার সমস্ত শরীর রাগে আর ঘৃণায় রি রি করে উঠল। সে হাত তুলে আরহামের বুকে এক সজোর ধাক্কা মারল, কিন্তু আরহামের চওড়া, শক্ত বুকের সামনে সে ধাক্কা কোনো প্রভাবই ফেলল না।
"আপনি একটা শয়তান! একটা জঘন্য নীল নকশাকারী!" সামিয়া চিৎকার করে উঠল, চোখের কোণ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল ক্ষোভের পানি। "বাবার অসুস্থতাকে কাজে লাগিয়ে আপনি আমাকে এভাবে বিক্রি হতে বাধ্য করলেন? আপনি ভাবছেন আমি আপনার এই নোংরা খেলায় হার মেনে নেবো? কখনোই না! আমি এখনই এই ঘর থেকে চলে যাব, কাল সকালেই ডিভোর্স দেব আপনাকে!"
সামিয়া দরজার দিকে পা বাড়াতেই আরহাম এক নিমেষে তার দীর্ঘ হাত বাড়িয়ে সামিয়ার কোমর জড়িয়ে ধরল। এক হেঁচকা টানে সামিয়াকে নিজের শক্ত, উত্তপ্ত বুকের সাথে চেপে পিষে ধরল।
"উফফফ! ছাড়ুন আমাকে! হাত সরাুন আপনার নোংরা হাত!" সামিয়া ছটফট করে উঠল, আরহামের বুকে হাত দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগল।
কিন্তু আরহামের শক্তি অনেক বেশি। সে এক হাতে সামিয়ার পাতলা কোমরটা শক্ত বাঁধনে পেঁচিয়ে রাখল, আর অন্য হাত দিয়ে সামিয়ার থুতনি চেপে ধরে মুখটা ওপরের দিকে তুলে ধরল। দুজনের নিঃশ্বাস এখন একে অপরের মুখে গিয়ে আছড়ে পড়ছে। আরহামের চোখে তখন কোনো রাগ ছিল না, সেখানে ছিল এক কামুক, হিংস্র আর অনিয়ন্ত্রণযোগ্য পাওয়ারের লোভ।
"ডিভোর্স?" আরহাম সামিয়ার ঠোঁটের একদম কাছাকাছি নিজের মুখ এনে ফিসফিস করে বলল, তার উত্তপ্ত নিঃশ্বাস সামিয়ার ঠোঁট ভিজিয়ে দিচ্ছিল। "তুমি এত বোকা সামিয়া? তুমি কি সত্যিই ভাবছো যে শিকারকে ফাঁদে ফেলার পর ব্যাধ তাকে ছেড়ে দেয়? তুমি এখন আমার আইনগত স্ত্রী। তোমার ওপর আমার পূর্ণ অধিকার আছে। এই ঘর, এই রাত আর তোমার এই শরীর—সবকিছুর মালিক এখন আমি।"
"না! কখনো না! আমি আপনাকে ঘৃণা করি, ঘৃণা করি!" সামিয়া কেঁদে ফেলল, তার বুকের ভেতরটা এক অজানা আশঙ্কায় ধড়ফড় করছিল। আরহামের এত কাছাকাছি থাকা, তার পুরুষালী গায়ের গন্ধ আর তার শক্ত হাতের ছোঁয়া সামিয়ার সারা শরীরে এক অনাস্বাদিত, নিষিদ্ধ অনুভূতির জন্ম দিচ্ছিল, যা তাকে আরও বেশি ভীত করে তুলছিল।
"ঘৃণা করো?" আরহাম বাঁকা হাসল। তার চোখের দৃষ্টি সামিয়ার ভিজতে থাকা ঠোঁট দুটোর ওপর আটকে গেল। সে ধীরে ধীরে তার বুড়ো আঙুলটা সামিয়ার নিচের ঠোঁটে ঘষতে লাগল। সেই স্পর্শে সামিয়ার সারা শরীরে একটা বিদ্যুতের তীব্র শিহরণ খেলে গেল, তার চোখের পাতা দুটো আপনাআপনি বন্ধ হয়ে আসছিল, কিন্তু সে নিজেকে সামলানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছিল।
"তোমার এই ঘৃণাটাই আমার সবচেয়ে প্রিয়, সামিয়া," আরহামের গলা আরও নিচু, আরও ভারী হয়ে এল। "অফিসে তুমি আমার ওপর চিৎকার করতে পারো, কিন্তু এই ঘরে... এই খাটে, তুমি শুধু আমার। আর তোমার এই অহংকার, এই প্রতিরোধ—আমি আজ রাতেই ফুটো করে দেব।"
কথাটা শেষ হতেই আরহাম কোনো সুযোগ না দিয়ে সামিয়ার লাল, নরম ঠোঁট দুটো নিজের কঠোর, উত্তপ্ত ঠোঁটের মধ্যে টেনে নিল।
সামিয়া চোখ দুটো বড় বড় করে ফেলল। এক চরম ধাক্কায় তার পুরো বিশ্ব যেন থমকে গেল। আরহামের এই চুম্বন কোনো দয়া বা কোমলতায় ভরা ছিল না, এ ছিল এক চরম দখলদারি, এক আদিম অধিকারের বহিঃপ্রকাশ। সে সামিয়ার ঠোঁট দুটোকে নিংড়ে নিতে লাগল। সামিয়া প্রথমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, আরহামের চওড়া পিঠে কিল-ঘুষি মারছিল, কিন্তু আরহাম তার হাত দুটোকে টেনে নিয়ে নিজের ঘাড়ের পেছনে পেঁচিয়ে দিল, আর তার কোমরটাকে নিজের দিকে আরও শক্ত করে চেপে ধরল।
আরহামের ঠোঁটের তীব্র আক্রমণ, তার হাতের শক্ত বাঁধন আর তার শরীরের উত্তাপ সামিয়ার সব প্রতিরোধকে ধীরে ধীরে গলিয়ে দিতে লাগল। সামিয়ার মাথার ভেতরের চিন্তাগুলো যেন ধোঁয়া হয়ে উড়ে গেল। এক অজানা, তীব্র উত্তেজনার স্রোত সামিয়ার তলপেটে এসে ধাক্কা মারল। সে চাইছিল রাজত্ব বাঁচাতে, কিন্তু তার শরীর যেন বিশ্বাসঘাতকতা করছিল। তার হাত দুটো আরহামের চুল শক্ত করে চেপে ধরল—যা বাধার বদলে যেন আরও বেশি চাওয়ার সংকেত দিচ্ছিল।
আরহাম সেটা বুঝতে পেরে এক গভীর গর্জন করে উঠল। সে সামিয়াকে কোলপাঁজা করে তুলে নিল। সামিয়া হালকা একটা চিৎকার দিয়ে তার গলা জড়িয়ে ধরল। আরহাম তাকে নিয়ে সোজা বিছানার মাঝখানে শুইয়ে দিল।
গোলাপের পাপড়িগুলো তাদের দুজনের শরীরের নিচে পিষে গিয়ে এক তীব্র সুবাস ছড়িয়ে দিল। আরহাম সামিয়ার ওপরে উঠে এল, তার বিশাল শরীর দিয়ে সামিয়াকে পুরোপুরি ঢেকে দিল।
সামিয়া হাঁপাচ্ছিল, তার লাল হয়ে যাওয়া ঠোঁট দুটো সামান্য ফাঁক হয়ে ছিল, চোখে জল আর কামনার এক অদ্ভুত মিশ্রণ। সে আরহামের বুকের ওপর হাত রেখে দুর্বল গলায় বলল, "প্লিজ... আরহাম... না..."
আরহাম সামিয়ার ভিজা চোখের কোণে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল। তারপর ধীরে ধীরে তার ঠোঁট নেমে এল সামিয়ার গাল, থুতনি হয়ে তার উন্মুক্ত, ফর্সা গলায়। আরহাম সেখানে নিজের দাঁতের মৃদু চাপ দিল, যা সামিয়ার মুখ থেকে এক মৃদু কোঁকানি বের করে আনল।
"আজ রাতে কোনো 'না' চলবে না, সামিয়া," আরহাম তার ঘাড়ের কাছে মুখ গুঁজে ফিসফিস করে বলল, তার হাত ধীরে ধীরে সামিয়ার শাড়ির আঁচলটা সরিয়ে দিতে লাগল। "অফিসে আমি তোমার বস ছিলাম, কিন্তু আজ রাতে... আমি তোমার স্বামী। আর তুমি আমার রাজকুমারী, যাকে আমি আজ রাতে পুরোপুরি জয় করবো।"
সামিয়া আর কোনো কথা বলতে পারল না। আরহামের স্পর্শে তার পুরো শরীর এক কামনার আগুনে জ্বলছিল। অন্ধকার ঘরে, গোলাপের সুবাস আর দুটো তীব্র ভালোবাসার ও ঘৃণার আতঙ্কে ভরা হৃদয়ের স্পন্দনে বাসর রাতের প্রথম প্রহর শুরু হলো—যেখানে এক অহংকারী বস আর তার বিদ্রোহী স্ত্রীর যুদ্ধ এক চরম, গভীর অনুভূতির রূপ নিতে চলেছিল।
গোলাপের সুবাস আর তীব্র অ্যারোমা ক্যান্ডেলের মিষ্টি গন্ধে ভরা ঘরটায় তখন যেন এক অচেনা, দমবন্ধ করা উষ্ণতা। আরহামের চওড়া বুক সামিয়ার ওপর চেপে বসে আছে, যার প্রতিটি মাংসপেশীর উত্তাপ সামিয়া তার পুরো শরীরে স্পষ্ট টের পাচ্ছে। আরহামের ঠোঁট সামিয়ার গলার খাঁজ থেকে নেমে শাড়ির নিচে উন্মুক্ত হওয়া তার ফর্সা কাঁধে আছড়ে পড়ছিল। প্রতিটি স্পর্শে সামিয়ার রক্তে এক অদ্ভুত, অনাস্বাদিত বিদুৎ খেলে যাচ্ছিল।
"ছাড়ুন... প্লিজ, আরহাম... আমাকে ছেড়ে দিন..." সামিয়া অস্ফুট স্বরে কেঁদে ওঠার চেষ্টা করল, কিন্তু তার কন্ঠস্বর এখন চরম দুর্বল, কাঁপছিল থরথর করে।
আরহাম থামল না। সে সামিয়ার দুটো হাতকে মাথার ওপর নিয়ে গিয়ে নিজের এক হাতের শক্ত মুঠোয় আটকে ফেলল। তারপর নিজের দাহ্য, ক্ষিপ্র দৃষ্টি সামিয়ার লাল হয়ে থাকা ঠোঁট আর কামনায় আধবোজা চোখের ওপর ফেলল। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক বিজয়ের হিংস্র হাসি।
"ছেড়ে দেব?" আরহামের গলা এক চরম পুরুষালী কামনায় আরও ভারী, আরও গমগমে শোনালো। "তুমি আমার বউ, সামিয়া। তোমাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য আমি এই খেলা খেলিনি। তুমি অফিসে আমাকে অপমান করার মূল্য দিচ্ছ, আর এই মূল্য তোমাকে প্রতি মুহূর্তে দিতে হবে।"
কথাটা শেষ করেই আরহাম আর সময় দিল না। সে আবার সামিয়ার ঠোঁট দুটোকে নিজের কামাতুর ঠোঁটে বন্দি করে নিল। এবার তার চুম্বন আরও বেশি গভীর, আরও বেশি বেপরোয়া। সে সামিয়ার মুখ থেকে সবটুকু প্রতিবাদ শুষে নিতে লাগল। সামিয়া নিজের সবটুকু শক্তি দিয়ে নিজেকে ছাড়ানোর জন্য শরীরটা মোচড়াতে লাগল, কিন্তু আরহামের এই দীর্ঘ, সুঠাম দেহের ভার আর পেশীবহুল হাতের বাঁধন থেকে বের হওয়া অসম্ভব ছিল।
আরহামের মুক্ত হাতটি ধীরে ধীরে সামিয়ার পেটের ওপর শাড়ির ভাঁজে নেমে এল। সে আলতো করে সামিয়ার নাভির কাছে নিজের আঙুল বুলাতেই সামিয়া শিহরিত হয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। শরীরটা তার আর কথা শুনছিল না। মস্তিষ্কের সমস্ত যুক্তি, অফিসে আরহামের ওপর জমা হওয়া সব ঘৃণা—সব যেন এই মুহূর্তে এই পুরুষটির উত্তপ্ত স্পর্শের আগুনে ছাই হয়ে যাচ্ছিল। সামিয়ার তলপেটে এক তীব্র আলোড়ন তৈরি হতে লাগল, এক নিষিদ্ধ কামনার অনল তাকে গ্রাস করতে শুরু করল।
আরহাম সামিয়ার হাতের বাঁধন ছেড়ে দিয়ে তার ওড়না আর শাড়ির আঁচলটা এক ঝটকায় খুলে ঘরের মেঝেতে ফেলে দিল। সামিয়ার পরিপাটি ব্লাউজের ভেতরের উন্মুক্ত, সুগঠিত শরীরটা এখন আরহামের লালসাভরা চোখের সামনে। আরহামের চোখের দৃষ্টি আরও হিস্র হয়ে উঠল।
"তুমি কি জানো, সামিয়া... অফিসে যখন তুমি আমার দিকে চোখ তুলে ঝগড়া করতে, তখন আমার কতটা ইচ্ছা করত তোমাকে ঠিক এই পজিশনে এনে তোমার এই বিদ্রোহী মনটাকে ভেঙে চুরমার করতে?" আরহাম সামিয়ার কানের লতিতে দাঁত দিয়ে মৃদু কামড় বসিয়ে ফিসফিস করে বলল।
"আপনি... আপনি একটা জঘন্য পশুতুল্য মানুষ..." সামিয়া হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, তার বুক ওঠানামা করছিল দ্রুত গতিতে।
"হ্যাঁ, আমি পশু। আর আজ রাতে এই পশুটা তার শিকারকে এক ফোঁটাও ছাড়বে না," আরহাম উত্তর দিল।
সে ঝুকে এসে সামিয়ার ফর্সা বুক আর বুকের খাঁজে তার উত্তপ্ত ঠোঁট আর মুখ গুঁজে দিল। তার খসখসে দাড়ি সামিয়ার কোমল ত্বকে ঘষা লেগে এক তীব্র, যন্ত্রণাদায়ক কিন্তু অদ্ভুত সুখের শিহরণ তৈরি করছিল। সামিয়া আর ধরে রাখতে পারল না নিজেকে। তার চোখ দুটো বন্ধ হয়ে গেল, মুখ থেকে এক মৃদু, মাতাল কোঁকানি বের হয়ে এল। তার হাত দুটো আপনাআপনি গিয়ে আঁকড়ে ধরল আরহামের পিঠের চামড়া। নখ দিয়ে সে আরহামের পিঠে গভীর দাগ বসিয়ে দিল।
সামিয়ার এই সাড়া পেয়ে আরহামের ভেতরের আদিম বাঘটা যেন আরও গর্জে উঠল। সে বুঝল, সামিয়ার মন যতই ঘৃণা প্রকাশ করুক না কেন, তার শরীর এখন আরহামের কাছে সমর্পণ করে দিয়েছে। আরহাম সামিয়ার শাড়ির কুঁচি আর সায়ার ফিতে খুলে ফেলে তাকে সম্পূর্ণ অনাবৃত করে দিল। ঘরের হালকা নাইট ল্যাম্পের আলোয় সামিয়ার সেই অনবদ্য, অনাবৃত রূপ দেখে আরহামের চোখের আলো আরও গাঢ় হয়ে এল।
আরহাম নিজের শার্টের বোতামগুলো এক টানে ছিঁড়ে ফেলে নিজেকে নগ্ন করে ফেলল। তারপর সে সামিয়ার ওপর সম্পূর্ণভাবে নেমে এল। দুই নগ্ন শরীরের চামড়া যখন প্রথমবার এক সাথে মিশল, পুরো ঘরে যেন একটা আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ল। সামিয়া এক চরম অনুভূতিতে আরহামের গলা জড়িয়ে ধরল।
আরহামের ঠোঁট এবার নেমে গেল সামিয়ার পেটের নিচের অংশে, নাভির চারপাশে চাটতে চাটতে সে আরও নিচে নেমে যেতে লাগল। সামিয়া কামনার চরম শিখরে পৌঁছে আরহামের চুল শক্ত করে চেপে ধরে চেঁচিয়ে উঠল, "আরহাম... ওহহহ... আরহাম... আমি সহ্য করতে পারছি না... প্লিজ!"
আরহাম কোনো কথা বলল না। সে সামিয়ার দুই ঊরু সরিয়ে নিজের শক্ত, উত্তপ্ত পুরুষালী সত্ত্বাকে সামিয়ার শরীরে গভীরভাবে প্রবেশ করিয়ে দিল।
সামিয়ার মুখ দিয়ে এক তীব্র চিৎকারের শব্দ বের হতে চাইল, কিন্তু আরহাম তখনই নিজের ঠোঁট দিয়ে সামিয়ার ঠোঁট চেপে ধরে সেই চিৎকারকে নিজের পেটের ভেতর গিলে নিল। প্রথম স্পর্শের এক ক্ষণস্থায়ী তীব্র যন্ত্রণা, আর তার পরপরই শুরু হলো এক অনন্ত, উত্তাল সামুদ্রিক ঝড়।
আরহামের প্রতিটি ধাক্কা ছিল অত্যন্ত শক্ত, দ্রুত আর নিয়ন্ত্রণহীন। সে সামিয়াকে এক ফোঁটাও দয়া করল না। সামিয়ার দুটো পা সে নিজের কোমরে পেঁচিয়ে নিল। পুরো খাটটা তাদের শরীরের এই আদিম নৃত্যে শব্দ করে উঠছিল। গোলাপের পাপড়িগুলো তাদের শরীরের চাবুকে পিষে গিয়ে রসে পরিণত হচ্ছিল। সামিয়া এক অভূতপূর্ব অনুভূতির সাগরে ভাসতে লাগল—যেখানে তীব্র ঘৃণা আর চরম শারীরিক আকর্ষণ মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। সে আরহামের পিঠে, কাঁধে নিজের নখ ফুটিয়ে দিতে লাগল, আর আরহাম তার প্রতিটি গোঙানির জবাবে আরও বেশি গভীরে, আরও বেশি উগ্রভাবে প্রবেশ করতে লাগল।
পর পর কয়েক ঘণ্টা ধরে সেই ঘরে চলল এক রুদ্র রূপের ঝোড়ো খেলা। আরহাম সামিয়াকে বিভিন্ন পজিশনে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিজের কামনার চরম তৃপ্তি মিটিয়ে নিতে লাগল। কখনো সামিয়াকে নিচে রেখে, কখনো তাকে সম্পূর্ণভাবে নিজের অধীনে এনে সে বুঝিয়ে দিল যে সে-ই এই শরীরের একমাত্র শাসক। সামিয়া বারবার কামনার চরম সীমায় পৌঁছে কেঁপে উঠছিল, আর আরহাম তার শেষ ফোঁটা রসটুকু নিংড়ে না নেওয়া পর্যন্ত থামেনি।
অবশেষে, ভোরের আলো যখন হালকা হয়ে ফুটে ওঠার মুখে, তখন আরহাম এক শেষ, চ চূড়ান্ত আর গভীর ধাক্কা দিয়ে সামিয়ার শরীরের গভীরে নিজের উষ্ণতা ঢেলে দিল। দুজনেই হাঁপাতে হাঁপাতে একে অপরের বুকের ওপর ঢলে পড়ল। পুরো ঘর তখন ঘাম, গোলাপ আর বাসর রাতের সেই আদিম ক্ষরণের গন্ধে ভারী হয়ে আছে।
আরহাম সামিয়ার ওপর থেকে সরে পাশে শুয়ে পড়ল। তার বুক তখনও দ্রুত ওঠানামা করছে। সে সামিয়ার দিকে তাকাল। সামিয়া ক্লান্তিতে, শারীরিক অবসন্নতায় চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে, তার ভেজা চুলগুলো মুখময় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। তার ফর্সা শরীরে আরহামের কামড় আর নখের অসংখ্য লাল দাগ ফুটে উঠেছে।
আরহাম এক হাত বাড়িয়ে সামিয়ার মুখের ওপর থেকে চুলগুলো সরিয়ে দিল। সে খুব ধীর গলায়, ঠান্ডা কিন্তু স্পষ্ট স্বরে বলল, "মনে রেখো সামিয়া, এটা তো সবে শুরু। তুমি আমার অফিসে কাজ করবে আমার হুকুম মেনে, আর রাতে এই ঘরে থাকবে আমার এই শরীরের দাসী হয়ে। তোমার বাবাকে বাঁচানোর দাম তোমাকে এইভাবেই চুকোতে হবে।"
কথাটা বলেই আরহাম খাট থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বাথরুমের দিকে হেঁটে চলে গেল।
সামিয়া চোখ খুলল। তার চোখের কোণ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল এক ফোঁটা গরম জল। তার পুরো শরীর বিষিয়ে উঠছিল যন্ত্রণায়, কিন্তু সেই যন্ত্রণার চেয়েও বড় ছিল তার আত্মার অপমান। সে বুঝতে পারল, আরহাম চৌধুরী তাকে শুধু শারীরিকভাবে জয় করেনি, তাকে এক বিষাক্ত মোহের চাদরে বন্দি করে ফেলেছে। সে এই লোকটাকে চরম ঘৃণা করে, কিন্তু কাল রাতের সেই জঘন্য, উগ্র আনন্দটা অস্বীকার করার ক্ষমতাও তার শরীরের ছিল না।
সামিয়া নিজের নগ্ন শরীরটা চাদর দিয়ে ঢেকে খাটের কোণে গুটিশুটি মেরে শুয়ে পড়ল। তার মনের ভেতর এক নতুন প্রতিশোধের আগুন জ্বলতে শুরু করল। সে মনে মনে পণ করল, আরহাম তাকে শারীরিক দাসী বানাতে চায় বানাক, কিন্তু সে কখনোই আরহামের সামনে নিজের মনকে হারতে দেবে না। এই যুদ্ধ সবে শুরু হলো।
ভোরের আলোটা ধীরগতিতে ধানমন্ডি লেকের ওপর ছড়িয়ে পড়ছে। বাথরুম থেকে শাওয়ারের একটানা শব্দ ভেসে আসছে। সামিয়া খাটের ওপর একরাশ ক্লান্তি আর অপমানের বোঝা নিয়ে নিঃশব্দে শুয়ে রইল। শরীরের প্রতিটা রন্ধ্রে রন্ধ্রে তীব্র ব্যথা। গত রাতের সেই ঝোড়ো তাণ্ডবের দাগ তার সুগঠিত ফর্সা শরীরে স্পষ্ট—ঘাড়, বুক আর নাভির আশপাশে আরহামের উগ্র কামড়ের লালচে ছোপ।
সামিয়া বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করল। কাল রাতের সেই মাতাল করা গোলাপ আর পুরুষালি পারফিউমের গন্ধটা এখনও ঘরের বাতাসে ভাসছে। সে গায়ের সাদা চাদরটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে অত্যন্ত কষ্টে উঠে বসল। তলপেটের ব্যথায় তার মুখটা কুঁকড়ে গেল, কিন্তু সে দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে নিল।
ঠিক তখনই বাথরুমের দরজা খুলে গেল।
আরহাম বেরিয়ে এল। পরনে কেবল কোমরে জড়ানো একটা তোয়ালে, চুল থেকে টপটপ করে পানি ঝরছে তার চওড়া, পেশীবহুল বুকে। তার পিঠে সামিয়ার নখের আঁচড়ের দাগগুলো এখনও লাল হয়ে জ্বলজ্বল করছে। আরহাম তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে সামিয়ার দিকে এক পলক তাকাল। তার চোখে কোনো অনুশোচনা বা দয়া ছিল না, ছিল এক ধরণের রাজকীয় তৃপ্তি আর গভীর আত্মঅহংকার।
"এখনও শুয়ে আছো?" আরহামের ভারী, ঠান্ডা গলায় আদেশের সুর। "মনে রেখো, অফিসে আজ সকাল দশটায় 'প্রজেক্ট স্কাইলাইন'-এর ক্লায়েন্ট প্রেজেন্টেশন আছে। আমি চাই না আমার কোনো কর্মচারী লেট করুক। বিশেষ করে তুমি।"
সামিয়া চাদরটা বুকের কাছে আরও শক্ত করে চেপে ধরল। তার চোখ দুটো রাগে লাল হয়ে উঠল। সে আরহামের দিকে সোজা তাকিয়ে বিষাক্ত স্বরে বলল, "আপনি একটা পিশাচ! কাল রাতে যা করেছেন, তার পরেও আপনার লজ্জা করে না আমার সামনে দাঁড়িয়ে বসের মতো হুকুম দিতে?"
আরহাম তোয়ালেটা একপাশে ছুড়ে ফেলে ড্রেনসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। ড্রেস পরা শুরু করতে করতে আয়নায় সামিয়ার প্রতিবিম্বের দিকে তাকাল। তার ঠোঁটের কোণে সেই পরিচিত, বিপজ্জনক বাঁকা হাসি।
"লজ্জা?" আরহাম ধীর পায়ে ঘুর দাঁড়াল, তার পরনে এখন কালো শার্ট আর প্যান্ট। সে সামিয়ার দিকে এগিয়ে এল। খাটের ওপর ঝুঁকে পড়ে সামিয়ার থুতনিটা আবার নিজের শক্ত আঙুলে চেপে ধরল। "কাল রাতে যা হয়েছে, তা কোনো অপরাধ নয় সামিয়া। ওটা ছিল স্বামীর অধিকার আর স্ত্রীর সমর্পণ। তুমিও তো কম উপভোগ করোনি, নাকি? তোমার সেই কোঁকানি আর আমার পিঠে তোমার নখের দাগ কিন্তু অন্য কথা বলছে।"
"চুপ করুন!" সামিয়া এক ঝটকায় মুখটা সরিয়ে নিল। তার গা রি রি করে উঠল নিজের ওপরই। আরহামের এই নিষ্ঠুর সত্যটা তার আত্মসম্মানে চাবুকের মতো মারল। "ওটা সমর্পণ ছিল না, ওটা ছিল আপনার ক্ষমতার অপব্যবহার! আর আমার শরীর সাড়া দিয়েছিল কারণ আমি মানুষ, কিন্তু আমার আত্মা আপনাকে ঘৃণা করে, আরহাম চৌধুরী! সারাজীবন করবে!"
আরহামের কপালে এক মুহূর্তের জন্য রাগের ভাঁজ পড়ল, কিন্তু পরক্ষণেই সে নিজেকে সামলে নিয়ে এক অদ্ভুত আলোয় সামিয়াকে দেখল। "তোমার এই জেদটাই আমাকে উন্মাদ করে, সামিয়া। দেখা যাক, তোমার এই ঘৃণা কতদিন টেকে।" সে ঘড়িটা হাতে পরে নিয়ে দরজার দিকে হাঁটা দিল। "আধ ঘণ্টার মধ্যে তৈরি হয়ে নিচে নামবে। ড্রাইবার তোমাকে অফিসে নিয়ে যাবে। আর শোনো, অফিসের লোক যেন বিন্দুমাত্র টের না পায় আমাদের এই নতুন সম্পর্কের কথা। আমার পার্সোনাল লাইফ আমি পাবলিক করতে পছন্দ করি না।"
কথাটা বলেই আরহাম ঘর থেকে বেরিয়ে শক্ত করে দরজাটা বন্ধ করে দিল।
সামিয়া খাটে বসে রুদ্ধশ্বাসে কাঁদতে লাগল। কিন্তু এই কান্না দুর্বলতার নয়, এ এক কঠিন প্রতিশোধের সূচনা। সে নিজেকে বলল—না, সে ভেঙে পড়বে না। আরহাম চৌধুরী তাকে শারীরিকভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছে, কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে সে আরহামের চোখের সামনে এক পাহাড় হয়ে দাঁড়াবে।
সকাল সাড়ে দশটা। অ্যালফা কর্পোরেশনের বিশাল কনফারেন্স রুম।
বড় প্রজেক্টরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সামিয়া। তার পরনে একটা কালো ও ধূসর রঙের সুতির শাড়ি, চুলে পরিপাটি খোঁপা, চোখে চশমা। কাল রাতের যন্ত্রণার কোনো ছাপ সে তার চেহারায় প্রকাশ পেতে দেয়নি। তার সামনে বসে আছে ফরেন ক্লায়েন্টের প্রতিনিধিরা এবং টেবিলের প্রধান আসনে বসে আছে ম্যানেজিং ডিরেক্টর আরহাম চৌধুরী।
সামিয়া আত্মবিশ্বাসের সাথে তার ডিজাইন প্রেজেন্ট করা শুরু করল। প্রতিটি স্লাইড, প্রতিটি আর্কিটেকচারাল লেআউট সে এত নিখুঁতভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে ক্লায়েন্ট প্রতিনিধিরা ঘন ঘন মাথা নাড়ছেন।
আরহাম চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে ছিল। তার এক হাতে কলম, চোখ দুটো সামিয়ার দিকে স্থির। কাল রাতে যে মেয়েটি তার নিচে চাদর আঁকড়ে ধরে ব্যথায় আর কামনায় ছটফট করছিল, আজ সেই মেয়েটিই এত দৃঢ়তা আর পেশাদারিত্বের সাথে পুরো কনফারেন্স রুম মাত করে রাখছে—এই বৈপরীত্য আরহামের ভেতর এক চরম তোলপাড় সৃষ্টি করছিল। সামিয়ার এই ব্যক্তিত্ব, তার কাজের প্রতি একনিষ্ঠতা আর তার এই অদম্য রূপ আরহামের পুরুষালি অহংকারকে নতুন করে উস্কে দিচ্ছিল।
প্রেজেন্টেশন শেষ হতেই ক্লায়েন্ট উঠে দাঁড়িয়ে তালি বাজিয়ে উঠল। "এক্সিলেন্ট ওয়ার্ক, মিস সামিয়া! দিস ইজ উইদাউট আ ডাউট দ্য বেস্ট ল্যান্ডস্কেপ প্ল্যান উই হ্যাভ সিন দিস ইয়ার!"
সামিয়া মুচকি হেসে বলল, "থ্যাংক ইউ স্যার।"
ক্লায়েন্ট চলে যাওয়ার পর কনফারেন্স রুমে শুধু আরহাম আর সামিয়া রয়ে গেল। সামিয়া তার ল্যাপটপ গুটিয়ে নেওয়ার সময় অনুভব করল কেউ একজন তার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে। আরহামের সেই দামী পারফিউমের চেনা গন্ধ।
"নট ব্যাড, সামিয়া," আরহাম নিচু স্বরে বলল। "প্রেজেন্টেশন ভালো ছিল। তবে মনে রেখো, অহংকার করার মতো কিছু হয়নি।"
সামিয়া ল্যাপটপের ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে ঘুরে দাঁড়াল। সোজা আরহামের মুখোমুখি হয়ে চোখে চোখ রেখে বলল, "আমি অহংকার করছি না স্যার। আমি শুধু নিজের কাজটা সততার সাথে করছি। যেটা আপনি কখনো বোঝেন না। আপনি ভাবেন টাকা আর ক্ষমতা দিয়ে সবকিছু জয় করা যায়—শরীর, মন, কাজ... কিন্তু সত্যিটা হলো, আপনি একটা দেউলিয়া মানুষ।"
আরহামের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। সামিয়ার এত বড় সাহস যে সে খোদ অফিসে তার মুখের ওপর তাকে দেউলিয়া বলছে! আরহাম ক্ষিপ্র গতিতে সামিয়ার কব্জি চেপে ধরল, টান মেরে তাকে কনফারেন্স রুমের দেয়ালের সাথে চেপে ধরল।
"তুমি তোমার সীমা অতিক্রম করছো, সামিয়া!" আরহামের চোখে আগুনের ফুলকি।
"সীমা আপনি আগেই পার করেছেন স্যার," সামিয়া একচুলও পিছালো না, তার চোখে চোখ রেখে বলল। "এটা অফিস। এখানে হাত তুললে বা জোর করলে আমি এইচআর-এর কাছে কমপ্লেন করতে এক সেকেন্ডও ভাববো না। তখন আপনার অহংকারী ইমেজের কী হবে?"
আরহাম সামিয়ার একদম কাছে মুখ এনে ফিসফিস করল, "এইচআর? তুমি ভুলে যাচ্ছো সামিয়া, এই পুরো কোম্পানির মালিক আমি। আর তুমি আমার ঘরের... আমার বিছানার সম্পদ।"
"বিছানার সম্পদ?" সামিয়া এক জঘন্য হাসি হাসল। "তাহলে রাতে শুধু বিছানাতেই সেই খবরদারী দেখাবেন। দিনের আলোয় আমি এই কোম্পানির একজন আর্কিটেক্ট, আপনার কেনা দাসী নই।"
আরহাম সামিয়ার এই অনমনীয় রূপ দেখে এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। অন্যান্য মেয়েরা তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে, তার কৃপা পাওয়ার জন্য ব্যাকুল থাকে। আর এই মেয়েটি তার বুকের ওপর পা দিয়ে তার চোখে চোখ রেখে কথা বলছে! এই জেদ, এই আগুনটাই তো আরহামকে পাগল করে তুলছে।
আরহাম হঠাৎ সামিয়ার কব্জির বাঁধন আলগা করল, কিন্তু হাত ছাড়ল না। সে নিজের বুড়ো আঙুল দিয়ে সামিয়ার ঠোঁটের কোণে আলতো করে ছোঁয়াল। সামিয়া চমকে উঠে পিছাতে চাইল, কিন্তু দেয়ালের সাথে আটকে গেল।
"খুব গরম দেখাচ্ছো, তাই না?" আরহামের গলায় এক চরম আশঙ্কাজনক কামুকতা ফুটে উঠল। "আজ রাতে বাসায় চলো। তোমার এই গরম কীভাবে বরফ বানাতে হয়, তা আমার খুব ভালো করে জানা আছে।"
সামিয়া কিছু বলার আগেই আরহাম হাত ছেড়ে দিয়ে ধীর পায়ে কনফারেন্স রুম থেকে বেরিয়ে গেল। সামিয়া দেয়াল ধরে হাঁপাতে লাগল। তার হৃদস্পন্দন দ্রুত চলছিল। সে জানত, আজ রাতে তার জন্য আরও বড় ঝড় অপেক্ষা করছে।
রাত সাড়ে দশটা।
সামিয়া ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল। শাড়ি পাল্টে সে একটা সাধারণ সুতির থ্রি-পিস পরেছে। বাইরের বাতাস বেশ ঠান্ডা। সে ভাবছিল তার বাবার কথা। আজ সকালে বাবা হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, শফীক চৌধুরী নিজে গিয়ে সব তদারকি করেছেন। বাবা তাকে ফোনে কত প্রশংসা করলেন এই চৌধুরী পরিবারের, কত ধন্য মনে করলেন নিজেকে! অথচ বাবা যদি জানতেন, তার মেয়েকে বাঁচানোর নামে কোন জাহান্নামে ঠেলে দেওয়া হয়েছে!
ঘরের দরজা খোলার শব্দে সামিয়ার ভাবনায় ছেদ পড়ল। সে পেছনে ফিরে তাকাল না, জানত কে এসেছে।
আরহাম ঘরে ঢুকে কোট আর টাই খুলে ফেলল। শার্টের ওপরের দুটো বোতাম খুলে সে সোজা বারান্দায় সামিয়ার পেছনে এসে দাঁড়াল। সামিয়া সরতে চাইল, কিন্তু আরহাম পেছন থেকে তার দু হাত দিয়ে সামিয়ার কোমর পেঁ
চিয়ে ধরল। নিজের বুকটা সামিয়ার পিঠের সাথে শক্ত করে চেপে ধরে সামিয়ার ঘাড়ে নিজের মুখ গুঁজে দিল।
আজ সারাটা দিন অফিসে তুমি আমাকে খুব ডিস্টার্ব করেছো, সামিয়া," আরহামের ওম ভরা শ্বাস সামিয়ার ঘাড়ে আছড়ে পড়ল।
"আমাকে ছাড়ুন আরহাম," সামিয়া নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে বলল, কিন্তু তার গলার সুরেই প্রকাশ পাচ্ছিল সে কতটা দুর্বল হয়ে পড়ছে। আরহামের এই শারীরিক উপস্থিতি তার স্নায়ুগুলোকে অবশ করে দেয়।
"ছুটি নেই," আরহাম সামিয়ার কামিজের ওড়নাটা টান মেরে মেঝেতে ফেলে দিল। তার ঠোঁট সামিয়ার কাঁধ আর ঘাড়ের সংযোগস্থলে গভীর স্পর্শ দিতে লাগল। সে সামিয়ার পেটের ওপর হাত বুলাতে বুলাতে আরও ওপরে উঠাল। "অফিসে খুব বড় বড় কথা বলছিলে না? বলছো আমি দেউলিয়া? আজ রাতে আমি তোমাকে দেখাবো আমার ক্ষমতা কতখানি।"
"আপনি... আপনি শুধু গায়ের জোর দেখাতে পারেন..." সামিয়া হাঁপাতে লাগল। আরহামের হাত এখন তার কামিজের ভেতরে ঢুকে পড়েছে, তার অনাবৃত পিঠে আর পেটে আরহামের গরম আঙুলের ছোঁয়া এক মাতাল করার মতো অনুভূতি তৈরি করছে।
আরহাম এক টানে সামিয়াকে ঘুরিয়ে নিজের মুখোমুখি করল। তারপর তাকে কোলপাঁজা করে তুলে নিয়ে ঘরের লাইটটা নিভিয়ে দিল। অন্ধকারে শুধু টিমটিম করে জ্বলছিল নাইট ল্যাম্প।
বিছানায় সামিয়াকে শুইয়ে দিয়ে আরহাম তার ওপর নেমে এল। এবার কোনো রাগ বা অপমানের তাণ্ডব ছিল না, এবার ছিল এক তীব্র, নেশাক্ত দখলদারিত্ব। আরহাম সামিয়ার ঠোঁট দুটোকে আবার নিজের অধীন করল। সামিয়া এবার আর বেশি সময় লড়াই করতে পারল না। আরহামের এই শরীরী ছোঁয়া, তার সুবাস আর তার তীব্র কামুক আক্রমণ সামিয়ার ভেতরের সব প্রতিরোধকে এক নিমেষে ছাই করে দিল।
সামিয়া নিজের অজান্তেই আরহামের পিঠ জড়িয়ে ধরে তার ঠোঁটে সায় দিল। আরহাম এক তৃপ্তির শব্দ করে সামিয়ার কাপড়গুলো একে একে সরিয়ে ফেলতে লাগল। অন্ধকারের বুক চিরে আবার শুরু হলো তাদের সেই আদিম, উগ্র আর নিষিদ্ধ ভালোবাসার খেলা।
আরহামের প্রতিটি সঞ্চালন ছিল সামিয়ার শরীরকে সম্পূর্ণ নিজের করে নেওয়ার এক অনমনীয় চেষ্টা। আর সামিয়া, যে মুখে ঘৃণা প্রকাশ করত, সেও কামনার সেই তীব্র আবর্তে তলিয়ে গিয়ে আরহামের সাথে তালে তাল মিলিয়ে সাড়া দিতে লাগল। ঘরের মেঝেরা আবার সাক্ষী হলো এক বিদ্রোহী নারী আর এক অহংকারী পুরুষের মধ্যরাতের সেই আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের।
কিন্তু খেলাটা কি শুধুই কামনার? নাকি এই বিষাক্ত দংশনের গভীরে অন্য কোনো আলো লুকিয়ে আছে, যা তারা দুজনেই অস্বীকার করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে?
রাতের সেই উত্তাল ঝড় শেষে ভোর হওয়ার আগেই বৃষ্টি নেমেছে ঢাকায়। জানালার কাঁচ চুইয়ে পানির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে। ঘরের ভেতর হালকা শীতল পরশ, কিন্তু বিছানার ওপর বাতাস তখনও উষ্ণ।
সামিয়া চাদরটা বুকের ওপর টেনে নিয়ে একপাশে ফিরে শুয়েছিল। তার ফর্সা কাঁধে আর পিঠে আরহামের নখ আর দাঁতের দাগগুলো তখনও লাল হয়ে জ্বলছে। কাল রাতে আরহাম তাকে এক মুহূর্তের জন্যও রেহাই দেয়নি। তার প্রতিটা ছোঁয়া, প্রতিটা গভীর আক্রমণ যেন সামিয়ার অস্তিত্বকে নিঃশেষ করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, সামিয়া আর নিজেকে ধরে রাখতে পারছে না। মুখে সে যতই ঘৃণার কথা বলুক, আরহামের এই উগ্র, কামুক আর তীব্র আহ্বানে তার শরীর আর মন দুটোই বারবার সাড়া দিচ্ছে। এই সত্যিটা সামিয়াকে ভেতরে ভেতরে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে।
পাশে তাকাল সামিয়া। আরহাম এক হাতে সামিয়ার কোমর জড়িয়ে ধরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তার ধারালো, বিষাক্ত চেহারায় এখন এক অদ্ভুত নিষ্পাপ শান্ত ভাব। এই চেহারার পেছনের দানবটাকে ভাবাই যায় না।
সামিয়া ধীরগতিতে আরহামের শক্ত হাতটা নিজের কোমর থেকে সরাতে চাইল, কিন্তু সাম সামান্য নাড়াচাড়া করতেই আরহাম ঘুমন্ত অবস্থাতেই বাঁধন আরও শক্ত করে ফেলল। সে সামিয়াকে নিজের বুকের সাথে একদম পিষে ধরে সামিয়ার ঘাড়ে মুখ গুঁজে অস্ফুট স্বরে বলল, "কোথায় যাওয়ার চেষ্টা করছো? চুপচাপ শুয়ে থাকো..."
সামিয়া স্তব্ধ হয়ে গেল। এই মানুষটার ঘুমন্ত অবয়ব আর তার এমন খামখেয়ালি অধিকারপ্রবণতা যেন এক নতুন ধাঁধা। সে কি সত্যিই তাকে শুধু দাসী মনে করে? নাকি এর পেছনে অন্য কিছু আছে?
সকালের দিকে আরহাম অফিসে চলে যাওয়ার পর সামিয়া ঘরে একা ছিল। শাশুড়ি মায়ের অনুরোধে তাকে আজ অফিসে যেতে দেওয়া হয়নি, বলা হয়েছে অন্তত প্রথম কয়েকটা দিন একটু বিশ্রাম নিতে।
সামিয়া পুরো বিশাল বাড়িটা ঘুরে দেখছিল। তিনতলা এই রাজপ্রাসাদসম বাড়ির দোতলার শেষ মাথায় আরহামের একটা পার্সোনাল স্টাডি রুম আছে। দরজার লকটা খোলাই ছিল। সামিয়া কৌতূহলবশত ভেতরে ঢুকল। সারি সারি বই, বিশাল এক কাঠের টেবিল, প্রজেক্টর আর নানা ধরণের আর্কিটেকচারাল মডেল।
টেবিলের ওপর রাখা একটা ডায়েরি আর কিছু পুরোনো ফাইলের দিকে সামিয়ার নজর গেল। কৌতূহল চেপে রাখতে না পেরে সে পাতা উল্টাতে লাগল। ফাইলগুলোর মধ্যে কয়েকটা পুরোনো খবরের কাগজের কাটিং আর পুলিশের রিপোর্ট।
কাটিংগুলোতে চোখ বোলাতেই সামিয়ার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের ঘটনা। 'অ্যালফা কর্পোরেশন'-এর তৎকালীন চেয়ারম্যান শফীক চৌধুরী এবং তাঁর পরিবার এক ভয়াবহ প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন। আরহামের বড় ভাই, যিনি তখন কোম্পানির দায়িত্বে ছিলেন, নিজের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু আর বিজনেস পার্টনারের বিশ্বাসঘাতকতায় আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। পুরো পরিবার এক লহমায় ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছিল। আরহাম তখন মাত্র উনিশ বা বিশ বছরের এক তরুন। সেই বয়সে সে এক হাতে পুরো পরিবারকে সামলেছে, ভাইয়ের করুণ মৃত্যু দেখেছে এবং বিষাক্ত কর্পোরেট জগতে টিকে থাকার জন্য নিজেকে এক নিষ্ঠুর, পাষাণ আর অহংকারী মানবে রূপান্তরিত করেছে।
ডায়েরির শেষ পাতায় আরহামের নিজের হাতের লেখায় একটা লাইন লেখা—"কাউকে বিশ্বাস করবে না। ভালোবাসা আর দয়া হলো মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। দখল করো, নয়তো ধ্বংস হয়ে যাও।"
সামিয়ার হাত থেকে ডায়েরিটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল। তার বুকের ভেতর এক অচেনা তোলপাড় শুরু হলো। সে যে আরহামকে শুধু এক অহংকারী, পশু আর নিষ্ঠুর মানুষ বলে চিনে এসেছে, সেই আরহামের পেছনের এই অন্ধকার আর ব্যথাতুর ইতিহাস সে জানত না। ভাইয়ের করুণ মৃত্যু আর ধোঁকা খাওয়ার চরম আঘাতটাই কি আরহামকে এমন এক কঠোর, সন্দেহপ্রবণ আর হিংস্র মানুষ বানিয়ে দিয়েছে?
"আমার পার্সোনাল জিনিসে হাত দেওয়ার সাহস তোমাকে কে দিল?"
সামিয়া আঁতকে উঠে পেছনে ফিরল। দরজায় দাঁড়িয়ে আছে আরহাম! তার পরনে অফিসের থ্রি-পিস স্যুট, চোখে চরম ক্ষোভ আর অবিশ্বাস।
সে হনহন করে এগিয়ে এসে সামিয়ার হাত থেকে ডায়েরিটা এক ঝটকায় কেড়ে নিল। তার চোখের তারা দুটো আগ্নেয়গিরির মতো জ্বলছিল।
"তুমি আমার স্টাডি রুমে কী করছো? কে তোমাকে এখানে ঢুকতে দিয়েছে?" আরহাম গর্জনে ফেটে পড়ল। সে সামিয়ার দু হাত শক্ত করে ধরে ঝাকুনি দিল। "আমার পার্সোনাল ফাইল ঘেঁটার চেষ্টা করবে না সামিয়া! আমি একদম পছন্দ করি না!"
সামিয়া ভয় পেলেও নিজেকে সামলে নিল। সে সোজা আরহামের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, "আমি ইচ্ছা করে কিছু খুঁজতে আসিনি। দরজা খোলা ছিল তাই... কিন্তু আমি যা দেখলাম, তার পর বুঝতে পারছি আপনি কেন এমন।"
"কী বুঝতে পারছো তুমি?" আরহাম ব্যঙ্গাত্মক হেসে বলল, তার গলার আওয়াজ নিচু হয়ে এল। "তুমি মনে করছো এই দুটো কাগজ পড়ে আমার মনের খবর জেনে ফেলেছো? তুমি কিছুই জানো না!"
"আমি জানি আপনি আঘাত পেয়েছেন," সামিয়া কোমল কিন্তু দৃঢ় স্বরে বলল, তার হাত দুটো আরহামের বুকের ওপর রাখল। "আপনার ভাইয়ের ঘটনাটা... আপনি সেই অতীতকে বুকে আঁকড়ে ধরে সবাইকে শত্রু মনে করেন। আপনি নিজেকে কঠোর প্রমাণের জন্য সবার ওপর অত্যাচার করেন, আমার ওপর অত্যাচার করছেন!"
আরহামের চেহারা মুহূর্তে ফ্যাকাশে হয়ে গেল, তারপরই সেখানে নেমে এল চরম হিংস্রতা। তার দুর্বল জায়গায় সামিয়া আঘাত করেছে, আর এই সত্যটা মেনে নেওয়া তার অহংকারে চাবুকের মতো লাগল।
"চুপ করো!" আরহাম সামিয়াকে এক ধাক্কায় দেয়ালের সাথে ঠেলে দিল। "আমার অতীত নিয়ে কথা বলার অধিকার তোমাকে কেউ দেয়নি! তুমি আমার কেনা বউ, আমার শয্যাসঙ্গিনী—তার বেশি কিছু নও! নিজের সীমার মধ্যে থাকো সামিয়া!"
"আমি আপনার কেনা বউ নই!" সামিয়া এবার কেঁদে ফেলল, কিন্তু তার গলায় ছিল আগুনের তেজ। "আপনি আপনার ওই বিষাক্ত অহংকার দিয়ে আমার শরীর জয় করতে পেরেছেন আরহাম চৌধুরী, কিন্তু আমার মন কখনো পাবেন না! আপনি আসলে একজন ভীরু মানুষ, যে কাউকে ভালোবাসতে ভয় পায়!"
'ভালোবাসা' শব্দটা শুনে আরহামের ভেতরের আদিম দানবটা যেন একেবারে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। সে এক ঝটকায় সামিয়াকে কোলে তুলে নিল। সামিয়া হাত-পা ছু
ড়ে প্রতিবাদ করতে লাগল, "ছাড়ুন আমাকে! আরহাম, কী করছেন? ছাড়ুন!"
আরহাম কোনো কথা বলল না। সে সামিয়াকে নিয়ে সোজা বেডরুমে গিয়ে ঠাস করে দরজা বন্ধ করে দিল। লক করে দিয়ে সে সামিয়াকে সোজা খাটেই আছড়ে ফেলল।
"ভালোবাসা?" আরহাম নিজের কোট আর টাই এক টানে খুলে মেঝের দিকে ছুড়ে মারল। তার চোখে তখন কোনো যুক্তি ছিল না, ছিল এক উন্মাদ কামনার আগুন। "তুমি আমাকে ভালোবাসা শেখাতে এসেছো? আমি তোমাকে দেখাবো আমার ক্ষমতা কাকে বলে! তোমার ওই মুখ দিয়ে আজ রাতে আমি শুধু আর্তনাদ বের করবো!"
সামিয়া বিছানা থেকে ওঠার চেষ্টা করতেই আরহাম তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। সামিয়ার পরনের কামিজটা এক হ্যাঁচকায় ছিঁড়ে ফেলল সে। সামিয়া বাধা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করল, কিন্তু আরহাম আজ রাতে একেবারেই অপ্রতিরোধ্য।
আরহাম সামিয়ার ঠোঁটে, ঘাড়ে, বুকে হিংস্রভাবে নিজের ঠোঁট আর দাঁত বসাতে লাগল। সে সামিয়ার সবটুকু প্রতিরোধ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে চায়। সামিয়া প্রথমে ধস্তাধস্তি করলেও, আরহামের সেই উত্তপ্ত, উগ্র আর কামুক স্পর্শ যখন তার অনাবৃত ত্বকে ছড়িয়ে পড়ল, সামিয়ার ভেতরের সমস্ত শক্তি যেন উবে গেল।
আরহামের ভালোবাসা কিংবা রাগ—দুটোই চরম। আরহামের এই উগ্র আক্রমণের গভীরে সামিয়া আজ এক তীব্র যন্ত্রণা আর হাহাকার দেখতে পেল। আরহাম তাকে নির্যাতন করছে না, সে যেন নিজের ভেতরের জমানো কষ্ট আর হিংস্রতাকে সামিয়ার শরীরের ভেতর বিলীন করে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করছে।
সামিয়ার চোখের কোণ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল, কিন্তু সে আর আরহামকে ঠেলে দিল না। সে হাত বাড়িয়ে আরহামের চওড়া পিঠ জড়িয়ে ধরল। নিজের শরীরটাকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে সঁপে দিল সেই অগ্নিকুণ্ডে।
আরহাম এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। সামিয়ার এই শান্ত, সমর্পণ ভরা আলিঙ্গন সে আশা করেনি। সামিয়া তাকে তাড়িয়ে দিচ্ছে না, বরং নিজের বুকে টেনে নিচ্ছে! এই অনুভূতি আরহামের মনে এক চরম তোলপাড় তৈরি করল। সে আরও উগ্র, আরও গভীর আবেগে সামিয়ার শরীরে মিশে গেল।
দুপুরের সেই আলো-আঁধারি ঘরে শুরু হলো এক নতুন তাণ্ডব। সেখানে কোনো শব্দ ছিল না, ছিল শুধু দুটো তীব্র বাসনায় ভরা হৃদয়ের ধড়ফড়ানি আর নগ্ন শরীরের ঘর্ষণে তৈরি হওয়া মাতাল করা শব্দ। আরহাম সামিয়ার প্রতিটি কোণে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করল, আর সামিয়াও সেই নীল দংশন নিজের সমস্ত সত্ত্বা দিয়ে গ্রহণ করে নিল।
কিন্তু এই শরীরী খেলায় কে কাকে জয় করছে? আরহাম কি সামিয়াকে দাসী বানাচ্ছে, নাকি সামিয়ার এই নিঃশব্দ সমর্পণ ধীরে ধীরে আরহামের সেই পাথর হৃদয় গলিয়ে দিচ্ছে?
দুপুরের সেই উগ্র ও অনিয়ন্ত্রিত ঝড়ের পর ঘরের ভেতর এক শ্মশান নীরবতা নেমে এসেছে। ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে সামিয়ার ছিঁড়ে যাওয়া কামিজ আর আরহামের স্যুট। খাটের ওপর ধপধপে সাদা চাদরটা কামনার লালসে ভেজা আর দুমড়ে-মুচড়ে একাকার।
সামিয়া খাটের একপাশে অনাবৃত শরীরে হাঁটু দুটো বুকের কাছে টেনে এনে নিঃশব্দে বসে আছে। তার চোখে জল নেই, কিন্তু বুকে এক অচেনা, তীব্র হাহাকার। আরহাম পাশে শুয়ে এক হাত কপালে দিয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তার চওড়া বুকটা তখনও ধীরে ধীরে ওঠানামা করছে। সামিয়ার সেই শান্ত সমর্পণ তার কঠোর হৃদয়ে এমন এক ধাক্কা দিয়েছে, যা তার জীবনের সমস্ত হিসেব-নিকাশ ওলটপালট করে দিচ্ছে। সে সামিয়াকে জয় করতে চেয়েছিল, তাকে দাসী বানিয়ে নিজের অহংকার বজায় রাখতে চেয়েছিল, কিন্তু প্রতিটা ভালোবাসার প্রহরে সে নিজেই যেন সামিয়ার কামনার মায়াজালে বন্দি হয়ে পড়েছে।
আরহাম আস্তে করে উঠে বসল। সে সামিয়ার দিকে হাত বাড়াল, সামিয়ার অনাবৃত পিঠে নিজের উত্তপ্ত হাতটা রাখতেই সামিয়া শিউরে উঠল, কিন্তু নিজেকে সরিয়ে নিল না।
"সামিয়া..." আরহামের গলা হঠাৎ করেই ভীষণ নিচু আর অদ্ভুত রকম কাঁপছিল। তার চিরচেনা সেই অহংকারী তাচ্ছিল্য যেন কোথায় হারিয়ে গেছে।
সামিয়া ধীরগতিতে মুখ তুলে তাকাল। তার লাল হয়ে থাকা চোখ আর ফোলা ঠোঁট দুটো আরহামের বুকের ভেতর তীব্র এক অনুশোচনার ঝড় তুলল। সে কিছু বলল না, শুধু অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
আরহাম এক টান মেরে সামিয়াকে নিজের কাছে টেনে আনল। এবার কোনো উগ্রতা ছিল না, কোনো আঘাত ছিল না—ছিল এক আকুলতা। সে সামিয়ার অনাবৃত শরীরটাকে নিজের চওড়া বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল, যেন সামিয়া হুট করে কোথাও হারিয়ে যাবে। সে সামিয়ার ভেজা চুলে নিজের মুখ গুঁজে দিল।
"তুমি আমাকে কেন আটকালে না সামিয়া?" আরহাম ফিসফিস করে বলল, তার কন্ঠে এক অনাস্বাদিত কাতরতা। "কেন তুমি আমাকে ঠেলে দিলে না? তুমি আমাকে ঘৃণা করো না?"
সামিয়া আরহামের বুকের ধুকপুকানি শুনতে পাচ্ছিল। সে খুব ধীর গলায়, ঠান্ডা স্বরে বলল, "আমি আপনাকে ঘৃণা করি আরহাম। কিন্তু কাল রাতে আর আজ দুপুরে যা হয়েছে... তা আপনার শারীরিক অত্যাচার ছিল না। ওটা ছিল আপনার ভেতরে জমে থাকা একটা ভয়। আপনি নিজেকে কঠোর প্রমাণের জন্য আমাকে ক্ষতবশত করছেন, কিন্তু আসলে আপনি নিজেই রক্তাক্ত।"
আরহামের শরীরটা মুহূর্তে শক্ত হয়ে গেল। সামিয়া আবার তার ভেতরের একদম গোপন, রক্তাক্ত ক্ষতটায় হাত দিয়েছে। কিন্তু এবার আরহাম রাগ করল না। সে সামিয়ার মুখটা তুলে নিজের দুই হাতের তালুতে নিল। সে সামিয়ার ঠোঁটে অত্যন্ত আলতো করে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল—যা কোনো দখলদারি ছিল না, ছিল এক নিঃশব্দ প্রার্থনার মতো কোমল।
"তুমি আমার মাথা খারাপ করে দিচ্ছ সামিয়া," আরহাম গাঢ় স্বরে বলল, তার চোখ দুটো সামিয়ার চোখের সাগরে ডুবে যাচ্ছিল। "আমি কাউকে আমার ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে দিইনি। কিন্তু তুমি... তুমি প্রতি মুহূর্তে আমার সেই নিয়ম ভাঙছো।"
সামিয়া আরহামের হাত দুটো নিজের গাল থেকে সরিয়ে দিল। সে চাদরটা গায়ে ভালো করে জড়িয়ে খাট থেকে নামল। মেঝেতে পড়ে থাকা নিজের ছিঁড়ে যাওয়া পোশাকটার দিকে তাকিয়ে সে এক তিক্ত হাসি হাসল।
"আমি আপনার নিয়ম ভাঙছি না আরহাম স্যার। আপনি নিজেই নিজের তৈরি কাঁচের দেয়ালে আটকা পড়েছেন," সামিয়া সোজা আরহামের দিকে তাকিয়ে বলল। "আপনি যদি ভাবেন আমাকে বিছানায় এনে বা আমার শরীরকে পিষে ফেলে আপনি আমার আত্মসম্মান কেড়ে নেবেন, তবে ভুল ভাবছেন। আপনার প্রতি আমার কোনো দয়া নেই। আর আপনার এই ক্ষতের দায়িত্বও আমি নেব না, যতক্ষণ না আপনি আমাকে একজন মানুষ হিসেবে সম্মান করতে শিখছেন।"
কথাটা বলে সামিয়া আলমারি থেকে অন্য একটা শাড়ি নিয়ে ধীর পায়ে বাথরুমে ঢুকে গেল। আরহাম খাটের ওপর বসে রইল স্তব্ধ হয়ে। সে বুঝতে পারছিল, সামিয়াকে সে শরীরে পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু সামিয়ার মনটা আজও তার থেকে হাজার মাইল দূরে এক দুর্ভেদ্য দুর্গের মতো দাঁড়িয়ে আছে।
পরের দুদিন অফিসে আরহাম ও সামিয়ার মধ্যে এক বরফশীতল দূরত্ব বজায় রইল। অফিসের কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পেল না যে তাদের এমডি আর জুনিয়র আর্কিটেক্টের মধ্যে রাতের অন্ধকারে কী উত্তাল খেলা চলে। অফিসে আরহাম আগের মতোই কঠোর, কিন্তু এখন তার চোখে সামিয়াকে দেখলে এক অন্যরকম ছটফটানি ফুটে ওঠে। সে সামিয়াকে ছোট করার সুযোগ খোঁজে, কিন্তু সামিয়ার প্রতিটি কাজের নিখুঁত পেশাদারিত্ব আর তার শান্ত, অনমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি আরহামকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়।
ঘটনাটা ঘটল তৃতীয় দিন সন্ধ্যায়।
অফিসের বিশাল বিল্ডিংয়ে তখন কর্মী সংখ্যা কমে এসেছে। রাত প্রায় আটটা। সামিয়া তার ডেস্কে বসে 'স্কাইলাইন প্রজেক্ট'-এর থ্রিডি মডেল ফিনিশিং দিচ্ছিল। আরহাম নিজের ক্যাবিন থেকে বের হয়ে সামিয়ার ডেস্কের সামনে এসে দাঁড়াল।
সামিয়া মাথা তুলে তাকাল না। সে ল্যাপটপে ক্লিক করতে করতে বলল, "কোনো নতুন ফাইল রিভিশন করতে হবে স্যার?"
আরহাম একহাতে পকেটে হাত দিয়ে সামিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ল। তার পুরুষালি পারফিউমের তীব্র সুবাস সামিয়ার মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাল। আরহাম নিচু স্বরে বলল, "কাজ বন্ধ করো। ১০ মিনিটের মধ্যে নিচে গাড়িতে আসবে। আজ রাতে আমরা ধানমন্ডির কটেজে যাচ্ছি।"
সামিয়া চশমাটা খুলে ল্যাপটপের পাশে রাখল। সোজা আরহামের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, "আমি আসব না স্যার। আজ আমার অনেক কাজ বাকি আছে। আমি লেট নাইট ডিউটি করব।"
"এটা আমার অনুরোধ নয় সামিয়া, অর্ডার," আরহামের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। "অফিসের বস হিসেবে নয়, তোমার স্বামী হিসেবে বলছি। ১০ মিনিট।"
"আর স্বামী হিসেবে বললেই আমাকে আপনার পিছু পিছু দৌড়াতে হবে?" সামিয়া চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। "আপনার যখন ইচ্ছা হবে আপনি আমাকে বিছানায় টানবেন, আর যখন ইচ্ছা হবে হুকুম দেবেন? আমি আপনার ড্রয়িং রুমের সাজানো পুতুল নই আরহাম चौधरी!"
আরহামের ধৈর্য চ্যুতি ঘটল। সে এক টানে সামিয়ার কব্জি শক্ত করে চেপে ধরল। ফাঁকা করিডোরে সামিয়াকে টেনে নিয়ে নিজের প্রাইভেট লিফটের দিকে হাঁটতে লাগল।
"হাত ছাড়ুন আরহাম! কেউ দেখে ফেলবে!" সামিয়া নিচু স্বরে চিৎকার করে উঠল, নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করল।
"দেখুক!" আরহাম গর্জে উঠল। সে সামিয়াকে লিফটের ভেতর ধাক্কা দিয়ে ঢুকিয়ে নিজে ভেতরে ঢুকে দরজা লক করে দিল।
লিফটের সংকীর্ণ জায়গায় আরহাম সামিয়াকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরল। তার চোখ দুটো আগ্নেয়গিরির মতো জ্বলছিল। সে সামিয়ার দুই বাহু শক্ত করে ধরে বলল, "তুমি প্রতিদিন আমার ধৈর্য পরীক্ষা করছো সামিয়া! তুমি কী চাও বল তো? টাকা? গয়না? নাকি আমার এই ক্ষমতা? কী চায় তোমার ওই অহংকারী মন?"
সামিয়া আরহামের চোখের দিকে সোজা তাকিয়ে রইল। তার চোখ দিয়ে দু ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল, কিন্তু তার গলার আওয়াজ কাঁপল না। "আমি শুধু সম্মান চাই আরহাম চৌধুরী! যা আপনি কোনোদিন কাউকে দিতে শেখেননি। আপনি আমাকে কিনে নিয়েছেন ভেবে প্রতিদিন আমার শরীরটাকে ব্যবহার করছেন, আর আমার আত্মসম্মানকে পিষে মারছেন। আমি এই জীবন চাই না!"
"তোমার শরীর ব্যবহার করছি?" আরহামের বুকে যেন কেউ বিষাক্ত তীর বিধিয়ে দিল। সে উন্মাদের মতো সামিয়ার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট চেপে ধরল।
এবার সেই চুম্বনে কোনো রাগ ছিল না, ছিল এক তীব্র যন্ত্রণা আর দাবানল। আরহাম সামিয়ার ঠোঁট দুটোকে নিংড়ে নিতে লাগল। লিফটের ভেতরের সংকীর্ণ জায়গায় আরহামের হাত সামিয়ার শাড়ির আঁচল সরিয়ে তার কোমরের ভাঁজে আর পিঠে হিংস্রভাবে চেপে বসল। সামিয়া বাধার চেষ্টা করল, সে আরহামের বুকে কিল-ঘুষি মারতে লাগল, কিন্তু আরহামের এই গভীর, কামুক আর আর্তনাদ ভরা চুম্বনে সামিয়ার সমস্ত শক্তি আবার গলতে শুরু করল।
আরহাম সামিয়ার নিচের ঠোঁটে কামড় দিয়ে তাকে এক তীব্র সুখে ভাসিয়ে দিল। সামিয়া এক অস্ফুট কোঁকানি দিয়ে আরহামের শার্টের কলার শক্ত করে চেপে ধরল। আরহামের হাত ধীরে ধীরে সামিয়ার ব্লাউজের ওপর দিয়ে তার উন্মাদের মতো ওঠানামা করা বুকে নেমে এল। সে সামিয়াকে লিফটের দেয়ালের সাথেই জড়িয়ে ধরে এক তীব্র, গভীরে তলিয়ে যাওয়া ভালোবাসায় বন্দি করে ফেলল।
লিফট নিচে পৌঁছানোর বেল বাজল।
আরহাম ধীরগতিতে সামিয়ার ঠোঁট থেকে সরে এল। দুজনের নিঃশ্বাস তখন ঝড়ের মতো চলছিল। সামিয়ার শাড়ি এলোমেলো, চোখ বন্ধ, ঠোঁট দুটো রক্তিম আর ভেজা। সে লিফটের দেয়ালে হেলান দিয়ে হাঁপাচ্ছিল।
আরহাম নিজের হাত দিয়ে সামিয়ার এলোমেলো চুলগুলো গুছিয়ে দিল। তারপর তার কপালে আলতো করে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল। তার চোখে আজ কোনো বিষাক্ত অহংকার ছিল না, ছিল এক অনাস্বাদিত পরাজয়ের স্বীকারোক্তি।
"তুমি ভুল বলছো সামিয়া," আরহামের গলা এক গভীর বেদনায় কেঁপে উঠল। সে সামিয়ার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল, "আমি তোমাকে শুধু ব্যবহার করছি না... তুমি আমাকে পঙ্গু করে দিচ্ছ। কাল রাতেও আমি তোমার ছোঁয়া ছাড়া ঘুমাতে পারিনি। তুমি আমার নেশা হয়ে গেছো, আর এই নেশা আমাকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দিচ্ছে।"
কথাটা বলেই আরহাম লিফটের দরজা খুলতেই সামিয়ার হাত ধরে তাকে নিয়ে বাইরে পার্ক করে রাখা গাড়ির দিকে হেঁটে গেল।
সামিয়া স্তব্ধ হয়ে আরহামের পেছনে হাঁটতে লাগল। তার বুকের ভেতরে আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরণ হচ্ছিল। আরহাম চৌধুরীর মুখে এই স্বীকারোক্তি! যে পুরুষ কাউকে তোয়াক্কা করত না, সে আজ নিজেই স্বীকার করল যে সে সামিয়ার মোহে, তার ছোঁয়ায় পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে!
সামিয়া বুঝল, তাদের এই যুদ্ধ আর শুধু অহংকার বা ঘৃণার জায়গায় নেই। এটা এখন এমন এক অগ্নিকুণ্ডে রূপ নিয়েছে, যেখানে জ্বলছে দুজনই।
ধানমন্ডি লেকের পাশের সেই নির্জন কটেজটায় তখন ঝুম বৃষ্টি নামছিল। জানালার কাঁচে বৃষ্টির জলের এক নিরবচ্ছিন্ন শব্দ আর ঘরের ভেতর জ্বলা হালকা নীল আলোর আভা—সব মিলিয়ে পুরো পরিবেশটা এক চরম আবেশে ঢাকা।
গাড়ি থেকে নেমে আরহাম সামিয়াকে একপ্রকার কোলে করেই ঘরে নিয়ে এসেছিল। সামিয়া আজ আর কোনো প্রতিরোধ করেনি। আরহামের সেই লিফটের ফিসফিসানি—"তুমি আমার নেশা হয়ে গেছো"—কথাটা সামিয়ার বুকের গভীরতম স্থানে এমন এক অনাস্বাদিত কম্পন তৈরি করেছিল, যা তার সমস্ত অহংকার আর প্রতিশোধের দেয়ালকে ধুলিসাৎ করে দিয়েছে।
ঘরে ঢুকেই আরহাম দরজাটা লক করে দিল। সে সামিয়ার দিকে তাকাল। সামিয়ার ভেজা শাড়ি তার সুগঠিত শরীরের সাথে লেপটে আছে, খোলা চুলে পানির ফোঁটা ঝিলমিল করছে।
আরহাম ধীর পায়ে সামিয়ার দিকে এগিয়ে এল। তার চোখে আর সেই হিংস্র বসের তাচ্ছিল্য নেই, সেখানে এখন কেবল এক তৃষ্ণার্ত পুরুষের আকুল সমর্পণ। আরহাম দু হাত বাড়িয়ে সামিয়ার কোমর জড়াল, তারপর খুব ধীরে, অত্যন্ত কোমলভাবে সামিয়ার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট মেলালো।
এবারের চুম্বন কোনো জোরজবরদস্তির ছিল না, এতে কোনো আদেশের তেজ ছিল না। এ ছিল পরম শ্রদ্ধায়, ব্যাকুলতায় ভরা এক নিখাদ অনুভূতির স্পর্শ। সামিয়া চোখের পাতা বুজল। সে তার দু হাত আরহামের চওড়া পিঠে তুলে দিল, আঙুল দিয়ে আঁকড়ে ধরল তার শার্ট। সে নিজের অজান্তেই আরহামের গভীর চুম্বনে সাড়া দিয়ে দিল।
আরহাম এক তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেলে সামিয়ার শাড়ির পিন খুলে ফেলল। ভেজা শাড়ি আর ব্লাউজ এক এক করে মেঝেতে খসে পড়ল। আরহামের হাত সামিয়ার নগ্ন, উত্তপ্ত ত্বকে ছড়িয়ে পড়ল। সে সামিয়াকে সোজা বিছানায় শুইয়ে দিল এবং সে নিজেও নিজের পোশাক ছুড়ে ফেলে দিয়ে সামিয়ার ওপর নেমে এল।
বৃষ্টির শব্দের সাথে মিশে গেল দুটি আকুল হৃদয়ের মেলবন্ধন। আরহাম আজ রাতে সামিয়াকে কোনো আঘাত দেয়নি, সে সামিয়ার প্রতিটি কোণে পরম মমতায় নিজের ঠোঁট আর মুখ ডুবিয়ে দিল। সামিয়ার উরু, নাভি, বুক আর গলার খাঁজে সে এমন এক মাদকতাময় উষ্ণতা ছড়িয়ে দিল যে সামিয়া কামনার আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠল। সে ব্যাকুল হয়ে আরহামকে নিজের দিকে টেনে নিল, তার মুখে ফুটে উঠল এক মাতাল করা কোঁকানি—"আরহাম... ওহহ আরহাম..."
আরহাম সামিয়ার ভেতরের গভীরে নিজেকে বিলীন করে দিল। তাদের শরীরের প্রতিটি ধাক্কা, প্রতিটি আলিঙ্গন ছিল যেন এতদিন ধরে জমা হওয়া সব ক্ষোভ, অপমান আর বিরহকে ছাই করে দেওয়ার এক পরম তাণ্ডব। সামিয়া তার পা দুটো আরহামের কোমরে পেঁচিয়ে ধরে নিজেকে সম্পূর্ণ উজাড় করে দিল। রাতের পর রাত যে মিলন ছিল এক শত্রুতামূলক দখলদারি, আজ রাতের সেই একই শারীরিক মিলন রূপ নিল এক স্বর্গীয় অনুরাগে। দুজনেই কামনার চরম শিখরে পৌঁছে একে অপরের বাহুডোরে কেঁপে উঠল এবং এক অনন্ত শান্তিতে বিলীন হয়ে গেল।
ভোরের আলো যখন জানালার পর্দা চুইয়ে ঘরের ভেতর পড়ল, তখন চারপাশ একদম শান্ত।
সামিয়া চোখ খুলল। সে দেখতে পেল সে আরহামের চওড়া বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে, আর আরহামের এক হাত তাকে শক্ত করে আগলে রেখেছে। সামিয়া আলতো করে আরহামের বুকে হাত বুলালো। তার মনে হলো, কাল রাতের পর তাদের মধ্যকার সব কাঁচের দেয়াল একবারে ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে।
ঠিক তখনই আরহামের চোখ ফুটল। সে সামিয়ার দিকে তাকাল। সামিয়ার চোখে আর কোনো ঘৃণা নেই, সেখানে শুধু এক গভীর ভালোবাসা আর সমর্পণ।
আরহাম সামিয়ার কপালে এক দীর্ঘ চুম্বন এঁকে দিল। সে সামিয়ার গাল স্পর্শ করে খুব নিচু স্বরে বলল, "আমায় মাফ করে দাও, সামিয়া।"
সামিয়া চমকে উঠে আরহামের চোখের দিকে তাকাল। যে পুরুষ কোনোদিন 'দুঃখিত' শব্দটি মুখ দিয়ে বের করেনি, সে আজ ক্ষমা চাইছে!
আরহাম এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, "আমি আমার অহংকার আর পুরোনো ক্ষত ঢাকতে গিয়ে তোমার ওপর নির্মমতা করেছি। তোমাকে আমার বিছানার দাসী বানাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সত্যিটা হলো... তুমি প্রথম দিন থেকেই আমার এই পাথরের মতো কঠিন হৃদয়টাকে জয় করে নিয়েছিলে। আমি তোমাকে ভালোবাসতে ভয় পাচ্ছিলাম, তাই রাগের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু আমি হেরে গেছি সামিয়া... তোমার এই ভালোবাসার কাছে আমি নিঃশর্তভাবে হেরে গেছি।"
সামিয়ার চোখের কোণ দিয়ে আনন্দের জল গড়িয়ে পড়ল। সে আর এক মুহূর্তও না ভেবে আরহামের গলায় জড়িয়ে ধরে নিজের মুখটা তার বুকের মাঝে গুঁজে দিল।
"আমিও আপনাকে ঘৃণা করতে পারিনি আরহাম," সামিয়া কেঁদে ফেলে ফিসফিস করে বলল। "প্রতিটি রাতে আপনার এই উগ্র স্পর্শের গভীরে আমি এক অসহায় পুরুষকে খুঁজে পেয়েছিলাম, যে শুধু ভালোবাসা চাইছিল। আমি আপনার সেই ভালোবাসাকেই সমর্পণ করেছি।"
আরহাম এক পরম স্বস্তির হাসি হাসল। সে সামিয়ার মুখটা তুলে ধরে তার ঠোঁটে এক মিষ্টি, প্রেমময় চুম্বন করল।
এক মাস পর।
অ্যালফা কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয়ে আজ এক বিশাল অনুষ্ঠান। আজ প্রজেক্ট স্কাইলাইনের শুভ উদ্বোধন। প্রজেক্টরের সামনে দাঁড়িয়ে সামিয়া প্রেজেন্টেশন শেষ করতেই পুরো হলরুম করতালি দিয়ে উঠল।
মঞ্চে উঠে এলেন ম্যানেজিং ডিরেক্টর আরহাম চৌধুরী। মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে সে পুরো অফিসের সব কর্মকর্তার দিকে তাকাল, তারপর তার নজর গিয়ে স্থির হলো সামিয়ার ওপর। সামিয়া আজ এক গাঢ় লাল জামদানি শাড়িতে অপূর্ব রূপসী লাগছে।
আরহাম মুচকি হেসে বলল, "আজ এই প্রজেক্টের সাফল্যের পেছনে যার সবচেয়ে বড় অবদান, তিনি কেবল এই কোম্পানির জুনিয়র আর্কিটেক্ট নন... তিনি আমার জীবন, আমার অর্ধাঙ্গিনী এবং এই কোম্পানির আসল মালিক—মিসেস সামিয়া চৌধুরী।"
পুরো কনফারেন্স রুমে একসাথে সব চোখ সামিয়ার দিকে ঘুরল। সবাই চরম বিস্ময়ে আর আনন্দে তালি বাজিয়ে উঠল। অফিসের সবাই এতদিন ধরে যাদের বিড়াল-কুকুরের মতো ঝগড়া করতে দেখেছিল, তারা যে আসলে স্বামী-স্ত্রী—এই খবর যেন এক বিশাল ধামাকা!
সামিয়া চোখ ভরা জল আর ঠোঁটে মিষ্টি হাসি নিয়ে আরহামের দিকে তাকাল। আরহাম মঞ্চ থেকে নেমে এসে সামিয়ার সামনে দাঁড়াল। সবার সামনে সে সামিয়ার হাতটা নিজের শক্ত মুঠোয় তুলে নিল এবং তার হাতের পাতায় এক গভীর চুম্বন করল।
"অফিসে আমার বস হতে পারেন স্যার," সামিয়া আরহামের একদম কাছে গিয়ে কানাকানি করে ফিসফিসিয়ে বলল, "কিন্তু মনে রাখবেন, রাতের বেলা আপনি আমার ঘরে বন্দী।"
আরহাম বাঁকা হেসে সামিয়ার কোমরটা হালকা চেপে ধরে বলল, "সেই বন্দীদশাই তো আমার জীবনের সেরা মুক্তি, মিসেস চৌধুরী।"
অফিসের সেই চিরচেনা উত্তপ্ত পরিবেশটা আজ এক পরম ভালোবাসার সুবাসে ভরে উঠল।
অহংকার আর কামনার আগ্নেয়গিরি টপকে, ঘৃণা ও বাসর রাতের সেই উগ্র আগুন পেরিয়ে তাদের দুটো হৃদয় আজ এক অনন্ত, সুন্দর ভালোবাসার মোহনায় এসে মিশে গেল।
....