উচ্চবিটের মিউজিক, ঝলমলে ঝাড়বাতি আর কাঁচা ফুলের তীব্র গন্ধে চারপাশটা জমজমাট। ধানমন্ডির অভিজাত এই কমিউনিটি সেন্টারে দূরসম্পর্কের এক কাজিনের বিয়েতে এসেছে আরিয়ান। পরনে কালো রঙের ফিটেড শেরওয়ানি, চুলগুলো পরিপাটি করে ব্যাকব্রাশ করা। হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে কিছুটা বিরক্ত হছিল সে, এমন কোলাহলপূর্ণ আয়োজন তার খুব একটা পছন্দ নয়। গ্লাসে কোল্ড ড্রিঙ্কস নিয়ে এক কোণে দাঁড়িয়ে কেবল বের হয়ে যাওয়ার রাস্তা খুঁজছিল আরিয়ান। ঠিক তখনই প্রবেশদ্বারের ভারী পর্দাটা সরে গেল।
আরিয়ান চোখ তুলল, আর মুহূর্তেই যেন গোটা মিলনায়তনের আলো, সুর আর শোরগোল থমকে গেল।
ভেতরে প্রবেশ করেছে একটি মেয়ে। তার পরনে রয়্যাল ব্লু রঙের ভারী কাজের একটি জামদানি শাড়ি। খোলা চুলগুলো তার সুগঠিত কাঁধ ঘেঁষে পিঠময় ছড়িয়ে আছে। শাড়ির গাঢ় নীল রঙের বিপরীতে তার ফর্সা ত্বক যেন আলো ঠিকরাচ্ছিল। মেয়েটির নাম তাসনিম। চোখের কারুকাজ করা গাঢ় কাজল আর ঠোঁটে থিক লালচে ম্যাট লিপস্টিক—আরিয়ানের মতো কঠিন হৃদয়ের পুরুষকে এক পলকে স্থির করে দেওয়ার জন্য সেটুকুই যথেষ্ট ছিল।
মেয়েটি হাঁটার সময় শাড়ির কুঁচি সামলাচ্ছিল। তার হাতের রেশমি কাঁচের চুড়ির খনখন শব্দ আর পায়ের নূপুরের হালকা আওয়াজ আরিয়ানের বুকের ভেতর অচেনা এক দোলা দিল। নিজের অজান্তেই হাত থেকে গ্লাসটা টেবيله রেখে এক পা এক পা করে মেয়েটির দিকে এগিয়ে গেল আরিয়ান। তার চোখ তাসনিমের ওপর স্থির, যেন পৃথিবীর আর কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই সেখানে।
মেয়েটি তখন তার এক বান্ধবীর সাথে হেসে হেসে কথা বলছিল। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আরিয়ান একটু বেশিই কাছে চলে এল। মেয়েটির সুবাস—টকটকে বেলী ফুল আর নামি পারফিউমের এক অদ্ভুত মাতাল করা মিশ্রণ—আরিয়ানের নাকে ধাক্কা দিল।
"এক্সকিউজ মি," আরিয়ানের গলার স্বর স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশিই গম্ভীর আর খাদে নামানো শোনালো।
মেয়েটি ঘুরে তাকাল। তার ডাগর ডাগর কালো চোখ দুটো সোজাসুজি আরিয়ানের চোখে গিয়ে পড়ল। আরিয়ান হাসার চেষ্টা করে বলল, "আপনার শাড়ির রঙটা সুন্দর, তবে আপনাকে শাড়িটাতে নিখুঁত লাগছে বললে কম বলা হবে।"
কথাটা প্রশংসার মতোই ছিল, কিন্তু তাসনিমের প্রতিক্রিয়া আরিয়ানের কল্পনার পুরো উল্টো হলো। তাসনিম এক মুহূর্তের জন্য থামল, তারপর আরিয়ানের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত মেপে নিল একরাশ বিরক্তি নিয়ে। তার ভ্রু দুটো কুঁচকে গেল।
"ফ্লার্ট করার জন্য এরচেয়ে ভালো কোনো ডায়লগ পেলেন না?" ঠান্ডা, ধারালো গলায় বলল তাসনিম। "নিজের সীমা মেনে চলা ভালো, মিস্টার। কারো দিকে এভাবে হা করে তাকিয়ে থাকা আর বিশ্রী মন্তব্য করা রুচিশীল পুরুষের লক্ষণ নয়।"
আরিয়ান খানিকটা চমকে গেল। স্বভাবজাত আত্মঅহংকার ধাক্কা খেল তার। "আমি শুধু একটা কমপ্লিমেন্ট দিচ্ছিলাম। এতে বিশ্রী কী পেলেন?"
"আপনার চোখের চাহনিটাই বিশ্রী," একদম সোজা জবাব দিল তাসনিম। "আর কোনো অপরিচিত পুরুষের কাছ থেকে কমপ্লিমেন্ট শোনার বিন্দুমাত্র আগ্রহ আমার নেই। সো, জাস্ট গেট লস্ট।"
কথাটা বলেই তাসনিম আর এক মুহূর্ত থামল না। ঝটকায় শাড়ির আঁচলটা কাঁধে তুলে নিয়ে হনহন করে ভেতরের লেডিস জোনের দিকে হেঁটে চলে গেল। যাওয়ার সময় তার শরীরের সেই মাতাল করা বেলী ফুলের গন্ধটুকু বাতাসে ভেসে রইল, যা আরিয়ানের মাথায় ঝিম ধরে দিল।
আরিয়ান শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। বুকের মধ্যে রাগের এক তীব্র শিখা জ্বলে উঠল, কিন্তু সেই রাগের অন্তরালেই সে অনুভব করল এক অবিশ্বাস্য টান। যে নারী তাকে প্রথম দেখাতেই এমন তাচ্ছিল্য করতে পারে, সেই নারী যে সাধারণ কেউ নয়, তা বুঝতে আরিয়ানের সময় লাগল না। তাসনিমের সেই স্পষ্টবক্তা, জেদি আর উদ্ধত মনোভাব আরিয়ানের মনে এক অদ্ভুত তীব্র কামনার জন্ম দিল। তাকে পেতেই হবে—এই জেদটা আরিয়ানের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়ল।
বিয়ের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে হতে রাত প্রায় একটা বেজে গেল। কমিউনিটি সেন্টারের বাইরে তখন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। গাড়ি নিয়ে পার্কিং থেকে বের হচ্ছিল আরিয়ান। বৃষ্টি ক্রমশ বাড়ছে, সাথে শীতল হাওয়া। গেটের কাছে এসে সে দেখতে পেল তাসনিম দাঁড়িয়ে আছে। শাড়ির আঁচলটা দুহাতে জড়িয়ে ধরে সে যেন শীত সামলানোর চেষ্টা করছে। তার গাড়ি বোধহয় এখনো আসেনি, বা কোনো সমস্যা হয়েছে।
আরিয়ান ড্রাইভিং সিটে বসে এক মুহূর্ত ভাবল। তারপর স্মিথ হেসে গাড়িটা একদম তাসনিমের পায়ের কাছে এনে ব্রেক কষল। গ্লাসটা নিচে নামিয়ে দিল সে।
"বৃষ্টি বাড়ছে। এই রাতে এখানে একা দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপদ নয়। আসুন, আমি ড্রপ করে দিচ্ছি," আরিয়ানের কণ্ঠে তখন এক ধরণের গা ছমছমে ধীরস্থিরতা।
তাসনিম গাড়ির দিকে তাকিয়ে আরিয়ানকে চিনতে পারল। তার মুখের এক্সপ্রেশন আরও কঠিন হয়ে গেল। "আপনাকে সাহায্য চাইতে বলিনি। আমার ক্যাব আসছে।"
"এই ঝুম বৃষ্টিতে এই এলাকায় আগামী এক ঘণ্টাতেও কোনো ক্যাব আসবে না, মিস তাসনিম," আরিয়ান গাড়ি থেকে নেমে এল। বৃষ্টিতে তার শেরওয়ানির কাঁধ আর চুল মুহূর্তে ভিজে যেতে লাগল, কিন্তু তার সেদিকে খেয়াল নেই। সে সোজা এসে দাঁড়াল তাসনিমের খুব কাছে।
এতটা কাছে যে, তাসনিম আরিয়ানের গায়ের দামি আফটারশেভের গন্ধ আর গরম নিঃশ্বাসের অনুভূতি পাচ্ছিল। তাসনিম এক পা পিছিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু পেছনেই ছিল লোহা গেটের শক্ত খুঁটি। সে আটকে গেল।
"সরে দাঁড়ান," তাসনিমের গলা কিছুটা কেঁপে উঠল, যদিও সে তা আড়াল করার চেষ্টা করল। "আমি আপনার সাথে কোথাও যাব না।"
"তোমার পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে আমি এই মুহূর্তে চিন্তিত নই," আরিয়ান 'আপনি' থেকে আচমকা 'তুমি'তে নেমে এল। তার গলা আধো-অন্ধকারে আরও গভীর ও প্রলুব্ধকর শোনালো। "তুমি ভিজে যাচ্ছ, আর আমি একটা মেয়েকে মাঝরাতে এভাবে ফেলে রেখে যেতে পারব না। সোজা গাড়িতে ওঠো।"
"সাহস কত আপনার! আপনি আমাকে হুকুম করছেন?" তাসনিম রেগে চোখ বড় বড় করে তাকাল।
আরিয়ান জবাব না দিয়ে একটু সামনের দিকে ঝুঁকে এল। তাসনিমের সুগঠিত থুতনিটা নিজের শক্ত দুই আঙুলের ফাঁকে চেপে ধরল সে। ছোঁয়াটা এতই হঠাৎ আর গভীর ছিল যে তাসনিমের পুরো শরীর শিউরে উঠল। তাসনিমের ঠোঁটের কাছে নিজের ঠোঁট এনে আরিয়ান ফিসফিস করে বলল, "আমার সাহসের ব্যাপ্তি কতখানি, তা তুমি ধারণাও করতে পারবে না, তাসনিম। ভালোয় ভালোয় গাড়িতে বসো, নাকি কোলে তুলে নিয়ে বসাব?"
আরিয়ানের চোখের সেই গভীর, তীব্র আর সর্বগ্রাসী দৃষ্টি দেখে তাসনিম এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। তার বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন দ্রুত হতে লাগল। ভয়, রাগ আর এক অজানা রোমাঞ্চ তার পুরো শরীরে বিদ্যুতের মতো খেলে গেল। সে বুঝতে পারল, এই লোকটা মুখে যা বলছে, তা করতে দ্বিধা করবে না।
ঠোঁট কামড়ে ধরে তাসনিম নিজের থুতনিটা আরিয়ানের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিল। রাগে গা রি রি করলেও পরিস্থিতি বুঝে সে নিঃশব্দে গিয়ে গাড়ির প্যাসেঞ্জার সিটের দরজা খুলে ভেতরে বসে পড়ল।
গাড়িতে উঠে দরজায় ধাম করে শব্দ করে সে মুখ ফিরিয়ে রইল জানালার দিকে। আরিয়ান ড্রাইভিং সিটে এসে বসল। তার ভিজে যাওয়া চুল থেকে দু-এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ছিল তার সুগঠিত চোয়াল বেয়ে। সে একটা বাঁকা হাসি দিল, যা তাসনিমের চোখ এড়াল না।
গাড়ি চলতে শুরু করল ফাঁকা, ভেজা ঢাকার রাস্তায়। গাড়ির ভেতরে এক থমথমে নীরবতা। এসি-র ঠান্ডা বাতাসে তাসনিম শীতে কিছুটা কাঁপছিল। তার ভেজা শাড়ির অংশটুকু শরীরের সাথে লেপ্টে গিয়ে তার শরীরের খাঁজগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তুলছিল। আরিয়ান ড্রাইভ করার ফাঁকে সাইড মিররে বারবার সেই রূপ উপভোগ করছিল। তার চোখের ক্ষুধা তাসনিম স্পষ্ট অনুভব করতে পারছিল, যা তার ভেতরে বিরক্তি আর এক অদ্ভুত কামনার আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছিল।
"এসি-র টেম্পারেচার কমান," তাসনিম গম্ভীর স্বরে বলল।
আরিয়ান এসি কমানোর বদলে গাড়ির স্পিড কমিয়ে গাড়িটা রাস্তার একপাশে অন্ধকার গাছের ছায়ায় থামিয়ে দিল।
"গাড়ি থামালেন কেন?" তাসনিম চমকে উঠে আরিয়ানের দিকে তাকাল।
আরিয়ান সিটবেল্ট খুলে তাসনিমের দিকে পুরোপুরি ঘুরে বসল। তার শরীরটা তাসনিমের ওপর ঝুঁকে এল। গাড়ির আবছা আলোয় আরিয়ানের সুগঠিত পুরুষালী মুখটা তাসনিমের ফর্সা মুখের ইঞ্চিখানেক দূরে।
কারণ," আরিয়ান তার একটা হাত তাসনিমের খোলা মেদহীন উন্মুক্ত কোমর আর পিঠের সংযোগস্থলে রাখল। রেশমি শাড়ির ওপর দিয়ে সেই তপ্ত হাতের ছোঁয়ায় তাসনিমের শরীর রীতিরীতি কেঁপে উঠল। "কারণ, তোমার এই বিরক্তি ভরা চোখ দুটো আর আমার কাছাকাছি আসার পর তোমার এই ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেলা—আমাকে পাগল করে দিচ্ছে।"
"হাত সরান!" তাসনিম আরিয়ানের বুকে হাত দিয়ে ঠেলার চেষ্টা করল, কিন্তু আরিয়ান যেন এক শক্ত পাহাড়।
আরিয়ান তার অন্য হাত দিয়ে তাসনিমের উরু থেকে শাড়ির অংশ সরিয়ে ধীরে ধীরে হাতটা ওপরের দিকে তুলতে লাগল। তার তপ্ত আঙুলগুলো তাসনিমের মসৃণ ত্বকে ছুঁয়ে যেতেই তাসনিম চোখ বন্ধ করে এক তীব্র শিউরে ওঠা অনুভূতির মুখোমুখি হলো। গলার ভেতর থেকে এক হালকা গোঙানির শব্দ বের হয়ে এল তার, যা সে শত চেষ্টা করেও আটকাতে পারল না।
"আমাকে সহ্য করতে পারো না, তাই না?" আরিয়ান তাসনিমের কানের লতিতে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল। তার গরম নিঃশ্বাস তাসনিমের গলায় আছড়ে পড়ছিল। "তাহলে তোমার এই শরীর কেন আমার ছোঁয়ায় এভাবে সাড়া দিচ্ছে, তাসনিম?"
তাসনিমের বিরক্তি আর রাগ চুরমার হয়ে সেখানে এক নামহীন গভীর আদিম তৃষ্ণা জেগে উঠছিল। সে মুখ ফিরিয়ে আরিয়ানের দিকে তাকাল, তাদের ঠোঁট তখন প্রায় মিশে যাওয়ার মতো দূরত্বে। তাসনিমের চোখের তীব্র ঘৃণা আর কামনার আগুন একসঙ্গে দেখে আরিয়ান বুঝতে পারল—এই খেলা কেবল শুরু হয়েছে।
গাড়ির ভেতরের এসি-র ঠান্ডা বাতাস আর দুজনের দেহের উত্তাপ মিলে এক দমবন্ধ পরিবেশের সৃষ্টি করল। আরিয়ানের তপ্ত হাত তাসনিমের উন্মুক্ত কোমরের ভাঁজে চেপে বসতেই তাসনিমের পুরো শরীর ধনুকের মতো বেঁকে গেল। তার মুখের ভাব রাগে থমথম করলেও, চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসছিল এক মাতাল অনুভূতির আবেশে।
"হাত সরান বলছি... মিস্টার আরিয়ান, আপনি আপনার সীমা লঙ্ঘন করছেন!" তাসনিম নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে আরিয়ানের চওড়া বুকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু আরিয়ান তার জায়গায় অবিচল।
আরিয়ানের বাঁকা ঠোঁটে এক বিজয়ীর হাসি ফুটে উঠল। সে তাসনিমের দুটো কবজি একহাতে ধরে মাথার ওপর সিটের সাথে চেপে ধরল। অপর হাতটা ধীরে ধীরে তাসনিমের গলার নিচ থেকে শাড়ির আঁচল সরিয়ে উন্মুক্ত কাঁধ আর উন্মুক্ত বুকে বুলাতে লাগল। তাসনিমের মসৃণ, উষ্ণ ত্বকে আরিয়ানের শক্ত আঙুলের ছোঁয়া এক অদৃশ্য বিদ্যুতায়িত তরঙ্গ তৈরি করল।
"সীমা?" আরিয়ানের গলার স্বর আরও খাদে নেমে এল, আরও গভীর আর রোমাঞ্চকর শোনালো। "তুমি প্রথম দর্শনেই আমার ভেতরের সুপ্ত শয়তানটাকে জাগিয়ে তুলেছ, তাসনিম। আর এখন সীমা রেখা টানতে বলছ?"
আরিয়ান তার ঠোঁট দুটো নামিয়ে আনল তাসনিমের কানের লতিতে। আলতো করে কামড় বসাল সেখানে, তারপর ফিসফিস করে বলল, "তোমার এই বিরক্তি ভরা চোখ, তোমার শাড়ির আঁচল সরে যাওয়া রূপ... সবকিছু আমাকে বাধ্য করছে তোমায় সম্পূর্ণ নিজের করে নিতে।"
তাসনিম চোখ বন্ধ করে ফেলল। হৃদপিণ্ড এত জোরে স্পন্দিত হচ্ছিল যে মনে হচ্ছিল বুকের খাঁচা ভেঙে বেরিয়ে আসবে। সে এই লোকটাকে ঘেন্না করতে চায়, তার গা জ্বালানো অহংকারকে চুরমার করে দিতে চায়, অথচ আরিয়ানের এই পুরুষালী শরীরের গন্ধ আর তার কামনাময় স্পর্শ তাসনিমের সমস্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিচ্ছিল। তাসনিমের গলার ভেতর থেকে এক অবাধ্য গোঙানি বের হয়ে আসতেই সে নিজের নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরল।
আরিয়ান তাসনিমের ঠোঁটের সেই কামড় নিজের আঙুল দিয়ে ছাড়িয়ে দিল। "নিজেকে কষ্ট দিও না, তাসনিম। সাড়া দাও..."
কথা শেষ না করেই আরিয়ান তার ঠোঁট চেপে ধরল তাসনিমের লালচে, রসে ভরা ম্যাট লিপস্টিক মাখা ঠোঁটে। ছোঁয়াটা প্রথমে হিংস্র আর আধিপত্য বিস্তারকারী হলেও পরক্ষণেই তা এক গভীর, মাতাল করা চোষণে রূপ নিল। তাসনিম প্রথমে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আরিয়ানের এক হাত তার ঘাড়ের পেছনে চেপে ধরে তাকে একদম কাছে টেনে আনল।
আরিয়ানের তপ্ত ঠোঁট আর জিবের দখলদারিত্বের সামনে তাসনিমের জেদ ভেঙে পড়তে লাগল। অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাসনিমের হাত দুটো আরিয়ানের ভিজে থাকা শক্ত চুলগুলোর ভেতরে ঢুকে গেল। সে আঁকড়ে ধরল আরিয়ানকে। তাসনিমের এই অনাকাঙ্ক্ষিত সাড়া পেয়ে আরিয়ান আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। সে তাসনিমের ওপর প্রায় পুরোটাই ঝুঁকে পড়ে তার নীচের ঠোঁটটা নিজের ঠোঁটে টেনে নিয়ে গভীর চুষতে লাগল।
গাড়ির জানালা ভেদ করে বাইরে ঝুম বৃষ্টির শব্দ আসছিল, আর ভেতরে দুটো তপ্ত শরীরের ঘন নিঃশ্বাসের শব্দ। আরিয়ানের হাত তাসনিমের রেশমি শাড়ির কুঁচি পেরিয়ে তার মসৃণ উরুতে পৌঁছাল। উরুর স্পর্শে তাসনিম কেঁপে উঠে শিউরে সশব্দে একটা নিঃশ্বাস ফেলল। আরিয়ান তার ঠোঁট তাসনিমের ঠোঁট থেকে সরিয়ে এনে গলায়, কলারবোনে তীব্রভাবে চুমু খেতে শুরু করল। তার উম্মাদ চুমুর দাগ বসে যাচ্ছিল তাসনিমের ফর্সা গলায়।
"আপনি... আপনি খুব খারাপ..." তাসনিম হাঁপাতে হাঁপাতে অস্ফুট স্বরে বলল। তার গলার স্বরে রাগের চেয়ে বেশি আকুলতা ঝরে পড়ছিল।
"আই নো," আরিয়ান তাসনিমের কাঁধ থেকে শাড়ির ব্লাউজের ফিতাটা একটু সরিয়ে দিয়ে সেখানে তার গরম ঠোঁট ছোঁয়াল। "কিন্তু এই খারাপ লোকটাকেই তোমার শরীর এখন চাইছে, তাই না?"
তাসনিম মুখ ফিরিয়ে নিল। তার নিজের ওপরই চরম রাগ হচ্ছিল। কেন সে নিজেকে সামলাতে পারছে না? কেন এই অহংকারী লোকটার সামান্য স্পর্শে সে এভাবে গলে জল হয়ে যাচ্ছে?
হঠাৎ তাসনিমের মোবাইল ফোনটা তার পার্সের ভেতর বিকট শব্দে বেজে উঠল। তাসনিমের আম্মার ফোন। রিংটোনের শব্দে যেন দুজনের মাতাল করা ঘোরের রাজ্য এক ঝটকায় ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
তাসনিম চমকে উঠে আরিয়ানকে সজোরে ধাক্কা দিল। এবার আরিয়ান বাধা দিল না, সে কিছুটা সরে এসে সিটে ফিরে বসল। তার নিজেরও নিঃশ্বাস দ্রুত পড়ছিল, চোখে তখনও লালচে কামনার ছাপ।
তাসনিম কাঁপতে থাকা হাতে পার্স থেকে ফোন বের করল। নিজের গলা স্বাভাবিক করার ব্যর্থ চেষ্টা করে বলল, "হ্যাঁ, আম্মা... ক্যাব পেয়েছি, আমি প্রায় পৌঁছে গেছি... হ্যাঁ, আর দশ মিনিট।"
ফোনটা কেটে দিয়ে তাসনিম দ্রুত নিজের শাড়ির আঁচল আর ব্লাউজ ঠিক করে নিল। তার গাল দুটো রাগে আর লজ্জায় লাল হয়ে উঠেছিল। চুলগুলো হাত দিয়ে সামলে নিয়ে সে সোজা হয়ে বসল এবং জানালার দিকে মুখ করে বলল, "আমাকে এখনই আমার বাসার সামনে ড্রপ করুন। আর কোনো কথা নয়।"
আরিয়ান স্টিয়ারিং হুইলে দুহাত রেখে কিছু সময় তাসনিমের দিকে তাকিয়ে রইল। তাসনিমের বুকের ওপর-নিচ হওয়া এবং তার ভিজে যাওয়া ঠোঁটের ফুলে থাকা অংশটা আরিয়ানের চোখের তৃষ্ণা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছিল। তবে সে আর বাড়াবাড়ি করল না। গাড়ি স্টার্ট দিয়ে দ্রুত গতিতে তাসনিমের দেওয়া ঠিকানার দিকে চালাতে লাগল।
দশ মিনিট পর গাড়ি থামল ধানমন্ডির এক শান্ত আবাসিক এলাকার বহুতল ভবনের সামনে।
গাড়ির লক খুলতেই তাসনিম এক মুহূর্তও দেরি না করে দরজার হ্যান্ডেল ধরে বাইরে বের হতে গেল। কিন্তু বের হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে আরিয়ান তার কবজি ধরে টান দিল। তাসনিম ছিটকে আবার আরিয়ানের বুকের কাছাকাছি চলে এল।
"ছেড়ে দিন!" তাসনিম ফিসফিস করে গর্জে উঠল।
আরিয়ান তাসনিমের মুখের দিকে তাকিয়ে এক রহস্যময় হাসি দিল। সে তার হাতের আঙুল দিয়ে তাসনিমের ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা কাজল আর লিপস্টিকের হালকা ছোপ মুছে দিয়ে বলল, "আজ রাতে পালিয়ে যাচ্ছ তাসনিম। কিন্তু মনে রেখো, আমাদের এই হিসেব এখনো বাকি। খুব শীঘ্রই আবার দেখা হচ্ছে।"
"আপনার সাথে দ্বিতীয়বার দেখা করার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। আমার জীবন থেকে দূরে থাকবেন!" তাসনিম ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে নিল।
গাড়ি থেকে নেমে এক দৌড়ে ভবনের মেইন গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল তাসনিম। সে একবারও পেছন ফিরে তাকাল না। আরিয়ান গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে বসে তাসনিমের চলে যাওয়ার পথটার দিকে তাকিয়ে রইল। সিগারেট ধরিয়ে একটা লম্বা টান দিল সে, ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বিড়বিড় করে বলল, "তুমি যতই দূরে যেতে চাইবে তাসনিম, আমি তোমাকে ততটাই কাছে টেনে নেব। তুমি কেবলই আমার।"
পরদিন সকাল। তাসনিম রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেনি। সারারাত তার চোখে ভেসে উঠেছে আরিয়ানের সেই গভীর চোখ, আর ত্বকে লেগে ছিল তার তপ্ত ঠোঁটের ছোঁয়া। ভেবেছিল ঘুম থেকে উঠলে এই অস্বস্তি কমে যাবে, কিন্তু সকালে উঠেও তার মন ব্যাকুল হয়ে রইল।
বিকেল চারটার দিকে তাসনিমের বাবা তাকে ডাকলেন। তাসনিম বসার ঘরে গিয়ে দেখল তার বাবা গম্ভীর হয়ে বসে আছেন।
"তাসনিম, তোমার সাথে একটা জরুরি কথা আছে," বাবা বললেন। "আমাদের পারিবারিক আর্কিটেকচার ফার্মটার যে প্রজেক্ট নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল, সেটার নতুন ইনভেস্টর আর সিইও আজ আমাদের বাসায় আসছেন মিটিংয়ের জন্য। তুমিও তো আর্কিটেক্ট, তোমার থাকা দরকার।"
"ঠিক আছে বাবা, উনি কখন আসবেন?" তাসনিম জিজ্ঞেস করল।
"উনি চলে এসেছেন, নিচে গাড়ি পার্ক করছেন," বাবা দরজার দিকে এগোলেন।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই দরজার কলিংবেল বেজে উঠল। তাসনিমের বাবা গিয়ে দরজা খুলে দিলেন। তাসনিম ট্রের ওপর কফির কাপ সাজাচ্ছিল। দরজা দিয়ে ঢোকা নতুন সিইও-র গলার আওয়াজ শুনেই তাসনিমের হাতের কফির কাপটা প্রায় হাত থেকে পড়ে যাচ্ছিল।
"আসুন, আসুন মিস্টার আরিয়ান! ভেতরে আসুন।" তাসনিমের বাবার গলা পাওয়া গেল।
তাসনিম ধীর পায়ে বসার ঘরে এসে দাঁড়াল। সোফায় বসে আছে কালো স্যুট পরা আরিয়ান। অত্যন্ত মার্জিত, সুপুরুষ আর গম্ভীর দেখাচ্ছে তাকে। তাসনিমকে দেখেই আরিয়ানের ঠোঁটের কোণে সেই চেনা, প্রলুব্ধকর বাঁকা হাসিটা ফুটে উঠল।
"আরে তাসনিম, চেনো উনাকে? উনিই আরিয়ান আহমেদ, আমাদের নতুন পার্টনার," বাবা পরিচয় করিয়ে দিলেন।
আরিয়ান সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল। তাসনিমের খুব কাছে এসে নিজের ডান হাতটা বাড়িয়ে দিল হ্যান্ডশেকের জন্য। তাসনিমের চোখের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কিন্তু অর্থপূর্ণ গলায় বলল, "হ্যালো মিস তাসনিম। আশা করি আমাদের এই নতুন পার্টনারশিপটা খুব... উত্তেজক আর স্মরণীয় হবে।"
তাসনিমের পায়ের তলার মাটি যেন সরে গেল। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটাকে দেখে তার বুকের ভেতরটা ধুকপুক করে উঠল। কালো ফিটেড স্যুটে আরিয়ানকে যেমন তীব্র সুপুরুষ লাগছে, তেমনি তার চোখে ফুটে থাকা সেই বিজয়ী হাসিটা তাসনিমের রক্ত জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।
"কী হলো তাসনিম? মিস্টার আরিয়ানের সাথে হ্যান্ডশেক করো," বাবা পিছন থেকে তাগাদা দিলেন।
তাসনিম নিজের কাঁপা হাতটা কোনোমতে এগিয়ে দিল। আরিয়ানের চওড়া, গরম হাতের তালু তাসনিমের নরম আঙুলগুলো শক্ত করে চেপে ধরল। সে শুধু হ্যান্ডশেক করল না, আঙুলের আলতো চাপে তাসনিমের হাতের ওপর নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করল। আরিয়ানের চোখ দুটি সরাসরি তাসনিমের চোখে স্থির, যা দেখে তাসনিমের গাল দুটো মুহূর্তেই আরক্ত হয়ে উঠল।
"নাইস টু মিট ইউ, মিস্টার আরিয়ান," তাসনিম নিজের দাঁতে দাঁত চেপে গম্ভীরভাবে বলল এবং ঝটকায় হাত টেনে সরিয়ে নিল।
"মিজার্স তাসনিম, আশা করি আমাদের একসাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা বেশ রোমাঞ্চকর হবে," আরিয়ান সোফায় বসে এক পা অন্য পায়ের ওপর তুলে দিয়ে বলল। তার কন্ঠে প্রকাশ পাচ্ছিল এক অসীম আত্মবিশ্বাস।
পরবর্তী এক ঘণ্টা বাবাকে প্রজেক্টের নানা ফাইল আর নকশা বুঝিয়ে দিল আরিয়ান। তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা আর কাজের প্রতি পেশাদারিত্ব দেখে তাসনিম মনে মনে কিছুটা অবাক না হয়ে পারল না। কিন্তু যতবারই আরিয়ান প্রজেক্টের ড্রয়িং নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাসনিমের দিকে ঝুঁকে আসছিল, ততবারই তাসনিম তার তপ্ত নিঃশ্বাস আর শরীরের সুবাসে অস্থির হয়ে উঠছিল। রাতে যে লোকটা তাকে এমন উন্মাদভাবে স্পর্শ করেছিল, এখন সে-ই যেন চরম ভদ্র এক ব্যবসায়ী! লোকটার এই দ্বিমুখী আচরণ তাসনিমকে পাগলাটে করে তুলছিল।
মিটিং শেষে তাসনিমের বাবা অন্য এক কল পেয়ে বেলকনিতে গেলেন। বসার ঘরে তখন কেবল তাসনিম আর আরিয়ান।
তাসনিম টেবিল থেকে কফির কাপগুলো গোছাতে গোছাতে নিচু গলায় গর্জে উঠল, "আপনি জেনেবুঝে এখানে এসেছেন, তাই না? আমার বাবার প্রজেক্ট বেছে নেওয়ার পেছনে আপনার মতলবটা কী?"
আরিয়ান সোফা থেকে উঠে ধীর পায়ে তাসনিমের একদম পেছনে এসে দাঁড়াল। তাসনিমের ঘাড়ে এসে পড়ল তার তপ্ত নিঃশ্বাস।
"আমার মতলব খুব পরিষ্কার, তাসনিম," আরিয়ান হাত বাড়িয়ে ট্রে থেকে কফির কাপ নেওয়ার অজুহাতে তাসনিমের কোমরে তার বাহু ছুঁয়ে দিল। "তোমাকে আমার চাই। আর তার জন্য তোমার আশেপাশে থাকাটা খুব জরুরি ছিল।"
"আপনি একটা নিচু মানসিকতার লোক!" তাসনিম ঘুরে দাঁড়িয়ে আরিয়ানের দিকে তাকাল। "আমার বাবা আপনাকে বিশ্বাস করছে, আর আপনি..."
"আর আমি তোমাকে ভালোবাসতে চাই," আরিয়ান হঠাৎ এক ঝটকায় তাসনিমকে কোমরে ধরে নিজের শরীরের সাথে চেপে ধরল।
তাসনিম চমকে উঠে কিছু বলতে যাবে, অমনি আরিয়ান তার এক হাত দিয়ে তাসনিমের মুখটা চেপে ধরে তার কথা থামিয়ে দিল। তাসনিমের চিবুক ধরে ওপরের দিকে তুলে সে নিজের মুখটা তাসনিমের গলার ভাঁজে ডুবিয়ে দিল। গলায় তপ্ত ঠোঁটের কামড় বসাতেই তাসনিমের হাত থেকে ট্রের বাটিটা পড়ে যেতে নিচ্ছিল, আরিয়ান অন্য হাত দিয়ে তা ধরে সোফার পাশের টেবিলে রেখে দিল।
"আহ্... ছাড়ুন! বাবা চলে আসবেন!" তাসনিম ফিসফিস করে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু তার শরীরের প্রতিটা শিরা-উপশিরায় তখন আরিয়ানের ছোঁয়ায় এক তীব্র বিদ্যুতের তরঙ্গ বইছে।
"আসুক," আরিয়ান তাসনিমের শাড়ির ওপর দিয়ে তার সুগঠিত বুকের কাছাকাছি নিজের হাত নিয়ে গেল। আঙুলের স্পর্শে তাসনিমের শ্বাসপ্রশ্বাস ঘন হয়ে এল। "তোমাকে এই পোশাকে এত মোহময় লাগছে যে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারছি না, তাসনিম।"
আরিয়ান তাসনিমের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট চেপে ধরল। রাতের মতো এবার আর কোনো প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়তে পারল না তাসনিম। আরিয়ানের তপ্ত জিব আর ঠোঁটের গভীর চুষনে তাসনিম নিজের ব্যাকুলতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হলো। সে আরিয়ানের স্যুট আঁকড়ে ধরে ককিয়ে উঠল। আরিয়ানের অন্য হাতটা তাসনিমের শাড়ির আঁচল সরিয়ে ভেতরের উন্মুক্ত পিঠে বুলাতে লাগল। মসৃণ পিঠে আরিয়ানের গরম আঙুলের আল্পনা তাসনিমকে এক অদ্ভুত স্বর্গের আনন্দ দিচ্ছিল, আবার একই সাথে নিজের প্রতি চরম ঘৃণাও জন্মাচ্ছিল।
হঠাৎ বেলকনির কাঁচের দরজা খোলার শব্দ হলো। তাসনিমের বাবা ভেতরের দিকে আসছেন।
তাত্ক্ষণিকভাবে আরিয়ান তাসনিমকে ছেড়ে দিয়ে এক পা পিছিয়ে গেল এবং অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে নিজের স্যুটের বোতামটা আটকে নিল। তাসনিম হাঁপাতে হাঁপাতে দেয়াল ধরে দাঁড়াল, তার ঠোঁট দুটো ফুলে লাল হয়ে উঠেছে, শাড়ির আঁচল খানিকটা অগোছালো।
"সো, মিস্টার আরিয়ান," বাবা হাসতে হাসতে ভেতরে ঢুকলেন, "কাল থেকেই তাহলে আপনারা প্রজেক্টের সাইট ভিজিট শুরু করছেন?"
"একদম, আঙ্কেল," আরিয়ান একগাল হেসে উত্তর দিল। "কাল সকালে আমি নিজেই তাসনিমকে পিক করে নেব। কাল গাজিপুরের রিসোর্ট প্রজেক্টের সাইটে যেতে হবে আমাদের।"
"খুব ভালো প্রস্তাব! তাসনিম, তুমি কাল সকালে তৈরি থেকো," বাবা বললেন।
তাসনিম স্তম্ভিত হয়ে আরিয়ানের দিকে তাকাল। গাজিপুরের রিসোর্ট সাইট মানে লোকালয় থেকে অনেক দূরে, আর সেখানে সারাদিন তাকে এই লোকটার সাথে একা কাটাতে হবে! তাসনিম আপত্তি জানাতে চাইল, "বাবা, আমি একা..."
"কোনো একা নও মা, আরিয়ান সাথে থাকছে তো," বাবা অভয় দিলেন।
আরিয়ান তাসনিমের দিকে তাকিয়ে এক শয়তানি বাঁকা হাসি দিল। তার চোখে স্পষ্ট লেখা ছিল—'তুমি আমার ফাঁদ থেকে পালাতে পারবে না।'
পরদিন সকাল ৮টা।
ধানমন্ডির বাসার সামনে কালো রঙের মার্সিডিজ নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল আরিয়ান। আজকের পরনে তার ক্যাজুয়াল জিন্স আর সাদা শার্ট, যার ওপরের দুটো বোতাম খোলা। বুকের সুগঠিত পেশির কিছুটা অংশ উন্মুক্ত।
তাসনিম নিচে নেমে এল। তার পরনে একটা সাদা রঙের সাধারণ সুতির সালোয়ার কামিজ, কিন্তু তাতেও তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য চোখ ধাঁধানো। চুলে শক্ত করে খোঁপা করা, চোখে কালো চশমা। সে আরিয়ানকে কোনো পাত্তা না দিয়ে পেছনের সিটের দরজা খুলতে গেল।
"আমি তোমার ড্রাইভার নই, তাসনিম," আরিয়ান শান্ত কিন্তু কড়া গলায় বলল। "সামনে এসে বসো।"
"আমি এখানেই ঠিক আছি," তাসনিম একগুঁয়েমি করল।
আরিয়ান গাড়ি থেকে নেমে সোজা তাসনিমের কাছে চলে এল। তাকে এক প্রকার প্রায় টেনে এনে সামনের সিটে বসিয়ে দিল এবং নিজ হাতে সিটবেল্ট বেঁধে দিল। সিটবেল্ট বাঁধার সময় আরিয়ানের মুখটা তাসনিমের এত কাছে ছিল যে তাসনিম তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল।
"তুমি যত জেদ দেখাবে, আমি ততটাই উগ্র হব, মনে রেখো," আরিয়ান তাসনিমের চিবুকে এক চুমু খেয়ে নিজের ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসল।
গাড়ি হাইওয়েতে উঠতেই গতি বেড়ে গেল। ঢাকার কোলাহল পেরিয়ে গাড়ি যখন গাজিপুরের নির্জন প্রাকৃতির সবুজ রাস্তার দিকে এগিয়ে চলছিল, তখন ভেতরের পরিবেশ ক্রমশ ভারী হয়ে উঠছিল।
"আপনি আমাকে কেন এভাবে অতিষ্ঠ করছেন, আরিয়ান?" তাসনিম জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বলল। "আপনি তো জানেন, আমি আপনাকে পছন্দ করি না।"
আরিয়ান স্ট্রিট লাইট আর চারপাশের গাছপালার দিকে চোখ রেখে বলল, "পছন্দ করো না? সত্যিই?"
সে হঠাৎ গাড়িটা রাস্তার একপাশে বনের আড়ালে থামিয়ে দিল। ইঞ্জিন বন্ধ করে দিল সে।
"আবার গাড়ি থামালেন কেন?" তাসনিম সতর্ক হয়ে সিটে সোজা হয়ে বসল।
আরিয়ান কোনো কথা না বলে সিটবেল্ট খুলে তাসনিমের দিকে হেলে পড়ল। সে তাসনিমের ওড়নাটা এক ঝটকায় সরিয়ে নিচে ফেলে দিল। তাসনিমের কামিজের গলার অংশটা উন্মুক্ত হয়ে পড়ল।
"তুমি আমাকে ঘৃণা করতে পারো তাসনিম, কিন্তু তোমার এই শরীর কেবল আমার ছোঁয়ার জন্যই ব্যাকুল হয়ে থাকে," আরিয়ান তাসনিমের কামিজের ওপর দিয়েই তার বুকের খাঁজে হাত রাখল। "বলো, আমি কি ভুল বলছি?"
"আপনি... আপনি একটা পশু!" তাসনিম চেঁচিয়ে উঠল, কিন্তু তার কন্ঠে কামনার কাঁপন স্পষ্ট।
আরিয়ান তাসনিমের গলার নিচে নিজের মুখ ডুবিয়ে দিল। কামিজের ফাঁক দিয়ে তার তপ্ত ঠোঁট আর জিব তাসনিমের নরম ত্বকে তীব্র তৃষ্ণা নিয়ে কামড় বসাতে লাগল। তাসনিম দুহাতে আরিয়ানের চুল চেপে ধরল, তাকে ঠেলে সরানোর জন্য নয়, বরং আরও কাছে টেনে নেওয়ার জন্য। আরিয়ানের উম্মাদ ভালোবাসার ছোঁয়ায় তাসনিমের ভেতরের সমস্ত সংযমের বাঁধ ভেঙে গেল।
আরিয়ানের হাত তাসনিমের কামিজের ভেতর ঢুকে পড়ে তার উন্মুক্ত কোমর আর পিঠে তীব্রভাবে চেপে বসল। তাসনিমের মুখ থেকে এক দীর্ঘ, গভীর ভালোবাসার গোঙানি বের হয়ে এল।
"আরিয়ান... প্লিজ..." তাসনিম আক্ষেপের স্বরে ফিসফিস করল।
"কী প্লিজ, তাসনিম? থামব, নাকি আরও গভীরে যাব?" আরিয়ান তার ঠোঁট তাসনিমের ঠোঁটের সাথে মিলিয়ে দিয়ে কামনাময় গলায় জিজ্ঞেস করল।
তাসনিম চোখ বন্ধ করে আরিয়ানের কাঁধে নিজের নখ বসিয়ে দিল। সে মুখে কিছু বলতে পারল না, কিন্তু তার প্রতিক্রিয়া আরিয়ানকে পরিষ্কার বার্তা দিল—আজ সে আত্মসমর্পণ করতে প্রস্তুত। আরিয়ানের ঠোঁটে এক পৈশাচিক জয়ের হাসি ফুটে উঠল।
গাড়ির সংকীর্ণ জায়গায় দুটো তৃষ্ণার্ত শরীরের উত্তাপ আর ঘন নিঃশ্বাসের শব্দে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। কামিজের ভেতরে আরিয়ানের শক্ত ও গরম হাতের ছোঁয়ায় তাসনিমের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এক অজানা কামনার আগুন জ্বলছিল। সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারছিল না। আরিয়ানের উন্মাদের মতো চাওয়া আর নিজের ভেতরের অবাধ্য আকুলতা এক হয়ে তাসনিমের সমস্ত প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ছারখার করে দিয়েছিল।
আরিয়ান তাসনিমের ঠোঁটে এক দীর্ঘ, গভীর ও সর্বগ্রাসী চুমু এঁকে দিল। তাসনিম এবার পিছিয়ে যায়নি; বরং নিজের দুহাতে আরিয়ানের গলার পারফিউমের মাতাল করা সুবাস বুক ভরে টেনে নিয়ে সে-ও সমানে সাড়া দিতে লাগল। আরিয়ানের জিবের আলতো ছোঁয়া আর কামড় তাসনিমের শরীরজুড়ে বিদ্যুতায়িত শিহরণ জাগিয়ে তুলছিল।
"তুমি যতই অস্বীকার করো না কেন তাসনিম," আরিয়ান তার ঠোঁট তাসনিমের ঠোঁট থেকে সরিয়ে এনে গলার রগ ঘেঁষে নামিয়ে আনল, "তোমার এই উত্তপ্ত নিঃশ্বাস আর তোমার এই শরীর বলে দিচ্ছে—তুমি কেবলই আমার।"
আরিয়ান তাসনিমের কামিজের ওপরের দুটো বোতাম খুলে ফেলল। কামিজের ভেতরের মসৃণ, তপ্ত ত্বক উন্মুক্ত হতেই আরিয়ান আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। তার উষ্ণ ঠোঁট আর জিব তাসনিমের গলার নিচ থেকে শুরু করে কলারবোন আর বুকের খাঁজে উন্মাদের মতো রাজত্ব করতে লাগল। প্রতিটা স্পর্শে তাসনিম চোখ বন্ধ করে শিউরে উঠছিল, তার হাতের নখগুলো আরিয়ানের চওড়া পিঠের ওপর স্যুটের কাপড়ের ওপর দিয়েই গেঁথে যাচ্ছিল।
"আহ্... আরিয়ান..." তাসনিমের গলা দিয়ে এক গভীর গোঙানি বেরিয়ে এল। সে নিজের কামনার এমন বহিঃপ্রকাশ দেখে নিজেই লজ্জিত হচ্ছিল, কিন্তু আরিয়ানের ছোঁয়ার জাদু তাকে পুরোটাই নিজের বশে নিয়ে নিয়েছিল।
আরিয়ানের হাত তখন তাসনিমের শালীনতার সব সীমা অতিক্রম করে তার কামিজের তলদেশ দিয়ে উরুর মসৃণ ত্বকে পৌঁছাল। উরুর সংবেদনশীল অংশে আরিয়ানের তপ্ত আঙুলের ছোঁয়া পেতেই তাসনিম হালকা কেঁপে উঠে আরিয়ানের বুকে নিজের মুখটা লুকিয়ে ফেলল।
"আমায় এভাবে পাগল করে দিও না, তাসনিম," আরিয়ান ফিসফিস করে বলল। তার গলার স্বর উগ্র কামনায় কাঁপছিল। "তোমাকে পুরোটা না পেলে আমি আজ শান্ত হব না।"
আরিয়ান তাসনিমের মুখটা তুলে ধরে আবার তার ঠোঁট দুটো নিজের ঠোঁটের ফাঁকে নিয়ে চুষতে শুরু করল। অন্য হাতে সে তাসনিমের সালোয়ারের ফিতা আলগা করে তার মসৃণ উরুর আরও গভীরে নিজের হাত বাড়িয়ে দিল। আঙুলের সূক্ষ্ম সঞ্চালনে তাসনিমের শরীরের প্রতিটা শিরা যেন জ্বলে উঠল। সে এক তীব্র চরম আনন্দের দিকে ভেসে যাচ্ছিল, যেখানে কোনো রাগ নেই, কোনো ঘৃণা নেই, আছে কেবল দুই ভিন্ন মেরুর মানুষের এক হয়ে যাওয়ার ব্যাকুলতা।
ঠিক তখনই, বনের নির্জনতা চিরে হঠাৎ একটা বড় লরির বিকট হর্ন বেজে উঠল। লরিটা তাদের গাড়ির পাশ দিয়ে প্রচণ্ড গতিতে ধুলো উড়িয়ে চলে গেল।
সেই বিকট শব্দে দুজনই যেন বাস্তবে ফিরে এল। তাসনিম ঝটকায় চোখ খুলল। গাড়ির সামনের আয়নায় নিজের অবিন্যস্ত পোশাক, লাল হয়ে থাকা ঠোঁট আর গলায় আরিয়ানের কামড়ের লাল দাগ দেখে তার ভেতরের আত্মসম্মানবোধ এক মুহূর্তে জেগে উঠল। সে কী করছিল? যে লোকটাকে সে সহ্য করতে পারে না, তার কাছেই সে এভাবে নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছিল?
লজ্জা আর অপরাধবোধে তাসনিমের চোখ জলে ভরে উঠল। সে সজোরে আরিয়ানকে ঠেলে সরিয়ে দিল।
"সরে যান! স্পর্শ করবেন না আমাকে!" তাসনিম হাঁপাতে হাঁপাতে চেঁচিয়ে উঠল।
আরিয়ান কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে তাসনিমের দিকে তাকাল। সে তখনও কামনার ঘোরে আচ্ছন্ন, "তাসনিম, কী হয়েছে তোমার? তুমি তো নিজেও..."
"বন্ধ করুন আপনার এই বাজে কথা!" তাসনিম কাঁপতে থাকা হাতে নিজের খোলা বোতামগুলো লাগিয়ে নিল, ওড়নাটা টেনে নিয়ে নিজেকে ভালোভাবে ঢেকে ফেলল। তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল। "আপনি আমার দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছেন। আমি আপনাকে ঘৃণা করি, মিস্টার আরিয়ান! অত্যন্ত ঘৃণা করি!"
আরিয়ান তাসনিমের চোখে জল দেখে মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল। তার জেদি, কঠিন মুখটা কিছুটা নরম হলো, কিন্তু নিজের অহংকার সে নামাতে পারল না। সে সোজা হয়ে নিজের সিটে বসল, একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্ট দিল।
"তোমার এই ঘৃণার আড়ালেই যে গভীর প্রেম লুকিয়ে আছে, তা তুমি খুব ভালো করেই জানো," আরিয়ান স্টিয়ারিং ধরে শান্ত কিন্তু দৃঢ় গলায় বলল। "কান্নাকাটি করে লাভ নেই। সাইট ভিজিট শেষ করতেই হবে।"
বাকীটা পথ গাড়িতে আর কোনো কথা হলো না। চরম এক থমথমে নীরবতা বিরাজ করছিল দুজনের মাঝে।
দুপুর নাগাদ তারা গাজিপুরের রিসোর্ট প্রজেক্টের সাইটে পৌঁছাল। ঘন জঙ্গলের মাঝে বিশাল বিস্তৃত জমি, যেখানে আধুনিক এক রিসোর্ট তৈরি হবে। প্রজেক্টের স্থানীয় সাইট ইঞ্জিনিয়াররা তাদের অভ্যর্থনা জানাল।
কাজ শুরু হতেই তাসনিম নিজেকে পুরোটাই পেশাদারিত্বের মোড়কে ঢেকে ফেলল। সে আরিয়ানের দিকে একবারও তাকাল না, কেবল ড্রয়িং ফাইল আর জমিন পরিমাপের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। আরিয়ান দূরে দাঁড়িয়ে গভীর মনোযোগে তাসনিমের গম্ভীর কিন্তু তীক্ষ্ণ কাজ লক্ষ্য করছিল। মেয়েটির এই রূপটাও আরিয়ানকে সমানভাবে আকর্ষণ করছিল।
বিকেলের দিকে প্রজেক্টের গভীর বনাঞ্চলের দিকের অংশটুকু পরিদর্শনের জন্য তাসনিম একটু একা একা ভেতরের দিকে এগিয়ে গেল। সাইটের নকশার সাথে গাছের সীমানা মেলাচ্ছিল সে। আরিয়ান তখন ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে কটেজের প্ল্যান নিয়ে আলোচনা করছিল।
হঠাৎ আকাশের মুখ কালো হয়ে এল। গাজিপুরের জঙ্গলে হঠাৎ করেই কালো মেঘ জমে মুষলধারে কালবৈশাখী ঝড় আর বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। প্রবল বাতাসে গাছের বড় বড় ডালপালা ভেঙে পড়তে লাগল।
সাইট ক্যাম্পের তাবুগুলো বাতাসে উড়ে যেতে লাগল। সবাই দৌড়াদৌড়ি করে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে যেতে লাগল।
আরিয়ান চারপাশে তাকিয়ে তাসনিমকে দেখতে পেল না। "তাসনিম কোথায়?" সে চেঁচিয়ে উঠতেই এক ইঞ্জিনিয়ার বলল, "ম্যাডাম তো ওই পেছনের বনের সীমানার দিকে গিয়েছিলেন!"
আরিয়ানের বুকের ভেতরটা হঠাৎ এক অজানা ভয়ে ছ্যাঁৎ করে উঠল। বৃষ্টি আর ঝড়ের তোয়াক্কা না করে সে এক দৌড়ে বনের ভেতরের দিকে ছুটল।
"তাসনিম! তাসনিম!" আরিয়ান চিল চিৎকার করে ডাকতে লাগল।
ঝড়ের তাণ্ডবে বনের গাছপালা দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছিল। কিছুটা গভীরে যেতেই আরিয়ান দেখতে পেল, একটা বিশাল গাছের ডাল ভেঙে পড়ে পথ বন্ধ হয়ে গেছে। আর তার পাশেই কাদা ও বৃষ্টির জলের মধ্যে তাসনিম পড়ে আছে, তার একটা পা ডালের নিচে আটকে গেছে। সে যন্ত্রণায় কোঁকাচ্ছিল।
"তাসনিম!" আরিয়ান উন্মাদের মতো দৌড়ে গিয়ে তাসনিমের পাশে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল।
তাসনিম চোখ তুলে তাকাল। তার সুতির পোশাক বৃষ্টিতে ভিজে গায়ের সাথে একদম সেঁটে গেছে, বৃষ্টির ফোঁটা তার ফর্সা মুখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে। ব্যথায় তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
আরিয়ান নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে ভারী ডালটা তুলে একপাশে সরিয়ে দিল। সে তাসনিমকে দুহাতে কোলে তুলে নিল।
"আমাকে ছেড়ে দিন... আমি নিজে যেতে পারব," তাসনিম ব্যথায় কেঁপে উঠে বলল।
"একদম চুপ!" আরিয়ান গর্জনে উঠে বলল, তার চোখে তাসনিমকে হারানোর এক চরম আতঙ্ক স্পষ্ট ছিল। "একটা কথাও বলবে না এখন!"
ঝড় আর মুষলধারার বৃষ্টিতে তারা ব্যাকট্র্যাক করে সাইট ক্যাম্পে ফিরতে পারল না, কারণ মূল রাস্তা ধসে গেছে। বাধ্য হয়ে আরিয়ান তাসনিমকে কোলে নিয়ে কাছেই নির্মাণাধীন একটা ছোট্ট কাঠের ওয়াচটাওয়ারে উঠে এল, যার ওপরে টিনের চাল ছিল।
টিনের চালে বৃষ্টির বিকট শব্দ হচ্ছিল। পুরোটা ঘর ফাঁকা আর অন্ধকার। বাইরে ঝড় বাতাসের কনকনে ঠান্ডা।
আরিয়ান তাসনিমকে একটা শুকনো জায়গায় সাবধানে বসিয়ে দিল। তাসনিম শীতে থরথর করে কাঁপছিল। তার ভেজা সুতির কামিজ একদম সচ্ছ হয়ে শরীরের সাথে লেগে ছিল, যার ভেতর দিয়ে তার প্রতিটি অঙ্গের খাঁজ স্পষ্ট দৃশ্যমান।
আরিয়ান নিজের গায়ের ভিজে যাওয়া শার্টটা খুলে একপাশে ছুড়ে ফেলল। তার সুগঠিত, চওড়া পুরুষালী খালি বুকটা অন্ধকারের আলোছায়ায় স্পষ্ট হয়ে উঠল।
সে তাসনিমের সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসল। তাসনিমের ঠকঠক করে কাঁপতে থাকা শরীরটা দেখে আরিয়ান আর স্থির থাকতে পারল না। সে তাসনিমকে টেনে নিজের খালি বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরল।
"ছাড়ুন..." তাসনিম দুর্বল কণ্ঠে প্রতিবাদ করতে চাইল, কিন্তু তার শরীরে কোনো শক্তি ছিল না।
"তোমার শরীর জমে যাচ্ছে তাসনিম," আরিয়ানের গলার স্বর কাঁপা আর আবেগঘন শোনালো। "এখন কোনো জেদ নয়। আমার উত্তাপটুকু তোমাকে নিতেই হবে।"
আরিয়ানের খালি বুকের তপ্ত স্পর্শ তাসনিমের ভিজে যাওয়া শরীরে পৌঁছাতেই তাসনিম এক অদ্ভুত আরাম অনুভব করল। আরিয়ানের হৃত্পিণ্ডের দ্রুত স্পন্দন সে নিজের গালে পাচ্ছিল।
আরিয়ান তাসনিমের ভেতরের পোশাকের ভেজা অংশগুলো সামলে নিয়ে তার পিঠে নিজের খালি হাত দুটো বুলিয়ে উত্তাপ দিতে লাগল। সেই অন্ধকারে, ঝড়ের রাতে, দুজন সম্পূর্ণ ভিজে যাওয়া মানুষের শরীর এক অপরের উষ্ণতায় মিশে যেতে লাগল।
আরিয়ান মুখ নামিয়ে তাসনিমের ভেজা ঠোঁটে নিজের ঠোঁট রাখল। এবার সেই চুমুতে কোনো জোরজবরদস্তি ছিল না, ছিল এক ব্যাকুল যত্ন আর আদিম ভালোবাসা। তাসনিম আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না, সে নিজের দুটো ভেজা হাত আরিয়ানের খালি পিঠে জড়িয়ে ধরে সেই তপ্ত ভালোবাসায় নিজেকে সঁপে দিল।
টিনের চালে কালবৈশাখীর তাণ্ডব আর বনের আদিম গর্জন যেন দুটো তীব্র তৃষ্ণার্ত আত্মাকে আরও কাছাকাছি এনে দিল। বাইরের কনকনে শীতল বাতাসের বিপরীতে সেই নির্জন কাঠের ঘরে কেবল দুজন মানুষের শ্বাসের উত্তাপ আর ব্যাকুল স্পন্দন রাজত্ব করছিল।
আরিয়ানের সুগঠিত, উন্মুক্ত বুকের তপ্ত স্পর্শে তাসনিমের জমে যাওয়া শরীর ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসছিল। আরিয়ানের গভীর ও মসৃণ পরশ তাসনিমের ভেতরের সব সংশয়কে এক নিমেষে মুছে দিল। আরিয়ান মুখ নামিয়ে তাসনিমের ভেজা থুতনি, ঘাড় আর কলারবোনে তার উষ্ণ ঠোঁট বুলাতে লাগল। প্রতিটি স্পর্শে তাসনিমের ভেতর এক তীব্র ঢেউ উঠছিল।
"আরিয়ান..." তাসনিমের কণ্ঠ হতে হালকা আক্ষেপের সুর ভেসে এল।
"কথা বোলো না, তাসনিম," আরিয়ান তাসনিমের ভেজা চুলগুলো আলতো করে সরিয়ে তার কানের লতিতে উষ্ণ নিঃশ্বাস ফেলল। "আজ রাতে শুধু আমাকে অনুভব করো।"
আরিয়ান তাসনিমের কামিজের ভেজা কাপড়টা ধীরে ধীরে কাঁধ থেকে নামিয়ে দিল। উন্মুক্ত ফর্সা পিঠের ওপর আরিয়ানের শক্ত হাতে তপ্ত আঙুলগুলো ছোঁয়াতেই তাসনিম মৃদু শিউরে উঠে আরিয়ানের গলায় নিজের হাত দুটো আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। আরিয়ানের কামনাময় ঠোঁট এবার নেমে এল তাসনিমের উন্মুক্ত বুকে। তার গভীর চুমু আর আলতো কামড়ে তাসনিম নিজের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলল।
তাসনিমের কোনো বাঁধ সাধার শক্তি ছিল না, আর না ছিল কোনো ইচ্ছা। সে তার সমস্ত জেদ, রাগ আর অহংকারকে পেছনে ফেলে আরিয়ানের খালি পিঠে নিজের নখ বসিয়ে দিল। আরিয়ান তাসনিমকে কোলে তুলে নিয়ে কাঠের মেঝেই বিছানো এক টুকরো শুকনো ক্যানভাসের ওপর শুইয়ে দিল।
অন্ধকারের আবছায়ায় তাসনিমের সিক্ত, রূপময় শরীরটা আরিয়ানের চোখের তৃষ্ণা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। আরিয়ান তার ওপর ঝুঁকে পড়ে তাসনিমের ঠোঁট দুটোকে নিজের ঠোঁটের গভীর ভালোবাসায় বন্দি করে নিল। এবার কোনো তাড়া ছিল না, ছিল কেবল একে অপরকে অনুভূতির শেষবিন্দু পর্যন্ত চেনার আকুলতা। আরিয়ানের হাত তাসনিমের উন্মুক্ত নাভি, কোমর আর উরুর খাঁজে রাজত্ব করতে লাগল, যার ছোঁয়ায় তাসনিমের মুখ থেকে বারবার এক গভীর ভালোবাসার গোঙানি বেরিয়ে আসছিল।
"তুমি আমার, তাসনিম... শুধুই আমার," আরিয়ান তাসনিমের ঠোঁটের কোণে ফিসফিস করে বলল।
"আমি আপনাকে ঘৃণা করতে চেয়েছিলাম..." তাসনিম চোখ বন্ধ করে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, "কিন্তু... কেন পারলাম না?"
"কারণ ভালোবাসা আর ঘৃণার দূরত্ব খুব কম, তাসনিম," আরিয়ান তাসনিমের ঠোঁটে চরম অনুভূতির এক দীর্ঘ চুম্বন এঁকে দিল।
সে রাতে বনের ঝড়ের গর্জনকে ছাপিয়ে গিয়েছিল দুটো হৃদয়ের মাতাল করা সুর। তাসনিম সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়ে সঁপে দিয়েছিল নিজেকে আরিয়ানের তপ্ত বাহুডোরে, আর আরিয়ানও তাকে চেনা-অচেনা অনুভূতির গভীরতম সীমায় নিয়ে গিয়েছিল।
পরদিন সকাল।
বনের ঝড় থেমে গিয়ে চারপাশ শান্ত। ভোরের সোনাঝরা রোদ এসে পড়েছে কাঠের ওয়াচটাওয়ারের জানালায়।
তাসনিম চোখ খুলল। তার সমস্ত শরীরে এক অপূর্ব শিহরণ আর হালকা ব্যথার অনুভূতি। সে তাকিয়ে দেখল আরিয়ানের চওড়া বুকের ওপর মাথা রেখে সে ঘুমিয়ে ছিল। আরিয়ানের একটা শক্ত বাহু তাসনিমের কোমর জড়িয়ে ধরে আছে অতি আদরে।
তাসনিমের মনে এক অদ্ভুত অনুশোচনা আর চরম ভালোলাগার মিশ্র অনুভূতি তৈরি হলো। সে ধীরে ধীরে আরিয়ানের বাঁধন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু আরিয়ান ঘুমঘোরেই তাকে আরও কাছে টেনে নিয়ে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরল।
"কোথায় যাচ্ছ?" আরিয়ানের ঘুমজড়ানো গভীর গলা শোনা গেল। সে চোখ না খুলেই তাসনিমের কপালে এক দীর্ঘ চুমু দিল।
"আজকের দিনটা আলাদা, আরিয়ান," তাসনিম আলতো করে আরিয়ানের বুকে হাত রেখে বলল। সে নিজের জামাকাপড় ঠিক করে উঠে দাঁড়াল। "কাল রাতের ঝড়টা একটা দুর্ঘটনা ছিল। এটাকে কোনো পরিণতি ভাববেন না।"
আরিয়ান চোখ খুলে সোজা হয়ে বসল। তার সুপুরুষ মুখে এক কঠোর ভাব ফুটে উঠল, "দুর্ঘটনা? তোমার শরীর আর মনের এই আকুল সাড়াকে তুমি দুর্ঘটনা বলছ, তাসনিম?"
"আমি আর কিছু বলতে চাই না," তাসনিম মুখ ফিরিয়ে নিল। "আমাদের প্রজেক্টের কাজ শেষ, আর আমাদের সম্পর্কও এখানেই শেষ হওয়া উচিত।"
আরিয়ান উঠে দাঁড়িয়ে তাসনিমের সামনে এসে দাঁড়াল। সে তাসনিমের চিবুক ধরে নিজের দিকে ফেরাল, "তুমি নিজেকে যতই ধোঁকা দাও না কেন, কাল রাতের প্রতিটা ছোঁয়া সত্যি ছিল। তুমি আমাকে ভালোবাসো তাসনিম, আর তা স্বীকার করতে তোমার এত ভয় কিসের?"
তাসনিম কোনো জবাব দিতে পারল না। সে এক দৌড়ে নিচে নেমে গেল।
দুই সপ্তাহ কেটে গেছে।
সেই ঝড়ের রাতের পর থেকে তাসনিম আরিয়ানের সাথে কোনো যোগাযোগ রাখেনি। সে আরিয়ানের ফোন কল এড়িয়ে গেছে, অফিসে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু তার মনের ভেতরে প্রতিনিয়ত আরিয়ানের নাম জপ হচ্ছিল। প্রতি রাতে ঘুমানোর সময় তার শরীরে আরিয়ানের সেই তপ্ত ছোঁয়া আর পৈশাচিক চুমুর অনুভূতি ভেসে উঠত।
কিন্তু কয়েকদিন ধরে তাসনিমের শরীরটা একদম ভালো যাচ্ছে না। সকালের দিকে তীব্র মাথা ঘোরানো আর গা গুলানোর অনুভূতি হচ্ছে।
আজ সকালে বাথরুমে গিয়ে কয়েকবার বমি করার পর তাসনিম আর সহ্য করতে পারল না। সে নিজের দুর্বল শরীর নিয়ে সোফায় এসে বসল। তার মা চিন্তিত মুখে এগিয়ে এলেন, "কী হয়েছে তাসনিম? তোর মুখ এত ফ্যাকাশে লাগছে কেন? কয়দিন ধরে তুই কিছুই খেতে পারছিস না।"
"কিছু না আম্মা, মনে হয় এসিডিটির সমস্যা," তাসনিম বলল।
"না, এভাবে হবে না। তুই তৈরি হ, আমি তোকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাচ্ছি," আম্মা শক্ত গলায় বললেন।
বিকেলে ধানমন্ডির এক নামকরা গাইনোকোলজিস্টের চেম্বারে তাসনিম আর তার মা বসে ছিলেন। ডাক্তার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেন।
প্রায় আধা ঘণ্টা পর ডাক্তার রিপোর্টগুলো হাতে নিয়ে তাসনিমের দিকে তাকালেন। ডাক্তারের মুখে এক হালকা হাসি।
"অভিনন্দন মিস তাসনিম," ডাক্তার বললেন। "আপনি প্রায় চার সপ্তাহের গর্ভবতী।"
কথাটা শোনার সাথে সাথে যেন তাসনিমের মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়ল। চারপাশটা এক মুহূর্তের জন্য পুরো থমকে গেল। তাসনিমের আম্মা চোখ বড় বড় করে তাকালেন, "কী বলছেন ডাক্তারসাহেব! এসব কী কথা? তাসনিমের তো এখনো বিয়েই হয়নি!"
ডাক্তারের মুখ গম্ভীর হয়ে গেল, "রিপোর্ট একদম পরিষ্কার, আন্টি। উনি গর্ভবতী।"
তাসনিমের বুক ছ্যাঁৎ করে উঠল। গাজিপুরের সেই ভেজা রাতের ওয়াচটাওয়ার, ঝড়ের তাণ্ডব আর আরিয়ানের সেই অনিয়ন্ত্রিত ভালোবাসার কথা তার চোখের সামনে ভেসে উঠল।
তাসনিমের মা রাগে আর কষ্টে কাঁপতে কাঁপতে তাসনিমের দিকে তাকালেন, "তাসনিম! এসব কী শুনছি আমি? কার পাপ পেটে নিয়ে ঘুরছিস তুই? জবাব দে!"
তাসনিম কোনো কথা বলতে পারল না, কেবল তার চোখ দিয়ে জলের ধারা নেমে এলো। সে কীভাবে বলবে যে সে যার সন্তান গর্ভে ধারণ করছে, তাকে সে মুখে ঘৃণা করলেও মন থেকে ভালোবাসে?
ঠিক তখনই চেম্বারের দরজাটা সজোরে খুলে গেল। ভেতরে প্রবেশ করল কালো স্যুট পরা আরিয়ান। তার চোখ দুটো লাল, চেহারায় উদ্বেগের ছাপ।
"ও কারও পাপের সন্তান নয়, আন্টি," আরিয়ান গম্ভীর, দৃঢ় ও পুরুষালী গলায় ঘর কাঁপিয়ে বলে উঠল। "ওটা আমার আর তাসনিমের ভালোবাসা। আমার সন্তান।"
ডাক্তারের চেম্বারের ভেতর তীব্র নীরবতা নেমে এল। তাসনিমের আম্মা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন, তার চোখ দুটো বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচালে স্থির। অন্যদিকে তাসনিম নিজের চোখ দুটো বড় বড় করে আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে রইল। কালো স্যুটে আবৃত আরিয়ানের চোখেমুখে তখন কোনো অহংকার বা জেদ ছিল না, ছিল কেবল এক অপরিসীম দায়বদ্ধতা আর অনুশোচনার ছায়া।
"তুমি... তুমি কী বলছ এসব, আরিয়ান?" তাসনিমের আম্মা কাঁপানো গলায় জিজ্ঞেস করলেন। "তুমি তো ওর বাবার প্রজেক্ট পার্টনার..."
আরিয়ান ধীর পায়ে এগিয়ে এসে তাসনিমের আম্মার সামনে দাঁড়াল। মাথাটা কিছুটা নিচু করে বিনীত গলায় বলল, "আন্টি, আমি তাসনিমকে প্রথম দিন দেখেই ভালোবেসে ফেলেছিলাম। আমার প্রকাশটা হয়তো ভুল ছিল, আমার আচরণে উগ্রতা ছিল, কিন্তু আমার ভালোবাসায় কোনো ভেজাল ছিল না। গাজিপুরের সেই ঝড়ের রাতে যা হয়েছে, তার পুরো দায় আমার। তাসনিম নির্দোষ।"
তাসনিম আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। মুখ ঢেকে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল সে। তার শরীরের ভেতরের দীর্ঘদিনের রাগ, লজ্জা, আর আরিয়ানের প্রতি জমে থাকা নামহীন টানের বাঁধ এক ঝটকায় ভেঙে গেল।
আরিয়ান হাঁটু গেড়ে তাসনিমের সামনে বসল। তাসনিমের দুটো কাঁপতে থাকা হাত নিজের শক্ত হাতের তালুতে জড়িয়ে নিল। তার চোখে চোখ রেখে আর্দ্র গলায় বলল, "আমাকে ক্ষমা করে দাও, তাসনিম। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি। নিজের অজান্তেই তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। তোমার এই চোখের জল আর তোমার গর্ভের এই নতুন প্রাণ—দুটোর দায়িত্বই আমি সারাজীবন নিতে চাই। আমাকে কি একটা সুযোগ দেবে?"
তাসনিম জলভরা চোখে আরিয়ানের মুখের দিকে তাকাল। আরিয়ানের এই নতজানু, ব্যাকুল রূপ সে আগে কখনো দেখেনি। যে লোকটা চরম অহংকারী ছিল, সে আজ তাসনিমের ভালোবাসার কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করেছে। তাসনিম বুঝতে পারল, সে আরিয়ানকে ঘৃণা করার যত চেষ্টাই করুক না কেন, তার হৃদয় অনেক আগেই এই পুরুষটার কাছে হেরে গেছে।
তাসনিম ধীরে ধীরে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিল। আরিয়ান এক মুহূর্ত সময় না নিয়ে তাসনিমকে টেনে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরল। তাসনিমও আরিয়ানের কাঁধে মুখ গুঁজে নিজের সমস্ত ব্যাকুলতা উজার করে দিল।
ঘটনার দুই সপ্তাহ পর।
দুই পরিবারের সম্মতিতে ধানমন্ডির সেই একই অভিজাত কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজন করা হলো এক জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠান। তবে আজকের পরিবেশটা প্রথম দিনের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। আজ কোনো অচেনা দূরত্ব নেই, নেই কোনো অহেতুক তিক্ততা।
কনে সাজে সাজঘরে বসে ছিল তাসনিম। পরনে গভীর লাল রঙের বেনারসি শাড়ি, গলায় গাঢ় সোনার গয়না, চুলে তাজা বেলী ফুলের গাজরা আর ঠোঁটে গাড় ম্যাট লাল লিপস্টিক। আয়নায় নিজেকে দেখতে গিয়ে তাসনিমের গাল দুটো লজ্জায় লাল হয়ে উঠছিল।
দরজায় হালকা টোকা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করল আরিয়ান। আজ তার পরনে ধবধবে সাদা রেশমি শেরওয়ানি, মাথায় রাজকীয় পাগড়ি।
আয়নায় তাসনিমের রূপ দেখে আরিয়ান দরজাতেই থমকে গেল। সে ধীর পায়ে এগিয়ে এসে তাসনিমের পেছনে দাঁড়াল। আয়নায় তাসনিমের চোখের সাথে তার চোখ মিলল।
"প্রথম দিন এই বেলী ফুলের গন্ধে আর রয়্যাল ব্লু শাড়িতে তোমায় দেখে আমার বুকের ভেতর ঝড় উঠেছিল," আরিয়ান তাসনিমের নগ্ন কাঁধে নিজের তপ্ত ঠোঁট ছুঁয়ে ফিসফিস করে বলল। "আর আজ লাল শাড়িতে তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে, আমার পুরো জীবনটাই আলোয় ভরে গেছে।"
তাসনিম ঘুরে দাঁড়িয়ে আরিয়ানের বুকের ওপর নিজের হাত রাখল। আরিয়ানের হার্টবিট স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিল সে।
"আপনি বড্ড একগুঁয়ে আর অহংকারী, মিস্টার আরিয়ান," তাসনিম আলতো হেসে বলল।
"আর তুমি বড্ড জেদি, মিস তাসনিম," আরিয়ান বাঁকা হেসে তাসনিমের কোমর জড়িয়ে তাকে কাছে টেনে নিল। "কিন্তু এই জেদি মেয়েটার ভালোবাসাই আমার অহংকার ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।"
আরিয়ান মুখ নামিয়ে তাসনিমের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট চেপে ধরল। এবার সেই চুমুতে কোনো জোরজবরদস্তি ছিল না, ছিল পরম নিরাপত্তা, গভীর শ্রদ্ধা আর সীমাহীন গভীর ভালোবাসা। তাসনিমও নিজের দুহাতে আরিয়ানের গলার পেছনের চুলগুলো আঁকড়ে ধরে সমানে সাড়া দিল।
কয়েক মাস পর...
কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে এক পড়ন্ত বিকেলে হাতে হাত রেখে হাঁটছিল আরিয়ান আর তাসনিম। সমুদ্রের বিশাল ঢেউগুলো এসে তাদের পায়ে আছড়ে পড়ছিল।
তাসনিমের গর্ভ এখন বেশ স্পষ্ট। সে শাড়ির কুঁচি সামলে হাঁটছিল, আর আরিয়ান একহাতে তাসনিমের কোমর ধরে তাকে আগলে রাখছিল, যেন বাতাসেও তার কোনো কষ্ট না হয়।
সূর্যাস্তের লালচে আলো এসে পড়েছে তাসনিমের চোখেমুখে। আরিয়ান হঠাৎ থেমে তাসনিমের মুখোমুখি দাঁড়াল। সে হাত বাড়িয়ে তাসনিমের স্ফীত পেটে নিজের তপ্ত হাতের তালু রাখল। ভেতর থেকে এক হালকা নড়াচড়া অনুভব করতেই আরিয়ানের মুখে এক স্বর্গীয় হাসি ফুটে উঠল।
"ধন্যবাদ তাসনিম," আরিয়ান তাসনিমের কপালে এক দীর্ঘ চুমু এঁকে দিল। "আমাকে এক পূর্ণাঙ্গ পুরুষ বানানোর জন্য।"
তাসনিম আরিয়ানের চওড়া বুকে নিজের মাথাটা এলিয়ে দিল। সমুদ্রের তপ্ত বাতাস আর ভেজা বালুর গন্ধ তাদের চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছিল। যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল চরম বিরক্তি আর গভীর শারীরিক আকর্ষণ দিয়ে, আজ তা পরিণত হয়েছে এক চিরন্তন ভালোবাসার বন্ধনে। তাসনিম চোখ বন্ধ করে বিড়বিড় করে বলল, "আমি আপনাকে বড্ড ভালোবাসি, আরিয়ান।"
আরিয়ান তাসনিমকে আরও শক্ত করে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল। আর তাদের ওপর ধীরে ধীরে নেমে এল এক স্বপ্নিল, ভালোবাসায় ঘেরা রাত।
....