বসন্তের মিষ্টি রোদ বারান্দার গ্রিল গলে ড্রয়িংরুমের মার্বেলের মেঝেতে এসে পড়েছে। ঢাকার ধানমন্ডির ছিমছাম এই ফ্ল্যাটটিতে তানভীর আর নীহার যৌথ জীবনের চার মাস পার হতে চলল। অথচ ঘরের আসবাবগুলো যতটা চেনা মনে হয়, এই চার মাসে তানভীরকে নীহার ততটাই অচেনা লেগেছে।
সকাল আটটা বাজে। রান্নাঘর থেকে ধোঁয়া ওঠা এলাচ-চা আর গরম পরোটার সুবাস ভেসে আসছে। নীহা সুতির একটা জলপাই রঙের শাড়ি জড়িয়ে খোপাটা আলগা করে বেঁধে টেবিলে নাস্তা সাজাচ্ছিল। তার পরনে খুব সাধারণ পোশাক থাকলেও শাড়ির আঁচলটা বারে বারে কাঁধ থেকে খসে পড়ছিল, যা সে অলস ভঙ্গিতে বারবার ঠিক করে নিচ্ছিল। সদ্য স্নান সেরে আসা নীহার ফর্সা ত্বকে তখনও জলবিন্দু জমে ছিল, আর তার ভেজা চুলের তাজা শ্যাম্পুর সুবাস পুরো ঘরটাকে মাতাল করে তুলেছিল।
ঠিক তখনই রুম থেকে বেরিয়ে এলো তানভীর। পরনে ডার্ক ব্লু ফরমাল শার্ট, প্যান্টের বেল্ট বাঁধতে বাঁধতে সে টেবিলের দিকে এগোলো। সুঠাম দেহ, চৌকস চেহারা আর গভীর দুটি চোখ—তানভীরকে প্রথম দেখাতেই যে কেউ প্রেমে পড়তে বাধ্য। কিন্তু নীহার জন্য ওই চোখ দুটো যেন সবসময় এক রহস্যময় মেঘে ঢাকা থাকে।
"আজও চা ঠান্ডা হতে চলেছে নীহা! তুমি কি কোনো কাজ ঠিক সময়ে করতে পারো না?" তানভীরের কণ্ঠে অহেতুক কড়া সুর।
নীহা চমকে উঠে তানভীরের দিকে তাকাল। তার হাতে চায়ের কাপটা সামান্য কেঁপে উঠল। সে শান্ত গলায় বলল, "না তো, এইমাত্র ঢাললাম। একদম ধোঁয়া উঠছে দেখো..."
"আমাকে শেখাতে এসো না," তানভীর ল্যাপটপ ব্যাগটা চেয়ারের ওপর প্রায় ছুড়ে ফেলার মতো করে রেখে টেবিলে বসল। "তোমার এই ঢিলেঢালা ভাবটা আমার একদম সহ্য হয় না। এত সকালে এসব ঘ্যানঘ্যান ভালো লাগে না।"
নীহা আর কথা বাড়াল না। তার বুকের ভেতরে এক বিষাদময় কষ্ট মোচর দিয়ে উঠল। বিয়ের পর থেকেই তানভীরের এই রূপ। তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয় নিয়ে সে রেগে যায়, খিটখিট করে। কখনো নীহার রান্নার খুঁত ধরে, কখনো শাড়ির কুঁচি কেন গুছানো নেই তা নিয়ে চড়ায় গলার স্বর। নীহা ভেবে নিয়েছে, এই বিয়েতে তানভীরের হয়তো কোনো সম্মতি ছিল না। পারিবারিকভাবে বিয়েটা হওয়ায় সে বাধ্য হয়ে নীহাকে গ্রহণ করেছে, কিন্তু মন থেকে হয়তো কখনো মেনে নিতে পারেনি। সে হয়তো নীহাকে বিন্দুমাত্র পছন্দ করে না।
অথচ নীহা যদি জানত!
তানভীর যখন চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিল, তার চোখ দুটি আড়ালে নীহার ওপরই আটকে ছিল। নীহা যখন তার পাশ কেটে পানির জগটা আনতে গেল, তানভীরের শ্বাস আটকে আসার উপক্রম হলো। নীহার আঁচল সরে গিয়ে উন্মুক্ত হওয়া পাতলা কোমর আর ভেজা ঘাড়ের ভাঁজ তানভীরের রক্তে এক অদ্ভুত আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছিল। তানভীরের তীব্র ইচ্ছে করছিল নীহাকে সোজা নিজের কোলে টেনে নিয়ে তার ওই ভেজা চুলে মুখ গুজে দিতে, উন্মুক্ত কোমরে আঙুলের শক্ত স্পর্শে তাকে নিজের করে বাঁধতে। কিন্তু এক অদ্ভুত অজানা ভয়, এক অদ্ভুত অভিমান তানভীরকে আটকে রাখে। সে ভালোবাসার প্রকাশ জানে না, সে শুধু জানে নিজেকে আড়াল করতে। আর সেই আড়াল করার তীব্র চেষ্টার ফসল হয়ে বেরিয়ে আসে অকারণ রাগ।
"তুমি কি নাস্তা খাবে না?" নীহা মিহি স্বরে জিজ্ঞেস করল, তার চোখ দুটো মেঝের দিকে নিবদ্ধ।
"তোমার সামনে বসে খাওয়ার রুচি হারিয়ে গেছে," তানভীর এক চুমুকে চা শেষ করে ধপ করে কাপটা রাখল। চেয়ারটা পেছনে ঠেলে এক ঝটকায় উঠে দাঁড়াল।
নীহার চোখে জল জমে উঠল, কিন্তু সে তা আড়াল করতে চট করে মুখ ফিরিয়ে নিল। নীহার এই দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা দেখে তানভীরের মেজাজ আরও বিগড়ে গেল। তানভীর এক পায়ে এগিয়ে এসে হুট করেই নীহার খুব কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়াল। তাদের দুজনের মধ্যে ইঞ্চিখানেকের দূরত্বও অবশিষ্ট রইল না।
নীহা চকিতে পেছনে হঠতে চাইল, কিন্তু দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকে গেল তার। তানভীর দুটো হাত নীহার দুই পাশে দেয়ালে রেখে তাকে পুরোপুরি আটকে ফেলল। তানভীরের গায়ের তীব্র পুরুষালি সুবাস আর তপ্ত শ্বাস নীহার গালে এসে আছড়ে পড়তে লাগল।
"আমার দিকে তাকিয়ে কথা বলবে নীহা," তানভীরের কণ্ঠ এখন একদম খাদে নামা, কিন্তু তাতে এক তীব্র আদেশ আর গোপন আকুলতা। "সবসময় চোখ চুরি করো কেন? আমাকে এত ভয় পাও নাকি ঘেন্না করো?"
নীহা বুকভরে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করল। তানভীরের এত কাছাকাছি আসা, তার গায়ের তপ্ত উত্তাপ নীহার শরীরের ভেতরে এক অজানা শিউরেন তুলে দিচ্ছিল। হৃদস্পন্দন যেন বুকের ছাতি ভেঙে বেরিয়ে আসবে। নীহা কাঁপা কণ্ঠে বলল, "তুমি... তুমি মিছেই রাগ করছ তানভীর। ছেড়ে দাও আমাকে, অফিস দেরি হয়ে যাচ্ছে তোমার।"
তানভীরের চোখ নীহার কাঁপা দুটি ঠোঁটের দিকে নেমে গেল। লালচে, কাঁচা গোলাপের পাপড়ির মতো ঠোঁট দুটো ভয়ে আর উত্তেজনায় কাঁপছিল। তানভীরের ইচ্ছে হলো এখনই সমস্ত রাগ বুভুক্ষের মতো ওই ঠোঁটে ঢেলে দিতে, ওকে এতটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে যেন ওদের মাঝের কোনো দূরত্ব না থাকে। তার ডান হাতের বুড়ো আঙুলটা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবেই নীহার চিবুক ছুঁয়ে গালের নরম ত্বকে একটু শক্ত চেপে বসল।
"আমি কখন যাব আর কখন ছাড়ব, সেটা আমি ঠিক করব," তানভীরের গলা ধরে এলো। তার চোখ জুড়ে নামল গভীর এক অন্ধকার নেশা। সে আরও একটু ঝুঁকে এলো নীহার দিকে, তার ঠোঁট নীহার কানের লতির খুব কাছে এসে থামল। তানভীরের তপ্ত শ্বাস নীহার ঘাড়ে এক শিহরণের ঝড় তুলল।
নীহা চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে ফেলল। তার সারা শরীর অবশ হয়ে আসছে। তানভীরের এই স্পর্শে কি শুধুই রাগ, নাকি অন্য কিছুর তীব্র দাবি? নীহা বুঝতে পারে না। তানভীর তার খুব কাছে ঘাড়ের ভাঁজে নিজের ঠোঁট দুটো হালকা ছোঁয়াল—এক মুহূর্তের জন্য, যেন খুব অসাবধানে লেগে গেল। কিন্তু সেই সামান্য ছোঁয়াতেই নীহার শিরদাঁড়া বেয়ে বিদ্যুতের তরঙ্গ খেলে গেল।
পরমুহূর্তেই তানভীর যেন নিজেকে সামলে নিল। সজোরে নিজেকে সরিয়ে নিল নীহার কাছ থেকে। তার নিজের ওপরই চরম রাগ হচ্ছিল। কেন সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না? কেন এই মেয়েটার একটু ছোঁয়া পেলেই সে নিজের সব কাঠিন্য হারিয়ে ফেলে?
"আজ বিকেলে আমার ফিরতে দেরি হবে। খাওয়ার জন্য বসে থাকবে না," এক দাপটে কথাটা বলেই তানভীর ল্যাপটপ ব্যাগ তুলে নিয়ে দরজার দিকে হনহন করে হেঁটে গেল। সজোরে দরজাটা বন্ধ করার শব্দে পুরো ফ্ল্যাটটা যেন কেঁপে উঠল।
দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে নীহা আস্তে আস্তে নিচে বসে পড়ল। তার বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে। চোখের জল আর আটকে রাখা গেল না, তা অনর্গল গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়তে লাগল।
নীহা নিজের গালে হাত দিল, যেখানে তানভীরের আঙুলের শক্ত চাপ এখনও স্পষ্ট। ঘাড়ে যেখানে তার ঠোঁট লেগেছিল, সেই জায়গাটা যেন এখনও আগুনে পুড়ছে। নীহা বিড়বিড় করে নিজেকেই বলল, "কেন এত যন্ত্রণা দাও তানভীর? যদি আমাকে নাই চাও, তবে এভাবে আটকে রেখে লাভ কী? এভাবে তো আমি আর বাঁচতে পারছি না..."
নীহার মনে আজ প্রথমবার এক চরম সত্য স্পষ্ট হয়ে উঠল। এই সম্পর্কের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। যে স্বামী প্রতিদিন তাকে কথায় কথায় অপমান করে, যার রাগের আগুনে প্রতিদিন তাকে জ্বলতে হয়, তার সাথে এক ছাদের নিচে থাকা আর সম্ভব নয়। নীহা সিদ্ধান্ত নিল, সে চলে যাবে। তানভীরের জীবন থেকে, এই ঘর থেকে অনেক দূরে।
কিন্তু নীহা জানে না, তানভীরের এই অনিয়ন্ত্রিত রাগের আড়ালে যে ভালোবাসা আগ্নেয়গিরির মতো জমে আছে, তা যেদিন ফেটে পড়বে, সেদিন তাদের কারোরই আর রক্ষা থাকবে না।
ঘড়ির কাঁটা রাত এগারোটা পেরিয়ে বারোটার ঘরে ছুঁইছুঁই। ড্রয়িংরুমের আবছা আলোয় সোফায় বসে ছিল নীহা। টেবিলের ওপর তানভীরের জন্য বেড়ে রাখা খাবারগুলো অনেক আগেই ঠান্ডা হয়ে গেছে। রাত বাড়ার সাথে সাথে নীহার ভেতরের সিদ্ধান্তটাও যেন আরও শক্ত পাথরের মতো জমাট বাঁধছিল। সে আর এই বাড়িতে থাকবে না। যে সংসারে তার কোনো স্থান নেই, যেখানে প্রতিটা পদে পদে তাকে অনাদর আর অপমান সহ্য করতে হয়, সেখানে পড়ে থাকার কোনো অর্থ হয় না।
হঠাৎ দরজায় চাবি ঘোরানোর শব্দ হলো। কপাট খুলে ভেতরে প্রবেশ করল তানভীর। তার পরনের শার্টের ওপরের দুটো বোতাম খোলা, টাইটা আলগা হয়ে ঝুলে আছে। মুখাবয়বে তীব্র ক্লান্তি, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এক গভীর অস্থিরতা।
সোফায় নীহাকে বসে থাকতে দেখে তানভীরের ভুরু কুঁচকে গেল। ঘরের আবছা আলোয় নীহাকে দেখতে এক অপরূপ দেবীর মতো লাগছিল। সুতির হালকা গোলাপি রঙের একটা থ্রি-পিস পরেছে সে, ওড়নাটা বুকে আলতো করে টানা। তার টানা টানা চোখদুটো ফোলা, স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে বেশ কিছুক্ষণ কেঁদেছে। নীহার ওই শান্ত, করুণ মুখটা দেখা মাত্রই তানভীরের বুকের ভেতর আবার সেই পরিচিত মোচড়টা দিয়ে উঠল। কিন্তু সে স্বাভাবিক থাকার ভান করল, নিজের ভেতরের তোলপাড় আড়াল করতে বাড়িয়ে দিল কণ্ঠের রুক্ষতা।
"তুমি এখনও জেগে আছো কেন? তোমাকে আমি বলেছিলাম না আমার জন্য বসে না থাকতে? নাটক করার স্বভাবটা তোমার গেল না নীহা!" তানভীর জুতো জোড়া ছুড়ে ফেলে একপাশে রাখতে রাখতে বলল।
নীহা ধীরে ধীরে সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। তার চেহারায় আজ কোনো ভয় বা ইতস্তত ভাব নেই। এক অদ্ভুত নিরাসক্ত গাম্ভীর্য ফুটে উঠেছে তার চোখেমুখে। সে শান্ত কণ্ঠে বলল, "খাবার টেবিলে রাখা আছে। গরম করে খেয়ে নাও। আমি শুতে যাচ্ছি।"
তানভীর এক পা এগিয়ে এসে নীহার পথ আটকে দাঁড়াল। নীহার এই শীতল আচরণ তানভীরকে ভীষণভাবে বিভ্রান্ত করে তুলছিল। অন্যদিন হলে নীহা লজ্জিত হতো, অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে থাকত বা কাঁদো কাঁদো গলায় ক্ষমা চাইত। কিন্তু আজকের এই নিস্তব্ধতা তানভীরের সহ্যের বাইরে চলে যাচ্ছিল।
"আমি কী খাব না খাব তা নিয়ে তোমার অত চিন্তা করতে হবে না," তানভীরের কণ্ঠ ভারী হয়ে এলো। সে নীহার আরও কাছে এগিয়ে এল। "আমার দিকে তাকাও নীহা। কী হয়েছে তোমার? এই বাড়িতে কি তোমার কোনো কষ্ট হচ্ছে? নাকি আমার ওপর আবার কোনো নতুন অভিমান জমিয়ে রাখা হচ্ছে?"
নীহা তানভীরের চোখের দিকে সরাসরি তাকাল। সেই চোখে আজ কোনো অভিমান নেই, আছে শুধুই শূন্যতা। সে বলল, "তোমার ওপর অভিমান করার অধিকার আমার কোনোদিন ছিল না তানভীর, আজও নেই। আমি তোমার স্ত্রী হতে পারি, কিন্তু তোমার মনের মানুষ তো হতে পারিনি। তুমি মিছেই নিজেকে কষ্ট দিচ্ছ আর আমাকেও শেষ করছ।"
"মানে? কী বলতে চাইছ তুমি?" তানভীরের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।
"আমি বলতে চাইছি, আমি চলে যাব। কাল সকালেই আমি বাপের বাড়ি ফিরে যাব। তোমার এই অহেতুক রাগ আর যন্ত্রণার সংসার থেকে আমি তোমাকে মুক্তি দিচ্ছি।"
কথাটা শোনামাত্রই যেন তানভীরের মাথার রগগুলো লাফিয়ে উঠল। ঘরের বাতাস যেন এক মুহূর্তে ভারী হয়ে গেল। 'চলে যাব'—এই দুটো শব্দ তানভীরের মস্তিষ্কে ঘাতকের মতো আঘাত করল। যাকে সে বুকের ভেতর পরম গোপন তৃষ্ণার মতো লালন করে আসছে, যাকে সে এক মুহূর্ত চোখের আড়াল করলে অস্থির হয়ে পড়ে, সে কিনা চলে যাওয়ার কথা বলছে!
"কী বললে তুমি?" তানভীরের চোখ দুটো রাগে ও আতঙ্কে রক্তবর্ণ ধারণ করল। সে এক ঝটকায় নীহার দুটো নরম কবজি শক্ত মুঠোয় চেপে ধরল।
"আহ্, তানভীর! ছাড়ো, লাগছে!" নীহা যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠল।
"একদম চিৎকার করবে না!" তানভীর হুঙ্কার দিয়ে উঠল, কিন্তু তার কণ্ঠে যতটা রাগ ছিল, তার চেয়েও বেশি ছিল হারানোর এক তীব্র ভয়। সে নীহাকে এক টানে নিজের বুক ঘেঁষে নিয়ে এলো। নীহার নরম শরীরটা তানভীরের চওড়া, শক্ত বুকের সাথে পিষে গেল।
"চলে যাবে মানে? কার অনুমতি নিয়ে চলে যাবে তুমি? ভেবেছ যা খুশি তাই করবে?" তানভীর নীহার কবজি দুটো আরও শক্ত করে চেপে ধরল। তার বুকের তীব্র ধুকপুকানি নীহা স্পষ্ট নিজের শরীরে অনুভব করতে পারছিল।
"তুমিই তো আমাকে সহ্য করতে পারো না!" নীহা এবার কেঁদে ফেলল, তানভীরের বুকে ধাক্কা দিয়ে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বলল, "তুমি প্রতিদিন আমাকে অপমান করো, অকারণে চিল্লাও, আমাকে ঘৃণা করো! তবে কেন আমাকে আটকে রাখছ? ছেড়ে দাও আমাকে!"
"ঘৃণা করি?" তানভীরের মুখ দিয়ে একটা হিংস্র, মাতাল হাসি বেরিয়ে এলো। সে এক টানে নীহার ওড়নাটা সরিয়ে নিচে ফেলে দিল। নীহার উন্মুক্ত সুকোমল ফর্সা গলা আর কাঁধ রাতের আলোয় ঠিকরে উঠছিল। তানভীরের নিয়ন্ত্রণ ততক্ষণে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
সে নীহাকে দেওয়ালের সাথে আরও শক্ত করে চেপে ধরল। তার এক হাত নীহার কোমর পেঁচিয়ে ধরল অসীম অধিকারবোধে, আর অন্য হাত দিয়ে নীহার রেশমি চুলগুলো মুঠি করে ধরে তার মুখটা ওপরে তুলে আনল।
"তোমাকে ঘৃণা করি নীহা? তোমার কোনো ধারণাই নেই আমি তোমাকে কতটা ঘৃণা করি, আর কতটা উন্মাদের মতো চাই!" তানভীরের কন্ঠস্বর কাঁপছিল তীব্র কামনায় আর ভালোবাসার জ্বালাতে।
নীহা কিছু বলার আগেই তানভীর চরম বুভুক্ষের মতো নীহার ঠোঁটের ওপর নিজের ঠোঁট চেপে ধরল। এটা কোনো শান্ত ছোঁয়া ছিল না, ছিল অধিকার আর তৃষ্ণার এক দাবানল। তানভীরের শক্ত ঠোঁটের ঘর্ষণে নীহার নিঃশ্বাস আটকে আসার উপক্রম হলো। নীহা প্রথমে হাত দিয়ে তানভীরের বুকে ধাক্কা দিয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করল, কিন্তু তানভীরের সুঠাম দেহের শক্তির কাছে সে নস্যি।
তানভীর নীহার ওপরের আর নিচের ঠোঁট নিজের বশ করতে লাগল চরম আকুলতায়। তার কামড় আর চোষণের মধ্যে যেন বছরের জমে থাকা সব রাগ আর ভালোবাসা একসাথে উথলে উঠছিল। তানভীরের হাতের স্পর্শ সোজা নীহার পিঠ বেয়ে নিচে নেমে এলো, শাড়ির আঁচল সরিয়ে সে নীহার পাতলা কোমরের ফাঁকে আঙুল ডুবিয়ে দিল। তার তপ্ত, শক্ত হাতের স্পর্শে নীহার সমস্ত শরীর শিউরে উঠল, এক মাতাল অনুভূতির স্রোত নীহার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়ল।
নীহার প্রতিরোধ আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে আসছিল। তানভীরের গায়ের সুবাস, তার উন্মাদ ছোঁয়া আর তার ঠোঁটের ভেজা উষ্ণতা নীহার ভেতরের সব শক্ত ভাবকে পুড়িয়ে ছাই করে দিচ্ছিল। তানভীর যখন তার ঠোঁট থেকে সরে এসে নীহার ভেজা থুতনি, গাল আর তারপর সোজা ঘাড়ে নিজের মুখ গুঁজে দিল, নীহার হাত দুটো তানভীরের শার্টের কলার শক্ত করে চেপে ধরল।
তানভীর নীহার ঘাড়ে আর উন্মুক্ত বুকে গভীর, ক্ষুব্ধ চুমু দিতে লাগল। তার জিভের উত্তাপ নীহার ত্বকে যেন এক অদ্ভুত আগুন জ্বালিয়ে দিল। প্রতিটি ছোঁয়ায় তানভীর বিড়বিড় করতে লাগল, "তুমি কোথাও যেতে পারবে না... শুনছ നീহা? আমার কাছ থেকে কোনোদিন যেতে পারবে না... তুমি শুধু আমার..."
নীহার মুখ থেকে এক হালকা সুখানুভূতির কোঁকানি বেরিয়ে এলো, "তানভীর... ছাড়ো... প্লিজ..."
কিন্তু তানভীর তখন আর নিজের মধ্যে নেই। সে নীহাকে এক টানে শূন্যে কোল তুলে নিল। নীহা চমকে উঠে তানভীরের গলা জড়িয়ে ধরল। তানভীরের গভীর, নেশাক্ত চোখ দুটো নীহার ওপর স্থির। সেখানে কোনো কৃত্রিম রাগ নেই, আছে শুধুই এক আদিম, হিংস্র আর গভীর তৃষ্ণা।
তানভীর পা বাড়াল তাদের শয়নকক্ষের দিকে। দরজায় পৌঁছাতেই সে পেছন ফিরে পা দিয়ে সজোরে শয়নকক্ষের দরজা বন্ধ করে দিল। আজ রাতের পর নীহা আর কোনোদিন তাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা বলার সাহস পাবে না, তানভীর তাকে সেই উত্তর নিজের শরীরে খোদাই করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
শয়নকক্ষের আলোটা নেভানো, শুধু জানালার ফাঁক দিয়ে পাশের রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলো এসে পড়েছে ঘরের ভেজা অন্ধকারে। তানভীর নীহাকে বিছানার নরম তোষকের ওপর আলতো কিন্তু দৃঢ় ভঙ্গিতে শুইয়ে দিল। নীহার হৃদস্পন্দন তখন এত দ্রুত চলছিল যে মনে হচ্ছিল তার বুকটা ফেটে যাবে। ঘরের নিস্তব্ধতায় তানভীরের হাঁপিয়ে ওঠার শব্দ আর নীহার তপ্ত শ্বাস মিলেমিশে এক মাতাল আবহ তৈরি করছিল।
তানভীর এক মুহূর্তের জন্যও নীহার ওপর থেকে চোখ সরাল না। সে বিছানায় নীহার ওপর ঝুঁকিয়ে পড়ল, নিজের দুহাতে নীহার মাথার দুই পাশে ভর দিয়ে তাকে পুরোপুরি ঘিরে ফেলল। তানভীরের চোখে এখন কোনো দ্বিধা নেই, কোনো কৃত্রিম দেয়াল নেই—সেখানে শুধু জ্বলছে এক উন্মাদের মতো দখল করার নেশা।
"তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার সাহস কীভাবে পাও, নীহা?" তানভীরের কণ্ঠস্বর গম্ভীর, কামনায় ও ভালোবাসায় ভারী। সে তার এক হাত দিয়ে নীহার ফর্সা গালটা চেপে ধরল, বুড়ো আঙুল দিয়ে ধীরে ধীরে তার কামড়ে লাল হয়ে যাওয়া ঠোঁটটা স্পর্শ করল।
নীহা হাত দুটো তানভীরের চওড়া বুকের ওপর রেখে তাকে ঠেলতে চাইল, কিন্তু তানভীরের সুঠাম ও শক্ত শরীর যেন এক অনড় পাহাড়। নীহা কাঁপাকাঁপা গলায় বলল, "তুমি... তুমি আমাকে ভালোবাসো না তানভীর। তুমি শুধু আমাকে কষ্ট দাও। এভাবে আটকে রাখা ভালোবাসা হতে পারে না..."
"আমি তোমাকে ভালোবাসি কি না, সেটা আজ রাতে তোমার শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে বুঝিয়ে দেব," তানভীরের চোখ দুটো অন্ধকারের তীব্রতায় জ্বলে উঠল।
এক মুহূর্ত সময় না দিয়ে তানভীর আবার ঝুঁকিয়ে পড়ল নীহার ওপর। এবার তার ছোঁয়া আরও বেশি গভীর, আরও বেশি বেপরোয়া। তানভীরের ঠোঁট সোজা গিয়ে আটকে গেল নীহার উন্মুক্ত সুকোমল ঘাড়ে। সেখানে সে একের পর এক ভেজা, গভীর চুমু বসাতে লাগল। নীহার সারা শরীরে যেন হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ খেলে গেল। সে নিজের অজান্তেই খামচে ধরল তানভীরের পিঠের শার্ট।
তানভীরের একটা হাত নীহার কোমরে নেমে এলো। শাড়ির ভাঁজ ছাড়িয়ে তার গরম, খসখসে হাতটা সোজা গিয়ে পৌঁছাল নীহার অনাবৃত, নরম পেটে। হাতের তালু দিয়ে নীহার মসৃণ পেটের ওপর আলতো ঘর্ষণ দিতেই নীহার মুখ দিয়ে এক হালকা সুখানুভূতির শিহরণ বেরিয়ে এলো—"উফফ... তানভীর..."
নীহার এই মৃদু আর্তনাদ তানভীরের ভেতরের পশুটাকে যেন আরও উস্কে দিল। সে নীহার পেটের নরম ত্বকে নিজের আঙুলগুলো শক্ত করে বসিয়ে দিল, অন্য হাতে এক টানে নীহার শাড়ির আঁচলটা পুরোপুরি বুক থেকে সরিয়ে দিল।
"তানভীর, প্লিজ..." নীহা লজ্জায় আর কামনার আকুলতায় চোখ বন্ধ করে ফেলল।
কিন্তু তানভীর শোনার অবস্থায় ছিল না। তার ঠোঁট নেমে এলো নীহার গলার নিচে, সুউচ্চ বুক আর বুকের খাঁজে। তার ভেজা জিভের উত্তাপ নীহার উন্মুক্ত ত্বকে এক অদ্ভুত নেশা ছড়িয়ে দিল। তানভীর বুভুক্ষের মতো নীহার বুকের কাছে মুখ গুঁজে দিল, একের পর এক গভীর কামড় আর চোষণে নীহার শরীরকে নিজের নামে চিহ্নিত করতে লাগল।
নীহার ভেতরের সমস্ত বিরোধিতা এক নিমেষে উবে গেল। তানভীরের এই হিংস্র অথচ কামাতুর স্পর্শে তার ভেতরের সুপ্ত নারীত্ব জেগে উঠেছে। সে আর তানভীরকে ঠেলে সরিয়ে দিতে পারল না, বরং নিজের অজান্তেই তার দুটো হাত তানভীরের চুলে আটকে গেল। সে তানভীরের মাথাটা আরও শক্ত করে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরল।
তানভীর এক হাত দিয়ে নিজের শার্টের বোতামগুলো ঝটপট খুলে শার্টটা মেঝের ওপর ছুড়ে ফেলল। তার চওড়া, পেশীবহুল খালি বুকটা নীহার উন্মুক্ত বুকের ওপর এসে আছড়ে পড়ল। ত্বকে ত্বকের এই সরাসরি ঘর্ষণে ঘরের উত্তাপ এক লাফে একশো গুণে বেড়ে গেল। তানভীরের বুকের লোমের সাথে নীহার কোমল ত্বকের ঘর্ষণ নীহাকে উন্মাদের মতো মাতাল করে তুলছিল।
তানভীর তার একটা পা নীহার দুই পায়ের মাঝখানে ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে আরও শক্ত করে নিজের সাথে পিষে ফেলল। নীহা অনুধাবন করল তানভীরের ভেতরের সেই অতিমাত্রিক উত্তেজনা, যা প্যান্টের কাপড়ের আড়াল থেকেও এক চরম শক্ত পুরুষালির রূপ ধারণ করেছে।
"বলো নীহা, তুমি কি এখনও যাবে?" তানভীর নীহার কানে তার ভেজা ঠোঁট ঘষতে ঘষতে ফিসফিস করে বলল। তার হাতের আঙুলগুলো নীহার ব্লাউজের ভেতরের হুকগুলো একে একে খুলতে শুরু করেছে।
নীহা কোনো উত্তর দিতে পারল না। তার নিঃশ্বাস এত দ্রুত চলছে যে সে কোনো শব্দ উচ্চারণ করতে পারছিল না। সে শুধু তানভীরের খালি পিঠে নিজের নখ দিয়ে শক্ত করে আঁচড় কেটে দিল, যা তানভীরের যন্ত্রণাকে এক পরম সুখে পরিণত করল।
ব্লাউজের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হতেই নীহার ফর্সা শরীর রাতের আলোয় ঠিকরে উঠল। তানভীর এক মুহূর্তের জন্য থেমে নীহার সেই অনিন্দ্যসুন্দর উন্মুক্ত শরীরের দিকে তাকাল। তার চোখে তখন এক অগাধ তৃষ্ণা। সে নীহার খোলা বুকে নিজের মুখ গুঁজে দিল, উন্মাদের মতো তার ওপর নিজের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে লাগল।
নীহা মাথা পেছনে হেলে দিয়ে তোষকের কাপড় খামচে ধরল। এক স্বর্গীয় শিহরণ তার পুরো শরীরকে অবশ করে দিচ্ছিল। তানভীরের প্রতিটি চোষণ, প্রতিটি কামড় নীহার মনের সমস্ত বিষাদ আর কান্নাকে এক নিমেষে মুছে দিয়ে শুধু এক আদিম তৃষ্ণায় ভরিয়ে তুলছিল।
কিন্তু ঠিক সেই চরম মুহূর্তে, যখন তানভীরের হাত নীহার শাড়ির পেটিকোটের ফিতে খুলতে শুরু করেছে, তখনই তানভীরের মনের ভেতরের সেই অচেনা ভয়ের দৈত্যটা আবার জেগে উঠল। সে হঠাৎ খেয়াল করল নীহার চোখের কোণ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।
তানভীর মুহূর্তে থমকে গেল। তার শ্বাস ভারী, শরীর কামনায় কাঁপছে। সে নীহার মুখের দিকে তাকাল। নীহা চোখ বন্ধ করে আছে, কিন্তু তার চোখের কোণে জমানো জলের বিন্দু আলোয় জ্বলজ্বল করছে।
তানভীরের মনে হলো, সে কি তবে জোর করছে? নীহা কি শুধু ভয়ে বা তার শারীরিক শক্তিতে পরাস্ত হয়ে তাকে সাড়া দিচ্ছে? তানভীরের এতদিনের জমানো অভিমান আর অহংকার আবার জেগে উঠল। সে তো নীহার শরীর শুধু চায় না, সে চায় নীহার মন! সে চায় নীহা নিজে থেকে তাকে ভালোবাসুক, কোনো ভয়ে বা বাধ্য হয়ে নয়।
তানভীর এক ঝটকায় নীহার ওপর থেকে সরে এলো। সে বিছানার একপাশে উঠে বসল, হাঁপাতে হাঁপাতে মুখটা দুহাতে ঢেকে নিল। তার ভেতরের আগুন তখন তীব্র যন্ত্রণায় রূপ নিয়েছে।
নীহা চোখ খুলে চমকে তাকাল। হঠাৎ এই উষ্ণতার হঠাৎ বিলোপে সে যেন শূন্যতায় পড়ে গেল। সে ধীরহে উঠে বসে শাড়ির আঁচল দিয়ে নিজের উন্মুক্ত শরীর ঢেকে নিল।
তানভীর পিছন ফিরে না তাকিয়েই এক নিচু, ভাঙা গলায় বলল, "নিজেকে গুছিয়ে নাও নীহা। আমি কোনো অবলা নারীর ওপর নিজের জোর খাটাতে চাই না। যদি চলে যেতে চাও... কাল সকালেই যেতে পারো। আমি তোমাকে আর আটকাব না।"
কথাটা বলেই তানভীর ঘর থেকে বেরিয়ে ব্যালকনির দিকে চলে গেল, সজোরে দরজার কাঁচের পাল্লাটা বন্ধ করে দিল।
বিছানায় বসে থাকা নীহা তানভীরের খালি পিঠের দিকে তাকিয়ে রইল। তার চোখ দিয়ে অনবরত জল পড়তে লাগল, কিন্তু এবার আর কষ্টের জল নয়—এক অদ্ভুত দ্বিধা আর চরম আকুলতার জল। তানভীরের ক্ষণিকের এই চলে যাওয়া নীহাকে জানিয়ে দিয়ে গেল, তানভীরের রাগের আড়ালে কতটা গভীর আর পবিত্র এক ভালোবাসা লুকিয়ে আছে।
নীহা এখন বুঝতে পারছে, সে চলে যেতে চেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তানভীরের এই স্পর্শ আর মাতাল ভালোবাসার পর সে আর কোনোদিন তানভীরকে ছেড়ে এক পা-ও দূরে যেতে পারবে না।
ব্যালকনির ঠাণ্ডা বাতাসও তানভীরের ভেতরের উত্তাপ কমাতে পারছিল না। বারান্দার গ্রিল শক্ত করে চেপে ধরে সে রাতের অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল। তার বুকে তখনও নীহার শরীরের সুবাস আর উত্তাপ জড়িয়ে আছে। তানভীরের হাতের মুঠো শক্ত হয়ে এলো। সে কেন এমন করল? কেন সে নিজেকে সামলাতে পারল না? নীহার চোখে জলের ফোঁটা দেখে তার বুকের ভেতরটা যেন তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল। তানভীর নিজেকে নিজে অপরাধী মনে করছিল, কিন্তু একই সাথে নীহাকে হারানোর ভয়ে তার মন আতঙ্কে শিউরে উঠছিল।
অন্যদিকে, শয়নকক্ষে নীহা বহুক্ষণ স্থির হয়ে বসে রইল। তার অগোছালো শাড়ি, থরথর করে কাঁপা ঠোঁট আর শরীরে তানভীরের স্পর্শের দাগগুলো তখনও জ্বলজ্বল করছে। তানভীরের চলে যাওয়ার পর ঘরটাতে এক বিষণ্ণ শূন্যতা নেমে এসেছে। কিন্তু এই শূন্যতার ভেতরেই নীহা আজ এক নতুন সত্যি প্রত্যক্ষ করল। তানভীর যদি তাকে কেবলই অপছন্দ করত, তবে তার স্পর্শে এতটা তীব্র আকুলতা, এত যন্ত্রণা থাকত না। তানভীরের ভেতরের সেই ভয়টা নীহা আজ স্পষ্ট দেখতে পেয়েছে—তানভীর তাকে ভালোবাসে, কিন্তু সেই ভালোবাসা প্রকাশ করার ভাষা তার জানা নেই।
নীহা ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠল। আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই নিজের চেহারার দিকে তাকিয়ে শিউরে উঠল সে। গলার কাছে তানভীরের ভেজা ঠোঁটের গভীর দাগ, কাঁধে তার কামড়ের লালচে চিহ্ন। তানভীর তার শরীর জুড়ে নিজের অধিকার এঁকে দিয়ে গেছে, অথচ মুখে বলছে চলে যেতে!
"না তানভীর, এবার আর আমি পালাব না," নীহা আয়নায় নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল। "তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরে কষ্ট দেবে, আর ভাববে আমি তোমাকে ঘৃণা করি? এবার তোমার এই ভুল ভাঙার পালা।"
নীহা নিজের পোশাকটা গুছিয়ে নিল। তারপর ধীর পায়ে শয়নকক্ষের দরজা খুলে ব্যালকনির দিকে পা বাড়াল। কাঁচের পাল্লা ঠেলে বাইরে আসতেই ঠাণ্ডা বাতাস এসে নীহার মুখ ছুঁয়ে গেল। ব্যালকনির একপাশে তানভীর এক হাতে নিজের মাথা চেপে ধরে বেতের চেয়ারটায় বসেছিল। তার খালি বুক তখনও দ্রুত ওঠানামা করছে, ব্যাক ব্রাশ করা চুলগুলো এলোমেলো হয়ে কপালে এসে পড়েছে।
নীহার পায়ের শব্দ পেয়েও তানভীর মুখ তুলল না। সে শক্ত গলায় বলল, "রুমে যাও নীহা। সকালে ড্রাইভার তোমাকে তোমার বাপের বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসবে। আমি যা করেছি তার জন্য... আমি দুঃখিত। তোমাকে আর আমার মুখোমুখি হতে হবে না।"
নীহা কোনো কথা বলল না। সে শান্ত পায়ে তানভীরের কাছে এগিয়ে এলো। তারপর কোনো দ্বিধা না করে, সোজাসুজি তানভীরের কোলের ওপর গিয়ে বসল।
তানভীর যেন বড়সড় এক ধাক্কা খেল। সে চমকে উঠে চোখ মেলে তাকাল। নীহা তার দুহাত তানভীরের গলার পেছনে পেঁচিয়ে দিয়ে একদম মুখোমুখি বসল। নীহার সুতির শাড়ির সুবাস আর তার ফর্সা চেহারার ওই তীব্র মিষ্টি চাহনি তানভীরকে ক্ষণিকের জন্য বাকরুদ্ধ করে দিল।
"তুমি... তুমি এখানে কী করছ?" তানভীরের স্বর কাঁপছিল, সে নীহার কোমর থেকে হাত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল। "নেমে যাও নীহা! আমাকে পরীক্ষার মুখে ফেলো না।"
"কেন নেমে যাব?" নীহা তানভীরের একদম মুখোমুখি এসে তার ঠোঁটের খুব কাছে ফিসফিস করে বলল। "তুমি তো চাও আমি চলে যাই, তাই না? কিন্তু আমি যে যেতে চাই না তানভীর।"
"নীহা..." তানভীর চোখ বন্ধ করার চেষ্টা করল, কিন্তু নীহা তার এক হাত দিয়ে তানভীরের চিবুক ধরে নিজের দিকে ফিরিয়ে আনল।
"তুমি একটা নির্বোধ তানভীর," নীহার চোখে জল, কিন্তু ঠোঁটে এক অপূর্ব মিষ্টি হাসি। "তুমি ভাবো তুমি আমাকে ঘৃণা করো? তুমি ভাবো তোমার এই রাগ আর অকারণ খিটিমিটি আমি বুঝতে পারি না? তুমি রাগ দেখাও শুধু তোমার ভয়টা লুকানোর জন্য। তুমি ভয় পাও, পাছে আমি তোমাকে ছেড়ে চলে যাই!"
তানভীরের বুকের গভীর থেকে এক দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। নীহার এই সহজ স্বীকারোক্তি তানভীরের দীর্ঘদিনের গড়া কাঠিন্যের দেওয়ালটাকে গুঁড়িয়ে দিল। তানভীরের চোখ দুটো জলে ভরে উঠল। যে তানভীর কখনো কারো সামনে নিজের দুর্বলতা দেখায়নি, সে আজ নীহার সামনে একদম নিঃস্ব হয়ে গেল।
"আমি জানি না নীহা..." তানভীরের কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে এলো। "আমি জানি না কীভাবে কাউকে ভালোবাসতে হয়। ছোটবেলা থেকে শুধু অবহেলা দেখে বড় হয়েছি। আমি শুধু জানি, তোমাকে দেখার পর থেকে আমি আর নিজের মধ্যে নেই। তোমাকে অন্য কারো হতে দেখার কথা ভাবলেই আমার মাথায় রক্ত উঠে যায়। আমি তোমাকে খুব কষ্ট দিই, তাই না? কিন্তু বিশ্বাস করো, তোমাকে আঘাত করার পর আমার নিজের বুকটাও ছারখার হয়ে যায়।"
তানভীরের চোখের একফোঁটা জল গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে নীহার হাতের ওপর পড়ল। নীহা আর সহ্য করতে পারল না। তার বুকটা ভালোবাসায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠল। সে চট করে তার ঠোঁট দুটো দিয়ে তানভীরের গাল থেকে সেই চোখের জলটুকু মুছে নিল।
তানভীরের সমস্ত প্রতিরোধ ভেঙে তছনছ হয়ে গেল। সে আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে দুহাতে নীহার কোমর শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরে তাকে নিজের বুকের সাথে একদম পিষে ফেলল। নীহার মাথাটা নিজের বুকে চেপে ধরে তানভীর বালকের মতো ফুঁপিয়ে উঠল।
"আমাকে ছেড়ে যেও না নীহা... প্লিয, আমাকে ছেড়ে যেও না। আমি মরে যাব তোমাকে ছাড়া..." তানভীরের আকুল মিনতি ব্যালকনির বাতাসে ভেসে গেল।
নীহা তানভীরের চুলগুলোতে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল, "আমি কোথাও যাব না তানভীর। কোনোদিন না। কিন্তু তোমাকে প্রতিজ্ঞা করতে হবে, তুমি আর কখনো আমার কাছ থেকে নিজের অনুভূতি এভাবে লুকিয়ে রাখবে না।"
তানভীর মুখ তুলে নীহার দিকে তাকাল। রাতের আলোয় নীহার মুখটা যেন স্বর্গের অপ্সরী। তানভীরের চোখে এখন শুধুই উন্মাদের মতো ভালোবাসা আর অনিশেষ ভালোবাসা।
"আমি আর কিছুই লুকাব না," তানভীর ফিসফিস করে বলল।
সে নীহাকে এক ঝটকায় কোলে তুলে নিয়ে আবার ঘরের দিকে হাঁটা দিল। এবার তানভীরের পদক্ষেপে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অপরাধবোধ ছিল না—ছিল কেবল এক পরম অধিকার আর বুকভরা ভালোবাসার তীব্র স্রোত।
ঘরে ঢুকে তানভীর পা দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। সে নীহাকে সোজা বিছানায় শুইয়ে দিয়ে নিজে তার ওপর নেমে এলো। নীহা এবার আর পেছাল না, বরং নিজ হাতে তানভীরের খালি পিঠটা জড়িয়ে ধরে তাকে নিজের আরও কাছে টেনে নিল। দুজোড়া ঠোঁট আবার এক হয়ে গেল, তবে এবার সেই ছোঁয়ায় কেবল কামনার তাণ্ডব ছিল না, ছিল দুটো আত্মিক মিলনের এক গভীর, ভেজা সমর্পণ।
ভোরের নরম আলো জানালার পর্দা গলে ঘরের ভেতরে এসে পড়েছে। পাখির ডাক আর শহরের দূরবর্তী কোলাহলে ধানমন্ডির এই নিরিবিলি ফ্ল্যাটটিতে নতুন এক ভোরের সূচনা হলো। বিছানার নরম তোষকে তানভীরের বুকের ওপর মাথা রেখে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে ছিল নীহা। তার একখানা ফর্সা হাত তানভীরের সুঠাম পেটের ওপর রাখা, আর তানভীরের এক বিশাল হাত পরম ভালোবাসায় নীহার উন্মুক্ত কোমর পেঁচিয়ে ধরে রেখেছিল।
গতরাতের সেই মাতাল ঝড়, কামনার তীব্র অগ্নিশিখা আর অধরা তৃষ্ণার অবসান ঘটিয়ে দুটো মন আর দুটো শরীর আজ একে অপরের সাথে মিশে এক হয়ে গেছে। নীহার শরীরে এখনও গতরাতের উন্মাদনার স্পর্শ স্পষ্ট—ঘাড়ে, বুকে আর বুকে তানভীরের ঠোঁটের আর কামড়ের লালচে দাগ।
তানভীরের ঘুম ভাঙল প্রথম। চোখের পাতা মেলে সে নিচে তাকাল। তার বুকের মধ্যে পুতুলের মতো জড়িয়ে শুয়ে আছে তার জীবনের একমাত্র ভালোবাসা, তার নীহা। তানভীরের ঠোঁটে ভেসে উঠল এক অপূর্ব তৃপ্তির হাসি। এতদিনের জমানো ক্ষোভ, ভয় আর মনের জমে থাকা মেঘগুলো যেন এক নিমেষে কেটে গেছে। সে আলতো করে নীহার কপালে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল।
তপ্ত স্পর্শ পেয়ে নীহার ঘুমের ঘোর কাটল। সে পিটপিট করে চোখ মেলতেই দেখল তানভীর তার দিকে পরম মুগ্ধতায় তাকিয়ে আছে। গতরাতের কথা মনে পড়তেই নীহার গাল দুটো নিমেষে লাল হয়ে উঠল। সে লজ্জায় তানভীরের বুকে মুখ লুকানোর চেষ্টা করল।
"এখনও লজ্জা পাচ্ছ?" তানভীর নীহার চিবুক ধরে মুখটা একটু ওপর দিকে তুলে আনল। তার চোখে ভালোবাসার গভীর সমুদ্র। "গতরাতে তো বেশ সাহস দেখাচ্ছিলে, ম্যাডাম! বলছিলে ছেড়ে যাবে না... এখন আবার মুখ লুকাচ্ছ কেন?"
"তানভীর! থামো তো!" নীহা লজ্জায় তানভীরের বুকে হালকা এক কিল মারল। "সোজা হয়ে শোও, সকাল হয়ে গেছে। আমাকে উঠতে হবে।"
"কোথাও যেতে পারবে না তুমি," তানভীর নীহার কোমর ধরে এক ঝটকায় নিজের আরও কাছে টেনে আনল। নীহার পেট তানভীরের শক্ত উরুর সাথে চেপে গেল। তানভীরের খালি বুকের সাথে নীহার বুক পিষে যেতেই নীহা এক হালকা শিউরে উঠল।
"তানভীর, ছাড়ো! ছাড়ো বলছি... কাল রাতের পর থেকে তোমার সাহস বড্ড বেড়ে গেছে," নীহা ভুয়ো রাগ দেখানোর চেষ্টা করল, কিন্তু তার কণ্ঠেই ধরা পড়ে যাচ্ছিল মাতাল করা অনুভূতির সুর।
"সাহস কেবল বাড়ছে নীহা, আসল খেলা তো এখনও বাকি," তানভীর নীহার কানে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল। তার তপ্ত শ্বাস নীহার কানের লতি ছুঁয়ে ঘাড়ে এসে পড়তেই নীহার শরীরের ভেতর আবার সেই পরিচিত অনঙ্গ আগুন জ্বলে উঠল।
তানভীরের ডান হাত নীহার উরু বেয়ে শাড়ির ভাঁজ পেরিয়ে ওপরে উঠতে শুরু করল। তার হাতের তালুর তপ্ত স্পর্শ সোজা গিয়ে ঠেকলো নীহার উন্মুক্ত, মসৃণ পেটে। তানভীর নীহার নাভির চারপাশে নিজের বুড়ো আঙুল দিয়ে আলতো বৃত্ত আঁকতে লাগল।
"উফফ... তানভীর..." নীহা চোখ বন্ধ করে তানভীরের চুলগুলো মুঠি করে ধরল। "সকাল বেলা এসব কী দুষ্টুমি?"
"দুষ্টুমি নয়, সোনা। এটা চার মাসের জমে থাকা বকেয়া আদায়," তানভীর এক নিমেষে নীহার গায়ের থেকে পাতলা কাঁথাটা দূরে ছুড়ে ফেলল।
দিনের মিষ্টি আলোয় নীহার আধো-উন্মুক্ত শরীর যেন আরও অপূর্ব, আরও সুকোমল লাগছিল। তানভীর নীহার ওপর ঝুঁকে পড়ল। এবার আর কোনো হিংস্রতা বা ভয় নেই, তানভীরের স্পর্শে আজ কেবলই উপচে পড়া প্রেম আর আকুলতা। সে নীহার ঠোঁটে আঠার মতো নিজের ঠোঁট জড়িয়ে দিল। এক গভীর, ভেজা ও তৃপ্তিদায়ক চুমু। তানভীরের জিভ নীহার মুখের ভেতরে এক অদ্ভুত মিষ্টি স্বাদ খুঁজে পেতে লাগল।
নীহা আর নিজেকে আটকে রাখতে পারল না। সেও তানভীরের চওড়া পিঠে হাত রেখে তাকে নিজের দিকে চেপে ধরল। তানভীরের ঠোঁট আস্তে আস্তে নিচে নেমে এলো—নীহার থুতনি, গলার ভাঁজ আর তারপর সোজা তার বুক ও পেটে। তানভীর নীহার নাভিতে নিজের গরম ঠোঁট চেপে ধরল, তারপর জিভ দিয়ে হালকা চাটার এক শিহরণ দিল।
নীহা সুখে আর লজ্জায় কোঁকিয়ে উঠল, "তানভীর... উফফ, ছাড়ো না... আহ্!"
তানভীর নীহার কোমরটা শক্ত করে চেপে ধরে তাকে আরও ওপরে তুলে আনল। তার শক্ত পুরুষালি শরীর নীহার ওপর সম্পূর্ণ ভর দিল। তানভীরের প্রতিটি স্পর্শে, প্রতিটি চুমুতে নীহাকে নতুন করে নিজের ভালোবাসার সমুদ্রে ভাসিয়ে নিতে লাগল।
"তুমি শুধুই আমার নীহা," তানভীর নীহার চোখের দিকে তাকিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল। "আমাকে এই চার মাস যতটা কাঁদিয়েছ, তার প্রতিটা মুহূর্তের জন্য তোমাকে আজ সারাদিন আমার বুকে বন্দী থাকতে হবে।"
নীহা তানভীরের গাল দুটো নিজের দুহাতে ধরে তার ঠোঁটে এক মিষ্টি ছোঁয়া দিল। "আমি সারাজীবন তোমার এই বন্দিশালায় থাকতে চাই তানভীর। তুমি শুধু আমাকে এভাবেই ভালোবেসে যেও।"
তানভীরের চোখ দুটো আবার নেশাক্ত হয়ে উঠল। সে নীহার দুই হাত মাথার ওপর তোষকের সাথে চেপে ধরল, তারপর তার সমস্ত শরীরের উত্তাপ দিয়ে নীহাকে আবার নতুন এক স্বর্গের অনুভূতির দিকে নিয়ে যেতে লাগল।
ভোরের ধানমন্ডি ফ্ল্যাটটির বন্ধ শয়নকক্ষে তখন ভালোবাসার নতুন সুর বাজছিল। দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভিমান আজ সম্পূর্ণ ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়ে দুটো প্রাণ কেবল এক আত্মায় বিলীন হওয়ার উৎসবে মেতে উঠেছিল।
দুপুরের চড়া রোদ ব্যালকনির থাই গ্লাস পেরিয়ে ড্রয়িংরুমে মেঝের ওপর ছড়িয়ে পড়েছে। সারা সকাল শয়নকক্ষের বন্দিদশা কাটিয়ে নীহা যখন রান্নাঘরে এলো, তখন দুপুর একটা বেজে গেছে। তার গায়ে একটা হালকা নীল রঙের সুতির শাড়ি, ভেজা চুলগুলো তোয়ালে দিয়ে পেঁচানো। কিন্তু হাঁটার গতিতে তখনও কেমন যেন এক শিথিলতা, শরীরজুড়ে তানভীরের ভালোবাসার মিঠে ক্লান্তির দাগ। গলার নিচে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করলেও তানভীরের দেওয়া গভীর চুমুর দাগগুলো স্বমহিমায় জেগে আছে।
রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে চা কড়া করে ফোটাচ্ছিল নীহা। চার মাসের বৈবাহিক জীবনে আজ প্রথমবার তার বুকের ভেতরটা এক অজানা আনন্দে তোলপাড় করছে। ভালোবাসার এত শক্তি! যা এক রাতে জীবনের সব কালো মেঘ সরিয়ে দিয়ে রোদের আলো ফুটিয়ে তোলে।
হঠাৎ পেছন থেকে দুটো শক্ত সুঠাম বাহু এসে নীহার কোমর পেঁচিয়ে ধরল। নীহা চমকে ওঠার আগেই তানভীরের চওড়া বুক এসে মিশে গেল তার পিঠের সাথে। তানভীর সদ্য গোসল সেরে এসেছে, তার শরীর থেকে তাজা সাবান আর পুরুষালি সুবাস ভেসে আসছে। কানের লতিতে তানভীরের তপ্ত নিঃশ্বাস পড়তেই নীহা শিউরে উঠল।
"উফফ, তানভীর! ছাড়ো... চা পড়ে যাবে তো!" নীহা নিজেকে ছাড়ানোর হালকা চেষ্টা করল।
"পড়ুক চা," তানভীর নীহার ভেজা তোয়ালেটা এক টানে সরিয়ে দিয়ে তার উন্মুক্ত, ভেজা ঘাড়ে মুখ গুঁজে দিল। তার খসখসে দাড়ি নীহার নরম ত্বকে ঘষা খেতেই নীহার মুখ দিয়ে এক হালকা সুখানুভূতির শব্দ বেরিয়ে এলো—"আহ্, তানভীর! লাগাতে যেও না..."
"আজ সারাদিন আমার কোনো কাজ নেই নীহা," তানভীর তার ঠোঁট দুটো নীহার গলার ভাঁজে ঘষতে ঘষতে ফিসফিস করে বলল। "আজকের দিনটা শুধুই তোমার আর আমার।"
তানভীরের এক হাত শাড়ির আঁচল সরিয়ে সোজা নীহার কোমরের ফাঁকে ঢুকে গেল। তার হাতের তপ্ত চওড়া তালু নীহার মসৃণ পেটে চেপে বসতেই নীহার হাতের চায়ের ছাঁকনিটা কেঁপে উঠল। তানভীর নীহার নাভির ঠিক ওপরটায় নিজের আঙুল দিয়ে আলতো চাপ দিল, অন্য হাত দিয়ে নীহার চিবুক ধরে তার মুখটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে আনল।
"তুমি সত্যি বরটা বড্ড দুষ্টু হয়ে গেছ," নীহা মেকি রাগ দেখিয়ে বলল, কিন্তু তার চোখে তখন ভালোবাসার গভীর নেশা। "কাল রাত থেকে শুরু করেছ, এখনও থামার নাম নেই?"
"তোমাকে যতবার কাছে পাই, আমার তৃষ্ণা তত বেড়ে যায় নীহা," তানভীর চোখ দুটো ছোট ছোট করে বলল। সে এক টানে গ্যাসের চুলাটা বন্ধ করে দিল, তারপর নীহাকে সোজা ঘুরিয়ে রান্নাঘরের মার্বেলের স্ল্যাবের ওপর বসিয়ে দিল।
নীহা চকিতে পেছনে হঠতে চাইল, কিন্তু তানভীর তার দুই পায়ের মাঝখানে এসে দাঁড়িয়ে নীহার দুই উরু জড়িয়ে ধরল। তাদের দূরত্ব এখন শূন্য। নীহার সুতির শাড়িটা উরুর ওপর সামান্য উঠে আসায় তানভীরের খালি হাত সোজা নীহার মসৃণ উরু স্পর্শ করল।
"তানভীর, এটা রান্নাঘর! কেউ এসে পড়লে..." নীহা লজ্জায় লাল হয়ে বলল।
"বাড়িতে কেউ নেই ম্যাডাম। আর থাকলেও আমার নিজের বউকে ভালোবাসতে কারো অনুমতি নিতে হবে না," তানভীর এক হাত নীহার পিঠের পেছনে দিয়ে তাকে নিজের আরও কাছে টেনে নিল।
তানভীরের ঠোঁট সোজা এসে আছড়ে পড়ল নীহার ঠোঁটের ওপর। এবার সেই চুষণে কোনো তাড়াহুড়ো ছিল না, ছিল এক পরম স্বাদের আস্বাদন। নীহার মুখ থেকে এক মৃদু আর্তনাদ বের হতেই তানভীর নিজের জিভ দিয়ে নীহার মুখের ভেতরের সবটুকু রস শুষে নিতে লাগল। নীহার হাত দুটো স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তানভীরের খালি পিঠ আর চওড়া কাঁধে আটকে গেল। সে তানভীরের চুলের মধ্যে নিজের আঙুলগুলো চালিয়ে দিয়ে তাকে আরও শক্ত করে নিজের দিকে টেনে নিল।
তানভীরের হাতের স্পর্শ উরু থেকে আরও ওপরে উঠতে শুরু করল। শাড়ির পেটিকোটের বাঁধন আলগা করে সে নীহার নিতম্ব আর কোমর নিজের শক্ত মুঠোয় চেপে ধরল। তাদের দুটো শরীর গরম আঁচে জ্বলছিল। রান্নাঘরের সেই ছিমছাম পরিবেশে এক তীব্র আদিম কামনার ঝড় বয়ে যেতে লাগল।
তানভীর নীহার ব্লাউজের সামনের বোতামগুলোর ওপর নিজের ঠোঁট চেপে ধরল। কাপড়ের ওপর দিয়েই সে নীহার সুউচ্চ বুকের উষ্ণতা নিজের মুখে টেনে নিতে লাগল। নীহা মাথা পেছনে হেলে দিয়ে হাঁপাতে লাগল, "উফফ... তানভীর... তোমার এই ভালোবাসা আমাকে পাগল করে দেবে..."
"পাগল তো আমি হয়েছি নীহা," তানভীর নীহার বুকের ওপর নিজের মুখ গুঁজে ফিসফিস করে বলল। "চারটে মাস তোমাকে কাছে পেয়েও কাছে টানতে পারিনি। সেই আফসোস আমি আজ সব মিটিয়ে নেব।"
তানভীর নীহাকে এক টানে রান্নাঘরের স্ল্যাব থেকে তুলে আবার নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল। নীহা তার পা দুটো তানভীরের কোমরের দুই পাশে পেঁচিয়ে ধরে শক্ত করে জড়িয়ে রইল।
রান্নাঘর থেকে ড্রয়িংরুম হয়ে আবার তাদের শয়নকক্ষের দিকে পা বাড়াল তানভীর। আজ কোনো বাধা নেই, কোনো সামাজিক দেওয়াল নেই, কোনো ভুল বোঝাবুঝি নেই। আছে কেবল দুটো তৃষ্ণার্ত প্রাণের অনিশেষ মিলনগাথা।
বিকেলের সোনাঝরা রোদ পড়ার সাথে সাথে ধানমন্ডির ফ্ল্যাটটিতে এক মায়াবী নিস্তব্ধতা নেমে এলো। ঘরের শীতল পরিবেশে তানভীরের বুকের ওপর মাথা রেখে আধশোয়া অবস্থায় শুয়ে ছিল নীহা। তানভীরের চওড়া, পেশীবহুল বুকের লোমগুলোর ওপর দিয়ে নীহা নিজের ফর্সা আঙুলগুলো অলস ভঙ্গিতে বুলিয়ে দিচ্ছিল। তানভীরের এক বিশাল হাত নীহার উন্মুক্ত পিঠের ওপর রাখা, তার আঙুলগুলো আলতোভাবে নীহার মেরুদণ্ড বেয়ে ওঠানামা করছিল।
বিগত কয়েক ঘণ্টার অনবরত মাতাল ভালোবাসা যেন দুজনকেই এক অন্য জগতে নিয়ে গেছে। নীহার শরীরে এখনও এক মিষ্টি ক্লান্তি জড়িয়ে আছে, কিন্তু তার মনটা আজ এক অপূর্ব শান্তিতে পরিপূর্ণ। যে তানভীরকে সে এতদিন পাথর ভেবে এসেছে, সেই তানভীরের ভেতরে এত আগুন, এত উন্মাদের মতো প্রেম লুকিয়ে ছিল তা নীহার কল্পনারও বাইরে ছিল।
"কী ভাবছ এত?" তানভীর নীহার কপালে আলতো চুমু দিয়ে মিহি স্বরে জিজ্ঞেস করল।
নীহা তানভীরের বুকের ওপর চিবুক রেখে ওপরের দিকে তাকাল। তানভীরের গভীর চোখ দুটিতে এখন আর কোনো বিষাদের মেঘ নেই, সেখানে কেবল উপচে পড়া তৃপ্তি।
নীহা হালকা হেসে বলল, "ভাবছি, একটা মানুষ কীভাবে এত রূপ বদলাতে পারে! এই তো কাল রাত পর্যন্ত তুমি আমাকে অকারণে বকাঝকা করতে, সামান্য চা ঠান্ডা হলেও মেজাজ দেখাতে... আর আজ?"
তানভীরের চেহারায় এক মুহূর্তের জন্য অপরাধবোধের ছায়া ফুটে উঠল। সে নীহার মুখটা দুহাতে তুলে ধরে গভীর অনুশোচনার সাথে বলল, "আমাকে ক্ষমা করে দাও নীহা। আমি আসলেই এক নম্বর বোকা ছিলাম। তোমাকে দেখলেই আমার রক্তে ঝড় উঠত, তোমাকে কাছে পাওয়ার জন্য আমার শরীর-মন ছটফট করত। কিন্তু আমি ভাবতাম, তুমি বুঝি আমাকে বাধ্য হয়ে সহ্য করছ। সেই অহংকার আর ভয় থেকেই ওই বাজে ব্যবহারগুলো বের হতো।"
"হুম, বুঝেছি," নীহা চোখ নাচিয়ে বলল। "বাজে ব্যবহার ঢাকা দেওয়ার বেশ সুন্দর অজুহাত খুঁজে পেয়েছ!"
"অজুহাত নয় ম্যাডাম, সত্যি," তানভীর এক নিমেষে নীহাকে ঘুরিয়ে নিজের নিচে নিয়ে এলো। তানভীরের শরীর আবার নীহার কোমল শরীরের ওপর রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করল। "তোমাকে কতটা ভালোবাসলে একটা মানুষ এতটা উন্মাদের মতো হয়ে যেতে পারে, তা তুমি এখনও পুরোপুরি টের পাওনি।"
তানভীরের তপ্ত চোখ দেখে নীহার হৃদস্পন্দন আবার দ্রত হয়ে উঠল। সে কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে বলল, "তানভীর... শোনো না... এখন একটু ছাড়ো। বিকেল হয়ে গেছে, এবার তো কিছু খেতেই হবে। সারাদিন আমাদের পেটে কিছু পড়েনি..."
"আমার পেট ভালোবাসাতেই ভরে গেছে সোনা," তানভীর নীহার কানে মুখ গুঁজে তার ভেজা লতিটা ঠোঁট দিয়ে চেপে ধরল।
"আহ্, তানভীর!" নীহা শিউরে উঠে তানভীরের পিঠ খামচে ধরল। "তোমার কি একদম দয়া-মায়া নেই? কাল রাত থেকে কতবার... উফফ, শরীর তো আর বইতে পারছে না!"
তানভীর হালকা হাসল। সেই হাসিতে ফুটে উঠল এক চরম পুরুষালি তৃপ্তি আর আদিম কামনার সংমিশ্রণ। সে নীহার গলার নিচে, হাড়ের খাঁজে নিজের গরম ঠোঁট চেপে ধরল। চোষণের তীব্রতায় নীহা মাথা পেছনে হেলে দিল, তার মুখ দিয়ে এক অস্ফুট কোঁকানি বেরিয়ে এলো।
"তোমার এই সুন্দর শরীরটা যতবার স্পর্শ করি, আমার ক্ষিধে তত দ্বিগুণ হয়ে যায় নীহা," তানভীর তার হাত সোজা নীহার শাড়ির ভেতরের সুকোমল নিতম্বে পেঁচিয়ে ধরে তাকে আরও শক্ত করে নিজের দিকে চেপে ধরল। তানভীরের তপ্ত শক্ত পুরুষাঙ্গ নীহার পেটের তলদেশে ঘষা খেতেই নীহার নিঃশ্বাস থমকে গেল।
তানভীরের স্পর্শে নীহার সমস্ত প্রতিরোধ আবার এক নিমেষে ছাই হয়ে গেল। তার নিজের শরীরের তরল ভালোবাসার নদীটি যেন তানভীরের দাবানলে মিশে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠল। নীহা নিজের উরু দুটো খানিকটা ফাঁক করে তানভীরকে নিজের আরও গভীরে আমন্ত্রণ জানাল।
"তানভীর... উফফ... আমাকে আর কষ্ট দিও না..." নীহা তোষক খামচে ধরে আকুল হয়ে বলল।
তানভীর আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। সে নীহার দুটো পা উঁচু করে নিজের কাঁধে চেপে ধরল। আলো-আঁধারির সেই শয়নকক্ষে শুরু হলো পরম মিলনের আরও এক অধ্যায়। তানভীরের প্রতিটি গভীর ধাক্কায়, প্রতিটি সোহাগে নীহা এক পরম স্বর্গের স্বাদ পেতে লাগল। ঘরের নিস্তব্ধতা ভেদ করে কেবল ভেসে আসতে লাগল দুজনের ভেজা নিঃশ্বাসের শব্দ আর পরম ভালোবাসার আকুল হাহাকার।
পরম তৃপ্তির চরম মুহূর্তে পৌঁছে যখন দুজন একে অপরকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে ঢলে পড়ল, তখন ঘরজুড়ে কেবল ভালোবাসার সুবাস। তানভীরের বুকের ওপর নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে নীহা চোখ বন্ধ করল। সে আজ জানল, এই পুরুষটি তাকে ভালোবাসার এমন এক বাঁধনে বেঁধে ফেলেছে, যেখান থেকে মুক্ত হওয়ার কোনো ইচ্ছে বা পথ আর কোনোদিন তার থাকবে না।
এক সপ্তাহ কেটে গেছে। ধানমন্ডির ফ্ল্যাটটিতে আগের সেই থমথমে বিষাদের মেঘ আর নেই। সেখানে এখন বিরাজ করছে এক প্রাণবন্ত রোদের ছোঁয়া, উপচে পড়া হাসি আর অনুরাগের মিষ্টি সৌরভ। তানভীরের অহেতুক রাগ আর চিল চিৎকারগুলো এখন একদম গায়েব হয়ে গেছে। তার জায়গায় এসেছে এক তীব্র অধিকারবোধ, একটু পরপরই নীহাকে কাছে টেনে নেওয়ার এক মাতাল আকুলতা।
বিকেলের দিকে তানভীর কাজ শেষ করে অফিস থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু زودই বাড়ি ফিরে এল। দরজা খুলেই সে দেখতে পেল নীহা ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আছে। তার পরনে একটা হালকা বেগুনি রঙের জামদানি শাড়ি, খোলামেলা চুলে হাওয়া খেলছে। বিকেলের রোদে নীহার মুখের সুকোমল ফর্সা রঙ যেন সোনা ছড়াচ্ছে।
তানভীর পা টিপে টিপে নিঃশব্দে নীহার পেছনে গিয়ে দাঁড়াল। কোনো কথা না বলে সে সোজা নিজের শক্ত দুহাত দিয়ে নীহার কোমরটা জড়িয়ে ধরল। নিজের পিঠে তানভীরের চওড়া বুক আর ঘাড়ে তার গরম নিঃশ্বাস অনুভব করতেই নীহার ঠোঁটে ফুটে উঠল এক অপূর্ব ভালোবাসার হাসি।
"আজও এত তাড়াতাড়ি চলে এলে?" নীহা নিজের হাত দুটো তানভীরের হাতের ওপর রেখে মিষ্টি গলায় জিজ্ঞেস করল।
"তোমাকে ছেড়ে অফিসে বসে থাকাটা এখন আমার জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি নীহা," তানভীর নীহার কানের লতিতে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াতে ছোঁয়াতে বলল। "সারাদিন মাথার ভেতর শুধু তোমার ওই ভেজা চোখ, তোমার এই নরম শরীর আর তোমার ডাক ভেসে বেড়ায়।"
"উফফ, তানভীর! তুমি দিন দিন একদম ছোট বাচ্চাদের মতো হয়ে যাচ্ছ," নীহা ঘুর দাঁড়িয়ে তানভীরের বুকের কলার শক্ত করে চেপে ধরল। সে তানভীরের চোখের দিকে তাকাল—যে চোখে একসময় কঠিন মেঘ জমে থাকত, সেখানে আজ কেবলই অগাধ দীপ্তি আর নিঃশ্বাসের তৃষ্ণা।
"তোমার ভালোবাসাই তো আমাকে নতুন করে গড়ল নীহা," তানভীরের চোখ দুটো হঠাৎ গভীর ও আবেগাপ্লুত হয়ে উঠল। সে নীহার মুখটা পরম মমতায় নিজের দুই হাতের তালুতে তুলে নিয়ে বলল, "যদি সেদিন তুমি চলে যাওয়ার ভয় আমাকে না দেখাতে, তবে হয়তো আমি সারা জীবন আমার এই অহংকারের খাঁচায় বন্দী হয়েই থেকে যেতাম। তোমাকে ভালোবাসার এই পরম আনন্দ হয়তো আমার জানাই হতো না।"
নীহার চোখে জলের হালকা বিন্দু ফুটে উঠল, কিন্তু তা দুঃখের নয়—পরম তৃপ্তির জল। সে নিজের মাথাটা তানভীরের চওড়া বুকে চেপে ধরল। তানভীরের হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানি স্পষ্ট শুনতে পেল সে। এই বুকের ভেতরেই তার আসল ঘর, এই বাহুডোরেই তার স্বর্গ।
"আমি কোনোদিন তোমাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবতেও পারব না তানভীর," নীহা মৃদুস্বরে বলল। "যেদিন তুমি নিজের সব মেকি রাগ ছুড়ে ফেলে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলে, সেদিনই আমি তোমার কাছে চিরকালের জন্য নিজেকে হেরে দিয়েছি।"
তানভীর নীহার চিবুক ধরে তার মুখটা ওপরে তুলে আনল। ব্যালকনির সোনাঝরা বিকেলের আলোয় সে নীহার কাঁচা গোলাপের মতো ঠোঁট দুটোর দিকে তাকাল। আর এক মুহূর্তের বিলম্ব না করে তানভীর নিজের ঠোঁট চেপে ধরল নীহার ঠোঁটে। এক দীর্ঘ, ভেজা ও গভীর চুমু। তানভীরের স্পর্শে নীহার সমস্ত শরীর আবার সেই পরিচিত শিউরেনে কেঁপে উঠল। নীহা নিজের দুহাত তানভীরের গলায় পেঁচিয়ে ধরে তাকে আরও নিবিড় করে টেনে নিল।
তানভীর এক টানে নীহাকে শূন্যে কোল তুলে নিল। নীহা হালকা হেসে তানভীরের বুকে মাথা গুঁজে দিল। তানভীর ধীর পায়ে শয়নকক্ষের দিকে হেঁটে গেল। ঘরের ভেতরে বিকেলের মৃদু আলো আর ছায়া খেলা করছে।
বিছানায় নীহাকে শুইয়ে দিয়ে তানভীর তার ওপর নেমে এলো। ভালোবাসা, সোহাগ আর দুই প্রাণের পরম সমর্পণে ঘরের বাতাস আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠতে লাগল। তানভীরের স্পর্শে নীহার ভেতরের সুপ্ত নারীত্ব যেমন পূর্ণতা পেল, তেমনি তানভীরও তার দীর্ঘদিনের নীরব যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে খুঁজে পেল তার জীবনের আসল ঠিকানা।
রাগ আর ভুল বোঝাবুঝির সব ঝড় পেরিয়ে তানভীর আর নীহার জীবনের এই গল্পটি কোনো বিচ্ছেদে নয়, বরং এক ভালোবাসার অনন্ত সাগরে এসে মিশে গেল। যেখানে কেবলই রয়ে গেল দুটো শরীরের বুভুক্ষু আবেশ আর দুটি আত্মার এক হয়ে যাওয়ার অশেষ পূর্ণতা।
....