আকাশ ভেঙে নামা শ্রাবণের মূষলধারায় ভিজতে ডানাখোলা পাখির মতো দু’ হাত ছড়িয়ে দাঁড়িয়েছিল ইরা। বারান্দার গ্রিল বেয়ে পানি এসে পড়ছিল তার মুখে, সুতির পাতলা কামিজ ভিজে গায়ের সঙ্গে লেপ্টে গিয়ে উন্মুক্ত করে দিচ্ছে তার শরীরের বাঁকগুলো। এই ভিজা ছোঁয়ায় তার ভেতর এক অদ্ভুত সুড়সুড়ি আর উদাম দোলা লাগছিল।
ঠিক তখনই পাশের বাড়ির বারান্দা থেকে ভেসে এলো সেই পরিচিত, খিটখিটে, গভীর কণ্ঠস্বর—
"মাথাটা কি একেবারে গেছে ইরা? এই অঝোর বৃষ্টিতে ভিজছিস কেন? ঠাণ্ডা লেগে তো তিনদিন বিছানায় পচে মরবি!"
ইরা চোখ মেলে তাকাল। পাশের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে রিদওয়ান। পরনে কালো টি-শার্ট, ভেজা চুল কপালে এসে পড়েছে। তার চোখ দুটোতে একধরনের গম্ভীর আর ধারালো দৃষ্টি, যা ইদানিং ইলাকে ভেতর থেকে কেঁপে উঠতে বাধ্য করে। কিন্তু ইরা হার মানার পাত্রী নয়। ঠোঁট উল্টে সে বলে উঠল, "আমার শরীর, আমার ইচ্ছা! আপনার কি তাতে জালা করছে রিদওয়ান ভাই?"
"জালা আমার নয়, তোর মেজাজের হবে যখন খাঁকি কাশির দমকে ফুসফুস বাইরে আসবে," রিদওয়ান কঠিন গলায় বলল। "তোর আম্মু আমাকে বলে গেছে তোর ওপর নজর রাখতে। ভেতরে যা ইরা, ভালো বলছি।"
"আমি যাব না! আপনি গিয়ে নিজের কাজে মন দিন তো," ইরা একগাল হেসে পানির ছাট গায়ে মেখে নাচতে লাগল।
রিদওয়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। এই মেয়েটাকে শাসন করা অসম্ভব। সে কিছু না বলে ভেতরে চলে গেল। কিন্তু ইরা জানত, রিদওয়ান এত সহজে তাকে ছাড়বে না। ঠিক পাঁচ মিনিট পর সে দেখল, রিদওয়ান সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছে—হাতে তার প্রিয় বিশাল কালো ছাতাটা। সে নিশ্চিত ইরাকে জোর করে টেনে ভেতরে নিয়ে যাবে।
ইরা মনে মনে এক দুষ্টু বুদ্ধি আঁটল। রিদওয়ান নিচে নামার আগেই সে এক দৌড়ে নিচে নেমে এলো। রিদওয়ান যখন গেটের কাছে এসে ছাতাটা খুলতে যাবে, ঠিক তার আগের মুহূর্তে ইরা চিলের মতো ছাঁ মেরে রিদওয়ানের হাত থেকে ছাতাটা ছিনিয়ে নিয়ে দৌড়ে রাস্তায় বেরিয়ে গেল!
"ইরা! ছাতা দে বলছি!" রিদওয়ান পেছনে চিল চিৎকার করে উঠল।
ইরা বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ছাতাটা মাথার ওপর ধরে খিলখিল করে হেসে উঠল, "ধরুন তো দেখি! আপনার এত প্রিয় ছাতা, আজ এটা আমার!"
রিদওয়ান এক মুহূর্ত দ্বিধা করল না। ছাতা ছাড়া ওই অঝোর ধারার বৃষ্টিতে সোজাসুজি নেমে পড়ল ইলাকে ধরার জন্য। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তার শরীর চপচপে ভিজে গেল। চিপচিপে টি-শার্টটা তার শক্ত বুকের ছাতি আর পেশীবহুল শরীরের সাথে লেগে গিয়ে তার পুরুষালি চেহারার ভেতরের তাণ্ডবটাকে যেন আরো স্পষ্ট করে দিল।
ইরা কিছুটা চমকে গেল। রিদওয়ান এভাবে বৃষ্টিতে নামবে সে ভাবেনি। সে একটু দ্রুত দৌড়াতে চাইল, কিন্তু কাদার মধ্যে পা পিছলে যেতেই ছাতাটা হাত থেকে ছিটকে গেল।
পড়ার আগেই এক জোড়া শক্ত, তপ্ত হাত অত্যন্ত শক্তভাবে তার কোমর পেঁচিয়ে ধরে নিজের বুকের সাথে লেপ্টে নিল।
ইরা থমকে গেল।
রিদওয়ানের ভেজা গায়ের সোঁদা গন্ধ, আর তার উসকে ওঠা নিঃশ্বাসের তাপে ইরার কানের লতি লাল হয়ে উঠল। রিদওয়ান তাকে একদম নিজের শরীরের সাথে চেপে ধরেছে, যার কারণে ইলার শরীরের সমস্ত উষ্ণতা যেন রিদওয়ানের ভেজা বুকে গিয়ে জমা হচ্ছে। ইরা তার বুকের ওপর হাত রেখে সরানোর চেষ্টা করল, কিন্তু রিদওয়ানের হাত তার কোমরে যেন লোহার বেড়ি হয়ে চেপে বসেছে।
"খুব দুষ্টুমি বেড়েছে, না?" রিদওয়ান তার কানের একদম কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল। গলার স্বরটা গম্ভীর, কিন্তু তীব্র একটা দখলদারিত্বে ভরা।
ইরার হৃত্স্পন্দন এক লাফে বেড়ে গেল দশগুণ। সে একটু কেঁপে উঠে বলল, "ছ... ছেড়ে দিন, রিদওয়ান ভাই! কী করছেন এসব?"
"কেন ছাড়ব?" রিদওয়ান ইলার থুতনিটা এক হাতে ধরে ওপরের দিকে তুলল। রিদওয়ানের চোখ থেকে তখন যেন আগুন ঝরছে, একধরনের অধৈর্য রাগ আর তীব্র আকর্ষণের আগুন। "আমার ছাতা চুরি করলি, আমাকে এভাবে ভিজালি... আর এখন বলছিস ছেড়ে দিতে? তোর শাস্তি হওয়া দরকার, ইরা।"
"আপনি কিন্তু বেশি করছেন!" ইরা চোখ বাঁকিয়ে বলল, যদিও তার বুক দুরুদুরু কাঁপছিল। সে ধাক্কা দিয়ে সরতে চাইল, কিন্তু রিদওয়ান তার কোমর আরো কাছে টেনে আনল। দুজনের ভেজা কাপড়ের আড়ালে থাকা শরীরের উত্তাপ এখন সরাসরি মিশে যাচ্ছে।
রিদওয়ানের ভেজা চুল থেকে বৃষ্টির পানি ফোঁটা ফোঁটা হয়ে ইরার ঠোঁটের ওপর এসে পড়ছিল। রিদওয়ান একদম ঝুঁকে এসে ইরার চোখের দিকে তাকাল, তার ভেজা ঠোঁট দুটো ইরার গালের এতো কাছে যে প্রতিবার নিঃশ্বাস ছাড়লে ইলার চামড়ায় শিহরণ খেলে যাচ্ছে।
"আমি তোর ওপর বেশি করছি?" রিদওয়ান ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বিষাক্ত কিন্তু মোহময় হাসি এনে বলল, "তুই আমাকে বাধ্য করিস ইরা। তুই এমনভাবে শরীর দেখিয়ে বৃষ্টিতে ভিজবি, আর আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আঙুল চুষব? এত ভালো ছেলে আমি নই।"
ইরার নিঃশ্বাস আটকে এলো। রিদওয়ানের এই রূপ সে আগে কখনো দেখেনি। শাসন করার আড়ালে যে এত ভয়ানক এক রোমান্টিক আর জেদী পুরুষ লুকিয়ে ছিল, তা ভেবেই তার তলপেটে একটা অদ্ভুত মোচড় দিয়ে উঠল। সে রিদওয়ানের টি-শার্ট চেপে ধরে হালকা স্বরে বলল, "আপনি একটা সাইকো! বিষাক্ত একটা লোক!"
"হতে পারি," রিদওয়ান ইলার ভেজা চুলের এক গুচ্ছ কানের পেছনে গুঁজে দিয়ে তার ঘাড়ের কাছে নিজের গরম ঠোঁটটা এক সেকেন্ডের জন্য ছুঁইয়ে দিল। ইরা শিউরে উঠে চোখ বন্ধ করে ফেলল।
রিদওয়ান ইলার ঘাড়ে মৃদু এক কামড় বসিয়ে দিয়ে ফিসফিস করে বলল, "তোর এই বিষ আমার ভালো লাগে। আর শোন, ছাতাটা তুই নিবি? নে। কিন্তু এই বৃষ্টিতে তোর এই খেয়ালখুশি মেটানোর মাশুল তোকে কড়ায়-গণ্ডায় দিতে হবে, মিস ইরা।"
রিদওয়ান তাকে একঝটকায় সোজা করে দাঁড় করিয়ে মাটি থেকে ছাতাটা কুড়িয়ে ইলার হাতে গুঁজে দিল। তারপর নিজের হাত দুটো পকেটে পুরে একদম ভিজে একাকার হয়ে আড়চোখে ইলাকে একবার দেখে বলল, "যাগে, ছাতা নিয়ে বাড়ি যা। কাল তোর জ্বর না আসলে আমার নাম বদলে দিস। আর জ্বর আসলে কিন্তু সুজি আমি নিজের হাতে খাওয়াব—সেটা মেজাজ খারাপ হলেও তোকে গিলতে হবে!"
রিদওয়ান এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে হেঁটে নিজের বাড়ির দিকে চলে গেল।
ইরা ভিজা বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে হাতে ছাতাটা ধরে দাঁড়িয়ে রইল। তার হাত কাঁপছিল, থুতনিতে রিদওয়ানের ছোঁয়ার দাগটা এখনো যেন জ্বলজ্বল করছে, আর ঘাড়ের যে জায়গাটিতে সে কামড় দিয়েছিল সেখানে এক অদ্ভুত উষ্ণ জ্বালা। রিদওয়ানের এই একনায়কতন্ত্র আর জোর করার স্টাইলটা তাকে রাগানোর কথা ছিল, কিন্তু অদ্ভুতভাবে তার বুকের ভেতর একটা তীব্র মোচড় দিয়ে উঠল।
সে কি রিদওয়ানের এই বিষাক্ত ভালোবাসার ফাঁদে পা দিয়ে ফেলল?
পরদিন সকাল হতেই ইরার শরীরটা একদম ভেঙে এলো। মাথা ঝিমঝিম করছে, আর গলার কাছে এক তীব্র অস্বস্তি। ধড়ফড় করে ওঠার চেষ্টা করতেই টের পেল কপাল আর গা যেন আগুনের মতো জ্বলছে। কালকের সেই অঝোর বৃষ্টি আর রিদওয়ানের ভেজা ছোঁয়ার স্মৃতি একযোগে যেন তার পুরো শরীরে দাহ সৃষ্টি করেছে।
ইরা চাদরটা গায়ে জড়িয়ে চিঁচিঁ স্বরে ডেকে উঠল, "আম্মু..."
কিন্তু দরজায় আম্মুর বদলে দেখা গেল অন্য এক পরিচিত মূর্তি। ট্রে হাতে ঘরে ঢুকে সশব্দে দরজাটা ভেতর থেকে আটকে দিল রিদওয়ান। পরনে কালো গ্যাবার্ডিন আর ধূসর রঙের ক্যাজুয়াল শার্ট, হাতা দুটো কনুই পর্যন্ত গোটানো। মুখটা অস্বাভাবিক থমথমে, কিন্তু চোখের ভেতরে সেই চেনা উসকানিমূলক হিংস্রতা।
ইরা চমকে উঠে চাদরটা বুকের ওপর আরো শক্ত করে টেনে ধরল, "আপনি! আমার ঘরে কী করছেন? আম্মু কই?"
"তোর আম্মু বাজারে গেছে। আমাকে বলে গেছে তোকে দেখে রাখতে," রিদওয়ান ট্রে-টা পাশের টেবিলে ধপ করে রেখে দিল। ধোঁয়া ওঠা সুজির বাটি আর প্যারাসিটামল ট্যাবলেট স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। রিদওয়ান বেডের দিকে এগিয়ে এসে একদম ইলার গা ঘেঁষে বসল। বিছানাটা তার ভারে খানিকটা দেবে গেল।
"আমি বলেছিলাম না কাল, যে তোর জ্বর আসবে?" রিদওয়ান হাত বাড়িয়ে একঝটকায় ইলার কপাল স্পর্শ করল। তার হাতটা ছিল বরফের মতো ঠান্ডা, যা ইরার উত্তপ্ত চামড়ায় লাগতেই সে এক অদ্ভুত আরামে শিউরে উঠল।
রিদওয়ান নিজের ঠাণ্ডা হাতটা ইলার কপাল থেকে সরিয়ে আস্তে আস্তে নিচে নামিয়ে আনল—তার গাল, থুতনি হয়ে একবারে গলার কাছে। তার বুড়ো আঙুলটা ইলার গলার রগটার ওপর চেপে বসতেই ইলার নিঃশ্বাস দ্রুত হয়ে এলো।
"এত তেজ দেখালি কাল? এখন কেমন লাগছে?" রিদওয়ান ঝুঁকে এসে ইলার একদম চোখের ওপর চোখ রেখে বলল। তার গলার স্বরটা যেমন খসখসে, তেমনই তীব্র আক্রমণাত্মক।
"হাত সরান রিদওয়ান ভাই! আপনি কিন্তু সুযোগ নিচ্ছেন," ইরা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু রিদওয়ান অন্য হাত দিয়ে ইলার কোমর পেঁচিয়ে ধরে তাকে এক টান মেরে নিজের আরও কাছে নিয়ে এলো।
ইরা সোজা গিয়ে আছড়ে পড়ল রিদওয়ানের শক্ত বুকের ওপর। সুতির পাতলা নাইটগাউনের ওপর দিয়ে রিদওয়ানের হাতের গরম ছোঁয়া সরাসরি ইলার ত্বকে গিয়ে বিঁধল। রিদওয়ানের এক হাত ইলার পিঠের নিচের অংশ শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে, যাতে সে একটুও নড়তে না পারে।
"সুযোগ?" রিদওয়ান নিচু স্বরে হেসে উঠল। সেই হাসিতে কোনো দয়ামায়া ছিল না, ছিল শুধুই একটা পুরুষালি অধিকারবোধ। "সুযোগ তো তুই আমাকে দিয়েছিস ইরা। কাল বৃষ্টিতে নিজের শরীর দেখিয়ে আমার মাথাটা নষ্ট করলি, আর এখন সাধু সাজছিস?"
"আপনি অসভ্য! একদম সাইকো একটা লোক!" ইরা রিদওয়ানের বুকে কিল মারল, কিন্তু রিদওয়ান বিন্দুমাত্র নড়ল না। উল্টো সে ইলার দুই কব্জি এক হাতে ধরে মাথার ওপরে বেডের সাথে চেপে ধরল।
ইরা একদম অসহায় হয়ে গেল। রিদওয়ানের ভারি শরীর তার ওপর ঝুঁকিয়ে রয়েছে। তাদের নিঃশ্বাস এখন একে অপরের মুখে আছড়ে পড়ছে। রিদওয়ানের ধারালো চোখের চাহনি ইলার ঠোঁটের ওপর স্থির হলো।
"তোকে আমি কত ভালোবাসি তুই জানিস না ইরা? নাকি জেনেও আমাকে এভাবে জ্বালাস?" রিদওয়ান গলার স্বর আরো নিচু করে আনল। "তোর ওপর আমার কতখানি রাগ হয় যখন তুই নিজেকে যত্ন নিস না, তা তোর এই পুতুল শরীরটা বুঝবে না।"
রিদওয়ান আর এক মুহূর্ত সময় দিল না। সে ঝুঁকে পড়ে সোজা ইলার ঠোঁটের ওপর নিজের ঠোঁট চেপে ধরল।
ইরা চোখ দুটো বড় বড় করে ফেলল। রিদওয়ানের এই শক্ত, উদাম আর কিছুটা হিংস্র ভালোবাসা তার সব প্রতিরোধ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছিল। রিদওয়ান আলতো করে নয়, বরং একরকম দখল করার মতো করে ইলার ঠোঁট দুটো চুষতে লাগল। ইলার শরীরের উত্তাপ আর জ্বরের দাপট যেন রিদওয়ানের এই উগ্র কামনায় মিশে আরো দ্বিগুণ হয়ে গেল।
ইরা হাত দুটো ছাড়ানোর চেষ্টা ছেড়ে দিয়ে আস্তে আস্তে রিদওয়ানের চুল আঁকড়ে ধরল। তার বুকের ভেতরের কোনো এক গোপন কোণ এই বিষাক্ত, একরোখা ভালোবাসাটা পাওয়ার জন্যই যেন এতকাল ব্যাকুল হয়ে ছিল।
বেশ কিছুক্ষণ পর রিদওয়ান ঠোঁট আলগা করল। ইলার ঠোঁট দুটো তখন লাল হয়ে ফুলে উঠেছে, নিঃশ্বাস পড়ছে ঘন ঘন। রিদওয়ান ঠোঁটের কোণে জয়ের হাসি ফুটিয়ে ইলার গালের ওপর জমে থাকা একফোঁটা ঘাম নিজের ঠোঁটে শুষে নিল।
"এখন চুপচাপ সুজিটা খাবি," রিদওয়ান ইলার কব্জি ছেড়ে দিয়ে টেবিল থেকে সুজির বাটিটা তুলে নিল। চামচে করে গরম সুজি তুলে ইলার মুখের সামনে ধরে বলল, "হা কর।"
ইরা রাগে আর লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে নিতে চাইল, "আমি খাব না! আপনি বেরিয়ে যান আমার ঘর থেকে!"
রিদওয়ানের চোখের দৃষ্টি মুহূর্তের মধ্যে আবার বিষাক্ত হয়ে উঠল। সে বাটিটা রেখে ইলার গাল দুটো এক হাতে শক্ত করে চেপে ধরে মুখটা হা করিয়ে দিল, "তোকে আমি ভালোবেসে বলছি ইরা, আমার ত্যাড়া স্বভাব তুলে ধরিস না। গিলে ফেল এটা, নয়তো অন্য উপায়ে কীভাবে খাওয়াতে হয় সেটা আমার খুব ভালো করেই জানা আছে!"
রিদওয়ানের সেই হুমকিতে ইলার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। সে জানত, রিদওয়ান যা বলে তা করতে পারে। সে বাধ্য হয়ে চামচ থেকে সুজিটা গিলে নিল।
রিদওয়ান তৃপ্তির হাসি হেসে একে একে পুরো বাটির সুজিটা ইলাকে খাইয়ে দিল। তারপর প্যারাসিটামল ট্যাবলেটটা ইলার মুখে পুরে দিয়ে এক গ্লাস পানি খাইয়ে দিল।
সবকিছু শেষ হলে রিদওয়ান উঠে দাঁড়াল। ইলার ভেজা ঠোঁট আর রক্তিম চেহারার দিকে তাকিয়ে তার চোখে আবার সেই শিকারি ভাবটা ফিরে এলো। সে ইলার গায়ে চাদরটা ভালোভাবে ঢেকে দিয়ে ঝুঁকে তার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, "বিশ্রাম নে। কাল থেকে তোর ওপর নজরদারি আরো কড়া হবে। তুই শুধু আমার, তোর এই শরীরের প্রতিটা ইঞ্চি আমার কথামতো চলবে—মনে রাখিস।"
রিদওয়ান ঘর থেকে বের হয়ে সশব্দে দরজাটা আটকে দিল।
ইরা বিছানায় শুয়ে রুদ্ধশ্বাসে ছাদের দিকে তাকিয়ে রইল। রিদওয়ানের এই বিষাক্ত দখলদারিত্ব, এই জোর জবরদস্তি—সবকিছু তাকে রাগানোর বদলে তার হৃদস্পন্দন বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে কেন? কেন এই লোকটার হিংস্র ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বেশি প্রিয় হয়ে উঠছে?
টানা দু’দিন জ্বরে ভুগে ইরা যখন সুস্থ হয়ে উঠল, তখন তার মেজাজ সপ্তমে চড়ে আছে। রিদওয়ানের ওই একছত্র আধিপত্য, জোর করে ওষুধ খাওয়ানো আর ঠোঁটে দেওয়া সেই উগ্র ছোঁয়া—সবকিছুই ইরার মনের ভেতর এক অদ্ভুত তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। একদিকে এই লোকটার বিষাক্ত আকর্ষণ তাকে টানে, অন্যদিকে তার এই একরোখা স্বভাব ইরাকে ক্ষিপ্ত করে তোলে।
ইরা সিদ্ধান্ত নিল, এবার সে রিদওয়ানকে ঘাম ছুটিয়ে ছাড়বে।
বিকেলে ইরা ইচ্ছে করেই একখানা নীল রঙের পাতলা সুতির শাড়ি পরল। স্লিভলেস ব্লাউজ, খোলা চুল আর হাতভর্তি কাঁচের চুড়ি। আয়নায় নিজেকে দেখে সে নিজেই একবার চমকে উঠল—অনাবৃত পিঠ আর কোমরের খাঁজ তাকে অদ্ভুত মোহময়ী করে তুলেছে। সে খুব ভালো করেই জানত, রিদওয়ান ছাদের ওপর বসে ল্যাপটপে কাজ করছে। আর তাকে জ্বালাতন করার এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর হতে পারে না।
ইরা ছাদের দরজা ঠেলে ওপরে উঠে এলো। মিষ্টি হাওয়া বইছিল।
রিদওয়ান ছাদে এক কোণে চেয়ারে বসে ল্যাপটপে কী যেন করছিল। ইরার পায়ে থাকা নুপুরের ঝংকার আর কাঁচের চুড়ির টুংটাং শব্দে সে মুখ তুলে তাকাল। এক মুহূর্তের জন্য রিদওয়ানের চোখের মণি দুটো স্থির হয়ে গেল। চোখ দুটো কুঁচকে এক অশুভ বিষাক্ততায় ভরে উঠল তার মুখ। সে চোখ দিয়ে যেন এক নিমিষে ইরার শরীরের প্রতিটা ভাঁজ মেপে নিল।
ইরা মনে মনে হেসে উঠল। সে রিদওয়ানকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে ছাদের একপাশে দাঁড়িয়ে সুর করে গান গাইতে শুরু করল আর পা দুলিয়ে নাচতে লাগল। শাড়ির আঁচলটা হাওয়াতে উড়ে গিয়ে তার উন্মুক্ত পিঠ আর পেটের অংশ বারবার বের হয়ে পড়ছিল।
রিদওয়ান ল্যাপটপটা ঠাস করে বন্ধ করে টেবিলের ওপর রাখল। তারপর ধীর পায়ে, শান্ত অথচ হিংস্র পদক্ষেপে ইরার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। তার হাঁটার ভঙ্গিতেই ছিল একধরনের শিকারি বাঘের হিংস্রতা।
ইরা ঘুরে দাঁড়াতেই দেখল রিদওয়ান তার একদম মুখোমুখি।
"এসবের মানে কী, ইরা?" রিদওয়ানের কণ্ঠস্বর একদম নিচু, কিন্তু তার ভেতরের তোলপাড়টা স্পষ্ট।
"কিসের মানে রিদওয়ান ভাই? আমি সুস্থ হয়েছি, তাই একটু মুক্ত বাতাসে শাড়ি পরে ঘুরছি। এতেও আপনার সমস্যা?" ইরা চোখের পাপড়ি নাচিয়ে মিষ্টি এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে বলল।
"তুই ভালো করেই জানিস আমার কিসে সমস্যা," রিদওয়ান ইলার এক পা সামনে এগিয়ে এলো। তার চোখ জোড়া তখন নামছে ইলার অনাবৃত ঘাড় থেকে ব্লাউজের উন্মুক্ত বুকের অংশ পর্যন্ত। "তুই ইচ্ছে করে এই শাড়িটা পরেছিস। তুই চাস আমি যেন নিজের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি, তাই না?"
"আপনি নিজেকে কী ভাবেন বলুন তো?" ইরা একটু উসকানিমূলক ভঙ্গিতে রিদওয়ানের বুকে নিজের একটা আঙুল ছুঁইয়ে আস্তে করে বলল, "আপনার মনে হয় দুনিয়ার সব কিছু আপনাকে কেন্দ্র করে ঘোরে? আমি যা খুশি পরব, যাকে খুশি দেখাব। আপনার তাতে কী?"
'যাকে খুশি দেখাবি?'—শব্দ কটা শুনতেই রিদওয়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।
রিদওয়ান এক সেকেন্ড সময় নিল না। সে খপ করে ইলার কোমর পেঁচিয়ে ধরে এক ঝটকায় তাকে ছাদের শক্ত দেয়ালের সাথে চেপে ধরল। ইলার কাঁচের চুড়িগুলো সশব্দে বেজে উঠল, আর পেটের খালি জায়গায় রিদওয়ানের গরম হাতের শক্ত ছোঁয়া লাগতেই ইলার মুখ থেকে এক সূক্ষ্ম আক্ষিপ্ত শব্দ বের হয়ে এলো।
"তুই আর কাকে দেখাবি, বল?" রিদওয়ান মুখটা ইলার একদম থুতনির কাছে এনে দাঁতে দাঁত চেপে বলল। তার চোখ দুটো থেকে তখন আগুন ঠিকরে বের হচ্ছে। "আরেকবার বল কথাটা! তোর এই শরীর, তোর এই রূপ—এতে একমাত্র অধিকার কার, তুই জানিস না?"
"ছ... ছেড়ে দিন আমাকে! দেয়ালে লাগছে!" ইরা ব্যথায় একটু কুঁকড়ে উঠল, কিন্তু রিদওয়ানের শক্ত বেষ্টনী থেকে ছাড়ানোর সাধ্য তার ছিল না।
"লাগুক!" রিদওয়ান নির্দয়ভাবে বলল। সে তার অন্য হাতটা ইলার খোলা পিঠের ওপর বুলিয়ে আনল। রিদওয়ানের খসখসে আঙুলের স্পর্শে ইলার পুরো শরীরে বিদ্যুতের শক্ খেলে গেল। "তোকে যত শিষ্টাচার শেখাই, তুই তত বাঁদরামি করিস। এই পাতলা শাড়ি পরে কাকে প্রলুব্ধ করতে বেরিয়েছিস তুই? আমার মাথাটা খারাপ করার জন্য এই নাটক, না?"
"হ্যাঁ! আপনার মাথা খারাপ করতেই করেছি!" ইরা জেদ ধরে রিদওয়ানের চোখের দিকে তাকিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল, "আপনার এই বিষাক্ত শাসন আমি একদম সহ্য করতে পারছি না! আপনি আমার কেউ নন, রিদওয়ান ভাই!"
"আমি তোর কেউ নই?" রিদওয়ানের ঠোঁটের কোণে এক মারাত্মক ক্ষতিকারক হাসি ফুটে উঠল।
সে হুট করে ইলার শাড়ির আঁচলটা এক হ্যাঁচকা টানে শরীর থেকে ফেলে দিল। ইলার ফর্সা পিঠ আর পেটের খাঁজ এখন একদম রিদওয়ানের হিংস্র দৃষ্টির সামনে উন্মুক্ত। ইরা লজ্জায় আর ভয়ে শিউরে উঠে দুই হাত দিয়ে নিজেকে ঢাকার চেষ্টা করল, কিন্তু রিদওয়ান ইলার দুটো হাতই এক করে মাথার ওপর দেয়ালের সাথে শক্ত করে চেপে ধরল।
"আজকে তোকে বুঝিয়ে দিচ্ছি আমি তোর কে," রিদওয়ান ফিসফিস করে বলল।
সে ঝুঁকে পড়ে ইলার উম্মুক্ত কাঁধে আর গলার ভাঁজে নিজের তপ্ত ঠোঁট আর দাঁত বসিয়ে দিল। একটা তীব্র, ভালোবাসাময় অথচ ব্যথাদায়ক কামড়!
"উফফ... রিদওয়ান!" ইরা কোঁকিয়ে উঠল। ব্যথার সাথে এক অদ্ভুত আবেশে তার চোখ বুজে এলো। রিদওয়ানের এই অনধিকার চর্চা, এই উগ্র শারীরিক উপস্থিতি তার ভেতরের সমস্ত অহংকার আর রাগকে এক নিমিষে গলিয়ে পানি করে দিচ্ছিল।
রিদওয়ান ইলার কাঁধ থেকে ঠোঁট সরিয়ে আনল, কিন্তু তাকে ছাড়ল না। তার ভেজা ঠোঁট নামতে লাগল ইলার গলার রগ বেয়ে, কলার বোনের ওপর দিয়ে... একবারে তার বুকের অনাবৃত অংশের কাছে। ইলার বুক তখন কামনায় আর ভয়ে দ্রুত ওঠানামা করছে। রিদওয়ানের নিশ্বাসের উত্তাপ ইলার চামড়া জ্বালিয়ে দিচ্ছিল।
"তুই শুধু আমার ইরা," রিদওয়ান ইলার কানের লতিটা আলতো করে কামড়ে ধরে ফিসফিসাল, "তোর ওপর অন্য কারো নজর পড়া তো দূরের কথা, তুই নিজেও নিজের ওপর আমার ছাড়া অন্য কারো অধিকার মানতে পারবি না। তোর এই বিষাক্ত রিদওয়ান ভাই তোকে কখনো অন্য কারো হতে দেবে না।"
ইরা কাঁপতে কাঁপতে রিদওয়ানের শার্টের কলার চেপে ধরল। তার আর কোনো শক্তি ছিল না এই পুরুষটার সামনে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর। সে ধীর স্বরে বলল, "আপনি বড্ড খারাপ... বড্ড বিষাক্ত..."
"আর তুই এই খারাপ লোকটারই দাসী," রিদওয়ান ঠোঁটে এক কড়া চুমু বসিয়ে দিল। কিন্তু এবারের চুমুটা আগের মতো সহিংস ছিল না, এতে ছিল গভীর এক আকুলতা, এক তীব্র ভালোবাসার অধিকারবোধ।
ইরা আস্তে আস্তে নিজের সমর্পণ স্বীকার করল। সে রিদওয়ানের গলায় জড়িয়ে ধরল নিজের হাত দুটো। ছাদের খোলা বাতাসের নিচে, নীল শাড়ির ভাঁজে তাদের দুই উগ্র হৃদয়ের উত্তাপ যেন একাকার হয়ে গেল।
বেশ কিছুক্ষণ পর রিদওয়ান ইলাকে ছেড়ে দিল। নিচে পড়ে থাকা আঁচলটা তুলে নিজে হাতে ইলার গায়ে জড়িয়ে দিল, খুব যত্ন করে, যেমনটা কোনো মূল্যবান সম্পদকে ঢেকে রাখা হয়।
"এখন সোজা নিচে যা। আর এই শাড়িটা খুলে সাধারণ জামা পর," রিদওয়ান শান্ত কিন্তু দৃঢ় স্বরে বলল, "নইলে ছাদ থেকে তোকে কোলে করে ঘরে নিয়ে গিয়ে কীভাবে শাড়ি খুলতে হয়, সেটা আমি খুব ভালো করেই দেখিয়ে দেব।"
ইরা আর এক মুহূর্ত দাঁড়াল না। লাল হয়ে যাওয়া মুখ আর কাঁপতে থাকা শরীর নিয়ে সে এক দৌড়ে ছাদ থেকে নিচে নেমে এলো। নিজের ঘরে ঢুকে দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে সে হাঁপাতে লাগল। আয়নায় তাকিয়ে দেখল, গলার কাছে রিদওয়ানের দাঁতের লাল দাগটা স্পষ্ট জ্বলজ্বল করছে।
সেই দাগে হাত দিয়ে ইরা এক অদ্ভুত হাসিতে হেসে উঠল। এই লোকটা তাকে শেষ করে দিচ্ছে, ধ্বংস করে দিচ্ছে... কিন্তু এই ধ্বংসের মধ্যেই যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সুখ লুকিয়ে আছে!
পরদিনের সূর্যটা যেন এক নতুন উত্তেজনা নিয়ে উঠল। ছাদের ঘটনার পর ইরা ভেবেছিল রিদওয়ান হয়তো তার প্রতি একটু নরম হবে, কিন্তু রিদওয়ানের বিষাক্ত স্বভাব এত সহজে বদলাবার নয়। উল্টো তার নজরদারি যেন আরও একধাপ বেড়ে গেল।
দুপুরে ইরা নিজের ঘরে বই পড়ছিল, এমন সময় তার ফোনে একটা মেসেজ এলো। কলেজের সহপাঠী অয়ন পাঠিয়েছে—প্রজেক্টের কিছু কাজ নিয়ে কথা বলার জন্য সে ইলাকে বিকেলে একটা ক্যাফেতে ডেকেছে। ইরা মেসেজের উত্তর টাইপ করতে যাবে, ঠিক তখনই কোনো শব্দ না করে ঘরে ঢুকলো রিদওয়ান।
তার হাতে একটা কফির মগ। সে শান্ত পায়ে এসে ইলার একদম পেছনে এসে দাঁড়াল। ইরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই রিদওয়ান ঝুঁকে পড়ে ইলার হাত থেকে ফোনটা একঝটকায় ছিনিয়ে নিল।
"আমার ফোন দিচ্ছেন না কেন? ফেরত দিন!" ইরা সটান দাঁড়িয়ে পড়ে বলল।
রিদওয়ান ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাল। অয়নের মেসেজটা পড়তেই তার চোখের মণি দুটো হঠাৎ করেই হিংস্র হয়ে উঠল। চোয়ালের রগগুলো ফুলে উঠল স্পষ্ট। সে ঠান্ডা গলায় বলল, "অয়ন কে?"
"আমার কলেজের ফ্রেন্ড। প্রজেক্টের কাজে ডাকছে," ইরা ফোনটা নেওয়ার জন্য হাত বাড়াল, "দিন আমাকে!"
রিদওয়ান এক চুলও নড়ল না। সে ফোনের স্ক্রিনে অয়নের নামটার দিকে তাকিয়ে এক মূহুর্ত ভাবল, তারপর ঠাণ্ডা মাথায় মেসেজ অপশনে গিয়ে অয়নকে ব্লক করে দিল!
"আপনি আমার ফ্রেন্ডকে ব্লক করলেন কেন?!" ইরা রাগে ফেটে পড়ল। "আপনার সমস্যাটা কী বলবেন? আপনি আমার ওপর এভাবে ছড়ি ঘোরাতে পারেন না!"
রিদওয়ান ফোনটা টেবিলের ওপর সশব্দে আছড়ে ফেলল। তার মুখের ওপর ছড়িয়ে থাকা সেই শান্ত ভাবটা এখন এক ভয়ংকর ঝড়ে রূপান্তরিত হয়েছে। সে এক পা এগিয়ে ইলার দিকে এল। ইরা পিছিয়ে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের কাঠের সাথে ঠেকে গেল।
রিদওয়ান দুই হাত ইলার দু'পাশে ড্রেসিং টেবিলের ওপর রেখে তাকে পুরোপুরি আটকে ফেলল। রিদওয়ানের শরীরের তপ্ত উত্তাপ ইলাকে ছূঁয়ে গেল।
"আমি তোকে বহুবার বলেছি না, ইরা?" রিদওয়ান গলার স্বর মারাত্মক নিচু করে বলল, তার চোখের দৃষ্টি ইলার রক্তবর্ণ চোখের ওপর স্থির। "তুই অন্য কোনো পুরুষের দিকে তাকাবি না, অন্য কোনো পুরুষ তোর সাথে কথা বলবে না। তুই শুনতে পাসনি?"
"ও আমার জাস্ট একজন ফ্রেন্ড, রিদওয়ান ভাই!" ইরা চিৎকার করে বলতে চাইল, কিন্তু রিদওয়ানের ওই রক্তচক্ষু দেখে তার কণ্ঠস্বর কেঁপে গেল।
"আমার সাথে তর্ক করবি না!" রিদওয়ান অন্য হাত দিয়ে ইলার চিবুকটা এত শক্ত করে চেপে ধরল যে ইরা ব্যথায় কুঁকড়ে উঠল। "তোর ফ্রেন্ড হোক বা যাই হোক—আমার অনুমতি ছাড়া তুই কারও সাথে দেখা করতে যাবি না। তোর দুনিয়া শুধু আমাকে ঘিরে থাকবে, বুঝলি?"
"আপনি একটা চরম জেদী, সাইকো আর স্বার্থপর লোক!" ইরার চোখ দিয়ে দু'ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল রাগে আর অভিমানে। "আপনি আমাকে ভালোবাসেন না, আপনি শুধু আমাকে নিজের বন্দি বানিয়ে রাখতে চান!"
'ভালোবাসেন না'—শব্দ দুটো যেন রিদওয়ানের ভেতরের সুপ্ত শয়তানটাকে জাগিয়ে তুলল।
সে এক হাত দিয়ে ইলার পাতলা কোমর ধরে নিজের দিকে টেনে আনল। ইলার শরীরটা পুরোপুরি আছড়ে পড়ল রিদওয়ানের শক্ত বুকের ওপর। রিদওয়ান অন্য হাত দিয়ে ইলার মুখের দু'পাশের চুলগুলো পেছনে ঠেলে দিয়ে তার থুতনিটা ওপরে তুলল।
"আমি তোকে ভালোবাসি না?" রিদওয়ান হাঁপাতে হাঁপাতে ফিসফিস করে বলল। তার চোখে ভালোবাসা আর হিংস্রতার এক ককটেল মোড়ানো আগুন। "তোর জন্য আমার রক্তের ভেতরের এই যে পাগলামি, এই যে জ্বালানি—এটা ভালোবাসা নয়? তুই আমাকে বিষাক্ত বলিস না? তবে দেখ, এই বিষের আসল স্বাদ কেমন!"
কথাটা শেষ হতেই রিদওয়ান ইলার ঠোঁটের ওপর আছড়ে পড়ল।
এবারের চুমুটা আগের সব সীমা ছাড়িয়ে গেল। এতে কোনো শান্ত ভাব ছিল না, ছিল না কোনো কোমলতা—ছিল শুধুই দখল করার উগ্র অধিকারবোধ। রিদওয়ান ইলার ঠোঁট দুটোকে নিজের মতো করে চুষতে লাগল, ইলার ভেতরের সমস্ত বাতাস যেন সে নিজের ভেতরে টেনে নিচ্ছে।
ইরা প্রথমে রিদওয়ানের বুকে হাত দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু রিদওয়ানের বিশাল শরীরের কাছে তার চেষ্টা ছিল এক বালিকার ক্ষীন আকুতি। রিদওয়ান ইলার কোমর আর পিঠের ওপর নিজের হাত এত শক্ত করে চেপে ধরেছিল যে তাদের শরীরের মধ্যে সুতোর পরিমাণ ফাঁকও অবশিষ্ট ছিল না।
ইলার পা দুটো অবশ হয়ে আসছিল। তার মাথার ভেতরটা ফাঁকা হয়ে গেল। রিদওয়ানের এই উগ্র, দাম্ভিক আর বিষাক্ত ভালোবাসার ছোঁয়ায় সে নিজেকে হারিয়ে ফেলছিল। রিদওয়ানের হাত ইলার কামিজের ভেতর দিয়ে তার উন্মুক্ত কোমরের চামড়ায় স্পর্শ করতেই ইরা শিউরে উঠে রিদওয়ানের শার্টের কলার শক্ত করে আঁকড়ে ধরল।
বেশ কিছুক্ষণ পর, যখন দুজনই প্রায় নিঃশ্বাসহীন, রিদওয়ান ইলার ঠোঁট আলগা করল। তবে তাকে ছাড়ল না।
রিদওয়ান নিজের কপালটা ইলার ভিজা কপালের সাথে ঠেকিয়ে ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেলতে লাগল। ইলার ঠোঁট দুটো তখন রক্তজবার মতো লাল হয়ে ফুলে উঠেছে, বুক হাঁপারের মতো উঠছে আর নামছে।
রিদওয়ান ইলার কানের লতিতে নিজের ঠোঁট ঠেকিয়ে আস্তে করে কামড়ে দিল, "এখনো বলবি আমি তোকে ভালোবাসি না? বল?"
ইরা কোনো কথা বলতে পারল না। সে শুধু রুদ্ধশ্বাসে রিদওয়ানের দিকে তাকিয়ে রইল। এই লোকটার ওপর তার প্রবল রাগ হচ্ছে, কিন্তু একই সাথে তার শরীরের প্রতিটা খাঁজে রিদওয়ানের এই তপ্ত ছোঁয়ার আকুলতা জেগে উঠছে।
"কাল বিকেলে তুই কোথাও যাবি না," রিদওয়ান ইলার গাল থেকে অশ্রুর ফোঁটাটা নিজের বুড়ো আঙুল দিয়ে মুছে দিল। তার স্পর্শে এখন সামান্য কোমলতা, কিন্তু আদেশে কোনো ছাড় নেই। "কাল বিকেলে আমি তোকে একটা জায়গায় নিয়ে যাব। আর কোনো অয়ন বা অন্য কেউ যদি তোর আশেপাশে ঘেঁষার চেষ্টা করে, আমি তাকে শেষ করে দেব ইরা—এটা আমার হুমকি নয়, আমার প্রতিজ্ঞা।"
রিদওয়ান ইলার কপালে এক তীব্র, দীর্ঘ চুমু দিয়ে আস্তে করে সরে দাঁড়াল। ফোনটা ড্রেসিং টেবিলের ওপর রেখে সে একবারও পেছনে না তাকিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেল।
ইরা পা জোড়া ভেঙে মেঝেতে বসে পড়ল। তার শরীর এখনো রিদওয়ানের উত্তাপে কাঁপছে। সে নিজের ফোলা ঠোঁটে হাত দিল। রিদওয়ানের এই বিষাক্ত প্রেম তাকে দিন দিন পাগল করে দিচ্ছে, কিন্তু সে এই পাগলামি ছেড়ে বের হতেও পারছে না।
পরদিন বিকেল হতেই রিদওয়ান তৈরি হয়ে নিচে নেমে এলো। ইরা জানত, সে যা বলেছে তা করবেই। তাই কোনো প্রতিবাদ না করে নীরব অনুগত মেয়ের মতো ইরা একটি গাঢ় বেগুনি রঙের জামা পরে তৈরি হয়ে নিলো। রিদওয়ানের সেই বিষাক্ত হুমকির পর অয়নকে দূরে রাখা আর নিজেকে তার নিয়ন্ত্রণে সঁপে দেওয়া ছাড়া ইলার যেন আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
রিদওয়ান বাইক নিয়ে অপেক্ষা করছিল। ইরা গিয়ে তার পেছনে বসতেই রিদওয়ান শক্ত গলায় বলল, "আমাকে জড়িয়ে ধরে বস। ফেলে দিলে তুলব না কিন্তু।"
ইরা মনে মনে চটলেও কিছু না বলে রিদওয়ানের চওড়া কোমর পেঁচিয়ে তার শক্ত পিঠের সাথে লেপ্টে বসল। রিদওয়ানের শরীরের সেই চেনা সোঁদা সুবাস আর উত্তাপ ইলাকে নিমিষেই এক মোহাচ্ছন্ন জগতে নিয়ে গেল। বাইক ছুটল শহরের কোলাহল ছাড়িয়ে এক নির্জন নদীসংলগ্ন বাইপাস রাস্তার দিকে।
কিছুক্ষণ পর একটা সম্পূর্ণ নির্জন, গাছপালায় ঘেরা নদীর পাড়ে এসে বাইক থামাল রিদওয়ান। নদীর বাতাস ছিল স্নিগ্ধ, কিন্তু রিদওয়ানের উপস্থিতি সেখানে এক ভিন্ন রকম উত্তাপ ছড়িয়ে দিচ্ছিল।
বাইক থেকে নেমে রিদওয়ান ইলাকে টেনে নিয়ে গেল এক বিশাল কদম গাছের নিচে। নদীর ঢেউয়ের মৃদু শব্দ ছাড়া আশেপাশে আর কোনো মানুষের চিহ্নও ছিল না।
"এখানে কেন এনেছেন আমাকে?" ইরা নদীর দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করল।
রিদওয়ান পেছন থেকে এসে ইলার কোমরে দু’ হাত পেঁচিয়ে ধরল। তার বুকের সাথে ইলার পিঠ ঠেকে গেল। রিদওয়ান নিজের মুখটা ইলার ঘাড়ের খাঁজে নামিয়ে এনে এক গভীর নিঃশ্বাস নিল।
"তোকে আমার সাথে একা রাখার জন্য," রিদওয়ান ইলার কানের লতিতে ঠোঁট ঠেকিয়ে বলল। তার গলার স্বর আগের চেয়ে অনেক বেশি গম্ভীর, মোহিত আর উগ্র অধিকারবোধে ভরা। "শহরের লোকজন, তোর কলেজের ফ্রেন্ড—এদের সবার মাঝখান থেকে তোকে ছিনিয়ে এনে শুধু আমার এই বুকে বন্ধি করে রাখতে ইচ্ছে করে।"
ইরা শিউরে উঠল। রিদওয়ানের ভেজা নিঃশ্বাস তার ঘাড়ে বিদ্যুতের শক্ সৃষ্টি করছিল। সে সরতে চাইল, কিন্তু রিদওয়ানের বেষ্টনী ছিল লোহার শেকলের মতো শক্ত।
"আপনি বড্ড বেশি একরোখা, রিদওয়ান ভাই," ইরা ধীর স্বরে বলল, তার চোখে এখন আর আগের মতো রাগ নেই, বরং এক অদ্ভুত সমর্পণ। "আপনার এই উগ্রতা আমাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে।"
"তুই নিঃশেষ হতে চাস না?" রিদওয়ান ইলাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল। ইলার দু’ গাল নিজের হাত দিয়ে চেপে ধরে তার চোখের দিকে তাকাল। রিদওয়ানের সেই চোখে আজ শুধুই কামনার উগ্রতা ছিল না, ছিল তীব্র এক ভালোবাসার মাতলামি।
"আমি তোকে কষ্ট দিই, তোকে শাসন করি... কারণ তোকে ছাড়া অন্য কোনো কিছু ভাবার শক্তি আমার নেই ইরা," রিদওয়ান আবেগে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল। "তুই যখন অন্য কারও দিকে তাকাস, আমার রক্তে আগুন ধরে যায়। তোকে শাসন করার আড়ালে আমি শুধু তোকে ভালোবাসতে চাই, তোকে আমার নিজের করে রাখতে চাই।"
ইরা আর সহ্য করতে পারল না। রিদওয়ানের এই রুক্ষ ভালোবাসার আসল রূপটা আজ তার সামনে স্পষ্ট। এই লোকটা বিষাক্ত, এই লোকটা জেদী, কিন্তু তার এই বিষই এখন ইলার শরীরের রগে রগে অক্সিজেনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরা নিজ থেকেই রিদওয়ানের শার্টের কলার চেপে ধরে তাকে নিজের দিকে টেনে আনল।
রিদওয়ান এক মুহূর্তের জন্য চমকে গেল, কিন্তু পরের মুহূর্তেই তার ঠোঁটের কোণে এক চরম তৃপ্তির বিষাক্ত হাসি ফুটে উঠল। সে ইলার কোমর শূন্যে তুলে গাছের গুঁড়ির সাথে আছড়ে ফেলল।
নদীপাড়ের সেই নির্জনতায়, কদম গাছের ছায়ায় রিদওয়ান ইলার ঠোঁটের ওপর আছড়ে পড়ল। কিন্তু এবারের চুমুতে ছিল না কোনো জেদ বা হুমকি, এতে ছিল এক বন্য রোমান্সের তোলপাড়। রিদওয়ান ইলার ঠোঁট দুটোকে নিজের মতো করে লাল করে তুলছিল, আর ইরা নিজের দু’ হাত রিদওয়ানের চুলে ডুবিয়ে দিয়ে সেই তপ্ত ভালোবাসায় নিজেকে সঁপে দিচ্ছিল।
রিদওয়ানের হাত ইলার পাতলা জামার আড়াল ভেদ করে তার অনাবৃত শরীরের স্পর্শ নিচ্ছিল। ইলার মুখ থেকে হালকা সুড়সুড়িময় আক্ষেপ বের হতেই রিদওয়ান আরও উগ্র হয়ে উঠল। সে ইলার গলায়, কাঁধে আর উন্মুক্ত বুকে নিজের গরম ঠোঁটের ছাপ বসিয়ে দিল।
ইরা রিদওয়ানের বুকে পিঠ ঠেকিয়ে কাঁপতে লাগল। রিদওয়ান ইলার কানের কাছে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল, "বল ইরা, তুই কার?"
ইরা চোখ বন্ধ করে রিদওয়ানের বুকে মুখ লুকিয়ে কাঁপানো গলায় বলল, "আমি... আমি শুধু আপনার, রিদওয়ান ভাই। শুধু আপনার বিষাক্ত প্রেমের বন্দি..."
রিদওয়ান এক বিজয়ীর হাসিতে ইলার কপালে দীর্ঘ চুমু আঁকল। সে ইলাকে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরে নদীর দিকে তাকিয়ে রইল।
তবে ইরার মনের কোণে তখনও একটা শেষ প্রশ্ন রয়ে গিয়েছিল। সে রিদওয়ানের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, "তাহলে কাল থেকে আমাকে আর বকা দেবেন না তো?"
রিদওয়ানের ঠোঁটের সেই চেনা শয়তানি হাসিটা আবার ফিরে এলো। সে ইলার চিবুক ধরে বলল, "বকা দেব না? তুই ভুল করবি আর আমি তোকে আদর করে ছেড়ে দেব? কাল সকালে দেখবি আসল শাসন কাকে বলে, মিস ইরা!"
নদীপাড়ে সেই বন্য রোমান্স আর আত্মসমর্পণের পর ইরার ধারণা ছিল রিদওয়ানের আচরণ এবার হয়তো কিছুটা হলেও নরম হবে। কিন্তু রিদওয়ান যে আসলেই এক অন্য ধাতুতে গড়া!
পরদিন সকালে রিদওয়ান নিজেই তাদের ড্রয়িংরুমে এসে হাজির। ইরা তখন সবে ঘুম থেকে উঠে চুল বাঁধছিল। দরজার শব্দে পেছনে ফিরতেই দেখল রিদওয়ান দাঁড়িয়ে—পরনে সাদা টি-শার্ট আর কালো জিন্স, চোখে সেই চরম একনায়কতন্ত্রের ধারালো চাহনি।
ইরা একটু হেসে এগিয়ে আসতে চাইল, কিন্তু রিদওয়ান এক পা-ও নড়ল না। সে হাত দুটো বুকের ওপর ক্রস করে দাঁড়িয়ে একদম গম্ভীর গলায় বলল, "তোর ব্যাগে কী কী বই আছে বের কর ইরা।"
ইরা থমকে গেল, "মানে? হঠাৎ বই কেন?"
"আমি দেখতে চাই তুই কলেজে কী নিয়ে পড়াশোনা করিস আর সারাদিন কী করিস," রিদওয়ান এগিয়ে এসে ইলার পড়ার টেবিল থেকে এক ঝটকায় তার ব্যাগটা তুলে নিয়ে বেডের ওপর সব খাতা-পত্র ঢেলে দিল।
ইরা কিছুটা হতবাক হয়ে গেল, "রিদওয়ান ভাই! কাল এত কিছু হওয়ার পরও আপনি আবার শুরু করলেন? আপনি কি আসলেই সুধরাবেন না?"
"সুধরাব?" রিদওয়ান ঠোঁটের কোণে এক বিষাক্ত কিন্তু মোহময় হাসি ফুটিয়ে ইলার দিকে এক পা এগিয়ে এলো। সে ইলার দু'হাত ধরে এক ঝটকায় নিজের বুকের সাথে এমনভাবে লেপ্টে নিল যে ইলার সমস্ত কথা তার গলাতেই আটকে গেল।
রিদওয়ানের বুকের সাথে নিজের বুক ঠেকতেই ইরা টের পেল লোকটার হৃদস্পন্দন কতটা দ্রুত আর তীব্র। রিদওয়ান এক হাতে ইলার চুলগুলো মুঠো করে ধরে মুখটা ওপরে তুলল।
"তোকে আমি ভালোবেসেছি ইরা, তোর কাছে নিজের আত্মাকে সমর্পণ করেছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তুই আমার নজরদারির বাইরে চলে যাবি," রিদওয়ান ইলার চোখের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল। তার কণ্ঠস্বরে ছিল তীব্র ভালোবাসা আর চরম উগ্র শাসনের অদ্ভুত এক মিশ্রণ। "তোর ওপর আমার এই বিষাক্ত আধিপত্য আজীবন থাকবে। তুই সুস্থ থাকবি, ঠিকমতো চলবি, অন্য কারো দিকে তাকাবি না—এটাই আমার ভালোবাসা।"
ইরা শিউরে উঠল। সে রিদওয়ানের শার্টের হাতা শক্ত করে চেপে ধরে বলল, "আপনার এই ভালোবাসা বড্ড কঠিন, বড্ড যন্ত্রণাদায়ক..."
"কিন্তু এই যন্ত্রণাই তোর সবচেয়ে বেশি প্রিয়, তাই না?" রিদওয়ান ইলার ঠোঁটের কাছে নিজের গরম ঠোঁটটা স্পর্শ করিয়ে আলতো কামড় দিল।
ইরার চোখ দুটো বুজে এলো। সে আর কোনো প্রতিবাদ করতে পারল না। রিদওয়ান ঠিকই বলেছে—এই লোকটার এই হিংস্র, জেদী আর অধিকারবোধে ভরা উগ্র ভালোবাসাই এখন তার বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় রসদ।
রিদওয়ান ইলার ঠোঁটে এক দীর্ঘ, নিবিড় আর তৃপ্তির চুমু এঁকে দিয়ে আস্তে করে তাকে ছেড়ে দিল। তারপর টেবিল থেকে ইলার পছন্দের এক গুচ্ছ লাল গোলাপ বের করে তার হাতে দিল—যা সে এতক্ষণ লুকিয়ে রেখেছিল।
"তোর পড়ালেখার ক্ষতি আমি হতে দেব না, তাই বিকেলে আমি নিজে তোকে কলেজে দিয়ে আসব আর নিয়ে আসব," রিদওয়ান ইলার গাল দুটো এক হাতে শক্ত করে চেপে ধরে কপালে ঠোঁট ছোঁয়াল। "মনে রাখিস ইরা, তুই আমার এই বিষাক্ত ভালোবাসার খাঁচায় চিরজীবনের জন্য বন্ধি।"
ইরা গোলাপ ফুলগুলো বুকের সাথে চেপে ধরে রিদওয়ানের দিকে তাকাল। তার মুখে তখন রক্তিম লাজুক হাসি। এই একরোখা, জেদী আর বিষাক্ত প্রেমিককেই সে তার সারাজীবনের জন্য বেছে নিয়েছে, যার কোনো বিকল্প এই পৃথিবীতে নেই।
....